06/07/2024
"সফলতা" শব্দটা সাধারণভাবে পৃথিবীর কোনো এচিভমেন্টের সাথেই মৌলিক অর্থে ব্যবহারযোগ্য না। সাধারণভাবে সফলতা হলো কেবলমাত্র জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়া আর জান্নাতে প্রবেশ করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা বলেন,
فمن زحزح عن النار وأدخل الجنة فقد فاز
যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হলো, আর জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, সে-ই সফল হলো। (সূরা আলে ইমরান ১৮৬)
আমরা প্রতিনিয়ত যে কর্ম/পেশাতে ঢুকলে বা কোন ডিগ্রী অর্জন হলেই মনে করি আমি তো সফল বা অমুকের ছেলে অমুক এই পেশাতে আছে সে তো সফল। একজন কোটি টাকার গাড়িতে চলে আবার কেউ লাখ টাকার গাড়িতে চলে এটা শুধু একটি লাইফ স্টাইল মাত্র। কেউ টিনের ঘরে দিন যাপন করে, কেউ বড় দালানে এসির নিচে দিন যাপন করে এটাও একটা লাইফ স্টাইল মাত্র। এটার সাথে সুখের কোন সম্পর্ক নেই। সুখের অনুভব হয় মানুষের আত্মা/মন থেকে।
মানুষ ভালো কাজ করলে মনে শান্তি লাভ করে এটি একটি সুখ বলা যেতে পারে, আবার আত্মার শান্তি আল্লাহ তায়ালা রেখেছেন তার সকল সৃষ্ট মানুষ যদি তার আদেশ/বিধি-নিষেধ অনুযায়ী চলে তবেই সে এটা লাভ করে। যেমন যথারীতি নামাজ আদায় করা, সত্য কথা বলা, আমানত রক্ষা করা, হালাল উপার্জন করা, নজরের হেফাজত করা, আল্লাহ তায়ালার বান্দাকে আল্লাহর সাথে জুড়িয়ে দেওয়া, অপরের উপকার করা, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যত সুন্নত আছে সব গুলো পালন করা ইত্যাদি।
আমাদের মনে রাখা উচিত মানুষের মনের একটি খোরাক আছে সেটি হলো তার সৃষ্টিকর্তার স্মরণ করে তার দেওয়া হুকুম পালন করা, এটা যে যত বেশি করে তার তত বেশি সুখ আসে।
বাহ্যিক নাম মাত্র লাইফ স্টাইল মানে সুখ নয়, আমরা অনেক মানুষকে দেখি যারা অনেক বেশি পপুলার, যারা নাটক, সিনেমা, অশ্লীলতা, গান-বাজনা করে তারা একালে পপুলার হলেও ঐকালে জাহান্নামীদের কাতারে। তারা অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষকে ভালোবাসা শিখালেও নিজের ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে পারে না।
যারা বেপর্দার জিন্দেগী যাপন করে, নিজের সৌন্দর্যকে মানুষকে দেখিয়ে বেড়ায় তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি। আমাদের সমাজে বিয়ে করে বউকে ফেসবুকে না দেখাইলে নিজেকে অসামাজিক মনে করে, বাচ্চা হইলে আজান-ইকামাত না দিয়েই ফেসবুকে ছবি দিয়ে বাচ্চার হক নস্ট করে। সুদ, ঘুষ, জিনা-ব্যভিচার এর শাস্তিও ভয়াবহ।
আপনি যাকে অনুসরণ করবেন তার সাথেই আপনার হাশর হবে।
নিজের উপর ইনভেস্ট করুন, আমরা বেশির ভাগ মানুষই নিজের জন্য কিছু করি না, বেশির ভাগ যেখানে জব করি সেটার জন্য ভাবি, পরিবার নিয়ে ভাবি, কিভাবে বেশি টাকা পয়শা উপার্জন হবে, কিভাবে পরিবারের জন্য আরও বেশি কি কি করা যায়, এগুলো নিয়ে ভাবি। আসলে নিজের আমল আখলাক এই মুহুর্তে মৃত্যু হলে আমার সাথে আমি কিছু ভালো কিছু নিয়ে যেতে পারবো কিনা, আমার কুরআন তেলাওয়াত, নামাজসহ অন্যান্য ভালো কাজগুলো সঠিক বা ঠিক মত হয় কিনা এগুলো ভাবি না, খুবই ব্যস্ত থাকি।
থামুন নিজেকে প্রশ্ন করুনঃ
এই মুহুর্তে মারা গেলে আপনি কি জান্নাতি কিনা ?
উত্তর না হলে প্রতিদিন এই প্রশ্ন করুন এবং প্রস্তুতি নিন কিভাবে আপনি একজন জান্নাতি মানুষ হবেন।
কবরের ৩ টি প্রশ্নের জবাব কি আপনার রেডি আছে, যদি না থাকে ৩ টি প্রশ্নের উত্তর তৈরির জন্য এখনও শুরু করুন। রসূলের সুন্নাহ, সহিহ ঈমান ও আকিদা, দ্বীনের উপর চলা শুরু করে দিন।