23/02/2023
#মায়ামৃগ_রিভিউ
•ভ্রমণ কাহিনী: হীরাকান্ত দ্বীপ
পরীক্ষা আর পড়ালেখার চাপে হৃদপিণ্ড যখন চিড়ে-চ্যাপ্টা, নিশ্বাস-প্রশ্বাসের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনে রূহ যখন হাস-ফাঁস, তখন ভাবলাম, "আর কত প্যারা খেয়ে ট্যারা হতে থাকবো!"
ঠিক সেই মুহূর্তে ইলমাপু সন্ধান দিলো এক মায়ারাজ্যের। আর কি বসে থাকা যায়!
সব ব্যবস্থা ইলমাপু-ই করে দিলেন, তারপর আমি রওনা হলাম। পা বাড়ালাম হীরাকান্ত দ্বীপে।
প্রতিটি পদক্ষেপ ছিলো রোমাঞ্চকর। অদ্ভুত নেশা ছড়িয়ে ছিলো হীরাকান্তের ছোট্ট ঘাসে, শিশিরকণায়, বাতাসে, ঝরণা ধারায়, প্রতিটি প্রাণে। প্রথমেই দেখা হয়ে গেল ফ্লোরা আর টোটোর সঙ্গে। ফ্লোরা– অপূর্ব সৌন্দর্য রহস্যের আবরণে লুকিয়ে রেখেছে সে।
আর টোটো, সে তো ফুটফুটে সুন্দর(😁)
ঝর্ণার পাড়ে কিছুক্ষণ বসে থাকার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু মায়ার টানে সামনে এগুতে থাকলাম। এরপরে দেখা হলো– শিরিন, গফুর, জুহাদ, তালেবুল চাচা, সুলেমানের সঙ্গে। এদের মধ্যে জুহাদকে আমার বেশি ভালো লেগেছে তার বই পড়া স্বভাবের কারণে। একটা সময় বই পড়ার জন্য সে বকা খায় আর আমার মনে হয় আমাকেই বকা দেয়া হচ্ছে। অ্যানাকোন্ডা দেখতে যাওয়ার জন্য আমিও তার পক্ষে ছিলাম কিন্তু সুলেমান ভাইয়ের ধমকের ভয়ে আর কিছু বললাম না।
সবকিছু ছাপিয়ে আমার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রইলো শিলাছড়ি পাহাড়। এই আকর্ষণ পাহাড়ের সাথে আত্মিক সম্পর্কের কারণে নাকি তার রহস্যের শেষ দেখার কারনে বুঝতে পারিনি।
এরপরে ঘটনার মোড় ঘুরতে থাকে একের পর এক। আমার সময় খুব ভালো কাটতে থাকে সেখানে। কিন্তু হুট করে একটা সময় উপলব্ধি করলাম, এখানেই শেষ পথচলা... তবে অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছি, কখনো ভুলবোনা হীরাকান্তের মায়াময়তা!
________________
ইলমাপুর প্রথম বই সেদিকে আর কথা না বাড়াই, সবাই তো বলেই ফেলেছে। আমি বলি, ইলমাপু দেশসেরা ১০ জনের মধ্যে থাকার যোগ্য এবং অচিরেই সেই স্থানে আমরা তাকে দেখতে পাবো ইনশাআল্লাহ। এই বইটিতে বেশ কয়েকটি স্থানে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেটা খুবই ভালো লেগেছে আমার। আবার কিছু কিছু অংশে এসে এমন মনে হয়েছে "আরেহ, এই জিনিসে তো আমি খেয়ালই দেইনি।" মানে পড়ার সময় মনে হবে অতি সাধারণ কিছু, নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা এদিকে অত ধ্যান দেবার প্রয়োজন নেই। কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা উল্টালেই অবাক হবেন যে, লেখিকা পরিকল্পিতভবে অতিসাধারণ জিনিসটাকেই অসাধারণ করে তুলেছেন। অনায়াসেই ১০/১০ দেয়া যায়।
★তবে কিছু কিছু জায়গায় আমার মনে হয়েছে টাইপিং মিস্টেক—
১)সে "লক্ষ" করে
২)সে গাছের "শিখরে" বসল।(এই লাইন পড়ে দুই সেকেন্ড ভাবছিলাম যে তার বসার জন্য গাছের শিখরে কেন উঠতে হবে! অর্থাৎ, ওটা শিকড়)
৩)"সেড়ে" যাবে
৪) শক্তিশালী "পেশিবহুল" দ্বারা
৫) "মনুষ্য মানব" ও সাপ
আশা করি পরবর্তী মুদ্রণে সংশোধিত হবে।
___________
লেখিকা হওয়ার স্বপ্ন পুষি। আর আমার জন্য সবচেয়ে বড় মোটিভেশান, ইন্সপায়রেশান হলেন ইলমা আপু।
ইলমা আপুর কল্পনার সীমা নেই, কিন্তু আমার কল্পনা একটা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। কোন একদিন, আমার কল্পরাজ্যের সীমান্তের প্রাচীরগুলো ধ্বসে পড়ুক!
আর ছবিতে বইয়ের সাথে আমার বানানো "মায়ামৃগ চা" গ্রুপবাসীর জন্য। সবাই এক চুমুক করে খেয়ে ডুব দিন হীরাকান্তে।
Love you a lot Elmapu
✍️জাফরান তানিন।
বইটি অর্ডার করুন Rangrup এ
ডেলিভারি চার্জ মাত্র ২৩৳