29/05/2021
পূর্ণাঙ্গ ব্লগিং টিউটরিয়াল (গাইডলাইন)। [ব্লগিং শিখে আয় করুন]
বর্তমানে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অনেক প্রতিভাবান লোক রয়েছে যারা মানে লক্ষাধিক টাকা উপর্জন করছে ব্লগিং করে। তাও আবার ঘরে বসে। এমনকি তারা ব্লগিংটাকে নিজের পেশা হিসাবে নিয়েছে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি বর্তমানে কেও যদি ব্লগিংটাকে পেশা হিসাবে নিয়ে তার লক্ষ অনুযায়ী এগিয়ে যায় তারা অবশ্যই সফল হবে। আমার অনেকেই আছে যারা আগ্রহী কিন্তু কোন গাইডলাইন পাচ্ছে না। এমনকি অনেকেই গুগল, ও ইউটিউব হন্য হয়ে খোজছে কিভাবে ব্লগিং শুরু করবে, আবার অনেকেই আছে সিডি, ডিভিডি ক্রয় করেছে শিখার জন্য, আমার এই টিউটরিয়াল তাদের জন্য । বাংলায় এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্লগিং গাইড।
সূচিপত্র ব্লগিং কি ?
ব্লগ এর প্রকার ভেদ।
কিভাবে একটি ব্লগ শুরু করবেন?
১। যেভাবে ওয়েব সাইট এর নিশ (ক্যাটাগরী) নির্বাচন করবেন।
২। যেভাবে ডোমেইন নাম রেজিস্ট্রেশন করবে ।
৩। ব্লগের জন্য কোন প্লাটফর্ম নির্বাচন করবেন (ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস)।
৪। যেভাবে ওয়েবসাইট সেটাপ ও কাষ্টমাইজ করবেন।
৫। ভাল মানের আর্টিকেল বা ব্লগ পোস্ট ।
৬। ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর উপায় ।
৭। বাউন্স রেট কি? বাউন্স রেট কেন বাড়ে?
৮। ওয়েবসাইটে ভিজিটর ধরে রাখার উপায়।
৯। যেভাবে সহজেই পাবেন গুগল এডসেন্স (Google AdSense) একাউন্ট।
১০। ব্লগ থেকে উপার্জন এর সহজ উপায়।
ব্লগিং কি ?
ব্লগি হলো ভার্চুয়াল বা ইন্টারনেট এ নিজের ব্যবসা, সার্ভিস বা কোন পন্য প্রমোট করার উপযুক্ত মাধ্যম। বা কোন ইরফর্মেশন পাঠক এর কাছে পৌছে দেয়ার মাধ্যম। ব্লগ ও ওয়েবসাইট এর মধ্যে আর্থিক কোন পার্থক্য নেই তবে যে ওয়েবসাই রেগুলার কোন তথ্য আপডেট করা হয় বা নতুন নতুন তথ্য তুলে ধরা হয় তাকে ব্লগ বলে আর আর যেটি কোন ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান এর তথ্য ধারন করা হয় সেটাকে আমরা ওয়েবসাই হিসাবে গননা করি। যেমন “প্রথম আলো” একটি ব্লগ আমার আন্য দিকে “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর ওয়েব সাইট” হলো ওয়েবসাইট।
ব্লগ এর প্রকার ভেদঃ
আমরা যদি ব্লগকে বিভক্ত করে দেখি তাহলে ব্লগ হলঃ- ১. ব্যাক্তিগত ব্লগ। ২. সামাজিক ব্লগ। ৩. ব্যবসায়িক ব্লগ। ৪. প্রশ্ন উত্তর বিষয়ক ব্লগ। ৫. খবর বা নিউজপেপার ব্লগ: ৬. নিস ব্লগ।
এবার আসি মূল আলোচনায়ঃ আমরা কিভাবে অতি সহজেই নিজের একটি ব্লগ বানাব এবং ব্লগ থেকে উপার্জন করা করতে পরবো। আশা করি নিচের এই ষ্টেপগুলো যদি কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে অধ্যয়ন করে ও সেই মোতাবেক কাজ করে সে অবশ্যই সেখান থেকে ভালো পরিমানে উপার্জন করতে পারবে গ্যারান্টি। এবার আমরা দেখব কিভাবে একটা ফ্রি ব্লগ তৈরি করব ও সেখান থেকে উপার্জন করব।
আর এই টিউটরিয়াল টি এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যে একজন নতুন (নিউবাই) লোক থেকে শুরু করে প্রফেশনাল পর্যন্ত সকল ষ্টেপ আলোচনা করা হয়েছে। তো চলুন শুরু করা যাক………..
কিভাবে একটি ব্লগ শুরু করবেন?
৮ স্টেপ এ একটি পূর্ণাঙ্গ ব্লগ । এখানে ব্লগের যাবতীয় খুটিনাটি সহ সকল প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু তুলে ধরা হবে। আর এখানের প্রত্যেকটা ষ্টেপ খোবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্ট্যাপ এর সাথে অন্যটি গভীর ভাবে যোগাযোগ রয়েছে । সুতরাং কোন একটা ষ্টেপ বাদ দেয়া যাবে না।
১।যেভাবে ওয়েব সাইট এর নিশ (ক্যাটাগরী) নির্বাচন করবেন।
একটি ব্লগ শুরু করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্লগের বিষয় নির্ধারণ করা । এটা নিয়ে অনেকেই অনেক সময় লাগিয়ে ফেলে আবার অনেকেই হুটহাট করে ব্লগ এর বিষয় নির্ধারণ করে ফেলে। আমি মনে করি একটি ব্লগ শুরু করার আগে অবশ্যই ভাবা উচিৎ আপনি যে বিষয়ে ব্লগিং শুরু করতে চচ্ছেন সে বিষয়টি কি আদৌ মানুষ পছন্দ করবে নাকি করবে না। একটি ব্লগ তৈরি করা আগে যে বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেয়া উচিৎ।
ক) রিডার এর চাহিদাঃ
আপনি যে বিষয়টি নিয়ে ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন তা মানুষের চাহিদা আছে কিনা। মনে করুন আপনি এমন একটি বিষয় পছন্দ করলেন যা মানুষের কোন দরকার নেই। তাহলে আপনার ব্লগ এর কোন ভ্যালু থাকবে না। সব সময় এমন কিছু আপনার ব্লগে রাখতে হবে যেটি পাঠকরা চায়।
খ) আপনার দক্ষতাঃ
দ্বিতিয়ত দেখতে হবে আপনি এমন একটি নিশ পছন্দ করেছে যা রিডাররা খোবই পছন্দ করে কিন্তু আপনি সেই বিষয়ে কিছুই জানেন না তাহলে এমন বিষয় পছন্দ করে কোনই লাভ হবে না। যেমন মনে করুন আপনি নৌকায় উঠতে খোবই ভালবাসেন তাই একটি নৌকা আর বৈঠা নিয়ে নদিতে নেমে পড়লেন । নৌকা ছাড়ার পর দেখলেন আপনি নৌকা চালাতে পারেন না।তখন বলুন আপনার অবস্থা কি হবে। ঠিক এমনই আপনি যে বিষয় খোব ভাল বুঝেন ভাল ক্রিয়েটিভিটি আছে সেই বিষয় নির্ধারন করুন ব্লগিং এর জন্য।
গ) প্রতিযোগিতাঃ
একটি ব্লগ এর মূল জিনিস হল আপনার কম্পিটিটর এনালাইসিসি করা। যখন আপনি একটি ব্লগ এর পরিকল্পনা করেন তখন আপনার অবশ্যই দেখতে হবে আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে বিষয়ে অনেকে সার্চ ইঞ্জিন এর প্রথম পেজে স্থান দখল করে আছে। তখন সেই ব্লগ পেজ গুলো এনালইসিস করে বের করতে হবে তারা আসলে কি কি কারনে প্রথমে আছে, অতপর তাদের থেকে ভাল কন্টেন্ট, ভ্যালো, ব্যাকলিংক, ইমেজ, ভিডিও এড করে তাদের উপরে আসতে পারলেই পাঠক আপনার ব্লগে আসবে। কিভাবে কম্পিটিটর এনালাইসিস করবেন?এখানে আলোচনা করা হয়েছে।
ঘ) ভবিষ্যাত এর পরিকল্পনাঃ
একটি ব্লগ শুরু করার আগে অবশ্যই ভবিষ্যত পরিকল্পনা করে নিতে হবে যে আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন সেটা কত দিন লোকে খোজবে। যেমন আপনি ব্লগ ডিজাইন করলেন “আই.পি. এল 2020 ” তখন আই. পি. এল চলাকালিন সময়ে প্রচুর ভিজিটর আসবে আপনার ভাল পরিমানে ইনকামও হবে। কিন্তু যখন আই. পি. এল শেষ হয়ে যাবে তখন আপনার ভিজিটর আস্তে আস্তে কমে যাবে। এমনকি এক সময় শুন্য কোটায় এসে দাড়াবে। এমন কিছু টপিক আছে যা বছরের কিছু সময় প্রচুর সার্চ হয় আবার পরবর্তীতে সেটা শেষ হয়ে যা এমন টপিক নিয়ে ব্লগিং করাকে ইভেন্ট ব্লগিং বলে। আবার আপনি এমন একটি নিস বা টপিক পছন্দ করলেন যা সারা বছর কিছু না কিছু সার্চ হয় এমনটি পরবর্তী ১০ বছর পরও এমন টপিক সার্চ হবে।যেমন, স্বাস্থ, অনলাইনে আয়, বাচ্চাদের পরিচ্চর্যা, এমনকি ব্যবসা প্লান ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে দেখুন যেভাবে একটি ব্লগ এর বিষয় পছন্দ করবেন।
২।যেভাবে ডোমেইন নাম রেজিস্ট্রেশন করবেন।
ডমেইন নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার যে বিষয়গুলি অবষ্যই খেয়াল রাখতে হবে, তা সংক্ষেপে আলোচনা করছি।
ক। ডোমেইন এর এক্সটেনশন পছন্দ করাঃ
ডমেইন রেজিষ্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অনেকেই দিধার ভিতর পরে যায় কি এক্সটেনশন নিবে (.com, .net, .org, .info, নাকি .us, .me) আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিতে পারেন। এস. ই.ও করার ক্ষেত্রে বা র্যাংক এর ক্ষেত্রে এক্সটেনশন কোন সমস্যা নয়। আপনার সাইটে কিরকম ইসফরমেশন আছে সেটাই বড় কথা। তবে আমাদের দেশে (.com, .net, .org, .info) বেশি স্ট্যান্ডার লাগে। মনে করুন আপনি একটি ব্লগ বানাবেন “Beautifulpicnicspot” সম্পর্কে আপনার মত আরও বিষ জন এই টপিক নিয়ে কাজ করবে সেক্ষেত্রে (.com, .net, .org, .info) একটি এক্সটেনশন একজনই নিতে পারবে। তবে কি যারা (.com, .net, .org, .info) রেজিষ্ট্রেশন করতে না পারবে তার ব্লগ র্যাংক হবে না। ১০০% হবে। কেননা ৯০ভাগ ভিজিটর টাইটেল ও মেটা ডিসক্রিপশন দেখেই সাইটে প্রবেশ করে।
খ) সাইট রিলেটেড:
আপনার সাইট যে বিষয়ের উপর সেই বিষয়ের উপর কোন কিওয়ার্ড ডমেইন এ রাখুন। তাহলে ভিজিটর এর বুঝতে সহজ হবে যে আপনি কি বিষয়ের উপর লিখছেন। মনে করুন আপনি চাকরির বিজ্ঞাপন বা পরীক্ষার রেজাল্ট বিষয়ে ব্লগিং করবেন। আপনি যদি (banglahotnews.com) নেন তাহলে মানাবে না আর যদি(jonsnews, jobsinfo, educationinfo) ইত্যাদি ইত্যাদি নেন তবে সাইট এর সাথে সামঞ্জস্য থাকবে।
গ) সহজ ও ছোট শব্দঃ
ডমেইন নেয়ার ক্ষেত্রে সহজ ও শব্দ ও ভাষা ব্যাবহার করা উচিৎ যা মানুষের লিখতে, টাইপ করতে, পড়তে ও মনে রাখতে সহজ হয়। যখন আপনার সাইটে ভিজিটর ভাল কোন ইনফরমেশন পাবে তখন তারা আপনার সাইটা মনে রাখার চেষ্টা করবে তাই যাতে সহজে মনে রাখা যায় এমন ডমেইন রেজিষ্ট্রেশন করুন। মনে করুনঃ আপনার সাইট T-Shirt Design সম্পর্কে আপনি ডমেইন নিলেন (firmdesignshirt.com) এটা মনে রাখা কঠিন হবে। আর যদি (tshirtdesignfirm.com)নেন তবে মনে রাখা সহজ হবে।
ঘ) সংখ্যা ও বিরাম চিহ্ন এর ব্যবহারঃ
ডমেইন এর ক্ষেত্রে সংখ্যা, বিরাম চিহ্ন ব্যাবহার না করাই ভাল। যেমন, (jobs247, 24information, jobs-circular) ইত্যাদি।
ঙ) তারিখ ও সন এর ব্যবহারঃ
ডমেইন নেয়ার ক্ষেত্রে তারিখ বা সন না নেয়াই ভাল্। যেমন (bloggintips2020, tips2020) ইত্যাদি। তবে ইভেন্ট ব্লগিং এর ক্ষেত্রে নিলে ভাল দেখায় কেননা ইভেন্ট এর শেষে সেই সাইট এর আর কোন প্রয়োজন হয় না। যেমন, (happynewyear2020.com, Valentineday2019.net) ইত্যাদি।
চ) সোসিয়াল মিডিয়া লিংকঃ
আমাদের চেষ্টা করা উচিৎ যে ডমেইন নাম টা নিচ্ছি সেটা সোসিয়াল লিংক (ফেইসবুক, টুইটার, পিন্টারেস্ট) সচারাচর আছে কিনা। যেমন আপনার ডমেইন (jobsinfo) সেত্রে (fb.com/jobsinfo) খালি আছে কিনা।
ছ) ট্রেডমার্ক ও বিভ্রান্তিযুক্ত ডমেইন ত্যাগ করুনঃ
ট্রেডমার্ক ডমেইন রেজিষ্ট্রেশন করা উচিৎ নয় যা অন্য কোন ট্রেডমার্ক কোম্পানীর সাথে মিলে যায়। তাতে ভিজিটর বিভ্রান্তির মাঝে পরে যাবে। যেমন (facebookmarketing, whatsapptips) ইত্যাদি কেননা (facebook ও whatsapp)এই দুইটা প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ।
৩। ব্লগের জন্য কোন প্লাটফর্ম নির্বাচন করবেন (ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস)।
আপনি যখন নিজের কোন ওয়েবসাইট তৈরির কথা ভাবছেন বিশেষ করে ব্লগ ; তখন আপনার মনে একটি জিজ্ঞাসা নিশ্চয়ই আসে যে , ব্লগার দিয়ে বানাব? নাকি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে? আর যেহেতু ইতিমধ্যে টেকহাবসে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে বেশ কিছু আর্টিকেল এবং টিউটোরিয়াল রয়েছে ; সেহেতু আমার উচিত এই বহু জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন নিয়ে একটু বিস্তারিত লেখা। আপনি হয়ত অনলাইনে ব্লগিং বা লেখালেখি নিয়ে ভাবছেন, তবে আপনার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আসলে কোন প্ল্যাটফর্মটি ব্যাবহার করছেন। কেননা এই প্ল্যাটফর্মটির অপরই নির্ভর করে আপনার নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর ডিজাইন কেমন হবে, আপনার ওয়েবসাইটে আপনি কি কি কনটেন্ট দিতে পারবেন, আপনার ওয়েবসাইটে আপনি কি কি সুবিধা পাবেন এমনকি আপনার ওয়েবসাইট থেকে উপার্জন করা কতটা সুবিধা হবে।
৪। যেভাবে ওয়েবসাইট সেটাপ ও কাষ্টমাইজ করবেন।
সিএম এস নিশ্চিত করার পর আপনি ওয়েবসাইট সেটাপ করার জন্য প্রস্তুত। যেহেতু নতুনদের জন্য আমার এই টিউটরিয়াল তাই বর্তমানে জনপ্রিয় সি.এম.এস গুলোর মধ্য থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ও ব্লগার সেটাপ ষ্টেপ বাই স্টেপ দেখাব।
৫। ভাল মানের আর্টিকেল বা ব্লগ পোস্ট
আর্টিকেল বা ব্লগ পোষ্ট হল বিভিন্ন টপিকের উপর লিখিত কন্টেন্ট। আপনার ওয়েবসাইট থেকে ভালো আয় করতে হলে আপনাকে বেশি বেশি আর্টিকেল ও ব্লগপোস্ট লিখতে হবে।
SEO মেইনটেইন করতে হয় গুগল ও অন্যন্য সার্চ এঞ্জিনে আপনার আর্টিকেলগুলো রাঙ্ক করানোর জন্য। আর্টিকেল গুগলের প্রথম পেইজে রাঙ্ক করানো মানে আপনি আপনার অনেক অডিয়েন্স সার্চ এর মাধ্যমেই পেতে পারেন। আর এই সার্চ করে ওয়েবসাইটে আসা ভিজিটরগুলো খুবই কাজের হয় কারণ তারা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার সাইটে প্রবেশ করেছে।ধরুন কেউ একজোড়া জুতা কিনবে এবং সে তা কিনতে একটি জুতার দোকানে গেলো। এক্ষেত্রে তার জুতা কেনার সম্ভাবনা অনেক।
একটি ওয়েবসাইটের জন্য কনটেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রথমেই যে জিনিসটি খেয়াল রাখতে হবে সেটি হল আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়।
তো আমি আগেই বলেছি যে একটি ওয়েব সাইট এর বিষয় নির্বাচন কারা খুবই জরুরী। কখনোই আপনার ওয়েবসাইটের টপিকের বাইরের কোনো কনটেন্ট তৈরি করা ঠিক না। এর কারণে যে তখন আপনার অডিয়েন্স কিছুটা বিভ্রান্ত হতে পারে।
ধারাবাহিকভাবে আর্টিকেল বা ব্লগপোষ্ট করার নিয়ম:
নিচের পর্যায়গুলো একে একে ভালো করে অনুসরণ করুন তাহলে আপনি খুব সুন্দর একটি আর্টিকেল বা ব্লগপোস্ট লিখতে পারবেন:
ব্লগ এর বিষয় নির্বাচন:
প্রথমেই আপনার ওয়েবসাইটের বিষয় এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিওয়ার্ডগুলো রিসার্চ করে বের করে আনতে হবে। এরপর তা একটি ডকুমেন্টে সেভ রাখতে হবে। এটা করতে হবে এই কারণে যাতে করে আপনি নিয়মিত বিভিন্ন নিশ রিলেটেড কিওয়ার্ড এর উপর কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন।
রির্সাচ:
আপনি যে বিষয়ের লিখবেন অবশ্যাই সেই বিষয়ে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে। গুগল, ইউটিউব বা অন্যন্য জায়গা থেকে একাধিক রিসার্চ করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তারপর তা নিজের ভাষায় সুন্দর ও সহজলভ্য ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।
হেডলাইন এর ব্যবহার:
ব্লগে লেখার সময় অবশ্যই হিডলাইন এর ব্যবহার করতে হবে। বিষেশ করে (H2, H3) এর ব্যবহার । আবার খেয়াল রাখতে হবে যাতে হিডিং স্টাফিং না হয়।
গ্রামার ও শুদ্ধ বানান:
ব্লগ রাইটিং এর ক্ষেত্রে গ্রামার ও শুদ্ধ বানান খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কেনানা গ্রামার ও বানান অশুদ্ধ থাকলে আপনার রিডার আস্থা হাড়িয়ে ফেলবে। আপনার উপর হতে তার আস্থা হাড়িয়ে ফেলবে । তাই একটি পোস্ট বা আর্টিকেল প্রকাশ করার পূর্বে অবশ্যই রিভিশন করতে হবে।
ভিজিটরদের আকর্ষন:
ব্লগের জন্য এমন ভাবে আর্টিকেল লিখতে হবে যাতে ভিজিটররা আপনার আর্টিকেল বা আপনার আর্টিকেল এর হেডলাইন দেখে আকর্ষিত হয়। যখন আপনার ব্লগের লেখা টি আকর্ষণীয় হবে তখন একজন দর্শক অবশ্যই আপনার ব্লগে বেশি সময় দেবে এবং আপনার লেখা দেখে খুব ভালোভাবে তারা জব্দ করে নেবে। ভালো মানের লেখা ভিজিটরদের দর্শক আকর্ষণ করার জন্য খুব ভাল কাজ করে এবং এতে গুগোল রেঙ্কিং বৃদ্ধি করে দেয়।
ইমেজ ও ভিডিও অপটিমাইজড
ইমেজ এবং ভিডিও অপটিমাইজ করে দিতে হবে ইমেজ যখন দেবেন তখন আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে ইমেজের যাতে লাইটসপীদ হয় । এবং এটা যাতে অনেকবার বা অনেক এমবি বিশিষ্ট না হয়। যদি আপনার ইমেজের সাইজটা অনেক বড় হয় সে ক্ষেত্রে ইমেজ লোড হতে অনেক সময় নেবে। যখন অনেক সময় নেবে তখন আপনার আর্টিকেল টি গুগোল রেংকিং থেকে পিছনের দিকে পড়ে যাবে । তাই ইমেজ আপলোড করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে অনেক ফাস্ট এবং স্পিড হয় এবং সাইজে ছোট হয় এবং কোয়ালিটি ভালো থাকে।
মোটিভেশনাল সমাপনী।
যখন কোন আর্টিকেল লিখবেন আর্টিকেলের শেষে অবশ্যই মোটিভেশনাল স্পিচ বা কথা দিয়ে আপনার আর্টিকেল শেষ করতে হবে যাতে আপনার ভিজিটররা আপনার সেই কথাই অনুপ্রাণিত হয়ে আরও কয়েকটি আর্টিকেল পড়ে। বা সেখান থেকে চলে গেলেও পরবর্তীতে যাতে আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার একটা সম্ভাবনা থাকে । তাই মতিভেশনাল সমাধান এটা অনেক জরুরী।
থাম্বনেইল ইমেজ ব্যবহার
আপনার ব্লগ পোস্টে আকর্ষণীয় একটি থামনেল দিতে হবে যেটা দেখে ভিজিটর বা কাস্টমাররা সহজে বুঝতে পারে যে আপনার আর্টিকেলটি কি ক্যাটাগরি বাকি রিলেটেড। তামিল হল একটি ব্লগ পোস্ট বা একটি ভিডিওর সারাংশ। তাই সেটাকে খুব সুন্দর ভাবে ডিজাইন করে অল্প কথায় সুন্দর করে বোঝাতে হবে যে আমাদের এই আর্টিকেলটি এই বিষয়ের উপর লেখা হয়েছে।
ক্যাটাগরি সিলেক্ট
যখনই আপনি আর্টিকেল লিখবেন অবশ্যই আর্টিকেলের করে নির্ধারণ করে দিতে হবে । যাতে আপনার কাস্টমার রাজ্যে ক্যাটাগরির আর্টিকেলটি পড়তে এসেছে যাতে সহজেই খুঁজে পায়।
ট্যাগ এর ব্যবহার
যখন একটি আর্টিকেল বা ব্লগ পোষ্ট লিখবেন অবশ্যই সেটার টপিক হিসেবে কয়েকটি ট্যাগ নির্ধারণ করে দিতে হবে। অনেক সময় ধরে অনেক ভিজিটর আপনার সাইটে প্রবেশ করবে এবং আপনার সাইটের ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে এটা খুব ভালো হবে এবং সে হিসেবে আপনার যে ওয়ার্ডগুলো দিবেন সেগুলা কি ওয়ার্ড হিসেবে কাজ করবে।
টেবিল কন্টেন্ট এর ব্যবহার
এটি একটি ইম্পরট্যান্ট টেবিল অফ কন্টেন । যখন আপনার সাইটে টেবিল অফ কনটেন্ট ব্যবহার করবেন, তখন আপনার সাইটের লেখাটির সূচিপত্র আকারে কাজ করবে ভিজিটররা চাইলেই সেখান থেকে বিল্ডিং এর উপর ক্লিক করে সরাসরি সেই বিল্ডিং এর উপরে চলে যাবে। এতে করে কাস্টমার ভিজিটরদের স্ক্রল করে নিচে গিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত লেখাটি পড়তে হবে না এক ক্লিকে যেকোনো হেডিং এর কাস্টমার যেতে পারে এজন্য টেবিল অফ কনটেন্ট ব্যবহার করতে হবে।
৬। ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর উপায়
ওয়েবসাইট তৈরির পর আমরা প্রথমেই যে জিনিসটার উপর গুরুত্ব দেই তা হলো ভিজটর। ভিজিটর ই মূলত একটি ওয়েবসাইটের প্রান। এখন আমরা ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানো এবং ভিজিটর ধরে রাখার কয়েকটি অব্যার্থ উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব। প্রথমে আমাদের জনতে হবে , সাইটে ভিজিটর কিভাবে নিয়ে আসা যায়।
প্রাথমিক অবস্থায় আমরা ভিজিটর আনার জন্য কয়েকটি মাধ্যম এপ্লাই করব।
যেমন:
১। সোসাল মিডিয়া। ২। সার্চ ইঞ্জিন। ৩।ফোরাম পোষ্টিং/ প্রশ্নউত্তর সাইট। ৪।ভিডিও মার্কেটিং ও ৫। ব্লগ কমেন্টিং।
ক) সোশ্যাল মিডিয়া
একটি ওয়েবসাইট যখন নতুন তখন সে ওয়েবসাইট সম্পর্কে কেউ জানে না। তাই আপনার ওয়েবসাইটের টার্গেট ভিজিটরদের কাছে পৌছানোর সব থেকে সহজ এবং কার্যকরী উপায় হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া।
এক্ষেত্রে আপনি যদি ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, স্নাপচ্যাট, রেডিট সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখেন তাহলে খুব সহজেই আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য এইসব সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে ভিজিটর কে আপনার ওয়েবসাইটে নিতে পারেন।
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া কোনো ওয়েবসাইটই খুব ভালো পজিশনে যেতে পারে না। একজন টিনেজার দিনের মধ্যে ৯ ঘন্টা সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যায় করে। যেখানে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ দিনে ইউটিউবে ৪০মিনিট, ফেসবুকে ৩৫ মিনিট, স্নাপচ্যাটে ২৫মিনিট, ইন্সটাগ্রামে ১৫ মিনিট এবং টুইটারে ১ মিনিট সময় ব্যায় করে। এ থেকে বুঝে নেয়া যেতে পরে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানোর জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ন।
খ) সার্চ ইঞ্জির (google, yagoo, bing) ইত্যাদি
নতুন কিংবা পুরনো যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইটেই ভিজিটর বাড়ানোর অন্যতম প্রধান একটি উপায় হতে পারে সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)। সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে আমরা বিভিন্ন কী-ওয়ার্ড লিখে সার্চ করি, সার্চ রেজাল্টে প্রথমে যে ওয়েবসাইট গুলো আসে সেখান থেকে প্রথম ২-৩ টা ওয়েবসাইট ই আমরা সাধারনত ভিজিট করে থাকি।
সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এর মূল কাজই হলো ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টের উপরে তুলে আনা। তবে সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এর ব্যাপ্তি অনেক বড়, এটি শুরু করার আগে অনপেজ, অফপেজ, টাইটেল এবং ইমেজ অপটিাইজেশন, কীওয়ার্ড রিসার্চ, ব্যাকলিংক এই ব্যাপার গুলো সম্পর্কে পরিপূর্ন ধারনা থাকা প্রয়োজন।
গ) ফোরম পোষ্টিং / প্রশ্ন-উত্তর সাইট
ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার অরেকটি চমৎকার উপায় হলো ফোরাম পোষ্টিং এবং প্রশ্ন-উত্তর সাইট। ফোরাম এবং প্রশ্ন-উত্তর সাইটগুলোতে মানুষ বিভিন্ন ব্যাপারে জানতে চেয়ে পোষ্ট করে। সেখানে ভিজিটর যে বিষয়ে জানতে চায় সে সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে দিলে ওই সাইট গুলো থেকে ট্রাফিক আপনার সাইটে যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ফোরাম সাইট কিংবা প্রশ্ন-উত্তর সাইট গুলোতে উত্তর দেয়ার সময় সেটা যেনো সঠিক নিয়মে করা হয়। অনেক ফোরাম সাইট আছে যেগুলো অন্য ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করা পছন্দ করে না। তো এসকল সাইটে কাজ শুরু করার আগেই আপনাকে এদের নিয়মগুলি ভালো ভাবে দেখে নিতে হবে।
ঘ) ভিডিও মার্কেটিং
ভিডিও মার্কেটিং হতে পারে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার আরেকটি মাধ্যম। ভিডিও শেয়ারিং ওয়বেসোইট গুলোতে নিশ রিলেটেড ভিডিও পোষ্ট করে ডিসক্রিপশনে ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করলে ওই ভিডিও থেকে ভিজিটরকে নিজের ওয়বেসোইটে পাঠিয়ে ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানো যেতে পারে।
জনপ্রিয় কিছু ভিডিও শেয়ারিং সাইট নিম্নে দেয়া হলঃ
https://www.youtube.com
https://vimeo.com
http://www.ustream.tv
https://vine.co
http://www.hulu.com
ঙ) ব্লগ কমেন্টিং
ওয়েবসাইটে ভিজিটর অনার আরেকটি অণ্যতম পদ্ধতি হতে পারে ব্লগ কমেন্ট।আপনার সাইট এর নিশ রিলেটেড ব্লগ গুলো খুজে বের করে কমেন্ট অপশনে কমেন্ট করে সাইটের লিংক হাইপার লিংক করে দিতে হয়। এর ফলে সেই লিংকের মাধ্যমে ওই ব্লগের ভিজিটর রা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে।
এটি সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এর ভাষায় বলা হয় ব্যাক লিংক। এর ফলে সাইটে যেমন ভিজিটর আসে তেমনি গুগল সার্চ রেজাল্টেও সাইট উপরের দিকে চলে আসে। তবে ব্লগ কমেন্ট বা ব্যাংকলিংক ক্রিয়েট করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে সাইট থেকে আমরা ব্যাকলিংক নিচ্ছি সেটা যেনো অবশ্যই নিশ রিলেটেড হয়। তা না হলে গুগস সেই ব্যাক লিংককে ভ্যালু দিবে না।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে আমরা এতক্ষন ওয়বসাইটে কিভাবে ভিজিটর আনা যায় সে ব্যাপারে ধারনা পেলাম। তবে মূল কাজটা কিন্তু এখানেই শেষ না। বরং মূল কাজটা মাত্র শুরু। কারন একটা ওয়েবসাইটে শুধু ভিজিটর আনলেই হবে না। সেই ভিজিটরকে অবশ্যই ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এর বাইরে দেখাযায় অনেক ভিজিটর ওয়েবসাইট লোড হওয়ার পরপর ই ভিজিটর সাইট টি বন্ধ করে দেন। এটা যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্য খুবই খারাপ লক্ষন। ওর ফলে ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বেড়ে যায়।
৭। বাউন্স রেট কি? বাউন্স রেট কেন বাড়ে?
আমরা দেখি বাউন্স রেট সব সময় % হিসেবে প্রকাশ করা হয়। বাউন্স রেট হলো এমন একটা % যেটা দ্বারা বোঝানো হয় “আপনার ওয়েসাইটে আসার পর মোট ভিজিটরের কতো % অন্য কোনো পেজ ভিজিট না করেই বন্ধ করে দিয়েছে” অর্থা যদি আপনার ওয়েবসাইটের মোট ভিজিটর যদি হয় ১০০০ জন তার মধ্যে ৬০০ জন্যই আপনার হোম পেজ লোড হওয়ার পর অণ্য কোনো পেজ ভিজিট না করেই আপনার ওয়েবসাইট টি বন্ধ করে দেয় তবে আপনার ওয়েবসাইটের বাউন্সরেট হবে ৬০%।
প্রশ্ন আসতে পারে ওয়বেসাইটের বাউন্স রেট এর স্টান্ডার্ড এমাইন্ট কতো। অনলাইন ইন্ডাস্ট্রিতে নিচের বাউন্স রেটের % কে স্টান্ডার্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাউন্স রেট স্টান্ডার্ড
৩০% এর কম খুব ভালো
৪১% – ৫৫% ভালো
৫৬% – ৭০% ভালো নয়
৭০% এর বেশী খারাপ
এবার আমরা বুঝতে পারলাম একজন ভিজিটরকে শুধু ওয়েবসাইটে নিয়ে আসলেই হবে না। তাকে ওযেবসাইটের অন্যান্ন পেজগুলোতে নিয়ে যাওয়ার মতো কন্টেন্ট ওয়েবসাইটে রাখতে হবে।
চলুন এখন জেনে নেই ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কিভাবে বাড়ে। অর্থাৎ কেনো একজন ভিজিটর আপনার ওয়বেসোইট টি ভিজিট করার পর হোমপেজ থেকে অন্য কোনো পেজ ভিজিট না করেই চলে যান।
ক) চাহিদা পূরণ না হওয়া
এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা ব্যাপার যে, আপনার ধারনা থাকতে হবে একজন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট থেকে কি ধরনের কন্টেন্ট এক্সপেক্ট করতে পারে। অপনার অবশ্যই উচিত হবে সেই ধরনের কান্টেন্ট ই ওয়েবসইটে রাখা। ধরা যাক একজন ভিজিটর একটা বই কিনতে একটা ওয়েবসাইটে ঢুকলেন। কিন্তু তিনি যে সাইট টা ভিজিট করছেন সেটা একটি বই রিভিউ এর সাইট। এখানে ভিজিটরের এক্সপেক্টেশন ফুলফিল না হওয়ার কারনে ভিজিটর সাথে সাথে সেই ওয়েবসাইট টি বন্ধ করে দিবে।
খ) সাইট এর ডিজাইন সাদাসিধা
অনেকসময় ওয়েবসইট কে ডায়নামিক করতে গিয়ে আমরা সাইটের লুক ই চেন্জ করে দেই। এর ফলে ভিজিটর বিরক্ত হন এবং সাইট ভিজিট করা বন্ধ করে দেন।এক্সেত্রে ওয়বেসোইট বানানোর আগেই ওয়েবসাইটের কালার এবং থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত। মূলকথা সাইটের ভিজিটর ই একটা সাইটের প্রান। তাই ওয়েবসাইট বানানোর আগে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকা প্রয়োজন।
আমরা বুঝলাম যে ওয়েবসাইটে শুধু ভিজিটর আনাই প্রধান কাজ নয় বরং তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ন ওয়েবসাইটের ভিজিটরকে ধরে রাখা এবং ভিজিটর যে পরবর্তীতে আবার ওয়েবসাইট টি ভিজিট করে সে ব্যবস্থা গ্রহন করা। অর্থাৎ ভিজিটরকে এনশিওর করতে হবে যে, “তুমি যে ধরনের ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট খুজছো তার জন্য এই ওয়েবসাইট টাই পারফেক্ট” এবার চলুন জেনে নেই ওয়েবসাইটে ভিজিটর ধরে রাখার কয়েকটি উপায়।
৮। ওয়েবসাইটে ভিজিটর ধরে রাখার উপায়
ক) ইউনিক এবং ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট পোষ্ট করা
কন্টেন্টের ব্যাপারে একটা ব্যাপার আমরা সবাই জানি। তা হলো “Content Is King” যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট ই হোক না কেনো কন্টেন্ট সবসময়ই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।কন্টেন্ট লেখা এবং সাইটে পাবলিশ করার আগে খেয়াল রাখতে লেখাটি ইউনিক এবং ইনফরমেটিভ কিনা। কন্টেন্ট ইউনিক এবং ইনফরমেটিভ হলে ভিজিটর সেই সাইটে বেশি এংগেজ থাকে।
খ) আকর্ষনীয় ছবি
ফটো / ইমেজ যেকোনো ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়াতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে।সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যন্ন প্লাটফর্মে একটি সুন্দর আইক্যাচিং ফটোর সাথে ওয়েবসাইটের লিংক দেয়া থাকলে নরমাল যেকেনো সময়ের থেকে ওয়েবসাইট বেশি ভিজিটর পেয়ে থাকে।
গ) ওয়েসবাইট দ্রুত লোড নেয়া
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে একজন ভিজিটর একটি ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য নরমালি ৩ সেকেন্ড সময় নেন। অর্থাৎ যদি ৩ সেকেন্ডের মধ্যে কোনো সাইট লোড না নেয় তবে ভিজিটর বিরক্ত হয় এবং সাইট ভিজিট করা থেকে বিরত থাকেন । তাই বোঝাই যাচ্ছে ভিজিটর বাড়ানো জন্য ওয়েবসাইট স্পিড গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে।
ঘ) রেসপন্সিভ বা ইউজার ফ্রেন্ডলি সাইট ডিজাইন
পিসি, ল্যাপটপ, ফোন, ট্যাবলেট সবকিছুর স্ক্রিন একই রকম না, রেসপন্সিভ বলতে বুঝানো হয়েছে যে সাইট গুলো পিসি, ল্যাপটপ, ফোন, ট্যাবলেট সবকিছুতেই সমান ভাবে লোড নিতে পারে এবং ডাটা রিসিভ করতে কোনো সমস্যা হয় না। ওয়েবসাইট বানানোর আগে খেয়াল করতে হবে সাইট টি রেসপন্সিভ কিনা।
ঙ) সাইটে কমেন্ট করার অপশন রাখা এবং রেগুলার রিপ্লাই দেয়া
কমেন্ট সেকশনে এংগেজ থাকলে ওয়েবসাইটের রেগুরার ভিজিটরের সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে যায়।এজন্য সাইটের কন্টেন্ট অপশনের কমেন্ট সেকশন টা চালু করে দিতে হবে। এর ফলে যা হবে ভিজিটর রা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে থাকে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যখন সাইটের অথরের কাছে যায় তখন তিনি রিপলে দেন। এর ফলে কোয়েশ্চেনকারীর মেইলে একটা ইমেইল যায়। যারফলে কোয়েশ্চেনকারী অথরের রিপলে পড়ার জন্য হলেও আবার ওয়েবসাইট টি আরেকবার ভিজিট করে।
চ) ডাটা এনালাইসিস করা
ওয়েবসাইট অথরিটিদের একটি গুরুত্বপূর্ন কাজ হলে ডাটা এনালাইসিস কর। এর থেকে বোঝা যায় কোন বয়স এবং কারা কিংবা কোন তারিখ বা সময়ে ভিজিটর বেশি থাকে। সেই অনুযায়ী ডাটা এনালাইসিস করে পরবর্তী পোষ্ট গুলোতে এটা ইমপ্লিমেন্ট করলে ভিজিটর সংখ্যা অবশ্যই বাড়বে। এর জন্য আপনি চাইলে গুগল এ্যানালাইটিকস ব্যবহার করতে পারেন।
ছ) সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ থাকা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ন কাজ হলো বিভিন্স সোশ্যাল মিডিয়াতে একটভি থাকা। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভিজিটর আসার চান্স বেড়ে যায়।
জ) হাইপার লিংক / ইন্টানাল লিংক বৃদ্ধি করা
যেকোনো পোষ্টে হাইপার লিংক / ইন্টারর্নাল লিংক যেকোনো একটি খুবই গুরুত্বপূর্ন।মনেকরা যাক আপনি একটা আর্টিকেল লিখছেন থাইল্যান্ড এর জনপ্রিয় যায়গা গুলো নিয়ে। কিন্তু আপনি এর আগেই থাইল্যান্ড এর স্ট্রিট ফুড নিয়েএকটি আর্টিকেল লিখেছেন। আপনি চাইলে আপনি আপনার মেইন আর্টিকেল এর সাথ স্ট্রিট ফুড এর টাইটেলটি ট্যাগ করে দিতে পারেন। এরফলে যা হবে মেইন কন্টেন্ট এর জন্য আপনি তো ভিজিটর পাচ্ছেন ই এর পাশাপাশি ইন্টার্নাল লিংক করা পেজটি ভিজিট করার একটা চান্স থাকবে।
আশাকরি কিভাবে ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানো এবং কিভাবে সেই ভিজিটরে ধরে রাখা যায় সে ব্যাপার গুরুত্বপূর্ন কিছু ধারনা পেয়ছেন।
৯। যেভাবে সহজেই পাবেন গুগল এডসেন্স (Google AdSense) একাউন্ট।
যারা টুক টাক ব্লগিং করেন বা করার চেষ্টা করেছেন তাদের সবাই গুগল এডসেন্সের কথা শুনেছেন।ইউটিউব চ্যানেল, ব্লগ বা একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে AdSense থেকে আয় করা যায়। অনেকেই, যাদের ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগ আছে তারা নিজেও একটা এডসেন্স একাউন্ট পাওয়ার আশা করেন। আমি এখানে ইউটিউব চ্যানেলে এডসেন্স সম্পর্কে আলোচনা করবোনা, বলবো ব্লগে গুগল এডসেন্স সম্পর্কে। নেটে গুগল এডসেন্স লিখে সার্চ করলেই দেখতে পাবেন হরেক রকমের তথ্য! কেউবা বলেন এটি পাওয়াই প্রায় অসম্ভব ব্যাপার আবার কেউবা বলেন পেলেও রক্ষা করা কঠিন আবার অনেকেই পরামর্শ দেন এর বিকল্প খোঁজার! আবার অনেকেই হতাশ হয়ে Google AdSense এর নাম দিয়েছেন সোনার হরিণ! আমাদের দেশে সরকারি চাকুরীকে যেমন সোনার হরিণ বলা হয় আরকি!
সত্যি কথা বলতে কি আমার নিজেরও প্রথমে এরকমই ধারণা ছিলো নেট থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘুরে ফিরে সকল ব্লগাররাই স্বীকার করে Google AdSense ই সবদিক থেকে সুবিধাজনক এবং ভালো ও বিশ্বস্ত!
এখানে আজে বাজে কোন বলার সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ আমার অভিজ্ঞতা ও আমার রিসার্চ এর আলোকে আলোচনা করছি। এবার আসল কথায় আসা যাক।
গুগল এডসেন্স কি? কিভাবে এডসেন্স থেকে আয় করা যায়?
গুগল এডসেন্স হলো গুগলের এড নেটওয়ার্ক প্রোগ্রাম। Google Ads যার পূর্বনাম Google Adwords এর মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে যেসব বিজ্ঞাপন পায় তা AdSense এর মাধ্যমে পাবলিশারদের দিয়ে থাকে। Publisher গণ তাদের ওয়েবসাইটে উক্ত বিজ্ঞাপণগুলো প্রচার করলে এ থেকে গুগলের যা আয় হয় তার ৬৮% তারা পাবলিশারদের দিয়ে থাকে। ওয়েবসাইট ছাড়াও বিজ্ঞাপনগুলী ইউটিউব চ্যানেল এবং মোবাইল এপসেও প্রদর্শন করা যায় তবে এজন্য ভিন্ন ভিন্ন শর্ত এবং নিয়মাবলী প্রযোজ্য।আমরা যারা ব্লগে এড ব্যবহার করব আমরা সবাই পাবলিশার।
বাংলা কনটেন্টে কি AdSense পাওয়া যায়?
জ্বী বর্তমানে বাংলা কন্টেন্ট এ গুলগ এডসেন্স সাপর্ট করে। আর এটি 2018 সালেই অনুমোদন দিয়েছ।এমনকি ব্লগার এর ফ্রি ব্লগে অর্থাৎ blogspot subdomain ব্লগেও খুব সহজেই এডসেন্স পাওয়া যায়। একে বলে হোস্টেড এডসেন্স (Hosted AdSense)। এমন বাধ্যবাধকতা নেই যে আগে কোনো টপ লেভেল ডোমেইন (.com .net .org .info) নিয়েই শুরু করতে হবে! অনেকেই ব্লগার এর সাব ডোমেইন তথা blogspot.com এ ব্লগিং করে এডসেন্স দিয়ে আয় করছে।তবে টপ লেভেল।
আর বাংলা লেখায় গুগল এড দেয় এটা এখন পুরনো খবর। গত ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে গুগল এডসেন্স বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটে এড দেয়া শুরু করেছে।পড়ুন : কিভাবে আপনার হোস্টেড এডসেন্স আপগ্রেড করে নন হোস্টেড এডসেন্স করবেন।
কিভাবে এডসেন্স একাউন্ট পাওয়ার জন্য এপ্লিকেশন করতে হয়?
গুগল এডসেন্স একাউন্টের জন্য আবেদন করার আগে অবশ্যই আগে যাচাই করে নিতে হবে আপনার ওয়েবসাইটটি এডসেন্স পাওয়ার জন্য Eligible কিনা।যদি নিশ্চিত হন আপনার ওয়েবসাইটি গুগল এডসেন্সের Program policy এবং Terms and Conditions সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করার উপযুক্ত তাহলে এই Form টি পূরন করে sign up করুন।
তবে যদি ব্লগার ব্লগে(Blogger blog) হোস্টেড(Hosted) একাউন্টের জন্য আবেদন করতে চান তাহলে এই ফরমের মাধ্যমে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে আপনার ব্লগার ব্লগ থেকেই আবেদন করতে পারবেন।
এপ্লিকেশন করার আগে ব্লগের বয়স কতোদিন হতে হবে?
এইটা নিয়েই অনেকে বিভ্রান্ত?