16/02/2026
এই নির্বাচনে বিএনপিই জিতবে এটা অনুমিত ছিলো।
শুধু প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিলো জামায়াত কয়টা আসন পায় , জামায়াতের ভোটের হার কত বাড়ে....
আশ্চর্যজনকভাবে জামায়াতের ভোটের হার ১০-১২% থেকে ৩০-৪০% চলে গেছে ।
জামায়াত নিজেরাও বোধহয় ভাবে নি এত মানুষের ভোট তাদের পক্ষে যেতে পারে ।
আমার মতে , এটা বিএনপির জন্য একটা সংকেত ।
কেনো তা একটু পরেই লিখছি !
এই নির্বাচনের মাঠে নেমে তাসনিম জারার দুইটা উপলব্ধি আমার আজ বেশ লজিক্যাল ও সত্য মনে হয়েছে ।
তার ভেতর একটা হইলো ,
" রাজনীতির মাঠে নেমে মানুষের মন জয় করা সবচেয়ে কঠিন । "
বিএনপি যদি ভবিষ্যত রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে থাকতে চায় তাহলে এই কঠিন কাজটা তাদের করতে হবে ।
২০৯ আসনে জিতে সংখ্যা গরিষ্ঠতার হিসেব কষে পুরনো ধারার রাজনীতিতে পইড়া থাকলে তারা ভুল করবে ।
আগামী পাঁচ বছর তারা ক্ষমতায় থাকবে ।
পান থেকে চুন খসলেই তাদের সমালোচনা হবে ।
আগের মতো দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কইরা গেলে জনমত তাদের পক্ষে রাখা টাফ হয়ে যাবে ।
এর কারণ — সংসদে বিরোধী দল হিসেবে একটা শক্তিশালী পক্ষ পেতে যাচ্ছে বিএনপি ।
এই সংসদে শিক্ষিত লোকজন রয়েছে । এমন সব মানুষ রয়েছে যারা সমালোচনায় দক্ষ ।
আওয়ামীলীগের আমলের মতো সংসদে আর গান হবে না । প্রধানমন্ত্রীর চামচামি হবে না ।
একটু-আধটু বেসামাল হইলেই বিএনপিকে কাউন্টার দেওয়ার জন্য বিরোধীরা বইসা থাকবে ।
সেসব কাউন্টারের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট হবে, ভাইরাল হবে । সমালোচনা হবে , জনমত বদলাবে।
ভার্চুয়াল দুনিয়ারে এখন আর হেলাফেলায় নেওয়ার সুযোগ নাই ।
হাসিনার পতনের শুরুটা হয়েছিলো এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সমালোচনার মাধ্যমেই ।
১৬-৬০ বছর বয়সী মানুষও এখন বইসা বইসা রিলস দেখে , রাজনীতির সমালোচনা করে ।
জামায়াত যে এত ভোট পাইছে আমি এর একাংশ কাউন্ট করেছি বিএনপির নেগেটিভ ভোট হিসেবে ।
যারা আওয়ামী ফ্যাসিস্টের বিরোধীতা কইরা গত সতেরো বছর বিএনপিরে নির্যাতিত দল হিসেবে কাউন্ট কইরা ভোট দিতে বইসা আছিলো—
০৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির নেগেটিভ ইমেজ তৈরী হওয়াতেই এই ভোটগুলা সরে গেছে ।
এই দেড় বছরে বিএনপি কত ভোট হারাইছে সেটা মনে রাইখা সামনের পাঁচ বছরের হিসেব কষতে হবে।
আপাতত এটুকু বুঝতে শিখেন ,
মানুষ আর চাঁদাবাজি চায় না।
মানুষ আর সন্ত্রা*স চায় না ।
মানুষ নতুন কইরা স্বচ্চতা খুঁজতেছে ।
একটা জিনিস খেয়াল করেন ,
যারা নতুন কইরা সংস্কারের আশ্বাস দিছে , মানুষ তাদের পক্ষে চলে গেছে ।
এনসিপির ৬ আসন প্রথম নির্বাচনেই অবিশ্বাস্য!
হাসনাত, হান্নান মাসুদের মতো অল্পবয়সী পোলাপাইন এমপি হইয়া যাবে, সংসদে বসবে দুই বছর আগেও
কেউ ভাবছে ?
পাটোয়ারীর কথা বলছিলেন , ওরা বিরুদ্ধে কলাগাছ দাঁড় করাইলেও কলাগাছ জিতবে ।
অথচ মির্জা আব্বাসের মতো হেভিওয়েট প্রার্থী কেনো এতো নাকানিচুবানি খাইলো , এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেন!
বিজয়ী দল হিসেবে বিএনপিকে অভিনন্দন জানায়ে বলি , নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তুলেন ।
নতুন কইরা দেশরে মেরামত করেন ।
সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তুলেন , তরুণদের খুঁজে বের করেন যারা শহীদ: প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ইমেজ ডাউনফল করবে না বরং উপরে উঠাবে ।
সারাদেশে যেসব জ্বালাও পোড়াও হচ্ছে তা বন্ধ করেন শক্ত হাতে । সন্ত্রা*স বন্ধ করেন ।
এটা নির্বাচনের আফটার শক হিসেবে মানুষ মনে রাইখা দিবে ...
শেখ হাসিনা নিজেরে নিজে আনবিটেবল বানাইয়া এমন একটা শক্ত সিংহাসনে বসাইয়া রাখছিলো—
মানুষ ধইরা নিছিলো , তার মরার আগ অবধি তা'রে নামানো যাবে না ।
খালি উনার এই ইতিহাস মনে রাইখা নিজেদের আনবিট ভাইবেন না...
আপনাদের জন্য শুভকামনা ।
শুভকামনা জামায়াতের জন্যও ।
আপনারাও দেশের জন্য কাজ করেন ।
কাজ কইরা স্বচ্চতা দেখায়া বিরোধী দলরে প্রেশার ক্রিয়েট করেন । দেশের তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী বাড়ান ।
তাসনিম জারার দ্বিতীয় উপলব্ধিটা আপনাদের বলি ,
" বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাহসী পোলিং এজেন্ট দরকার । পর্যাপ্ত জনবল দরকার। "
এটা তাসনিম জারা ফিল করছে, আপনারা করেন নাই?
পাঁচ বছরে নিজেদের দুর্বলতা নিয়া কাজ করেন।
এনসিপিরে যেটা বলবো সেটা এক লাইনে জামায়াত, বিএনপি সবাইরেই বলা ,
" আপনাদের সবার এই মুক্তির পেছনে যে পোলা মাইয়াগুলা কবরে শুয়ে আছে রাজপথে রক্ত ঝরাইয়া, ওদের সাথে বেঈমানী কইরেন না ,
দেশের সাথে বেঈমানী কইরেন না...
Let's make a unique Bangladesh to prove,
" We genuinely love our Country. "
লেখাঃ " আলোকশূন্য নক্ষত্র "