13/10/2024
৭. আপনার কম্পিটিশনদের কে ভাল মতো স্টাডি করুন
আপনার YouTube চ্যানেলের জন্য প্রতিযোগিতামূলক এনালাইসিস অপরিহার্য। জানতে চাচ্ছেন কেন? কারন প্রতিযোগিতামূলক এনালাইসিস করার মাধ্যমে আপনি বুঝতে এবং জানতে পারবেন আপনি যেই নিস নিয়ে ইউটিউব চ্যানেলে কাজ করছেন এর মধ্যে কি কাজ করছে আর কি না।
আপনার কম্পেটিটরদের নিয়ে আপনি যখন পড়াশোনা মানে বলতে চাচ্ছি রিসার্চ শুরু করবেন এর মধ্যে আপনি যেই সকল বিষয়াদি জানতে পারবেন ঐগুলো হলঃ
১. আপনার টার্গেট অডিয়েন্স বর্তমানে কোন ধরনের টপিক নিয়ে করা ভিডিও কনটেন্ট পছন্দ করছেন।
২. ইফেক্টিভ অর্থাৎ কার্যকারী ভিডিও ফরমেট এবং স্টাইল।
৩. পোস্ট করার ধারাবাহিকতা যার ফলে প্রচুর এনগেজমেন্ট ভিডিও কনটেন্টে নিয়ে আসা।
৪. ভিডিও কনটেন্টে ওয়াচ টাইম এবংসাবস্ক্রাইবার কিভাবে বাড়ানো যায় সেই প্রক্রিয়া এবং কৌশল জানা।
আপনার কম্পিটিটরদের এনালাইজ করতে পারেন semrush এর সোশ্যাল ট্রেকার ব্যাবহার এর মাধ্যমে । semrush সোশ্যাল ট্রেকারে যায়ে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের URL এবং এর পাশাপাশি আপনার কম্পিটিটরদের শরবচ্চ ২০ টি URL যুক্ত করতে পারবেন। টুল টি প্রথমে ভিডিও ট্যাব আপনাকে দেখাবে এবং তার সাথে আপনার কম্পিটিটরদের আপলোড করা ভিডিও এবং এনগেজমেন্ট মেট্রিকস যেমন - লাইক, ডিস লাইক, কমেন্ট এবং টোটাল কত ভিউ হয়েছে তা দেখাবে।
ড্রপ ডাউনে ক্লিক করুন এতে করে কোন নির্দিষ্ট কম্পিটিটর এর ভিডিও আপনি এনালাইজ করতে পারবেন বা অল প্রফাইলে সিলেক্ট করুন যাতে করে আপনি এক ক্লিকে সকল কম্পিটিটরদের একবারেই কম্পেয়ার করে ফেলতে পারবেন।
একটিভিটি ট্যাব ( ) আপনার কম্পিটিটররা কখন ইউটিউবে ভিডিও পোস্ট করে তা চিহ্নিত করতে আপনাকে সাহায্য করবে ।
আপনার কম্পিটিটরদের ইনসাইড গুলো নিয়ে ভাল মতো রিসার্চ করুন এবং বর্তমানে কোন ট্রেন্ড গুলো কাজ করছে এবং এই ডেটা নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট বানানোর ফলে কি কি অপরচুনিটি তৈরি হবে তার সঠিক পরিমাপ করে আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেল এর জন্য নতুন করে স্ট্রাটেজি ( ) বানিয়ে ফেলুন।
তবে খেয়াল রাখবেন কখনই যেন কম্পিটিটরদের কোন ভিডিও কনটেন্ট কপি যেন না হয়ে যায় বরঞ্চ আপনি তাদের যেই সকল ভিডিও কনটেন্ট দ্বারা তারা আজ সফল ঐ কাজ গুলো থেকে উৎসাহিত এবং উজ্জীবিত হয়ে তাদের থেকেও ভাল ভিডিও কনটেন্ট বানানোর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আপনার অডিয়েন্সকে আরও ভাল এবং ইনফরমেটিভ কনটেন্ট প্রতিনিয়ত উপহার দিয়ে যাবেন।
৮. ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে একত্রে মিলে কাজ করা।
ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে একত্রে টিম হয়ে কাজ করার সুফল হচ্ছে আপনার ইউটিউবের ভিডিও কনটেন্ট গুলো বেশ ভালোভাবে টার্গেট অডিয়েন্সদের কাছে রিচ করার সুযোগ পাওয়া।
ইনফ্লুয়েন্সার তাদের অডিয়েন্সদের কাছে বেশ ভাল বিশ্বাস এবং সুনাম অর্জন করেছে। সুতরাং তারা আপনাকে এবং আপনার দাড় করানো চ্যানেলকে অন্যদের কাছে ভাল বলা এটা আপনার ইউটিউব চ্যানেল এর জন্য একটি বিশাল অর্জন।
ইনফ্লুয়েন্সার সাথে যুক্ত থাকার ফলে আপনি তাদের ফলোয়ার গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার সুযোগ পাবেন। তার পাশাপাশি আপনার ব্রান্ড এর ভিজিবিলিটি এবং এর সাথে আরও নতুন অনেক সাবস্ক্রাইবার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বিভিন্ন ধরনের যোগসূত্র হতে পারে যেমনঃ
১. কোন ইনফ্লুয়েন্সারকে গেস্ট হিসেবে আপনার চ্যানেলে কোন ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেয়া।
২. হতে পারে কোন প্রোডাক্ট রিভিউ।
৩. ৩. একত্রে কোন টিউটোরিয়াল বানিয়ে ইউটিউবে পাবলিশ করা।
৪. একত্রে কোন চ্যালেঞ্জ ভিডিও করা।
৫. লাইভ কোন প্রশ্ন উত্তর সেশন করা।
উদাহরন যেমন একটি বউটি ব্রান্ড হয়ত একটি স্বনামধন্য মেকআপ আর্টিস্ট এর সাথে মিলে ইউটিউবে একটি প্রোডাক্ট টিউটোরিয়াল ভিডিও বানাতে পারে। এই ভিডিও একত্রে করার মাধ্যমে বউটি ব্রান্ড এর প্রোডাক্ট টি ওই মেকআপ আর্টিস্ট এর লয়াল অডিয়েন্স এর কাছে প্রমোট করার সুযোগ পাচ্ছে। এই ভিডিও একত্রে করার মাধ্যমে বউটি ব্রান্ড এর প্রোডাক্ট টি ওই মেকআপ আর্টিস্ট এর লয়াল অডিয়েন্স এর কাছে প্রমোট করার সুযোগ পাচ্ছে।
ইনফ্লুয়েন্সার এনালিটিক্স টুল ( ) এর সাহায্যে আপনার নিস অনুযায়ী ইনফ্লুয়েন্সারদের খুজে বের করুন।
ইনফ্লুয়েন্সার এনালিটিক্স টুল আপনাকে হাজারও ইউটিউব চ্যানেল এর মধ্যে বাছাই করে টেবিল এর মাধ্যমে শর্ট লিস্ট করে সাবস্ক্রাইবার কি পরিমানে আছে দেখাবে ।
ফিলটার বাটনে ক্লিক করুন যাতে করে চ্যানেলের টপিক, সাবস্ক্রাইবার , দাম , দেশ, ভাষা এবং আরও অনেক কিছু খুব সহজে বের হয়ে আসে।
সে সকল ইনফ্লুয়েন্সারদের খোজ নিন যাদের অডিয়েন্স এর সাথে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের টার্গেট মার্কেট মিলে এবং ব্যবসা এর যোগসূত্র আছে।
শুধু ফলওার কাউন্ট করলে আসলে লাভ হবে না বরং এনগেজমেন্ট আর অথেন্টিসিটি মুখ্য বিষয় হতে হবে।
৯. আপনার অডিয়েন্সের সাথে ভালমতো যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা প্রতিনিয়ত চালিয়ে যেতে হবে।
ভেউয়ার দের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করার ফলে যারা আপনার ভিডিও কনটেন্ট দেখছে তারা বেশি করে আপনার লয়াল ফেন গোষ্ঠীতে রূপান্তর হবে।
এটাই হল গপন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনার চ্যানেল একটি ব্রডকাস্ট থেকে একটি কমিউনিটিতে ( ) রূপান্তর হতে বেশি সময় লাগবে না।
যে কারনে এনগেজমেন্ট গুরুত্বপূর্ণঃ
১. বুস্ট ভিসিবিলিটিঃ ইউটিউব এর অ্যালগরিদম যেসকল ভিডিও গুলোতে বেশি এনগেজমেন্ট হয় ঐসকল ভিডিও গুলোকে বেশি ফেভর করে।
২. বিশ্বাস স্থাপনঃ সরাসরি ভিডিও এর মাধ্যমে যোগাযোগ করলে বোঝায় আপনি কোন বট বা চেহারা বিহীন ব্রান্ড নয় বরং একজন রিয়েল ইউটিউবার ।
৩. ফিডব্যাক প্রদান করার সুযোগঃ আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কি বিষয়াদি নিয়ে বেশি দেখতে চায় ঐসকল বিষয়াদি শেখার উপায় তৈরি হয়।
সক্রিয় ভাবে কোন পন্থায় আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের সাথে যুক্ত হবেনঃ
১. কমেন্টের রিপ্লাই দেয়া। প্রত্যেকটি করা প্রশ্নের উত্তর দেয়া, ভেউয়ারদের প্রত্যেকটি করা ফিডব্যাকের জন্য ধন্যবাদ দেয়া, এবং সরাসরি লাইভ কথোপকথন করা। মনে রাখবেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপ্লাই দেয়ার মাধ্যমে আপনি একটি আশানুরূপ ফলাফল পাবেন এবং অডিয়েন্স আপনাকে পূর্বের তুলনায় আরও অনেক বেশি গ্রহন করবে এবং বিশ্বাস স্থাপন হবে।
২. লাইভ প্রশ্ন উত্তর পর্ব হোস্ট করা। বর্তমান সময়ে আপনার চ্যানেল থেকে লাইভে যায়ে ভিউয়ারদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং প্রয়োজনে বিস্তাতির আলোচনা করা। এর ফলে এটি একচেটিয়াতা এবং তাত্ক্ষণিকতার অনুভূতি তৈরি করে।
৩. পর্দার আড়ালের দৃশ্য এবং আপনার অদম্য পরিশ্রম আপনার অডিয়েন্সের সাথে সেয়ার করুন। আপনার করা দৈনন্দিন জীবন দেখানো সংক্ষিপ্ত ছোট ভিডিও পোস্ট করুন। এটি আপনার ব্র্যান্ডকে মানবিক করে এবং দর্শকের কৌতূহলকে একটা স্বস্তি দেয়।
৪. আপনার চ্যানেলে পোল এবং সার্ভে তৈরি করুন । মতামত সংগ্রহ করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দর্শকদের একত্র করতে এর ভেতরের ফিচার গুলি ব্যবহার করুন৷
৫. ভিউয়ারদের অবদান হাইলাইট করুন। ইউসার-জেনারেটেড কনটেন্ট ফিচার করুন অথবা নতুন ভিডিও তৈরি করার মাধ্যমে লয়াল সাবস্ক্রাইবারদের নিয়ে আপনি গর্ভবোধ করছেন তা প্রকাশ করুন।
৬. জেনুইন অর্থাৎ মৌলিক সম্পর্ক সাধারণ প্রতিক্রিয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করুন, যাতে আপনার দর্শকদের সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।