14/01/2026
ফেসবুকের রাজনীতি আর মাঠের রাজনীতি এক জিনিস নয়—ইতিহাসই তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। ঘটনাটি ১৯৯৪ সালের।
মাগুরা উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে সময় ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচন করছে কয়েকটি দল—
খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম।
জোটের পরামর্শ সভায় প্রশ্ন উঠল—মাগুরায় কাকে প্রার্থী করা যায়?
তখন চরমোনাই পীর সাহেব বললেন,
“মাগুরায় আমাদের ৫০ হাজার মুরিদ আছে। জোটের পক্ষ থেকে ইসলামী আন্দোলনের কাউকে নমিনেশন দেওয়া হোক।”
শেষ পর্যন্ত চরমোনাইর দল থেকেই নমিনেশন দেওয়া হলো।
সেই সময় ইসলামী ঐক্যজোটের সদস্য সচিব ছিলেন
মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী (রহ.)।
তিনি নিজে বলেন—
“আমি সাত দিন মাগুরা থেকে ক্যাম্পেইন করেছি।
কিন্তু ভোটের পর দেখা গেল, ভোট পেয়েছি মাত্র ৩ হাজার।
মুরিদ ৫০ হাজার, ভোট ৩ হাজার।”
এরপর তিনি যে কথাটি বলেছেন, সেটাই আজকের বাস্তব রাজনীতির সারসংক্ষেপ—
“রাজনীতিতে মুরিদ দিয়ে কিছু হয় না।
ডাক দিলে জমায়েত করা যায়, ভোটে জেতা যায় না।”
— মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী (রহ.)
ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান
সূত্র: কালান্তর সংখ্যা–৩, ইসলামি রাজনীতি, পৃষ্ঠা ৪২৪
আজ ৩০ বছর পরও বাস্তবতা বদলায়নি।
ফেসবুকের পোস্ট, আবেগী বক্তৃতা আর মুরিদ-ভিত্তিক হিসাব দিয়ে নির্বাচন জেতা যায় না।
সাধারণ মানুষ এখনো “হুজুর” বললেই সবাইকে জামায়াত মনে করে।
আর ভোটের সময় মানুষ আবেগে নয়—পরিচিত প্রতীকে ভোট দেয়।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলো দেখুন—
ফলাফলই বলে দেয় মাঠের রাজনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে।
আর সবচেয়ে কষ্টের জায়গা—
দেশের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী বহু ছাড় দিয়েছে, বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে।
কিন্তু বারবার পাওয়া গেছে অবিশ্বাস, বেঈমানি আর বিশ্বাসঘাতকতা।
যুগ যুগ ধরে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি চলছে।
এখনো যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়া হয়,
তাহলে দায়টা কার?
রাজনীতি আবেগ দিয়ে নয়,
বাস্তবতা, পরিসংখ্যান আর জনগণের মনস্তত্ত্ব বুঝে করতে হয়।
সময় এসেছে—
ফেসবুক নয়, মাঠের বাস্তবতায় ফিরে আসার।