14/04/2022
কেমন হওয়া উচিৎ রমজানে প্যারেন্টিং জেনে নিন।
রমজান মাস আপনার শিশুর আধ্যাত্মিক বিকাশ এবং প্রশিক্ষণের জন্য আদর্শ সময়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা (তিনি মহিমান্বিত ও মহিমান্বিত) আমাদের জন্য এই পবিত্র মাসটিকে মনোনীত করেছেন আমাদের মনোযোগ ও ইবাদতের স্তরকে গড়ে তোলার জন্য। এবং সেইসাথে আমাদের নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষাকে প্রয়োগ করার জন্য
। আমাদের নিজেদের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করা এবং নিজেদেরকে পাপ থেকে শুদ্ধ করার পাশাপাশি, রমজান হল আমাদের সন্তানদেরকে তা শেখানোর এবং উৎসাহিত করার সর্বোত্তম সময়।
এখানে কিছু টিপস দেওয়া হল কিভাবে বাবা-মা তাদের সন্তানদেরকে রমজান পালনের দিকে কিভাবে পরিচালিত করতে পারেন।
🌻 সন্তানের সাথে কানেকশন তৈরু করুন এবং একসাথে প্রতিটি করুন কাজ অনুশীলন করুন। এতে বাচ্চারা বড়দের দেখে উৎসাহিত হয়।
🌻আপনার সন্তানকে আপনার সাথে সেহরী খাওয়ার জন্য জাগিয়ে তুলুন, এমনকি যদি সে রোজা রাখতে নাও পারে। (যদিও সেহরির আগে আপনার সন্তানের পর্যাপ্ত ঘন্টা ঘুমানো হয়েছে কিনা তা,আগে নিশ্চিত করুন, যাতে তারা এটিকে বোঝা হিসাবে দেখা শুরু না করে)।
🌷আপনার বাচ্চাদেরকে আপনার সাথে মসজিদে নিয়ে যান এবং বাড়ি ফিরে তাদের জামাআতে নামাজ পড়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে বলুন। তাদের প্রশ্ন করুন যেমন: ইমাম আজ কোন সূরা পড়েছেন? ইমামের কথা শুনে কোন কথাটি আপনার মন কেড়েছে? আপনি কি রুকু বা সুজুদের সময় কোন বিশেষ দুআ করেছেন?
🌷সেহরী খাওয়ার সময় খাবারের সাথে কিছু খেজুরও খান। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে কী পরামর্শ দিয়েছেন সে সম্পর্কে কুরআনের রেফারেন্স সহ খেজুরের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করুন।
🌷খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙার অভ্যাস করুন।
🌷দুধ গরম করা বা থালা বাসন মোছার মতো ঘরোয়া কাজে আপনার সন্তানকে সাহায্য করতে দিন। এটি আপনার সন্তানকে আপনার সাথে একটি ভাল সময় কাটাতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে ছোট ছোট কাজে তাকে প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করবে, এইভাবে আপনার সন্তানকে দায়িত্বশীল হতে এবং তার পিতামাতার প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হতে শিখতে সক্ষম করবে।
🌷আপনার সন্তানদের নতুন দুআ শেখান। কখন কোন দোয়া পড়তে হয় তাকে সুন্দর করে মনে করিয়ে দিন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যখন আযান শুনবেন তখন রোজা ভাঙ্গার দুআ পাঠ করুন এবং আপনার সন্তানদের আপনার পরে পুনরাবৃত্তি করতে বলুন। একবার তারা এটি শিখে গেলে, আপনি তাদের এটি পড়তে বলতে পারেন।
🌷দিনের ভিতর অনেক বার আলিঙ্গন এবং আদর করে চুমু দিন !এতে তারা তাদের এই নতুন শিক্ষাকে পজেটিভলি নিবে। উৎসাহিত হবে। একদিনের জন্যও এটি ভুলে যাবেন না! মনে রাখবেন সৃস্টি কর্তা ধর্ম পালনে জোর জবরদস্তি পছন্দ করেন না। তাই আপনার বাচ্চাকে কখনওই নামাজ, রোজা পালনে মারা, বকা, জোর না করে আদর এবং যুক্তি সহকারে বুঝিয়ে সঠিক পথে পরিচালনা করা আপনার দায়ীত্ব।
🌷সন্তানদের একটি দম্পতি হিসাবে আপনার নিজস্ব বৈবাহিক সম্পর্কের একতা এবং বোঝাপড়া শেখান, তাদের পিতামাতা হিসাবে দেখান যে আপনি সম্মিলিতভাবে তাদের লালন-পালনে আগ্রহী এবং একটি পরিবার হিসাবে একসাথে বসে ভালবাসা এবং স্নেহ ভাগ করে নিন।
🌷রমজান জুড়ে আপনার সন্তানদের তাদের লক্ষ্য অর্জনে তাদের সাফল্যের জন্য উপহার দিন
🌻লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলুন এবং শেষ দশ রাতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান করা এবং এই সমস্ত রাত জুড়ে বিশেষ দুআ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ। তাদের বলুন যে এটি তাদের পরের বছরের জন্য একটি বোনাস।
🌷রমজানের শেষের বিজোড় রাতে আপনার সাথে সম্ভব হলে তাদের জেগে থাকতে বলুন। তাদের পড়ার জন্য কোন বই দিন বা তাদের জেগে থাকতে সাহায্য করার জন্য উপকারী প্রোগ্রাম দিন।
🌷 রমজানে সন্তান কে শেখান তার নিজের যা অতিরিক্ত আছে তা থেকে অন্যদের দান করা ভাল কাজ।
🌷 কাউ আঘাত করা, মিথ্যা বলা, অন্যের জিনিস না বলে নেয়া, বড়দের কথা অমান্য করা, কাউকে অসম্মান বা বুলি করে কথা বলা, অসৎ কাজ করা, অন্যের নামে মিথ্যা খারাপ কথা বলা, কারো জিনিস কেড়ে নেয়া খারাপ। এসবই আমাদের নিজেদের, সমাজ ওদেশের জন্য ক্ষতিকর। একারনে মহান আল্লাহ এসব কাজ করা থেকে আমাদের বিরত থাকতে আদেশ দিয়েছেন।
🌷 সন্তানকে শেখন যেমন আচার-আচরণ তুমি অন্যের কাছে পেতে চাও ঠিক তেমন আচার-আচরণ তুমিও করো।
🌷রমজানের শেষের দিকে, ঈদের জন্য প্রস্তুতি শুরু করুন এবং রমজান শেষ হওয়ার আগে দোয়া করুন যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'লা আপনার পরিবারকে পরবর্তী রমজান দেখার জন্য এবং জান্নাতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জনের জন্য আপনার দ্বীনের উন্নতি করতে সহায়তা করুন। একসাথে!
উপরের সবগুলি ফলপ্রসূ হবে যদি মা-বাবা তাদের সন্তানদের জন্য এই লক্ষ্যগুলি অর্জনে এক সাথে কাজ করেন এবং তাদের সরল পথ অর্জনে এবং অনুসরণ করতে সহায়তা করেন। মা বাবা নিজেরা প্রতিদিনকার জীবনে তা অভ্যাস করেন। শিশুরা উদাহরণ থেকে শেখে: তাদের তরুণ মন তাদের পিতামাতার আচরণ এবং আচরণের সবচেয়ে কাছের সাক্ষী।
কথায় আছে বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়।
একারনে সন্তান কে এমন ভাবে গড়ে তুলুন যেন সে পৃথিবীতে এবং আখিরাতে দুই স্থানেই আপনার প্যারেন্টিং কে রিপ্রেজেন্ট করে সুন্দর ভাবে। গড়ে উঠে সঠিক মানুষ হিসেবে।
মনিকা পারভীন প্রীতি
প্যারেন্ট এডুকেটর
ওমেন উইদাউট বর্ডার