19/06/2021
“সবার জন্য সফটওয়্যার, ডিজিটাল দেশের অঙ্গীকার”, এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক অনলাইন সফটওয়্যার পরিষেবা। মূলত বাংলাদেশের মানুষকে অত্যন্ত কম মূল্যে বিশ্বমানের সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত বলার আগে বাংলাদেশের বর্তমান সফটওয়্যার মার্কেট সম্পর্কে দুটি কথা বলে নেয়া প্রয়োজন।
ইদানীং, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষদের মধ্যে সফটওয়্যার ব্যবহারের ব্যাপারে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফটওয়্যার কেন ব্যবহার করতে হবে, করলে কি উপকার পাওয়া যাবে এসব ব্যাপারে দেশের মানুষের জানাবুঝার কোন ঘাটতি নেই। তবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে ভালো মানের সফটওয়্যারের। যদিও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের সফটওয়্যার বিশ্বের বাজারে বাজারজাত করে চলেছে কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সেগুলোর বিনিময় মূল্য এত বেশি যে তা মধ্যম কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্রয়ক্ষমতার ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থাকে। এদিকে দেশের এই ক্রম বর্ধমান সফটওয়্যার ব্যবহারের চাহিদার সুযোগে অনভিজ্ঞ, অদক্ষ কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠে যেনতেন ভাবে সফটওয়্যার তৈরি করে অতি অল্প মূল্যে বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে গ্রাহকরা না জেনে বুঝে এইসব নিম্ন মানের সফটওয়্যার ক্রয় করার কিছুদিন পরেই ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। একদিকে তারা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, আবার মানসিকভাবেও সফটওয়্যার ব্যবহারের ব্যাপারে বিরক্ত হয়ে উঠছেন।
“দামে কম মানে ভালো” এই ধারণাটা সফটওয়্যার শিল্পের সাথে যায় না। সফটওয়্যার মার্কেটে যে জিনিস যত ভালো, তার দাম তত বেশিই হয়ে থাকে। কারণ, চেয়ার, টেবিল, আলমারির মত সফটওয়্যার একবার কিনেই দীর্ঘদিনের জন্য নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যায় না। এটি একটি সেবামূলক শিল্প। এখানে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে সফটওয়ার ব্যবহারকারীর সবসময় নিবিড় সংযোগ থাকতে হয়। যেকোন সময় যেকোন প্রকারের সমস্যা তৈরি হলে সাথে সাথে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তা সমাধান করে নিতে হয়। এ ছাড়াও সময়ের সাথে সাথে নিত্য নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিজের সফটওয়ারকেও আপডেইট করে নিতে হয়। আর এইসব সুবিধা তখনই দেয়া সম্ভব যখন সফটওয়্যার নির্মাতা পতিষ্ঠান তার গ্রাহকের কাছ থেকে একটা মোটা অংকের টাকা সফটওয়্যারের দাম এবং সার্ভিস চার্জ বাবদ পেতে পারে। এর বাইরে কেউ যদি পানির দামে সফটওয়্যার বিক্রি করে গ্রাহককে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলে তা নেহাতই লোক ঠকানোর ফন্দি ফিকির ছাড়া আর কিছু নয়।
তাহলে উপায়? যারা বেশি দাম দিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে সফটওয়্যার কিনতে পারবে না তারা কি তবে এই সেবা থেকে বঞ্চিত হবে? নিশ্চয়ই না। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি কোম্পানির সাথে যৌথ উদ্যোগে কাইনেটিক্স বিডি বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এলো সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধা। এই ব্যাপারটি বাংলাদেশের জন্য অপরিচিত বা অল্প পরিচিত হলেও ইউরোপ আমেরিকায় এই পদ্ধতি খুব সফলতার সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই পদ্ধতির মূল কথা হল, ব্যবহারকারীরা নামমাত্র মূল্যে মাসিক বা সাপ্তাহিক ফি প্রদানের মাধ্যমে একটা ভালো মানের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন। এক কালীন কোন টাকা কোম্পানিকে প্রদান করতে হয় না। যতদিন ব্যবহার করবেন ততদিন টাকা দিবেন, পরবর্তীতে সফটওয়্যারটি ভালো না লাগলে কিংবা প্রয়োজন মনে না করলে সাবস্ক্রিপশন বন্ধ করে দিতে পারবেন। উন্নত বিশ্বে এই ধরণের সফটওয়্যার ব্যবহার পদ্ধতিকে বলে Software As A Service বা সংক্ষেপে SAAS।
তবে SAAS ভিত্তিক সফটওয়্যারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এই ধরণের সফটওয়্যারে ভুল ত্রুটি অনেক কম থাকে, পাশাপাশি সুবিধাও থাকে অনেক বেশি। যেহেতু, অনেক অনেক ব্যবহারকারী মিলে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করেন ফলে সকলের প্রয়োজন মেটানোর কথা মাথায় রেখেই এটা নির্মাণ করা হয়। আবার যেহেতু সবার জন্য আলাদা আলাদা সফটওয়্যার নির্মাণ ও সংরক্ষণ করতে হচ্ছে না ফলে, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় হয় সাধারণ প্রতিষ্ঠানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যহারে কম। এই পদ্ধতিতে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহক উভয়েই লাভবান হতে পারেন। আবার কেউ যদি এই সফটওয়্যারটি কিছুদিন ব্যবহারের পর স্থায়ীভাবে কিনে নিতে চান কিংবা নিজের মত পরিবর্তন পরিবর্ধন করতে চান, তাহলে উপযুক্ত মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে সেটাও করতে পারেন।
সংক্ষেপে SAAS পদ্ধতির সফটওয়্যারের সুবিধাসমুহঃ
-> অতি উচ্চ মানের সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায় নামমাত্র মূল্যে।
-> এককালীন মূল্য পরিশোধ করতে হয় না, ফলে বড় অংকের টাকা বেঁচে যায়।
-> সাবস্ক্রিপশন ফি গ্রাহকের সাধ্যের মধ্যে থাকে।
-> যতগুলো ফিচার ব্যবহার করা হয়, তার ভিত্তিতে ফি নির্ধারিত হয়। সকলকে একই পরিমাণ টাকা খরচ করতে হয় না।
-> স্থায়ীভাবে কেনার আগে ইচ্ছামত ব্যবহার করে এর সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল হওয়া যায়।
-> প্রতিনিয়ত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তার সফটওয়্যারকে আপডেট করতে থাকে ফলে সব সময় আপডেটেড ভার্শনের সফটওয়্যারটিই ব্যবহার করা যায় এবং এর জন্য আলাদা করে কোন চার্জ দিতে হয় না।
-> যখন ইচ্ছা তখন সাবস্ক্রিপশন বন্ধ করে দেয়া যায়।
-> যেহেতু গ্রাহকরা মাসিক ফি দিয়ে থাকেন ফলে যেকোন প্রয়োজনে কাস্টোমার সার্ভিস পাওয়া যায় অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অধিক দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে।
KINETIX BD বাংলাদেশে আপনাদের জন্য এই পরিষেবা দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এখানে সহযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক কোম্পানি Mouse Technology। আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন কিংবা লেখার নিচে কমেন্ট করুন। আমাদের প্রতিনিধি অবশ্যই আপনাদের সাথে যোগাযোগ করবে।