18/01/2022
গতকাল আমরা একটি পোল দিয়েছিলাম আমাদের কমিউনিটি গ্রুপে যে এই মুহুর্তে আপনাদের বিজনেসের জন্য কোন জিনিসটি প্রয়োজন। আপনারা অনেকেই সেখানে ভোট দিয়েছেন। আপনাদের ভোট থেকে সহজেই অনুমেয় যে এই মুহুর্তে ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন বেশিরভাগ উদ্যোক্তা। এছাড়া মোবাইল এপ্লিকেশন এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারেরও চাহিদা রয়েছে।
সত্যি বলতে, বর্তমান সময়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ডিজিটালাইজেশন এর বিকল্প নেই। বিজনেস পরিচালনার জন্য যেমন ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট বা মোবাইল এ্যাপস প্রয়োজন, তেমনি বিজনেসের গ্রোথের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংটাও অপরিহার্য।
কিন্তু জানেন কি, অপরিকল্পিত যেকোন কাজই আপনার খরচ ও ইনভেস্টমেন্ট এর পরিমাণটা বাড়াবে শুধু, কাজের কাজ কিছুই হবেনা। তাই সবার আগে দরকার ভালো একটি পরিকল্পনা। আপনার বিজনেসের বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী কোন কাজটি আগে করা দরকার, কিভাবে করা দরকার, কিভাবে করলে এই ইনভেস্টমেন্টটা আসলেই ফলপ্রসূ হবে ইত্যাদি বিষয় না বুঝলে এগুলার কোনটাই আসলে পুরোপুরি কাজে আসবে না।
অনলাইনে বিজনেস স্ট্যাবলিশ করার জন্য সবার আগে দরকার আপনার উপস্থিতি। আপনার একটা মার্কেটপ্লেস দরকার, একটা ডিজিটাল শোরুম দরকার। এটা হতে পারে ওয়েবসাইট, এ্যাপস, কিংবা শুধুমাত্র একটা ফেইসবুক পেজ। এফ-কমার্স উদ্যোক্তা যারা আছেন তাদের সবথেকে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তারা কেবলমাত্র ফেসবুকের ওপরে নির্ভরশীল। ফলে বড় একটি কাস্টমার বেইস যেমন হারাচ্ছেন, তেমনি ফেসবুক ছাড়া অন্য কোন উপায়ে ডিজিটাল মার্কেটিং ও করতে পারছেন না। তাই বিজনেসের গ্রোথের জন্য একটা ওয়েবসাইট আপনার প্রথম অস্ত্র। এটা অর্জন করার পরই আপনি প্রোপারলি মার্কেটিং এ যেতে পারবেন। আপনার বিজনেসের বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে ঠিক কত দিন পর আপনার ওয়েবসাইট করা উচিত হবে, কিংবা এখনি করা প্রয়োজন কিনা।
এরপরে আসে মার্কেটিং এর বিষয়। শুধু ফেসবুক নয় বরং ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম সহ প্রায় সকল সোশ্যাল মিডিয়াতেই মার্কেটিং করার সুযোগ রয়েছে। আর যখন আপনি মাল্টিপল মিডিয়াতে মার্কেটিং করবেন তখন সবার আগে ওয়েবসাইটটা দরকার হবে আপনার ডিজটাল শোরুম বা ঠিকানা হিসাবে। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি গুগল এড, এসইও ইত্যাদির মাধ্যমেও আপনি মার্কেটিং করতে পারবেন। ফলস্বরূপ, তখন শুধুমাত্র ফেসবুক বুস্টের ওপরে ভরসা করতে হবেনা। মাল্টিপল সোর্স থেকে আপনার সাইটে ভিজিটর আসবে। আর যতবেশি ভিজিটর আসবে ততবেশি সেলস জেনারেট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এখন সবথেকে বড় কয়েকটি বিষয় নিয়ে কথা বলব। আর তা হচ্ছে কোয়ালিটি, টাইমিং এবং বাজেট। আপনার প্রোডাক্ট যদি মার্কেটে চাহিদা সম্পন্ন না হয়, বা কোয়ালিটিফুল না হয়, অথবা যদি আপনার পেইজ/ওয়েবসাইট/কন্টেন্ট এক কথায় সকল কিছু কোয়ালিটিফুল না হয় তবে কিন্তু মানুষ ভরসা রাখতে পারবেনা। আর ভরসা রাখতে না পারলে শুধু ভিজিটরই পাবেন কিন্তু সহজে সেলস জেনারেট হবেনা। অন্যদিকে আছে টাইমিং, আপনার বিজনেস ও মার্কেটের অবস্থা বুঝে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি যদি না করতে পারেন তবে ওয়েবসাইট, ডিজিটাল মার্কেটিং যাই করেন না কেন ফল আশানুরূপ হবেনা। বিজনেসের ক্ষেত্রে টাইমিং খুবই ইম্পর্টেন্ট। আর বাজেটের কথা যদি বলি, আমরা সবাই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। আমরা সবাই কাজ করছি স্বল্প ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে। কিন্তু বিজনেস করতে হলে মিনিমাম যে ইনভেস্টমেন্ট দরকার সেটা তো করতেই হবে! নয়ত যা খরচ হবে কোনটাই কাজে আসবেনা। তাই বাজেট কত রাখবেন তার জন্য দরকার একটা কমপ্লিট প্ল্যান। কত বাজেট রাখবেন, সেটা কোন কোন খাতে খরচ করবেন, কতদিন ধরে এই বাজেটটা প্রয়োগ করবেন, কিভাবে ও কতদিনে তা মার্কেট থেকে তুলে আনবেন সবকিছুই একটি সুন্দর পরিকল্পনার মধ্যে থাকা দরকার।
সবকিছুই যদি পরিকল্পিত থাকে, তবে সফলতা শুধু সময়ের ব্যাপার ইনশাআল্লাহ। বিজনেসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আরও বহু বিষয় রয়েছে, এক পোস্টে সবকিছু আলোচনা করা সম্ভব নয়। তবে এই বিষয়গুলি অন্তত খেয়াল রেখে এগিয়ে গেলে দূর্গম এই পথ কিছুটা হলেও সহজ হবে আশা করি।
যেকোন প্রশ্ন, পরামর্শ ও সেবা গ্রহণের জন্য যেকোন সময় মেসেজ করতে পারেন আইটেন্ট আইটি এর পেইজে। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সেবায় সাথে আছি সব সময়...