21/11/2013
&
কমপিউটারের পরিভাষায় যাঁরা কমপিউটার ব্যবহার করেন, সবাই ভাইরাসের ব্যাপারে আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন থাকেন। ভাইরাস বিভিন্ন রকমের হতে পারে। একেকটা ভাইরাসের আক্রমণ কৌশল একেক রকম। তাই কমপিউটারে ভাইরাস আক্রমণের কিছু লক্ষণ নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের এবারের টিপস-
কমপিউটারে ভাইরাস আক্রমণের লক্ষণগুলো হচ্ছে-
কমপিউটার স্লথ হয়ে যাওয়া তথা কোনো প্রোগ্রাম লোড/রান হতে অস্বাভাবিক সময় নেওয়া;
পিসি হ্যাং করতে পারে।
টাস্ক ম্যানেজার কাজ করবে না।
স্টোরেজ ডিস্কের ভলিউমের নাম পরিবর্তন হতে পারে।
ডিস্কে ব্যাড সেক্টর বারবার দেখাবে।
ওয়ার্ড, নোটপ্যাড ফাইলের ফন্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
র্যাম, এজিপি কম দেখাতে পারে।
হার্ডডিস্কে জায়গা কমে যেতে পারে।
সফটওয়্যার, গেমস এমনকি অডিও-ভিডিও ফাইল চালু হতেও সময় নেবে বেশি।
সিডি, ডিভিডি কপি হতে বেশি সময় নেবে।
অজানা এক্সটেনশনযুক্ত ফাইল দেখা যাবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন প্রোগ্রাম রান করবে বা বন্ধ হবে।
ওয়ার্ডে বা নোটপ্যাডে কিছু লিখলে তা অনেক ক্ষেত্রেই সেভ করা যাবে না।
কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে।
যে গেম আগে ঠিকভাবে চলত সেগুলো কোনো কারণ ছাড়াই চলার সময় বারবার আটকে যাবে।
অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফোল্ডারের আইকন পরিবর্তন করা যায় না।
ডট ইএক্সই (.বীব) ফাইলের আকার পরিবর্তন হতে পারে।
সিস্টেমে সময় ও তারিখের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন হতে পারে।
কোনো কারণ ছাড়াই মেমোরি থেকে ফাইল ডিলিট হয়ে যেতে পারে।
সিস্টেমের সেটিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন হতে পারে। ডিসপ্লে রেজুলেশন তথা সেটিং পরিবর্তন হতে পারে।
ফোল্ডার অপশন হাইড হয়ে যেতে পারে; ফ্রি মেমোরি স্পেস পরিমাণে কম দেখাতে পারে;
হার্ডডিস্কের পার্টিশন নষ্ট হয়ে ডেটা হারিয়ে যেতে পারে।
কমপিউটারের বায়োসের (বেসিক ইনপুট আউটপুট সিস্টেম) ডেটা মুছে ফেলে কমপিউটার অচল করে দিতে পারে।
হঠাত্ বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত এরর মেসেজ দিতে পারে।
প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সফটওয়্যার ইনস্টল হতে সময় নেবে অথবা হবে না।
যেকোনো সময় কমপিউটারকে হ্যাং করে দেয় অথবা হঠাত্ রিস্টার্ট করে দেয়, ফলে আনসেভ যেকোনো ডকুমেন্ট হারিয়ে যায়।
এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। এসব লক্ষণ প্রকাশ পেলে ধরে নেওয়া যায় কমপিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত।
হতে পারে আপনার পিসিতে নতুন একটি গেম ইনস্টল করা হয়েছে আর এর সঙ্গে একটি ভাইরাসও ইনস্টল হয়ে গেছে এবং এই ভাইরাসটির কাজ হচ্ছে ফাইল মুছে দেওয়া। এক সকালে পিসি চালু করে আবিষ্কার করলেন, আপনার পিসিতে রক্ষিত সব ফাইল গায়েব। মাথার চুল ছেঁড়া ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে তখন।
আবার ই-মেইলও হয়ে উঠতে পারে আপনার পিসির জন্য ভয়ানক একটা কিছু। এমনও হতে পারে, আপনি পরিচিত কারও একটি ই-মেইল পেলেন এবং ই-মেইলটি খোলার সঙ্গে সঙ্গেই হয়তো বা ই-মেইলে সংযুক্ত একটি ভাইরাস আপনার অগোচরে কাজ করা শুরু করে দিল। এটি এমন একটি ভাইরাস হতে পারে, যার কাজ হলো আপনার পিসিতে রক্ষিত সব ফোল্ডারের ব্যক্তিগত তথ্য আপনার অ্যাড্রেস বুকে সংরক্ষিত সব ই-মেইল অ্যাড্রেসে পাঠানো শুরু করে দেওয়া। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, ভাইরাসের কর্মকাণ্ড কত ধরনের হতে পারে।
ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে যেসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, তার কয়েকটি হলো-
যত দূর সম্ভব বাইরের কোনো পেনড্রাইভ
ব্যবহার না করা; অন্যথায়, পেনড্রাইভ ব্যবহারের আগে ভাইরাস স্ক্যান করে নেওয়া।
পেনড্রাইভ মাউসে ডাবল ক্লিক করে ওপেন না করে বরং এক্সপ্লোর করে বা ফোল্ডার থেকে ওপেন করা।
ইন্টারনেট থেকে অপরিচিত কোনো ফাইল অথবা ডট ইএক্সই (.বীব) এক্সটেনশন যুক্ত অপরিচিত কোনো ফাইল ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকা।
ভালো মানের ও আপডেটেড ভাইরাস স্ক্যানার (অ্যান্টিভাইরাস) ব্যবহার করা।
ইন্টারনেট থেকে প্রতিদিন ভাইরাস স্ক্যানার আপডেট করা।
ভাইরাস সংক্রমিত সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে এবং ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকা।
কমপিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে শক্তিশালী, আপডেটেড ও ভালো মানের ভাইরাস স্ক্যানার (অ্যান্টিভাইরাস) ব্যবহার করে স্ক্যান করতে হবে।
তবে প্রচলিত প্রোগ্রাম দ্বারা ভাইরাস মুক্ত করা না গেলে ফাইল ডিলিট করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। অনেক সময় ডিস্ক ফরমেট করা প্রয়োজন হতে পারে, এমনকি নতুন করে অপারেটিং সিস্টেমও ইনস্টল করতে হতে পারে।