17/01/2021
*All About Processor*
কম্পিউটারের মূল কাজ সম্পাদন করে প্রসেসর। আর তাই সিস্টেমে একটি পাওয়ারফুল প্রসেসর থাকা জরুরী। একথা নিঃসন্দেহে ঠিক যে আপগ্রেড ভার্সনের প্রসেসরগুলো পাওয়ারফুল হয়ে থাকে আগের গুলোর তুলনায়, কিন্তু আমাদের কাজের ধরণ অনুযায়ী আসলে কোন প্রসেসরটি বেছে নেয়া উচিৎ। শুধুমাত্র মাইক্রোসফট অফিসের মত কাজ গুলো করা এবং মুভি দেখা বা গান শোনার জন্য হলে লেটেস্ট মডেলের প্রসেসর কেনার প্রয়োজন আছে কি? নাকি সেটা জাস্ট ওয়েস্ট অব রিসোর্স হবে?
পরামর্শ হল যথেষ্ট টাকা থাকলে লেটেস্ট প্রসেসরই কিনুন। কারন বর্তমান সময়ের সফটওয়্যার গুলোর জন্য এই প্রসেসরগুলোই পারফেক্টলি অপটিমাইজড।
আমার আজকের লেখা তাদের জন্যই যারা বাজেট পিসি বিল্ড করবেন। আপনার বাজেট অনুযায়ী প্রসেসর নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন একটি ইমব্যালেন্সড লেটেস্ট কম্পিউটার এর চেয়ে আগের জেনারেশনের ব্যালেন্সড কম্পিউটার অনেক ভালো পারফর্ম করতে পারে। তাই সিস্টেম বিল্ডের সময় সব কম্পোনেন্ট এর প্রতি খেয়াল রেখে আপনার বাজেট নির্ধারণ করুন। আমার বাজেট ৫০ হাজার এভাবে না ভেবে বরং ভাবুন প্রসেসরে কত টাকা ব্যয় করবেন, র্যাম কত জিবি কত ক্লক স্পীডের নেবেন, মাদারবোর্ড কোনটা কিনলে ভালো হবে, স্টোরেজ হিসেবে কোন এসএসডি কিনবেন।
প্রসেসরের সাথে চারটি টার্ম জড়িয়ে থাকে।
১. প্রসেসর জেনারেশন, ২. ক্লক স্পীড, ৩. কোর এবং ৪. থ্রেড
এসব নিয়ে আলোচনায় আমি ইন্টেলের প্রসেসরকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করছি। এএমডির ক্ষেত্রেও বিষয়টা মোটা দাগে একই। জেনারেশন ও ক্লক স্পীড নিয়ে প্রচুর কথা হলেও কোর ও থ্রেড নিয়ে খুব একটা কথা হয় না। অথচ প্রসেসরের কর্মক্ষমতা এদের উপর অনেকটা ডিপেন্ড করে।
১. প্রসেসরের জেনারেশন বা প্রজন্মঃ
কম্পিউটার জেনারেশন আর প্রসেসর জেনারেশন এক বিষয় নয়। আমাদের ব্যবহার করা কম্পিউটার সিস্টেমগুলো চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার। যা VLSI বা Very Large Scale Integration প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা হয়েছে। এখানে IC গুলোকে ইন্টিগ্রেশন করা হয়েছে। আর পঞ্চম জেনারেশনের কম্পিউটার গুলো হবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কম্পিউটার। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে একটি সুপার কম্পিউটারও কিন্তু চতুর্থ প্রজন্মেরই কম্পিউটার। খুব পাওয়ারফুল মানেই সেটা পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার এমন নয়। তবে এটা নিঃসন্দেহে সত্যি যে পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার গুলো হবে সুপার কম্পিউটারের থেকেও অনেক বেশি পাওয়ারফুল। এদিকে প্রসেসরের জেনারেশন বলতে বোঝায় প্রযুক্তিগত উন্নয়নে প্রসেসরগুলোর কার্যক্ষমতা ও কর্মপ্রকৃয়া পরিবর্তিত হওয়ায় প্রসেসরের আপগ্রেশন। প্রসেসরের জেনারেশন আবার কোম্পানি অনুযায়ী এক এক রকম। যেমন ইন্টেল বর্তমানে দশম জেনারেশনের প্রসেসর বাজারজাত করছে যা নবম জেনারেশনের প্রসেসরের চেয়ে আকৃতিতে ছোট, দ্রুত ও বেশি কাজ একই সময়ে সম্পন্ন করতে পারে এবং গরম ও আগের তুলনায় কম হবে। আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলে কাজের ধরণ অনুযায়ী প্রসেসর, ক্লক স্পীড বাড়াবে বা কমাবে ফলে পাওয়ার কনজাম্পশন অনেকটাই কমে যাবে। তার মানে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার আগের জেনারেশন থেকে লেটেস্ট জেনারেশনকে আলাদা করেছে। শুধু ক্লকস্পীড বেশি মানেই জেনারেশনর আপগ্রেশন এমন না। যদিও কোম্পানিগুলো মার্কেটিং পলিসির কারণে কিছু ক্ষেত্রে এমন করে।
২. ক্লকস্পীডঃ
প্রসেসরের কাজ করার ক্ষমতা বোঝায় ক্লক স্পীড দিয়ে। ক্লক স্পীড বলতে বোঝায় প্রসেসর প্রতি সেকেন্ড কতবার অন-অফ হতে পারে তার সংখ্যাকে। আর এই অন-অফ মানেই হচ্ছে ওয়ান এবং জিরো। তার মানে বিভিন্ন কাজ হওয়া। ২ কিলোহার্জ ক্লক স্পীডের একটি প্রসেসর সেকেন্ডে ২ হাজার বার অন-অফ হতে পারে। ২ মেগাহার্জ হলে ২০ লক্ষ বার এবং ২ গিগাহার্জ ক্লক স্পীডের একটি প্রসেসর প্রতি সেকেন্ডে ২০০ কোটি বার অন-অফ সাইকেল সম্পন্ন করতে পারে। তার মানে বেশি ক্লক স্পীড মানেই বেশী পাওয়ারফুল প্রসেসর অর্থাৎ বেশি স্পীড।
৩. কোরঃ
প্রসেসরের স্পীড আরো একটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে সেটা হল এর কোর সংখ্যা। কোর কে আপনি হাতের সাথে তুলনা করতে পারেন। বেশি কোর মানেই একাধিক কাজ একসাথে করার ক্ষমতা। ডুয়াল কোরের চেয়ে কোয়াড কোরে একাধিক কাজ বেশি স্মুথলি আর দ্রুত করা যায়। আর এখানেই আমরা ভুল করে বসি। প্রসেসর কেনার সময় খেয়াল করি না সেই প্রসেসরে কয়টি কোর আছে। ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর কাজ করলে মাল্টি কোরের প্রসেসর ভালো পারফর্ম করে। গেমিং এ বেশি ক্লক স্পীডের কোর ই ভালো হয়। সাথে গ্রাফিক্স কার্ড।
৪. থ্রেডঃ
কোরের কার্যকারিতা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে এর মাল্টি থ্রেড। থ্রেড গুলোকে আপনি কোরের ভেতরের টার্মিনাল হিসেবে তুলনা করতে পারেন। মানে একটি কাজ কোর নিজেও একাধিক অংশে ভাগ করে থ্রেডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে পারে। ফলে থ্রেড, কোরের আইডেল টাইম একদম কমিয়ে আনে।
নিশ্চই অনেকে এখন ভাবছেন দেখি তো আমার কম্পিউটার প্রসেসরের কয়টি কোর আর কয়টি থ্রেড? সেটা জানতে টাস্ক বারের উপর রাইট বাটন ক্লিক করুন। টাস্কবার হল স্টার্টমেনু যেখানে থাকে। স্ক্রীনের নিচের বারটা। এরপর Task Manager এ ক্লিক করুন। পপআপ মেনুতে নিচের দিকে লেখা পাবেন More details সেই এরোতে ক্লিক করুন। এরপর Performance ট্যাবে ক্লিক করুন। এরপর CPU সিলেক্ট করুন বাম পাশে সবার উপরে। ডান দিকে নিচে দেখুন Cores এবং Logical processors দেখতে পাবেন। কোর তো কোরই আর লজিক্যাল প্রসেসরই হল থ্রেড। ছবিতে দেখুন আমার পিসির কোর চার টা আর থ্রেড ও চার টা। মানে প্রসেসর টি মাল্টি থ্রেডিং সমর্থন করে না।
এখানে একটি বিষয় বলে রাখি দুইটি কোরের চারটি থ্রেড অবশ্যই পারফর্ম্যান্স বাড়িয়ে দেবে কিন্তু তা কখনই চারটি কোরের প্রসেসরের সমান পারফর্ম করবে না। মানে ২ কোর ২ থ্রেড এর চেয়ে ২ কোর ৪ থ্রেড ভাল এবং তার চেয়ে ৪ কোর ৪ থ্রেডের প্রসেসর ভালো।
অনেক কথা হল। এবার আসুন সিদ্ধান্ত নেই কোন প্রসেসর কেনা যায়। যদি গেমিং এবং স্ট্রিমিং করা আপনার নেশা হয় তবে কমপক্ষে ৮ম জেনারেশনের আই ৫ প্রসেসর কিনবেন। ৬ কোরের প্রসেসর এগুলো। এছাড়া Cache Memory বেশি এমন প্রসেসর সিলেক্ট করবেন। যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন করবেন, ভিডিও এডিটিং করবেন তারা বেশি কোর বেশি থ্রেডের প্রসেসর সিলেক্ট করবেন। উভইয়ের জন্যই গ্রাফিক্সকার্ড মাস্ট।
তবে এখন পিসি বিল্ড করতে গেলে আর বাজেট কম হলে পরামর্শ দেব চতুর্থ জেনারেশনের নিচে সিস্টেম বিল্ড করবেন না। আর যদি এর আগের পিসি আপনার থেকেই থাকে তবে একটু বুঝে কিছু কিছু কম্পোনেন্ট আপগ্রেড করে আপনার কম্পিউটিং এক্সপেরিয়েন্স অনেক বেটার করতে পারবেন।
এখন কথা হল আপনার এই পছন্দের প্রসেসরটিকে প্রপার সাপোর্ট দেবার জন্য লাগবে পর্যাপ্ত র্যাম। কমপক্ষে ৪ জিবি। ৮ জিবিকে আমি স্ট্যান্ডার্ড ধরবো। এবং অবশ্যই এসএসডি। এই প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরী করেছি। একটি ব্যালেন্ড পিসি বিল্ড করার জন্য বা বর্তমান পিসি আপগ্রেড করার আগেই তথ্য গুলো আপনার কাজে আসবে।
ওহ আর একটা কথা। আপনাদের ভালোবাসায় আপনাদের প্রিয় চ্যানেলটি মনিটাইজেশন পেয়েছে। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও ভালোবাসা