24/10/2018
একটু সময় নিয়ে পড়বেন আর বুঝতে চেষ্টা করবেন।
#ইন্টারনেট
ব্যবসায়ী VS গ্রাহক:
১) রাত ৮ টার পরে স্টাফদের ছুটির পরেই কেউ ফোন দিয়ে বলবে এখনি লাইনটা ঠিক করে দেন প্লিজ! না দিলেই সার্ভিস খারাপ।
২) ৫০০/১০০০ টাকার একটা লাইন নিয়া আপনার তো প্রথম ১/২ মাস ভালোই চলে কারন প্রথম কয়েকদিন ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড অন্য কাউকে দেন নাই, এরপর ই ভাই ব্রাদার বানানো শুরু করলেন, পাশের বাসার আন্টিকেও আজকাল আপু ডাকা শুরু করলেন, উপড় তলার ভাইয়ার সাথে আবার বিলের কিছু টাকা শেয়ার করা শুরু করলেন। আবার দেখা যায় আপনার ভাই ব্রাদার রা মোবাইল রুট করে পাসওয়ার্ড বের করে আরেকজনের মোবাইলে দিচ্ছে। আজকাল দেখি ছোট বাচ্চারাও ওয়াইফাই হ্যাক করতে ওস্তাদ, সমাধান করতে গিয়ে যদি বলি ভাই ম্যাক লক করে চালাতা হবে, তাহলে আবার আপনি রাজি হননা, কারন তাহলে আবার ভাই, আন্টি, বন্ধু এরা আর পাবে না। কিন্তু লাইনটা স্লো হোলেই ফোনে যে ভাষায় কথা বলেন তাতে মনে হয় ৯০০ টাকা দিয়া ১০ ১২ জন ব্যাবহার করার কথা ISP লোকেরাই বলেছে।
৩) এবার আসেন কল সেন্টার প্রসংগে, আপনি ফোন দিয়ে স্লো কমপ্লিন করলেন, সেখান থেকে বললো আপনি ৩/৪ এম বি করে পাচ্ছেন। আপনি বললেন আরে ভাই আমি তো ফেইসবুকটাই ওপেন করতে পারছি না, কোথায় ৩/৪ এম বি চালাই, ফাইজলামি পাইছেন নাকি? আপনি কি জানেন কল সেন্টারের মানুশ গুলোর সামনে একটি অপারেটিং সিস্টেম চালু থাকে যা আপনি কত স্পিডে ডাটা টানছেন, কতক্ষন যাবত লাইনে আছেন, কখন সর্বশেষ ব্যবহার করেছেন, সবকিছুই দেখায়। কল সেন্টার সেটা দেখেই আপনাকে বলে, এতে মিথ্যার কিছু নাই, কিন্তু আপনি জেনে বা না জেনে হোক, বুঝে বা না বুঝে হোক ভুল বা মিথ্যা বলছেন। কারন আপনি জানেন না যে আপনার বা আপনার ভাই বা আপনার বোন বা আপনার ঘরের কারো পকেটে থাকা WiFi চালু করা Android ফোনটি আপডেট নিচ্ছে সম্পূর্ণ গতি ব্যবহার করে। আর তখনি আপনি স্লো কানেকশন পাচ্ছেন। এখন আপনার ঘরের কোন ডিভাইসটি ব্যান্ডউইথ টানতেছে এটাতো আর কল সেন্টার থেকে বলতে পারবে না। আপনাকে জিজ্ঞাসা করায় আপনি আবার বলেন "অসম্ভব আমি তো একাই চালাচ্ছি" তখন আপনার বাসায় লোক পাঠানোর পড়ে গিয়ে যদি দেখি প্রায় ১৬ টা ডিভাইস কানেক্টেড। যে ছেলেটা আপনার বাসায় গিয়েছে সে সারাদিন পরিশ্রম করে ৬/৭ তলা সিড়ি বেয়ে এই দৃশ্য দেখার পরে তার মেজাজ টা কেমন লাগতে পারে বলেন তো। পরবর্তিতে ওই ছেলে আপনার এই ধরনের সমস্যা সমাধান করতে যেতে অনিহা দেখাবে এটাই স্বাভাবিক।
৪) আরো ২ টা ব্যপার আছে রাউটার এবং ব্যান্ডউইথ। যখন আমরা রাউটার কিনি প্রথমেই পছন্দ করি কমদামি টা, আমরা মনে করি ভালো রাউটার মানেই ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা এর মধ্যেই। আসলে মিথ্যা কথা। নুন্যতম মানের রাউটার কিনতে হলেও ৪ হাজার টাকা মুল্যের কেনা উচিত যেমন ধরেন CISCO, MIKROTIK এর WiFi রাউটার। এগুলো ভালো মানের। একবারো কি ভেবে দেখেছেন ৯০০/১০০০ টাকার রাউটার আর ৪ হাজার টাকার রাউটার এর Wifi Range একই, কাজ করে একই, তাহলে দামে এত পার্থক্য কেন? এই কম দামি রাউটার গুলোর কারনেই ৫০% কমপ্লিন তৈরী হয়। এটাও আপনারা মানতে নারাজ।
৫) এবার আসেন ব্যন্ডউইথ প্রসংগে,
ধরেন আপনি একটি কানেকশন নিতে চাচ্ছেন, ১ম ব্যবসায়ি আপনাকে বললো ৩০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ, আপনি চলে গেলেন। ২য় ব্যবসায়ি আপনাকে বললো ২৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ, তাও আপনি নিলেন না, ৩য় ব্যবসায়ি ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার কারনে আপনাকে বললো ফ্রি সার্ভিস চার্জ। আপনি ও প্রতিযোগিতার বাজারের এই ফায়দা টা নিয়ে নিলেন, একবারো ভাবলেন না আপনার সংযোগ দেয়ার জন্য এই লোকটা কোন কোয়ালিটির ক্যাবল ব্যবহার করবে, তাতে লাইনটা ভালো চলবে কিনা? কত দিন টিকবে?
আর যদি এই ব্যবসায়ি আপনাকে ভালো কেবল দিয়েও থাকে সেতো এই টাকা আপনার ব্যান্ডউইথ থেকে ম্যানেজ করবে, সে তো ঘর থেকে এনে দিবে না। এরপর আসেন আরেকটা বিষয়ে, না জেনে থাকলে আজ জেনে রাখুন, কাচা বাজার এ যেমন quality এর উপরে নির্ভর করে এক এক দোকানে এক এক রকমের সব্জির দাম, তেমনি আমাদের বাজারেও ব্যান্ডউইথ quality এর উপরে, কাস্টোমার সার্ভিস এর উপরে নির্ভর করে ইন্টারনেট প্যাকেজ এর মুল্য। আপনি কম টাকায় পচা আলু কিনবেন আর বাসায় বউএর সামনে নায়ক সাজার জন্য ব্যবসায়ী দের গালাগালি করবেন, সেটা তো হতে পারে না ভাইজান!
৬) এবার আসেন একটা মজার প্রসঙ্গে, সারা মাস কষ্ট করার পরে যখন বিলের জন্য কাস্টোমারদের ফোন দেই তখন একেক জন কে হারিকেন জালাইয়া খুজতে হয়। ভাগ্যক্রমে ফোন ধরলেও কেউ বলে ১০ তারিখ, কেউ ১৫, কেউ ২০ কেউ আবার মাসের শেষে গিয়ে বলে আগামি মাসে দেব।
ভাই, আমরাও কাউকে না কাউকে ব্যান্ডউইথ বিল দেই, নির্দিষ্ট তারিখটা পার হলেই তারা আমাদের ফোন না দিয়ে সিস্টেম অনুযায়ী লাইন বন্ধ করে দেয়......
বি:দ্র: মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে....