21/01/2025
আমাদের চিরচেনা বন্ধুদের নতুন পোশাকে দেখে আমার একটা গল্প মনে পড়লো।
অনেক দিন আগের কথা, শক্তিশালী এক রাজা ছিল। রাজা একটি কাক পোষতো। ভীষণ প্রিয় কাক- তার সাথেই থাকতো। এমনকী যুদ্ধে গেলেও কাক’কে সঙ্গে নিয়ে যেতো। কোনও এক শীতের আমন্ত্রণে প্রতিবেশী রাজা এলো তার দরবারে। রাজার সাথে নিয়ে এলো তার পোষা ময়ূর। প্রাকৃতিকভাবেই ময়ূরের সৌন্দর্যের জুড়ি নাই, তা যদি হয় রাজার ময়ূর। তখন একটু ভিন্ন মাত্রা অবশ্যই থাকবে।
ময়ূর দেখে এই রাজ্যের রাজার খুবই ভালো লাগলো, আহ! আমার যদি একটা ময়ূর থাকতো। রাজভোজ শেষ, গভীর রাত। রাজার খাস প্রহরীকে রাজার কামড়ায় ডেকে পাঠানো হলো। আমারও ময়ূর চাই, বলে উঠলো রাজা। জ্বি আজ্ঞা হুজুর, আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমান। ঘুমাচ্ছি তবে মনে রেখো, কাক কিন্তু আমার ভীষণ প্রিয়।
তার পরদিনের কথা, রাজ পন্ডিত, সেনাপতি আর রাজসদস্য সবাই ছোটে চললো ময়ূরের খোঁজে। চমৎকার পেখমওয়ালা একটি ময়ূর তারা বাছাই করলো। মাঝপথে রাজ প্রহরী ঘোড়া থামিয়ে বলে উঠলো, রাজা মশাই কিন্তু কাকও পছন্দ করেন। একথা শোনে নতুন সিদ্ধান্ত জানালো রাজ পন্ডিত। রাজপ্রাসাদে ফিরে সবাই ব্যস্ত হলো ময়ূরের পেখম খোলতে। চুপিসারে কাকের গায়ে লাগানো হলো ময়ূরের পেখম। রাজার পছন্দ তাই বাধ্য হয়েই কাক সহ্য করলো সবকিছু। নতুন নামও দেয়া হলো ‘ময়ূকাক”।
মহানানন্দে চলতে থাকলো রাজা আর ময়ূকাকের সঙ্গ। রাজ সদস্যরাও মহাখুশি। রাজ পন্ডিতকে দিলেন বাহবা, উপহার হিসেবে দিলেন শ’খানেক মোহর। তোমার জন্য ময়ূর এবং কাক দুটোই আমি পেলাম, বলে উঠলো রাজা; সেই সাথে আনন্দের হাসি হা হা হা।
প্রতি রাতেই ময়ূর আর ময়ূকাকের মাঝে ঝগড়া হয়। ময়ূর বলে উঠে রাজামশাই আমাকে পছন্দ করে, তুই কেন ময়ূরে সেজেছিস? এর জবাবে কাক হেসে উত্তর দেয়- ‘কা কা কা’ ময়ূর হওয়ার আমার কোনও ইচ্ছে নাই, রাজা মশাইয়ের পছন্দ বিধায় সহ্য করছি। রাজা তো আর কয়েকদিন বাঁচবে, পেখম খোলে রাখলে নতুন রাজা আমাকে অপছন্দ করবে? আত্মবিশ্বাস আর তাচ্ছিল্যের হাসি কাকের গলায় হি হি হি
দুঃখ নিয়ে ময়ূর চলে যায় আর মানুষের প্রতি ক্ষোভে ফেটে পরে ভিরভির বলে, "খোলস নয়- নিজেকে বদলাও, পৃথিবী বদলে যাবে"। আর পছন্দ!! যদি আমি ময়ূর’ই তোমার জন্য থাকি, তবে কেন কাক ব্যাটাকে ময়ূর সাজাতে হবে।