27/08/2023
চারদিকের বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপন এর ভিড়ে ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য সঠিক হোস্টিংটা বাছাই করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তার উপর সার্ভার এর ধরণ ,আকার , কন্ট্রোল প্যানেল এর বৈচিত্রতা এই কাজটা আরও জটিল করে তোলে। ওয়ার্ডপ্রেস এর হোস্টিং বাছাই এর ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় আমাদের বিবেচনা করা উচিত তা নিয়ে এই লেখাটা
মূল্য : সাউথ এশিয়ার মানুষের জন্য যেকোনো প্রোডাক্ট ক্রয় করার ক্ষেত্রে মূল্যটা প্রথম বিবেচিত বিষয়। আর সস্তা হলে ভালো না আর দামি হোস্টিং হলে ভালো এই ধারণাও অমূলক। বিভিন্ন হোস্টিং সেবা প্রদানকারী কোম্পানির মধ্যে তুলনার মাধ্যমে এই ব্যাপারে একটা ভালো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে হোস্টিং কোম্পানি গুলোর অনেক লুকোনো চার্জ থাকে। এমনও দেখা যায় প্রথম মাসে অথবা বছরে স্বল্প মূল্যের লোভ দেখিয়ে পরের মাসে বা বছরেই দেখা যায় আকাশচুম্বী নবায়ন ফী নিয়ে হাজির হয় হোস্টিং কোম্পানি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে i-page (https://www.ipage.com/) দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়েছিলাম।
গ্রাহক এর মতামত : একটু চেষ্টা করলেই একটা হোস্টিং কোম্পানি সম্পর্কে মানুষ কি বলে এবং তাদের কথা এবং কাজে কতটুকু মিল থাকে তা বের করা সম্ভব। গ্রাহক এর মন্তব্য হয়তো আপনাকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবগত করবে যা না হলে আপনার হোস্টিং কেনাটাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। অব্যশই এই মন্তব্য গুলো হোস্টিং কোম্পানি ওয়েবসাইট এ না পড়ে বিভিন্ন ফোরাম বা ওয়েবসাইট থেকে পড়তে হবে।
গতি এবং কর্মক্ষমতা : গুগল দ্রুত গতি সম্পন্ন ওয়েবসাইট ভালোবাসে। tiktok, reels , youtube shorts এর যুগে মিলি সেকেন্ড একটা সফল ওয়েবসাইট এবং ব্যর্থ ওয়েবসাইট এর পার্থক্য রচনা করে দেয়। মানুষের মনোযোগ খুব দ্রুত পরিবর্তন হয় এবং মানুষ সহজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। দ্রুত গতি সম্পন্ন মেশিন এর পাশাপাশি অবজেক্ট ক্যাশিং , ফ্রি কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ইত্যাদি বিবেচিত হতে হবে। ওয়েবসাইট এর ভিসিটর এর শিংহভাগ যেই জায়গার সেই জায়গায় সার্ভার অবস্থিত হলে ওয়েবসাইট লোড টাইম কম হয়।
সিকিউরিটি : আপনার যত্নে গড়া ওয়েবসাইট , মাসের পর মাস শ্রম দিয়ে করা এসইও মুহূর্তে শূন্য হয়ে যেতে পারে যদি ওয়েবসাইট সিকিউরিটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা না হয়। ফ্রি এসএসএল সার্টিফিকেট থেকে নিয়ে , ফায়ারওয়াল , রেগুলার ম্যালওয়ার মনিটর , two ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকা জরুরী। আরও যে বেপারটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে তা হলো ব্যাকআপ সিস্টেম। খেয়াল রাখতে হবে হোস্টিং কোম্পানি রেগুলার ব্যাকআপ রাখলে যদি কনটেন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয় যে তাহলে তা পুনরোদ্ধার সম্ভব।
সম্প্রসারণ যোগ্যতা: এখন একটা ব্যবসা যেই অবস্থায় থাকুক তা পরবর্তীতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে সেই সাথে ওয়েবসাইট এর আকার বড় হতে পারে এবং অধিক সংখক ভিসিটর ওয়েবসাইট ভিসিট করতে পারে। তাই হোস্টিং এমন হতে হবে যেন তার বর্তমান প্ল্যান আপগ্রেড করা যায় যেন তা বাড়তি চাপ সামাল দিতে পারে।
কাস্টমার সেবা : অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একই হার্ডওয়্যার থাকা সত্ত্বেও হোস্টিং কোম্পানি এর কাস্টমার সেবা অনেক বড় একটা পার্থক্য করে দেয়। আপনার একটা ওয়েবসাইট এর জন্য টেকনিক্যাল সেবা ২৪ ঘন্টা লাগবে এবং টেকনিক্যাল সেবা প্রদানকারী দল চৌকষ হতে হবে। অন্যথায় যখনই কোনো সমস্যা দেখা দিবে আপনি যথা সময়ে সেবা না পেলে একটা ওয়েবসাইট এর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
আমার ব্যক্তিগত মত হলো হোস্টিং সেবা ক্রয় এর আগে যদি ট্রায়াল এক্সেস নেওয়া যায় তাহলে আগে থেকেই একটা হোস্টিং এর পারফরমেন্স , গতি , কাস্টমার সেবা ইত্যাদি পরখ করে দেখা যায়।
এই সম্পর্কিত আরো পড়তে চাইলে নিচের আর্টিকেল গুলো পড়তে পারেন :
https://www.wpbeginner.com/managed-wordpress-hosting/
https://www.hostinger.com/tutorials/speed-up-wordpress
https://www.freecodecamp.org/news/the-ultimate-guide-to-high-performance-wordpress/