20/05/2025
সোশ্যাল মিডিয়ার রাজনীতি
বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশ, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং তথ্য বিনিময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশে এই মাধ্যমটি আজ রাজনৈতিক স্বার্থে, ঘৃণা ছড়াতে এবং জনমত বিকৃত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার রূপ নিয়েছে ঘৃণা, বিভ্রান্তি ও প্রতিহিংসার এক ভয়ংকর প্ল্যাটফর্মে। প্রতিনিয়ত ছড়ানো হচ্ছে ভুল ও বানোয়াট তথ্য, তৈরি হচ্ছে সাজানো গল্প, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিরুদ্ধমতের মানুষকে হেয় করা ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করা।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি কিংবা কোনো বিরোধী রাজনৈতিক মতাবলম্বী ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের মতামত প্রকাশ করলেই, শুরু হয়ে যায় এক ধরনের ডিজিটাল হামলা। শত শত ট্রল কমেন্ট, ‘হা হা’ রিয়েক্ট এবং চরিত্র হননের মত কর্মকাণ্ড চালানো হয়, যার পেছনে স্পষ্ট পরিকল্পনা ও নির্দেশনার ছাপ থাকে। এই প্রতিক্রিয়াগুলো মতভেদকে সম্মান না করে তাকে দমন করার অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, তরুণদের একটি অংশ—যারা একসময় স্বাধীনভাবে চিন্তা করত—আজ বিভ্রান্তির ফাঁদে আটকে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবশালী ট্রেন্ড, বট-নেটওয়ার্ক, এবং উসকানিমূলক রাজনৈতিক কনটেন্ট তাদের যৌক্তিক চিন্তা ও মূল্যবোধকে বিপন্ন করছে। অন্ধ দলীয়তা ও ডিজিটাল হামলায় জড়িয়ে পড়ছে তারা নিজেরাও, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক বড় হুমকি।
আমরা লক্ষ্য করছি, এই হিংসাত্মক ডিজিটাল চর্চার পেছনে রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপ বা চক্র, যারা কিছু মহল থেকে নির্দেশনা পায়। তারা নির্দিষ্ট সময়, ঘটনা ও ব্যক্তিকে টার্গেট করে দলবদ্ধভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ চালায়। এই চক্রের কার্যকলাপ মনিটরিং এবং তাদের উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ঘৃণার রাজনীতি, ট্রোলিং সংস্কৃতি, এবং ডিজিটাল নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া যেন যুক্তিভিত্তিক আলোচনা ও তথ্যভিত্তিক মতপ্রকাশের একটি নিরাপদ স্থান হয়, সেটিই আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
-ইশরাক আইসিটি ইউনিট