03/11/2020
গ্রাফিক্স ডিজাইন (পর্ব-১)
গ্রাফিক্স ডিজাইন কী?
গ্রাফিক্স ডিজাইন শব্দটি গ্রাফিক্স এবং ডিজাইন দুটি আলাদা শব্দ নিয়ে গঠিত। গ্রাফিক্স শব্দটি আর্ট, কল্পনা ও প্রকাশ দ্বারা গঠিত উদাহরন স্বরুপ বলাযায় অংকন করা, খোঁদায় করা নকশা, লেখনি ইত্যাদি গ্রাফিক্সের অন্তর্ভূক্ত।
ডিজাইনঃ যখোন কোন কাল্পনিক আর্টকে আমরা কোন সার্ফেস বা তলে লাইন, সেপ, টেক্সার, ফর্ম, টাইপোগ্রাফি ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশ করি তখন সেটাকে ডিজাইন বলে।
অর্থাৎ ডিজাইন হলঃ যখোন আমরা কোন কাল্পনিক আর্টকে সার্ফেস, পৃষ্ঠে বা তলে লাইন, সেপ, টেক্সার, ফর্ম, টাইপোগ্রাফি ইত্যাদির মাধ্যমে বাস্তব রুপ প্রদান করি তখন তাকে গ্রাফিক্স ডিজাইন বলে। সহজ ভাষায় গ্রাফিক্ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ড্রইং বা রেখা (আঁকা) আর যদি ডিজাইন শব্দের অর্থ বুঝি তাহলে দাড়ায় নকশা বা পরিকল্পনা। আমরা আরো জানি যে, গ্রাফিক অর্থের নানা অর্থ যেমন চিত্র গ্রাফিক শব্দটি জার্মান শব্দ থেকে এসেছে। আমরা খুব সহজে জানতে চাই যে, চিত্র দ্বারা নকশা তৈরি করাকে বুঝায় গ্রাফিক্স ডিজাইন।
ডিজাইন এর মৌলিক বিষয়:
কিভাবে নকশা বা ডিজাইন করবো তা জানতে হলে প্রথমেই মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। কারণ যেকোনো কিছুর ক্ষেত্রেই প্রাথমিক জ্ঞান সবচেয়ে জরুরি। গ্রাফিক্স ডিজাইন বলতে বোঝায় রং, আকার, আকৃতির সমন্বয়। এই ক্ষুদ্র বিষয়গুলো সুন্দরভাবে করেই একটি ডিজাইনের মুখ্য বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়। অর্থাৎ একটি ক্রিয়েটিভ প্রসেস বা আইডিয়া আর্ট ও টেকনোলজির সমন্বয়ে প্রকাশ করাই হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন।
ডিজাইনে ২ ধরনের জিনিস প্রয়োজন হয়।
(ক) এলিমেন্টস
(খ) ইকুইপমেন্ট
ক. ডিজাইনে এলিমেন্টসঃ
১। রং
২। রেখা
৩। আকৃতি বা গঠন
৪। গঠন বিন্যাস
৫। স্থান
১) রং:
একটি ডিজাইনের ক্ষেত্রে রংয়ের প্রভাব অনেক বেশি। এটি কেমন রূপ বা আকৃতি ধারণ করবে তা অনেকটাই নির্ভর করে রংয়ের উপর। যেমন লাল রং খুব কঠিন ও কড়া একটি প্রভাব বিস্তার করে যা ভালোবাসা, রাগ এবং উত্তেজনাকে বোঝায়। নীল ও সাদা রংয়ের ডিজাইনটির মধ্যে এক ধরনের শান্ত, শান্তিপ্রিয়, সুশীল এবং শুভ্রতা প্রকাশ পায়।
২) রেখা:
ডিজাইনের ক্ষেত্রে এর লাইন বা রেখাটি কেমন হবে সোজা না চিকন বা পুরু ও সরু তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রকার বা প্রকৃতি কেমন দাঁড়াবে তা অনেকটাই লাইনের উপর নির্ভর করে। একটি পুরু রেখা বালক বা কিশোরদের মনোভাব ফুটিয়ে তোলে আবার একটি সোজা বা চিকন লাইন অনেক বেশি পরিশুদ্ধ ও বোধশক্তি সম্পূর্ণ। দুটি লাইনের মধ্যে কিভাবে পরস্পর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হবে তাও গুরুত্বপূর্ণ।
৩) আকৃতি বা গঠন:
কোন একটি ডিজাইনের গঠন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ এর দ্বারা বোঝা যায় যে নকশাটির আলোচ্য বিষয় কি নিয়ে। কোনযুক্ত যেমন চারকোণা বা ত্রিভুজ আকৃতির ডিজাইন পুং জাতীয় বিষয়কে বোঝায়। আবার সমতল বা বক্র রেখাগুলো স্ত্রী জাতীয়। চারকোণা আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি আকার ফলে এটা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী। আর গোলাকৃতির ডিজাইন আহলাদিত, শান্তিপ্রিয় ও ঐক্যতার রূপ তুলে ধরে।
৪) গঠন বিন্যাস:
টেক্সচারের মাধ্যমে ডিজাইনের বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা হয়। চাক্ষুস সৌন্দর্য্য তুলে ধরতে এর কার্যকরী অনেক। এটি একটি ডিজাইনকে অনেক বেশি সুলভ ও তুলনাহীন করে তোলে।
৫) স্থান:
গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রে স্থান মূলত একটি সুশীল ও সমৃদ্ধ বিষয়কে বোঝায়। ডিজাইনের যে অংশটি দেখলে চোখের শান্তি হবে যা দৃষ্টিসুলভ। যে নকশা যত হালকা তার ব্যাপ্তি তত বেশি। জায়গার অসৎ ব্যবহার একটি ডিজাইনকে কুৎসিত ও অসুভ করে তুলতে পারে। আবার ডিজাইনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি খালি জায়গা থাকলে তা অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে। ফলে ভেবেচিন্তে জায়গার যথাযথ ব্যবহার করা উচিত।
খ. ডিজাইনে ইকুইপমেন্ট:
৩. রুলার
১. পেন্সিল
২. রাবার
👉গ্রাফিক্স ডিজাইনের উদ্দেশ্য:
গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগ বা সমন্বয়। একটি নকশা সম্পূর্ণ হওয়ার পর যদি আমরা নিজেকে প্রশ্ন করি যে কিভাবে প্রতিটি উপাদান ব্যবহার করা হলো বা কোন রং কেন ব্যবহার হলো, তাহলে এর উদ্দেশ্য জানা যাবে। আপনার আশেপাশের বস্তুগুলো ভালোভাবে লক্ষ্য করুন দেখুন তাতে একটি ডিজাইন আছে এবং তা একটি অর্থও প্রকাশ করছে এবং তার একটি প্রয়োজনও আছে। মূলত এ বিষয়গুলোর জন্যই গ্রাফিক্স ডিজাইন।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ারের সুযোগ সমূহঃ
1. Logo designer হিসেবে।
2. বিভিন্ন advertisement company তে।
3. Web designer হিসেবে।
4. Digital marketing agency তে।
5. Magazine এবং news paper কোম্পানি তে।
6. Application and game development কোম্পানি তে।
7. Media publishing কোম্পানি।
8. Brand identity designer.
9. Animation designer etc.