01/09/2026
২০২৬-এ ল্যাপটপ কিনতে গেলে এখন চারটা আলাদা রাস্তা। কোনটা আপনার জন্য? 🤔
আগে ব্যাপারটা সহজ ছিল — Intel না AMD, ব্যস। এখন Apple-এর নিজের চিপ আছে, Qualcomm-ও ঢুকে পড়েছে। চারটার চরিত্র চার রকম। কোনটা "সেরা" সেই তর্কে না গিয়ে, কোনটা কার জন্য সেটা বলি।
তার আগে একটা কথা, যেটা ব্র্যান্ডের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ 👇
⚠️ ব্র্যান্ডের চেয়ে জেনারেশন বেশি জরুরি
"i7 নিলাম" — এই কথাটার একা কোনো মানে নেই।
একটা পুরনো জেনারেশনের i7 আজকের একটা i5-এর চেয়ে ধীর হতে পারে। প্রসেসরের নামের পরের সংখ্যাটাই আসল — সেটাই বলে চিপটা কোন বছরের।
দোকানে গিয়ে শুধু "i5 না i7" জিজ্ঞেস করবেন না। পুরো মডেল নাম্বারটা জিজ্ঞেস করুন — যেমন Core i5-1235U বা Ryzen 5 7530U। ওই নাম্বারটা দিয়েই বোঝা যায় চিপটা নতুন না পুরনো।
আর শেষের অক্ষরটাও দেখবেন:
U — কম পাওয়ার, ব্যাটারি ভালো, পাতলা ল্যাপটপ
H / HX — বেশি পাওয়ার, ভারী কাজ, গেমিং, ব্যাটারি কম
P — মাঝামাঝি
একই "i7" নামের নিচে U আর HX-এর মধ্যে পারফরম্যান্সের পার্থক্য বিশাল।
🔵 ১. Intel Core Ultra Series 3 — বিল্ট-ইন গ্রাফিক্সে সবচেয়ে শক্তিশালী
কোডনেম Panther Lake। Intel-এর নতুন 18A প্রসেসে বানানো, জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাজারে — এখন ৬০+ ল্যাপটপ মডেলে পাওয়া যাচ্ছে (Dell XPS, ThinkPad X1 Carbon, Asus Zenbook, LG Gram সহ)।
সবচেয়ে বড় খবরটা গ্রাফিক্সে। এর বিল্ট-ইন Arc B390 গ্রাফিক্স নিয়ে Notebookcheck-এর টেস্টে দেখা গেছে, এটা RTX 4050 Laptop GPU-র কাছাকাছি পারফর্ম করে — আলাদা কোনো গ্রাফিক্স কার্ড ছাড়াই।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ এতদিন হালকা গেমিং বা ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য আলাদা GPU লাগত, যেটা ল্যাপটপকে ভারী, গরম আর দামি বানাত। এখন একটা পাতলা ল্যাপটপেই সেই কাজ চালানো যায়।
✅ কাদের জন্য: যারা একটাই ল্যাপটপে সব করতে চান — অফিস, এডিটিং, হালকা গেমিং। যাদের সব রকম Windows সফটওয়্যার নিশ্চিন্তে চালাতে হবে। ❌ কাদের জন্য না: যাদের বাজেট খুব টাইট। নতুন জেনারেশন মানেই দাম বেশি।
🔴 ২. AMD Ryzen AI 400 — নাম নতুন, ভেতরটা পুরনো
এখানে খোলাখুলি বলা দরকার, কারণ এই জায়গায় ক্রেতা সবচেয়ে বেশি ঠকে।
"Ryzen AI 400" নামটা নতুন, কিন্তু ভেতরের আর্কিটেকচার নতুন না। এখনো Zen 5 কোর আর RDNA 3.5 গ্রাফিক্স — আগের জেনারেশনেরই। উন্নতি বলতে ক্লক স্পিড একটু বেশি, DDR5-8533 সাপোর্ট, আর NPU-তে বেশি TOPS।
Notebookcheck তাদের রিভিউয়ে সরাসরি লিখেছে: "only minor improvements"। তাদের টেস্টে ৪৫W-এ Ryzen AI 400-এর মাল্টি-কোর পারফরম্যান্স পুরনো Ryzen AI 9 365-এর ৬০W-এর সমান — মানে দক্ষতা বেড়েছে, কাঁচা গতি না।
👉 এর মানে এই না যে চিপটা খারাপ। মানে হলো — শুধু "AI 400" নাম দেখে অনেক বেশি দাম দেবেন না। দাম যদি যুক্তিসঙ্গত হয়, AMD-র ভ্যালু ভালোই।
✅ কাদের জন্য: অফিস, পড়াশোনা, মাল্টিটাস্কিং। ভালো ব্যাটারি চাই যাদের। দাম কম পেলে দারুণ ভ্যালু। ❌ কাদের জন্য না: যারা "সবচেয়ে নতুন আর্কিটেকচার" খুঁজছেন — এটা সেটা না।
⚪ ৩. Apple M5 / M5 Pro / M5 Max — ব্যাটারি আর নীরবতায় এগিয়ে
মার্চ ২০২৬-এ এসেছে। MacBook Air M5 শুরু $1,099 থেকে, আর একটা বড় পরিবর্তন — বেস স্টোরেজ এখন 512GB (আগে 256GB ছিল)। ব্যাটারি ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত, Wi-Fi 7।
Apple-এর চিপের আসল সুবিধা পারফরম্যান্স-প্রতি-ওয়াট। পাখা প্রায় চলেই না, ল্যাপটপ গরম হয় না, ব্যাটারি সারাদিন যায়। PCWorld-এর টেস্টে Intel-এর নতুন Panther Lake-এর সাথে তুলনায় দেখা গেছে M5 MacBook Pro-ই Cinebench 2024 আর Geekbench 6-এ বেশি স্কোর করেছে।
কিন্তু একটা শর্ত আছে, আর সেটা বাংলাদেশে বেশি গুরুত্বপূর্ণ: অনেক Windows-only সফটওয়্যার macOS-এ চলে না। বিশেষ করে অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার, কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং টুল, বা অফিসের নির্দিষ্ট অ্যাপ। কেনার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন আপনার দরকারি সফটওয়্যার macOS-এ আছে কি না।
✅ কাদের জন্য: ভিডিও এডিটিং, ডিজাইন, প্রোগ্রামিং। সারাদিন চার্জ ছাড়া কাজ করেন যারা। ❌ কাদের জন্য না: যাদের Windows-only সফটওয়্যার লাগে। যারা পরে নিজে RAM/SSD আপগ্রেড করতে চান — Apple-এ সেটা করা যায় না।
🟣 ৪. Snapdragon X2 Elite — ARM-ভিত্তিক Windows
Qualcomm-এর চিপ, কিন্তু চলে Windows-এ। এপ্রিল ২০২৬ থেকে US রিটেইলে পাওয়া যাচ্ছে (Asus Zenbook A16 $1,699.99, HP OmniBook Ultra 14 $2,049.99)।
টেকনিক্যালি চিত্তাকর্ষক — ৫GHz পর্যন্ত ক্লক, প্রথম ARM চিপ যেটা এই গতিতে পৌঁছেছে, ১৮টা পর্যন্ত কোর, ৩nm প্রসেস। ব্যাটারি ব্যাকআপ Apple-এর কাছাকাছি।
তবে ARM-এ Windows চালানোর পুরনো সমস্যাটা এখনো আছে: কিছু সফটওয়্যার ARM-এর জন্য বানানো না, সেগুলো এমুলেশনে চলে — ধীর হতে পারে, কিছু ক্ষেত্রে একেবারেই চলে না। বিশেষ করে পুরনো অ্যাপ, কিছু গেম, আর কিছু ড্রাইভার-নির্ভর সফটওয়্যার।
আর একটা খবর যেটা বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক: Qualcomm Snapdragon C নামে একটা সস্তা প্ল্যাটফর্ম এনেছে ~$৩০০-এর Windows ল্যাপটপের জন্য। মেমোরির দাম বাড়ায় বাজেট সেগমেন্ট ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে — সেই ফাঁকটা ভরাট করার চেষ্টা।
✅ কাদের জন্য: ব্রাউজিং, ডকুমেন্ট, অনলাইন মিটিং। সবচেয়ে লম্বা ব্যাটারি চাই যাদের। ❌ কাদের জন্য না: গেমার। যাদের নির্দিষ্ট পুরনো সফটওয়্যার লাগে।
🎯 **সংক্ষেপে — কে কোনটা নেবেন**
আপনি যদি হন
স্টুডেন্ট / অফিস, বাজেট সীমিত → AMD Ryzen (দাম ঠিক থাকলে)
একটাছা ল্যাপটপে সব — এডিটিং + হালকা গেমিং → Intel Core Ultra Series 3
ভিডিও এডিটর / ডিজাইনার, ব্যাটারি চাই → Apple M5
সারাদিন বাইরে, শুধু ব্রাউজিং-ডকুমেন্ট → Snapdragon X2
সিরিয়াস গেমার → Intel/AMD + আলাদা NVIDIA GPU
💡 আর একটা বাস্তব কথা
উপরের চারটাই ২০২৬-এর নতুন চিপ, আর নতুন মানেই এখন অনেক দাম — কারণ মেমোরি সংকটে পুরো ইন্ডাস্ট্রির খরচ বেড়ে গেছে।
বাস্তবে বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্রেতার জন্য সঠিক উত্তর হলো এক-দুই জেনারেশন আগের একটা ভালো কন্ডিশনের ল্যাপটপ। ১১তম বা ১২তম জেনারেশনের একটা i5/i7 আজও অফিস, পড়াশোনা, এমনকি এডিটিংয়ের কাজ ভালোভাবে করে — অর্ধেকেরও কম দামে।
আপনার বাজেট আর কী কাজ করবেন বলুন, আমরা বলে দিচ্ছি কোনটা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ 👇
📞 01722-726184 · 📍 সামাদ প্লাজা (২য় তলা), মিরপুর-১০, ঢাকা