12/03/2023
চ্যাট জিপিটি।
গত কয়েকমাস পুরো ইন্টারনেট তোলপাড় করে ফেলসে এই চ্যাট জিপিটি। আমাদের মধ্যে একেবারে হাহাকার পড়ে যাচ্ছে এই একটা এআই নিয়ে। চাকরি নিয়ে যাবে এআই, বেকার হয়ে যাবো, সামনে দূর্দিন আরো বেড়ে যাচ্ছে- কান পাতলে এই আলাপ সর্বদাই শুনবেন। আবার অনেকেই বলে বেড়াচ্ছেন অযথা ভীতি ছড়ানো হচ্ছে। আদতে কিছুই হবেনা। নেট দুনিয়ায় বিভিন্ন মিম বানানও হচ্ছে এআই এর ভুল-ভাল বক্তব্যের স্ক্রীনশট দিয়ে।
আসলেই? এত সোজা একটা মানুষকে প্রতিস্থাপন? গবেষণা করে দিবে এআই?? কোড লিখে উল্টায় ফেলবে?? সবাইকে ধান্ধায় ফেঁলে দিবে???? কি হবে????
আমরা অতি সম্প্রতি চ্যাট জিপিটি এবং অন্যান্য এআই ট্যুল ব্যবহার করে বেশ কিছু রিসার্চ প্রজেক্ট, রিপোর্ট রাইটিং সম্পন্ন করেছি। তাই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা চ্যাট জিপিটি ও অন্যান্য এআই নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করতে চাই এবং নতুন ও পুরাতন গবষকদেরও উদ্বুদ্ধ করতে চাই যেন সঠিকভাবে এআই এর প্রয়োগ হয়। আমরা বলছি না যে আমরা চ্যাট জিপিটিতে এক্সপার্ট , কিন্তু ব্যবহারিক জায়গা থেকে কিছু সাজেশন।
প্রথমত, এই এআই ট্যুলের কারণে আমাদের মনে হয়না খুব বেশি লোকের চাকরি হারানোর ভয় আছে যদি না একেবারেই যুগের সাথে তাল মিলানো না হয়। কিছু কাজ যেমন রিপোর্ট লেখা, বিভিন্ন সফটওয়্যারের কোড লিখে দেওয়া, সন্নিবেশ তথ্য দেওয়া- চ্যাট জিপিটি এই জায়গায় একটা বিশাল ফ্যাক্টর। কিন্তু আইডিয়া তৈরি করা, ক্রিটিক্যাল থিংকিং এবিলিটি, রিলেশনাল রাইটিং, ক্রিয়েটিভ মাইন্ড- এই জায়গায় আমাদের মনে হয়না এআই ট্যুল আসতে পারবে। এটা মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য।
তাই কিছু জিনিস সামনে চেঞ্জ হবে। খালি ৩-৪ টা কোড শিখে আপনি টিকতে পারবেন না। নিজেকে তৈরি করতে হবে। ভাবতে হবে, জানতে হবে, শিখতে হবে। সাথে যোগ করতে হবে সফটস্কিল।
আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে একটা বিশাল পরিবর্তন হবে সামনে এটা নিশ্চিত। অনেক শিক্ষকই গুগল ব্যবহার করে বিভিন্ন ভার্সিটির প্রশ্নপত্র এসাইনমেন্ট বা পরীক্ষায় দিয়ে দেন যা তারা নিজেরা হয়তোবা তৈরি করেননা। এটা সম্ভবত কঠিনতর হয়ে যাবে। কারণ শিক্ষার্থীরাও এআই ব্যবহার করছেন। শিক্ষকদের চাইতে বেশিই করছেন। তাহলে সামনে কি হবে? সেই শিক্ষকরাই সফল হবেন যারা নিজেরা নিজেদের প্রজ্ঞা আর মেধা দিয়ে মৌলিক প্রশ্নপত্র বানাবেন।
দ্বিতীয়ত, আমাদের শিক্ষা জীবনের একটা বড় ভয় হচ্ছে ইংরেজি লেখা নিয়ে। আমরা অনেকেই ভালো ইংরেজি বলা দূরে থাক, লিখতে গেলে ভয়ও পাই। কিন্তু অসংখ্য আইডিয়া গিজগিজ করে মাথায়। তাই আমাদের জন্য সুসংবাদ। চ্যাট জিপিটি ও অন্যান্য এআই এই জায়গাতে আমাদের বিশাল উপকার করে দিচ্ছে। আমাদেরকে আর আইডিয়া নতুন কি হবে না ভেবে সুন্দর শব্দ কি হবে- তা ভাবতে হবেনা। আর যারা রিপোর্ট বানাচ্ছেন, তারা একটু হাল্কা বিপদেই আছেন। কারণ প্ল্যাগারিজম। সম্প্রতি চ্যাট জিপিটি দিয়ে বানানো আর্টিকেল ও রিপোর্ট প্ল্যাগারিজমের শিকার হচ্ছে। সেখান থেকে উত্তরণের উপায়ও আছে। কুইলবট ও অন্যান্য এআই দিয়ে প্ল্যাগারিজম থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
আমরা অতি সম্প্রতি চ্যাট জিপিটি ও আরো এআই দিয়ে কয়েকটি রিসার্চ প্রজেক্ট ও বেশ কিছু স্ট্যাটিসটিক্যাল কোড লিখেছি বা লিখছি। যেটা আমরা বুঝতে পারি যে, চ্যাট জিপিটি দিয়ে আমরা আমাদের রিসার্চ আইডিয়াকে আরো বেশি নির্ভুল করে তুলতে পারি। কিন্তু এই এআই আপনাকে নতুন কোন বুদ্ধি দিতে পারবেনা। যা ইন্টারনেটে আছে তাই দিবে। তাই আমরা আইডিয়া জেনারেট করে পরবর্তীতে তাকে এআই ব্যবহার করে আরো ক্ষুরধার করেছি। সাথে কিছু নতুন কোড শিখতেও এআই যথেষ্ট ভালো সহযোগী।
আমাদের কাছে মনে হয় এআই আপনার শ্ত্রু হবেনা বরং সেই বন্ধু হবে যা আপনাকে আগায় নিয়ে যাবে। কিন্তু আপনাকে নিজেকেও তৈরি থাকতে হবে যেন আপনি সেই বন্ধুর যোগ্য হন।
আর সামনের সপ্তাহেই জিপিটি-৪ আসছে। বিজ্ঞানী বলেই দিয়েছে, সামনের সপ্তাহ থেকেই আমরা নতুন পৃথিবী দেখবো। তাই নতুন পৃথিবীকে স্বাগতম জানাতে তৈরি থাকুন।