31/08/2021
হঠাৎ আপনার ক্যারিয়ার অদৃশ্য হয়ে গেলে কী করবেন?
আপনার ক্যারিয়ার কি সত্যিই অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে? হ্যাঁ, অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স-এর এক গবেষণা অনুসারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। ২০১৯ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে পূর্বাভাস প্রদানকারী এই সংস্থা লক্ষ্য করেছে যে, অটোমেশনের ফলে পরবর্তী দশকে, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস সেক্টরের লাখ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং সফটওয়্যার, উন্নত রোবোটিক্স ও অন্যান্য প্রযুক্তি মানুষের জায়গা দখল করে নেবে। কারণ মানব কর্মীর তুলনায় এসব প্রযুক্তি দিয়ে আরো সস্তায়, দ্রুতগতিতে এবং কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করানো সম্ভব।
তবে আপনার ক্যারিয়ারের জন্যে রোবটই একমাত্র হুমকি নয়। এর পাশাপাশি অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা এবং আউটসোর্সিং। এই দুটি বিষয়ই সাধারণভাবে বা নির্দিষ্ট কোনো শিল্পের শ্রমিকদের জন্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
আপনি যদি মনে করেন যে আপনার জীবন-জীবিকা হুমকিতে রয়েছে, তাহলে কেন এমনটা হচ্ছে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর চেয়ে বরং পরবর্তীতে কী করতে হবে, সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেয়া উচিৎ।
ক্যারিয়ার পরিবর্তন করার সময় আপনাকে টিকে থাকতে সাহায্য করবে, এমন একটি পরিকল্পনা কীভাবে তৈরি করবেন?
#১. ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতির মূল্যায়ন করুন
আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যদি কয়েক মাসের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ মজুদ না থাকে, তাহলে নিজেকে দোষারোপ না করে বরং নিজের অবস্থান নির্ণয় করুন। যেই প্রতিষ্ঠানে আগে কাজ করেছেন, সেখান থেকে চাকরি হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে কোনো টাকা দেয়া হবে কিনা, তার খোঁজ-খবর নিন। এছাড়া আপনি সরকারের কাছ থেকে বেকার ভাতার মতো কোনো সহায়তা পাওয়ার যোগ্য কিনা, সেটাও যাচাই করুন। নিজের খরচ অনুসারে চলার মতো একটি বাজেট তৈরি করুন, আপনার আয় এবং ব্যয়ের হিসাব করুন এবং কোনো ঘাটতি থাকলে সেটা চিহ্নিত করুন।
#২. বসে না থেকে অর্থ উপার্জনের কোনো উপায় বের করুন
বেকার হয়ে পড়ার পর নতুন কোনো ফুলটাইম চাকরির অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত স্বল্প মেয়াদে অর্থ উপার্জনের কোনো উপায় সন্ধান করা সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি। সামগ্রিকভাবে আপনার পেশার ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চিত, তখন উপার্জনের চেষ্টা করাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার পাশাপাশি দ্রুত অর্থ উপার্জনের কোনো উপায় বের করার জন্য আপনার পক্ষে সম্ভব এমন সব ধরনের উপায় যাচাই করে দেখুন। যেমন:
• অস্থায়ী চাকরি: অর্থনৈতিক সংকট পূরণ করতে এবং চাকরির বাজারে সক্রিয় থাকতে অস্থায়ী কোনো কাজের সাথে যুক্ত থাকা উচিৎ।
• গিগ ওয়ার্ক: কাস্টমার সার্ভিস বা ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর মতো অনেক ধরনের সাময়িক কাজের অফার সবসময়ই খোলা থাকে। সব রকম সাময়িক কাজের অফার কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। এগুলির সুবিধা হলো, নিজের সুবিধা মতো সময়ে এবং অন্যান্য কাজ বা দায়িত্বের পাশাপাশি এসব কাজ করা যায়।
• বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষদের নিয়োগ দেয়, এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি: চাকরি হারিয়ে ভাববেন না যে, এই চাকরির দক্ষতা আপনার আর কোনো কাজে লাগবে না অথবা আপনি আর নতুন কোনো ফুল-টাইম চাকরি পাবেন না। বরং মনে রাখবেন যে, আপনার আগের চাকরিতে শিখেছেন, এমন অনেক দক্ষতা অন্যান্য চাকরি এবং ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও মূল্যবান হতে পারে। তাই পুরনো দক্ষতাগুলি কাজ লাগবে, এমন নতুন চাকরি বা ক্যারিয়ারের সন্ধান করুন।
#৩. অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান খুঁজুন
আগের দক্ষতা বা কাজের অভিজ্ঞতা যদি ক্যারিয়ার গ্যাপ পূরণ করার জন্যে কোনো কাজে না আসে, তখন নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনের জন্যে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ওয়েব ডেভেলপিং বা টেকনিশিয়ান ট্রেনিং-এর মতো সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম বা কোর্স সম্পন্ন করার মাধ্যমে আপনি নতুন কোনো কাজের ক্ষেত্রে ভালো বেতনের চাকরি শুরু করতে পারেন। এসব কোর্স শেষ করতে সাধারণত মাত্র কয়েক মাস সময় লাগে এবং কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ব্যাচেলর ডিগ্রির চেয়ে অনেক কম খরচ হয়।
#৪. দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করুন
অতিরিক্ত ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট অর্জনের জন্যে দীর্ঘ মেয়াদে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন। অথবা কোনো চাকরি করতে করতে নতুন ক্যারিয়ারের জন্যে নিজের দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারেন। আপনি যেদিকেই যান না কেন, সময় নিয়ে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা তৈরি করলে তার ভালো ফল পাবেন।
ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা করার সময় যে বিষয়গুলি খেয়াল রাখতে হবে, সেগুলি হলো:
• নিজেকে মূল্যায়ন: সঠিক ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার জন্যে আপনাকে নিজের আগ্রহ, যোগ্যতা এবং মূল্যবোধ সম্পর্কে যতটা সম্ভব জানতে এবং বুঝতে হবে। পাশাপাশি সবকিছু মূল্যায়ন করতে হবে। এজন্যে কোনো ক্যারিয়ার কাউন্সিলরের সহায়তা নিতে পারেন বা নিজে নিজেই অনলাইনে ফ্রি সেলফ অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট করতে পারেন।
• গবেষণা: আপনার জন্যে সম্ভাব্য সব পেশার একটি তালিকা তৈরি করার পর সেসব নিয়ে গবেষণা করতে হবে। সম্ভাব্য ক্যারিয়ারে সফলতার পথ সম্পর্কে আরও জানতে নানান ধরনের রিসোর্স ব্যবহার করুন এবং সেসব নিয়ে গবেষণা করুন।
• উদঘাটন বা অভিজ্ঞতামূলক গবেষণা: যেসব কাজ করবেন বলে ভাবছেন, বাস্তব জীবনে সেসব কাজ করলে কেমন হবে, সে সম্পর্কে আরো জানার চেষ্টা করুন। সেজন্যে আপনার পেশাগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অভিজ্ঞদের সাথে সরাসরি কথা বলুন আর তাদের পরামর্শ চান।
#৫. নিজেকে সবসময় নতুন কিছুর জন্য প্রস্তুত করুন
ক্যারিয়ার সম্পর্কে অনিশ্চিত এই পরিবেশে টিকে থাকতে চাইলে হঠাৎ করে ক্যারিয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি ধীরে ধীরে নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনার জন্যেও নিজেকে প্রস্তুত করুন। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বর্তমান চাকরির জন্যে আপনার যে দক্ষতার প্রয়োজন, আগামীকাল তা আর কোনো কাজে নাও লাগতে পারে। সুতরাং সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে থাকা। তাই আজীবন নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান।
মোটকথা প্রতিটি ক্যারিয়ারেই পরিবর্তন আসে। তাই আপনিও যেকোনো পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
#ক্যারিয়ার #পরিবর্তন #প্রস্তুতি
©CityTouch