12/11/2020
ই-কমার্স বিজনেস এবং ই-কমার্স ওয়েবসাইট নিয়ে আলোচনা :-
★ ই-কমার্স কি?
==> ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়,অর্থ লেনদেন ডাটা আদান প্রদানই হচ্ছে ই-কমার্স বা ই বাণিজ্য।
ফেসবুক,টুইটার,ইনস্টাগ্রাম, ওয়েবসাইট ইত্যাদির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সমপন্ন করা হয়।
উন্নয়নশীল দেশ গুলোর মতো বাংলাদেশের মধ্যেও ই-কমার্স প্রক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট কেনাকাটার জন্য খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মানুষকে এখন কষ্ট করে মার্কেটে যাওয়া লাগে না,ঘরে বসেই অর্ডার করে তার নির্দিষ্ট পণ্যে পেয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের মধ্যে নামকরা কয়েকটি ওয়েবসাইট রয়েছে। যেমন-
১. রকমারি ডট কম
২.বিক্রয় ডট কম
৩.দারাজ ডট কম ডট বিডি
৪.প্রিয়শপ ডট কম সহ আরও অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে।
★ই-কমার্সের সুবিধা-
==> আমাদের দেশে ই-কমার্সের সম্ভাবনা অনেক।যদি ইচ্ছাশক্তি থাকে এবং সৃজনশীলতা আর প্রথম দিক দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করলে ওয়েবসাইট খুব অল্প দিনের জনপ্রিয় হয়ে উঠে। তাছাড়া ই-কমার্স ওয়েবসাইট থাকার কারণে আপনার অধিক পুঁজির দরকার হয় না।
আপনি যেকোন পণ্যে নিয়েই এই বিজনেস শুরু করা যায়। এমনকি লেনদেনের মধ্যে ও কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না।
★ই-কমার্স জনপ্রিয় করার জন্য যা করা লাগবে?
==> ই-কমার্স বিজনেসের বিজ্ঞাপন
==> প্রোডাক্ট মার্কেটিং
==>ভাল প্রোডাক্ট বিক্রী করা
==>বিশ্বাসযোগ্যে পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা
==>প্রোডাক্ট খুব অল্পসময়ে ডেলিভারি দেয়া
==>ওয়েবসাইট তৈরী
==> এসইও (Search Ingine Optimization)
★ ওয়েবসাইট তৈরী করতে কি কি প্রয়োজন?
আপনি যদি ই-কমার্সে সফল হতে যান তাহলে সর্বোপ্রথমেই আপনার একটি ওয়েবসাইট দরকার হবে।এর কারণ হচ্ছে ই-কমার্স পরিচালনা করা হয় এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই। ওয়েবসাইট তৈরী করতে যা দরকার হয়:-
১.প্রথমেই মানসম্মত ডোমেইন পছন্দ করা।
২.ভাল কোম্পানী থেকে হোস্টিং এবং ডোমেইন ক্রয় করা।
৩.ওয়েবসাইট কিসের মাধ্যমে তৈরী করা তা নির্ধারণ।
৪.ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা এবং ভালভাবে ওয়েবসাইট তৈরী করা।
উপরের সকল জিনিসগুলো নিয়ে নীচে আরও ভালভাবে আলোচনা করা হলো :-
১- ডোমেইন নাম
______
আপনার বিজনেসের ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য প্রথমেই সুন্দর একটি নাম পছন্দ করতে হবে। ই-কমার্স বিজনেস জনপ্রিয় করতে এই ডোমেইন নাম নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার প্রতিষ্ঠানের নামের উপর ভিত্তি করেই ডোমেইন নাম পছন্দ করতে পারেন। তাহলে ক্রেতাদের খুজে পেতে সুবিধা হবে।ডোমেইন নাম মূলত আপনার ওয়েবসাইটের যে নাম থাকবে সেটিই হচ্ছে ডোমেইন। যেমন - ফেসবুক.কম আর এটিই হচ্ছে একটি ডোমেইন।
আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন।
২-ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনা
________
হোস্টিং হচ্ছে মূলত ভার্চুয়াল স্টোরেজ।সহজ ভাবে বললে মোবাইলের বিভিন্ন জিনিস রাখতে যেমন আমরা মেমোরি কার্ড ব্যবহার করি ঠিক ওয়েবসাইট এর মধ্যে আমরা আমাদের পণ্যর ছবি, তারপর বিভিন্ন ব্লগ এই সবকিছুর ফাইল গিয়ে এই হোস্টিং এর মধ্যে অর্থাৎ ওয়েবসাইট এর মেমোরি এর মধ্যে গিয়ে জমা হবে। ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করতে হলে অবশ্যই ভাল এবং বিশ্বস্ত কোম্পানী থেকে আপনাকে ক্রয় করা লাগবে। তা 'না হলে ফিউচারে অসুবিধায় পড়া লাগবে বা অনেকে টাকা ও মেরে দেয়।
বাংলাদেশে সাধারণত ২০০ থেকে শুরু করে ২০০০ টাকার মধ্যে শুধু হোস্টিং রয়েছে এবং ৫০০ থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকার মধ্যে ডোমেইন পাওয়া যায়।
তবে সবচেয়ে বিশ্বস্ত কোম্পানী হচ্ছে গোড্যাডি এবং নেমচিপ। হোস্টিং বিভিন্ন ধরণের রয়েছে : ক্লাউড হোস্টিং, শেয়ারড হোস্টিং, ভিপিএস হোস্টিং, ডেডিকেটেড হোস্টিং।
ই-কমার্স এর জন্য ক্লাউড হোস্টিং সবচেয়ে বেস্ট।
৩- ওয়েবসাইট তৈরী করা:-
______
==> ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে আপনি সহজেই ওয়েবসাইট তৈরী করতে পারেন এবং খুব অল্প সময়েই ওয়েবসাইট তৈরী করা যায়। ওয়ার্ডপ্রেসের বিভিন্ন থিম এবং বিভিন্ন প্লাগ-ইন দিয়ে প্রফেশনাল মানের একটি ওয়েবসাইট তৈরী করা যায়।
৪- ওয়েবসাইট এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) -
______
==>এসইও হচ্ছে ওয়েবসাইট সার্চ দিলে প্রথম পেজে থাকা।এই জন্য এই বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার। কারণ ওয়েবসাইট প্রথম দিকে থাকলেই ভিজিটর বাড়বে আর ভিজিটর বাড়লে প্রোডাক্ট বেশি বেশি বিক্রী হবে। প্রথম দিকে ওয়েবসাইট এর মার্কেটিং করা খুব দরকার।
৫-পেমেন্ট গেটওয়ে-
==> ব্যাংক ট্রান্সফার,বিকাশ,রকেট,নগদ খুব সহজেই আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে সেটাপ করে নিতে পারবেন।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর আরও একটি সুবিধা রয়েছে। আপনার ওয়েবসাইট যখন ভিজিটর বেড়ে যাবে তখন আপনি গোগল এডসেন্স করার সুযোগ থাকবে এবং তখন এক্সট্রা ইনকাম হওয়ার চ্যান্স রয়েছে। এটাকে বলা হয় প্যাসিভ ইনকাম।
ই-কমার্স এবং ই-কমার্স ওয়েবসাইট নিয়ে কারও যদি আরও ভালভাবে কিছু জানার থাকে তাহলে অবশ্যই মেসেজ করবেন.
পেজ==> https://www.facebook.com/webtechmasum
ধন্যবাদ।