22/05/2026
জিলহজ্জের প্রথম চাঁদ উঠেছিল নিঃশব্দ এক রাতে।
ছেলেটা তখনও বুঝত না
কেন কিছু মানুষ এই মাস এলে
হঠাৎ এত বদলে যায়।
কেন তাহাজ্জুদের সিজদা দীর্ঘ হয়,
কেন “লাব্বাইক” শব্দটা শুনে
কারো চোখ ভিজে ওঠে।
সে ভাবতো—
জীবন মানেই শুধু হারিয়ে ফেলা,
অপূর্ণ ইচ্ছেগুলোকে বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা।
কিন্তু একদিন সে জানতে পারলো,
আল্লাহ কখনো মানুষের ভাঙা অংশগুলো
অকারণে রেখে দেন না।
জিলহজ্জ তাকে শিখালো—
ইব্রাহিম (আ.) শুধু কোরবানি দেননি,
তিনি নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকেও
আল্লাহর জন্য ছেড়ে দিতে শিখেছিলেন।
আর ইসমাঈল (আ.) শিখিয়েছিলেন,
রবের হুকুমের সামনে
ভয়ের থেকেও বড় হলো বিশ্বাস।
ছেলেটা তখন বুঝলো,
সব ভালোবাসা পাওয়ার জন্য নয়,
কিছু ভালোবাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্যও আসে।
সব অপেক্ষা পূরণের জন্য নয়,
কিছু অপেক্ষা মানুষকে
রবের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আসে।
তারপর এক রাতে
সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবলো—
“হয়তো আমার ভাঙা স্বপ্নগুলোও
একদিন কোরবানির মতোই
আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যাবে।”
জিলহজ্জ তাকে নতুন করে শিখালো,
যে মানুষ দুনিয়ার সবকিছু আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়,
সে সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত হয়।
আর যে মানুষ আল্লাহর উপর ভরসা করতে শেখে,
সে হারিয়েও শান্তি খুঁজে পায়।
কিছু দুঃখ থেকে যায়,
কিছু মানুষ আর ফিরে আসে না,
কিছু শূন্যতা কোনোদিন পূর্ণও হয় না—
তবুও মুমিন থেমে থাকে না।
কারণ সে জানে,
আল্লাহ যার হৃদয় ভাঙেন,
তাকে একদিন নিজের রহমত দিয়েই জোড়া লাগান।
নিঃশব্দ রাতের শেষে যেমন ঈদের সকাল আসে,
তেমনি দীর্ঘ অন্ধকারের পরেও
আল্লাহ বান্দার জীবনে আলো পাঠান।
আর সেই ছেলেটা,
যে একসময় শুধু হারানোর ভয় পেত—
সে এখন জানে,
“রবের জন্য ছেড়ে দেওয়া কোনো জিনিস
কখনো সত্যিকার অর্থে হারিয়ে যায় না।”
✍️,,,,,,,,,,,,,,,,,।