18/04/2026
নেটওয়ার্কিং জগতে গত সপ্তাহে একটা মজার ঘটনা ঘটে গেছে। IPv8 এর একটা ইন্টারনেট ড্রাফট IETF এ জমা পড়েছে, আর সেটা নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবটা একটু অন্যরকম চিন্তা থেকে এসেছে। IPv6 যেভাবে IPv4 কে পুরোপুরি রিপ্লেস করার চেষ্টা করেছিল, IPv8 সেই পথে যায়নি। বরং এটা IPv4 কে একটা 64 বিটের বড় অ্যাড্রেসের ভেতরে মুড়ে রাখছে। মানে 1.1.1.1 হয়ে যাবে কিছুটা 0.0.0.0.1.1.1.1 এর মতো, আর পুরনো অ্যাড্রেস আগের মতোই কাজ করবে। কোনো ফ্ল্যাগ ডে নেই, ডুয়াল স্ট্যাক এর ঝামেলা নেই, কোনো লেয়ারে জোর করে মাইগ্রেশন করতে হবে না।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? 25 বছরের বেশি চেষ্টার পরেও IPv6 এখন পর্যন্ত গ্লোবাল ইন্টারনেট ট্রাফিকের একটা ছোট অংশ মাত্র বহন করছে। অনেক অপারেটরের কাছে মাইগ্রেশনের খরচ আর জটিলতা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি। IPv8 দাবি করছে 100% ব্যাকওয়ার্ড কম্প্যাটিবিলিটি, অর্থাৎ এখনকার ডিভাইস, অ্যাপ্লিকেশন আর নেটওয়ার্ক কোনো পরিবর্তন ছাড়াই চলতে থাকবে। ড্রাফটের ভাষায় বললে, IPv4 হলো IPv8 এর একটা প্রপার সাবসেট।
সংখ্যাগুলোও চোখে পড়ার মতো। IPv4 এ আমরা পাচ্ছি প্রায় 4.3 বিলিয়ন অ্যাড্রেস। IPv8 সেটাকে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় 18.4 কুইন্টিলিয়ন পর্যন্ত। প্রতিটা ASN হোল্ডার নিজেই পাবে 4.2 বিলিয়ন হোস্ট অ্যাড্রেস, ফলে অ্যাড্রেস এক্সহাস্টশনের সমস্যা মূলত শেষ হয়ে যাবে।
বলে রাখা ভালো যে এটা Jamie Thain নামের এক ব্যক্তির ইন্ডিভিজুয়াল সাবমিশন, IETF এর কোনো অফিশিয়াল ওয়ার্কিং গ্রুপের কনসেনসাস নয়। ড্রাফটটার মেয়াদ ছয় মাস, এরপর এটা আদৌ গতি পাবে কি না সেটা আলাদা প্রশ্ন। নেটওয়ার্কিং কমিউনিটির ভেতরেই এখন এটা নিয়ে বেশ তর্ক বিতর্ক চলছে।
তারপরও, IPv4 কে একটা 64 বিট প্রোটোকলের প্রপার সাবসেট বানানোর মূল আইডিয়াটা ভাবার মতো, আর সামনের কিছুদিন এর দিকে নজর রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ।