28/01/2021
আজকের বিষয় প্রতিষ্ঠানের লোগো সম্পর্কিত কিছু কথা...!
লোগো একটি কোম্পানির ব্রান্ড আইডেন্টিটি। একটি জুতা থেকে শুরু করে রকেট কোম্পানিরও লোগো থাকে। আপনি ঘুম থেকে উঠে সকালের নাস্তা করতে গেলে লোগো চোখে পড়ে, আপনার গাড়িতে লোগো, অফিসের কম্পিউটারে লোগো । বলতে গেলে লোগো আমাদের আশপাশটা দখল করে নিয়েছে। এবং আমাদের চারপাশে এক এক লোগো এক এক রকম। কিন্তু সব লোগোই কোন ছবি এবং বর্ণ এবং কোন শেফ এর সমন্বয়ে তৈরি হয়। আধুনিক যুগে লোগো বা মনোগ্রাম হলো আঙুলের ছাপ কিংবা সিগনেচারের মতো। প্রত্যেক লোগো আপনাকে আলাদা উপলদ্বি দিবে। এটা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মার্কা বা প্রতীকের মতো। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের লোগো আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। এক প্রতিষ্ঠানের লোগোর সাথে অন্য প্রতিষ্ঠানের লোগো মিলে যাওয়া ঠিক নয়। বলতে পারেন কেন মিলতে পারবে না। এতে সে প্রতিষ্ঠান আপনার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। তাতে বড়ো অংকের জরিমানাও গুনতে হতে পারে। তাই প্রতিষ্ঠানের লোগো ডিজাইন গুরুত্ব সহকারে করা উচিত। প্রথম দেখায় লোগোর কোয়ালিটি দেখে লোকেরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মান ও রুচি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেয়ে থাকে।
লোগো বিভিন্ন রকম হতে পারে। শুধু নামটাই লোগো হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো বাজারী ফন্ট ব্যবহার না করে নামটা আর্ট করা হলে ভালো। পুরো নামটার ক্ষেত্রে অন্তত একটি বর্ণ অন্যরকম করে দেয়া যেতে পারে। যেমন পত্রিকার লোগো। বড়ো কোম্পানীর লোগোগুলো এমন হয়। এ ক্ষেত্রে এক কালার হতে পারে যেমন বাটা, কোকাকোলা। আবার মাল্টিকালার হতে পারে যেমন গুগল ইয়াহু। আবার লেখার পাশে বা উপরে বিশেষ সাইন থাকতে পারে। যা কোম্পানীর কোনো বিশেষ পন্য বা ব্যবসার ধরনকে ইঙ্গিত করে। যেমন ইউনিলিভার, নেসলে ইত্যাদি।
এরকমও লোগো হতে পারে যে লোগো শুধু একটি সাইন বিশেষ করে গাড়ী কোম্পানীর লোগো গুলো এরকম হয়ে থাকে। আবার মাঝখানের একটি বর্ণকে সাইন বানিয়ে বা সাইনের সাথে মিলিয়ে লোগো হতে পারে। যেমন পাঠাও।
লোগো আসলে কেমন হওয়া উচিৎ?
১। লোগো ছোট সহজ দৃস্টিনন্দন সৃজনশীল ও শিল্পমান সম্পন্ন হওয়া উচিত।
২। লোগো এক কালারের হলে সেটা আদর্শ তবে । দুই কালার হতে পারে। লোগোতে ২ কালারের বেশী ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে কালার ম্যাচিং ও প্রিন্টিং কাজে জটিলতা বৃদ্ধি পায়। বড়ো বড়ো কোম্পানীগুলো এক কালার লোগো ব্যবহার করে থাকে।
৩। রং ঠিক করা খুব গুরুত্বপূর্ণ । ব্যবসার ধরণ বা পন্যের সাথে মিলিয়ে রং ঠিক করা ভালো। যে রংই হোক সেটা যেন আবার ২ রং এর বেশী মিশ্রণ না হয়। মনে রাখবেন। প্রেসে রং হলো চারটি: সিএমওয়াইকে CMYK, ছায়ান বা হালকা আকাশী, মেজেন্ডা বা গোলাপী, ইয়েলো বা হলুদ আর কালো বা ব্লাক। এই রংগুলোর মিশ্রনে অন্য রং তৈরী হয়। যেমন হলুদ এবং মেজেন্ডার মিশ্রণে তৈরী হয় লাল। ঠিক এই ফরম্যাটে ইলাস্ট্রেটর এর কালার ফরম্যাট সাজানো।
৪। লোগো কখনো ফটোশপে ডিজাইন করা উচিত নয়। কোনো ডিজাইনের যদি ফটোশপে লোগো ডিজাইন করে তাহলে হয়তো সে প্রিন্টিং প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞ অথবা সে আপনাকে ঝামেলায় ফেলার জন্য একটা বুদ্ধি বের করেছে। কারণ ফটোশপের লোগোটি বড়ো করতে গেলে ঝামেলা হতে পারে।
৫। লোগো অবশ্যই ইলাস্ট্রেটরে ডিজাইন করে ফাইলটি ক্রিয়েট আউটলাইন করে ভেক্টর ফাইল আকারে সংরক্ষণ করতে হবে। ফটোশপ ফাইলের ঝামেলা হলো যখন আপনি লোগোটি বড়ো করে একটি বিলবোর্ড এর জন্য তৈরী করবেন তখন এটি ফেটে যেতে পারে। তাছাড়া যেহেতু প্রিন্টের আগে যেকোনো কাজ ইলাস্ট্রেটর ফরম্যাটে আউটপুট দিতে হয়। সেহেতু ফটো এডিটের কাজ না থাকলে ইলাস্ট্রেটরে ডিজাইন করাই ভালো।
৬। ডিজাইনের পর লোগোটির কয়েকটি ফরম্যাট সংরক্ষণ করবেন। যেমন .ai, .pdf, .eps, .png ইত্যাদি। পিএনজি করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকে। এমনকি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডও না। ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে স্বচ্ছ।
আশা করি মোটামুটি বুঝে গেছেন লোগো খাওয়া কিংবা মাথায় দেওয়ার জিনিস না। আপনার মুখ দেখলে আপনার পরিচিত লোক যেমন আপনার চরিত্র সম্পর্কে চট করে বুঝে যায়, ঠিক তেমনি পরিচিত ব্যক্তিরা লোগো দেখলে কোম্পানির সেবা সম্পর্কে পুরো ধারনা পেয়ে যায়। পরিচিত বললাম এই কারণে যে, অ্যাপল কোম্পনি সম্পর্কে আগে থেকে কেউ না জানলে যে কেউ মনে করতে পারে এই কোম্পানি মনে হয় আপেল বিক্রি করে কিংবা চাষ করে।
সুতরাং প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের লোগোই গুরুত্বপূর্ণ ।
তাই লোগো ডিজাইন করার আগে সময় নিয়ে গুরুত্ব সহকারে পরিপূর্ণ অর্থ বহন করে এমন লোগো ডিজাইন করতে হবে।
🌐 https://www.facebook.com/bd.worldwebit.net
🌍
Welcome To Our Creative Business Home Make your dream store come true… ! Web Design We will built your personal or business website fully responsive and mobile friendly. We take each client through a creative process to build a website that reflects their brand, generates sales and hit their uniqu...