23/03/2019
এক মহিলার একটা ফুটফুটে মেয়ে বাচ্চা হয়েছে নরমাল ডেলিভারিতে। এটা মহিলার ৪ নম্বর বাচ্চা। চারটা বাচ্চাই মেয়ে।
ডেলিভারির পর কমপ্লিকেশন দেখা দিলো। ব্লিডিং বন্ধ হচ্ছে না। কোনোরকমে ম্যানেজ করে রুগীর আত্মীয় স্বজন ডাকা হলো।
তাদেরকে বলা হলো রুগীর ব্লিডিং বন্ধ হচ্ছে না। আমরা আপাতত ম্যানেজ করেছি। এরপরেও যদি ব্লিডিং বন্ধ না হয়, তবে অপারেশন করে ইউটেরাস ফেলে দিতে হবে।
রুগীর শ্বাশুরি বলে, কি বলেন ডাক্তার সাহেব!!!! চারটাই মেয়ে! একটাও ছেলে বাচ্চা নাই। আর বাচ্চা না হলে কি ভাবে হবে?
বুঝলাম শ্বাশুরির সাথে কথা বলে লাভ হবে না। তাই মহিলার হাজব্যান্ডকে বিস্তারিত বললাম।
মহিলার হাজব্যান্ড আমাকে অবাক করে বললো, বংশের প্রদীপ জ্বালানোর একটা ব্যাপার আছে না। মেয়ে দিয়েতো আর বংশের প্রদীপ জ্বালানো যায় না।
- কিন্তু এতে আপনার ওয়াইফ মারাও যেতে পারে।
- তারপরেও একটু দেখেন।
আমি আবাক হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আরও অবাক হলাম যখন শুনলাম, উনি একজন উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তা।
•
•
একবার এক অফিসের পিয়ন তার বউকে নিয়ে আসলো হাসপাতালে। মহিলা একটি মৃত বাচ্চা প্রসব করেছেন। এটিই মহিলার প্রথম বাচ্চা। মৃত বাচ্চা প্রসবের পর মহিলার ব্লিডিং বন্ধ হচ্ছিল না। মহিলার হাজব্যান্ডকে বললাম ব্লিডিং বন্ধ না হলে অপারেশন করে ইউটেরাস ফেলে দেয়া লাগতে পারে।
- যেইটা ভালো মনে করেন, সেইটাই করেন স্যার।
- ইউটেরাস ফেলে দিলে কিন্তু আপনারা আর কখনোই সন্তান নিতে পারবেন না।
- স্যার, আমার ঘরের লক্ষী মইরা গেলে, আমি সন্তান দিয়া কি করুম??
আমি হেসে দিলাম।
- হাসেন ক্যান স্যার??
- হাসছি কারণ কারো কারো কাছে ঘরের বউ মানে ঘরের লক্ষী। আবার কারো কারো কাছে ঘরের বউ শুধুই বংশের প্রদীপ জ্বালানোর মেশিন।।
আমাদের প্রিয় নবী রাসূল (সাঃ) এর কোন পুত্র সন্তান ছিল না। পুত্র সন্তান জন্ম হয়েছিল কিন্তু বাঁচতে পারেনি। উনি যেহেতু আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দাহ সেহেতু উনি আল্লাহর কাছে ছেলে সন্তান চাইলে আল্লাহ নিশ্চয়ই নিরাশ করতেন না। ওনার ইশারায় যে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হল, ওনার ইশারায় হরিণ মানুষের মত কথা বলল সেই নবীর ইচ্ছা অবশ্যই আল্লাহ পূরণ করতেন। কিন্তু তিনি কখনো ছেলে সন্তানের জন্য দোয়া করেন নি।
আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময়ে কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দেয়া হত। সে সম্মন্ধে কুরআনে উল্লেখ আছেঃ
আল্লাহ তা‘আলা তাদের সমালোচনা করেছেন পবিত্র কুরআনে। ইরশাদ হয়েছে :
﴿وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِٱلۡأُنثَىٰ ظَلَّ وَجۡهُهُۥ مُسۡوَدّٗا وَهُوَ كَظِيمٞ ٥٨ يَتَوَٰرَىٰ مِنَ ٱلۡقَوۡمِ مِن سُوٓءِ مَا بُشِّرَ بِهِۦٓۚ أَيُمۡسِكُهُۥ عَلَىٰ هُونٍ أَمۡ يَدُسُّهُۥ فِي ٱلتُّرَابِۗ أَلَا سَآءَ مَا يَحۡكُمُونَ ٥٩﴾ [النحل:58-59]
আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়; তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে, সে দুঃখে সে কওমের থেকে আত্মগোপন করে। অপমান সত্ত্বেও কি একে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখ, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ!’ {সূরা আন-নাহল : ৫৮-৫৯}
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে ব্যক্তি দু’টি কন্যার লালন-পালন তাদের সাবালিকা হওয়া অবধি করবে, কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দু’টি আঙ্গুলের মত পাশাপাশি আসব।’’(অতঃপর তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলি মিলিত করে (দেখালেন)। [মুসলিম ২৬৩১, তিরমিযি ১৯১৪, আহমদ ১২০৮৯
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করনে, যার গৃহে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহন করল, অতঃপর সে ঐ কন্যাকে কষ্ট দেয়নি, তার উপর অসন্তুষ্ট হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে তার উপর প্রাধান্য দেয়নি। ঐ কন্যার কারনে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (মুসনাদে আহমদ ১;২২৩)
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَإِن كَرِهۡتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡٔٗا وَيَجۡعَلَ ٱللَّهُ فِيهِ خَيۡرٗا كَثِيرٗا ١٩ ﴾ [النس:]
‘আর যদি তোমরা তাদেরকে (কন্যা) অপছন্দ কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রাখবেন।’ {সূরা আন-নিসা, আয়াত : ১৯}
রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন,”কন্যা সন্তান হল উত্তম সন্তান। কেননা,তারা অধিক গুনের অধিকারিনী বিনম্র ও মিষ্টভাষী । এছাড়া তারা পিতা-মাতার সেবা শুশ্রষার জন্য সদাসর্বদা প্রস্তুত থাকে এবং তারা মায়া মমতাকারীনী, স্নেহময়ী, বিনয়ী ও বরকতময়ী।” (ফিরদাউস ৪;২৫৫)
আর প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ার ফযীলত সম্পর্কে হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হল,
হযরত আব্দুল্লাহ উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন,ঐ মহিলা বরকতময়ী ও সৌভাগ্যশালী, যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়। কেননা, (সন্তানদানের নিয়ামত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে )আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন,তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।”(কানযুল উম্মাহ ১৬:৬১১)