06/08/2021
★★ কোভিড ভ্যাক্সিন --
জানা-অজানা ভুল তথ্য সংশোধন ★★
★ ২৫+ বয়সী সুস্থ যেকোনো নারী পুরুষ ভ্যাক্সিন অবশ্যই নেবেন।
(যদি বয়স ১৮+ করা হয় পরবর্তীতে, তারাও নেবে)
★ যেকোনো বয়সী উচ্চ ঝুকিপূর্ণ রোগ- ডায়বেটিস, হাই ব্লাড প্রেশার, হার্ট, কিডনি, লিভার, ব্রেইন সমস্যায় ভুক্তভোগী, ক্যান্সারের চিকিৎসারত রোগী, কিম্বা যেকোনো শারীরিক গুরুতর অসুস্থ রোগী নিজ নিজ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভ্যাক্সিন নেবেন না।
(এতে উলটো ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি)
★ ৬৫+ বয়সী উচ্চ ঝুকিপূর্ণ রোগে বহুদিন থেকে আক্রান্ত ও চিকিৎসারত (উপরে উল্লেখিত) হলে ভ্যাক্সিন নেবার পূর্বে অবশ্যই ডাক্তার চেক আপ করিয়ে শারীরিক ফিটনেস বুঝে নিতে ভালো।
★ ব্রেস্ট ফিডিং (বুকের দুধ পান করানো) মায়েরা অবশ্যই ভ্যাক্সিন নিতে পারবেন। ভ্যাক্সিন নেবার পর ব্রেস্ট ফিডিং বন্ধ রাখবার কোনো প্রয়োজন নেই।
এই ভ্যাক্সিন বেবির জন্য ক্ষতিকারক নয়।
(যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ভ্যাক্সিনেশন সার্ভে অনুযায়ী এই মতামত দেয়া হচ্ছে)
★ গর্ভবতী মেয়েরা ভ্যাক্সিন নেবার জন্য উপযুক্ত।
এক'ই সার্ভে অনুযায়ী জানা গেছে, গর্ভবতী অবস্থায় ভ্যাক্সিন নিয়ে মা কিম্বা গর্ভের শিশুর কোনো জন্মগত ক্রুটি কিম্বা পরবর্তী সমস্যা পাওয়া যায়নি।
বরং, ভ্যাক্সিন না নেবার কারনে গর্ভাবস্থায় কোভিড আক্রান্ত নারীদের মাঝে গর্ভপাত(এবরশন), প্রি ম্যাচিওর ডেলিভারি (সময়ের পূর্বে প্রসব), গর্ভে শিশু মৃত্য, মায়ের জীবনের ঝুকি, হার্ট এটাক, স্ট্রোক ইত্যাদিতে মায়ের মৃত্য সহ বহু জটিলতা আমরা গত ২ বছরের প্যান্ডেনিক এ দেখে আসছি।
(তবে, বাংলাদেশ সরকার থেকে গর্ভবতী নারী ও ব্রেস্ট ফিডিং করানো মায়েদের জন্য ভ্যাক্সিনেশন উন্মুক্ত করবার অফিশিয়াল কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
আমরা মনে করি, অতি দ্রুত এ বিষয় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরী)
সেক্ষেত্রে,
যেসব ব্রেস্ট ফিডিং করানো মায়েরা ঝুকিপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত (যেমন- চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, জনস্বাস্থ্য কর্মী, ব্যাংকার, শিক্ষক কিম্বা যেকোনো জনসমাগম স্থানে কাজে নিয়োজিত আছেন)
সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে ভ্যাক্সিন অবশ্যই নিয়ে নেবেন।
এক'ই ধরনের কাজে নিয়োজিত গর্ভবতী নারীরা গর্ভের ১৩-৩৩ সপ্তাহের মাঝে এই ভ্যাক্সিন নির্দ্বিধায় নিজ দায়িত্বে নিয়ে নিতে পারেন।
(সরকারী নির্দেশনা না আসা অব্দি ভ্যাক্সিন নেবার দায়িত্ব আপনার নিজের। ঘোষণা এলে স্বাভাবিক ভাবেই নিতে পারবেন)
★ যে নারীরা অল্প কিম্বা বহুদিন থেকে বেবি কন্সিভ ট্রাই করছেন কিম্বা প্ল্যান করছেন, তাদের জন্য অনুরোধ -
আপনার বয়স যতো বেশিই হোক, যতো জটিলতাই থাকুক, প্রথমে ভ্যাক্সিন নিন।
এরপর ৬ মাস গ্যাপ নিয়ে আবার বেবি ট্রাই করতে পারবেন।
মনে রাখবেন,
আপনি নিজে সুস্থভাবে বেচে থাকবে অনাগত সন্তান আসবে, সেও ভালো থাকবে।
নিজেই যদি অসুরক্ষিত রাখেন, যে আসেনি তার চিন্তা করে লাভ কি!
★ কোভিড পজিটিভ রোগী ভ্যাক্সিন নেবে না।
গত ১মাসের মাঝে পজিটিভ ছিলেন,
কিম্বা নিজ বাড়িতে চারপাশে কোভিড রোগী আছে/ছিলো।
তারা অবশ্যই কোভিড নেগেটিভ কি না, টেস্ট করে শিওর হয়ে ভ্যাক্সিন নেবেন।
কোভিড রোগি সিম্পটম শুরু হবার পর অন্তত ১ মাস গ্যাপ দিয়ে ভ্যাক্সিন নেবেন।
★ যেকোনো ভ্যাক্সিন নেবার পর স্বাভাবিক ভাবে কিছু শারীরিক জটিলতা হতে পারে।
যেমন- যেকোনো মাত্রায় জ্বর, ভ্যাক্সিন নেবার স্থানে ব্যাথা, ফুলে যাওয়া, শরীর ব্যাথা, র্যাশ, চুলকানি, দূর্বলতা ইত্যাদি।
এতে ভয় পাবার কিম্বা অস্থির হবার কারন নেই। সাধারণ কিছু চিকিৎসায় ১-২ দিনেই এসব সমস্যা ঠিক হয়ে যায়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন এ চিকিৎসা নেবেন।
★ কোনো ভ্যাক্সিন আপনাকে রোগ থেকে শতভাগ সুরক্ষা দেবে না। তাই, কোভিড ভ্যাক্সিন নেবার পরেও নিয়ম অনুযায়ী সুরক্ষা, সচেতনতা মেনে চলতে হবে।
এরপরেও কোভিড আক্রান্ত হতে পারেন।
কিন্তু, ভ্যাক্সিন নিয়ে কি লাভ হলো এরকম ভাবনা ভুল।
ভ্যাক্সিন নেবার কারনে আপনার শরীরে এই রোগের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরী হয়। যা পরবর্তীতে আবার এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
সহজ কথায়, ভ্যাক্সিন নেয়া ব্যাক্তি কোভিডে আক্রান্ত হলেও তার শারীরিক জটিলতা ও মৃত্যু ঝুকি কম।
যারা ভ্যাক্সিন নেয়নি, তাদের ঝুকি সবসময় বেশি।
শেষ কথা--
যার জন্য সুযোগ এখন আছে, তা এখন'ই কাজে লাগান।
দ্বিধা, সংশয়, অতিরিক্ত তর্ক, বাক বিতন্ডার দিন শেষ!
মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিয়ে বাচতে চাই আমরা সবাই।
সুস্থ ও স্বাভাবিক পৃথিবী দেখতে চাই।
মাস্ক পরে থাকার অসহনীয়তা থেকে মুক্তি চাই।
আর এটা শুধু সম্ভব,
প্রতিটি ঘরে ঘরে শতভাগ মানুষ ভ্যাক্সিনেশন আওতায় আসা।
সরকার চেষ্টা করছে। আপনি নিজে চেষ্টা করুন।
নিজ পরিবার, গন্ডী, সমাজের সচেতনতার দায়িত্ব নিন।
জনসচেতনতায়-
ধন্যবাদ ও শুভকামনা।
AB International