25/05/2024
১। ক্লাওড কম্পিউটিং আসলে কি ?
Cloud Computing হচ্ছে ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়ে কম্পিউটারের যাবতীয় হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার রিলেটেড সার্ভিস সমূহ অনলাইন এর মাধ্যমে সরবরাহ করা যা একটি নির্দিষ্ট চুক্তি বা ভাড়ার বিনিময়ে হয়ে থাকে । যেমন - কোন প্রকার সার্ভার ক্রয় না করে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে অন্যের সারভার বা কম্পিউটার এর রিসোর্স যেমন সিপিউ, র্যাম, স্টোরেজ ডিভাইস বা কোন অপারেটিং সিস্টেম বা সফটওয়ার সুবিধাসমুহ ব্যবহার করতে পারেন ।
২। কেন ক্লাওড কম্পিউটিং এত গুরুত্বপূর্ণ ?
মনে করুন আপনি একটি বিজনেস বা কোম্পানি চালু করতে যাচ্ছেন
এখন আপনার কোম্পানির হিসেব নিকেশ, মার্কেটিং বা কর্মীদের ব্যবস্থাপনা সহ যাবতীয় কাজের সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য আপনাকে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য আপনাকে বেশ কিছু কম্পিউটার হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার এর সমন্বয়ে একটা আইটি অবকাঠামো গঠন করা দরকার এবং এর জন্য আপনাকে বেশ কিছু আইটি রিসোর্স যেমন, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ও সিকিউরিটি ডিভাইস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার এবং কিছু আইটি রিসোর্স পারসন যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ যেমন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, নেটওয়ারকিং এক্সপার্ট, সিকিউরিটি এক্সপার্ট, টেকনিশিয়ান ইত্যাদি ক্রয় করা বা ভাড়া করা লাগতে পারে যার জন্য একটি বিশাল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয় অথচ একটি প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন কারনে যেমন- বিক্রয় কমে যাওয়া, প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হউয়া অথবা ব্যবসায়িক বিভিন্ন মন্দার কারনে আপনাকে ব্যয় কমানোর জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করা লাগতে পারে যার ফলে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক সময় এই রিসোর্স গুলোর সমানভাবে ব্যবহার নাও লাগতে পারে, এর ফলে আপনার প্রতিষ্ঠানের এই রিসোর্সগুলোর অনেক কিছুই অব্যবহৃত থেকে যায় যা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক ব্যয়বহুল এবং জামেলাপূর্ণ ।
এক্ষেত্রে আপনার উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান হচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং । ক্লাওড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে আপনি উপরোক্ত কাজগুলো খুব সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা এবং একটি নির্দিষ্ট ভাড়া বা চুক্তির বিনিময়ে আপনার চাহিদা অনুযায়ী অর্থাৎ আপনার প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী যতটুকু রিসোর্স দরকার ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করতে পারবেন । তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনি আপনার রিসোর্স ব্যবহারের পরিমান ও বাড়াতে পারেন তবে এর জন্য আপনাকে অতিরিক্ত কোন জামেলা পোহাতে হবে না, অর্থাৎ আপনি যতটুকু রিসোর্স ব্যবহার করবেন আপনাকে তটটুকুই খরচ বহন করতে হবে, এটাই ক্লাউড কম্পিউটিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা ।
৩। ক্লাওড কম্পিউটিং এ সাধারনত কয় ধরনের সার্ভিস দেয়া হয় ?
ক্লাওড কম্পিউটিংএ সাধারনত তিন ধরনের সার্ভিস প্রদান করতে দেখা যায়, যাকে আমরা সংক্ষেপে IAAS, PAAS এবং SAAS বলে থাকি ।
এখানে, IAAS এর পূর্ণ রুপ হচ্ছে Infrastrure As A Service, সহজ ভাষায় IAAS হচ্ছে একটি অবকাঠামোর পুরনাঙ্গ ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রন সম্পূর্ণরুপে আপনিই নির্ধারণ করে দিতে পারবেন যে আপনি আপনার
প্রতিষ্ঠানের জন্য ঠিক কতটুকু রিসোর্স ব্যবহার করবেন । যেমন- cpu এর পরিমাণ, র্যাম কত জিবি, স্টোরেজ ভলিউম ইত্যাদি অর্থাৎ হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর সমন্বয়ে আপনার অবকাঠামোর জন্য যতটুকু রিসোর্স দরকার ঠিক তটটুকু রিসোর্সই আপনি একটি নির্দিষ্ট ভাড়া বা চুক্তির বিনিময়ে ব্যবহার করতে পারবেন ।
PAAS এর পূর্ণ রুপ হচ্ছে Platform As A Service, PAAS এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে যে এখানে আপনাকে IAAS এর মত হার্ডওয়্যার এর রিসোর্স ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবতে হবে না তবে এখানেও আপনাকে সিস্টেমের কনফিগারেশন এবং ব্যবস্থাপনার উপর আপনার স্বচ্ছ ধারনা থাকতে হবে । PAAS এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারকারী হচ্ছে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, এডমিনিস্ট্রেটর, আইটি পারসনাল ইত্যাদি ।
SAAS এর পূর্ণ রুপ হচ্ছে Software As A Service, SAAS হচ্ছে ক্লাওড কম্পিউটিং এর সবচেয়ে সহজতম এবং আধুনিক রুপ, PAAS এর মত SAAS এর কোন রক্ষনাবেক্ষন ও ব্যবস্থাপনার কোন জামেলা নেই । একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সার্ভিস চার্জ বা ভাড়ার বিনিময়ে আপনি খুব সহজেই SAAS ব্যবহার করতে পারবেন, সুতরাং যে কেও এর ব্যবহারকারী হতে পারে । SAAS এর সবচেয়ে ভালো উদাহরন হতে পারে, যেমন - Google drive, Google docs, Salesforce, Quickbooks, Trello etc.
৪। মূলত কারা এই ধরনের সার্ভিস প্রদান করে থাকে ?
ক্লাওড কম্পিউটিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস দাতাদের মধ্যে উল্ল্যেখযগ্য হচ্ছে - IBM cloud, Microsoft, Google, Amazon Web Service (AWS) etc.
৫। ফ্রিল্যান্সিং কিংবা ব্যবসায় বানিজ্যে ক্লাওড কম্পিউটিং এর গুরুত্ব ঃ
আসলে Cloud Computing বিষয় টা হচ্ছে একটা Umbrella বা Hood এর মত, ফ্রিল্যান্সিং অথবা ব্যবসায় বানিজ্যের অধিকাংশ কাজই কোন না কোন ভাবে Cloud Computing এর সাথে জড়িত, যারা seo বা Digital Marketing নিয়ে কাজ করেন তাদের অধিকাংশ কাজই cloud computing এর মাধ্যমেই হয়ে থাকে,
নিচে কিছু উদাহরনের মাধ্যমে ক্লাওড কম্পিউটিং এর গুরুত্ব তুলে ধরা হল,
১। যারা SEO নিয়ে কাজ করেন তাদের Keaword Research করতে হয় এর জন্য তাদেরকে Google Adwords বা Google trends নিয়ে কাজ করতে হয়, এটাও একটা google এর SAAS ভিত্তিক ক্লাওড কম্পিউটিং এর উদাহরণ ।
২। আবার E-mail Marketing এর জন্য MailChimp use করতে হয়, যার মাধ্যমে আমরা ইমেইল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারি ।
৩। আবার যারা গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে কাজ করে তাদের কাছে Canva একটি জনপ্রিয় টুল ।
৪। এছারাও আমরা সবাই প্রতিদিন Google এর বিভিন্ন ধরনের সেবা যেমন, Google drive, Google docs, Google sheet ব্যবহার করে থাকি, এগুলো সবই ক্লাওড কম্পিউটিং সার্ভিসের উদাহরন ।
উপরোক্ত সবগুলোই হচ্ছে এক একটি SAAS ভিত্তিক ক্লাওড কম্পিউটিং এর উদাহরণ, অর্থাৎ cloud computing ছাড়া ব্যবসায় বানিজ্যের অধিকাংশ কাজই অচল, তাই Cloud Computing নিয়ে আপনার যত স্বচ্ছ ধারনা থাকবে ফ্রিল্যান্সিং কিংবা ব্যবসায় বানিজ্যে আপনি তত এগিয়ে থাকবেন ।
সুতরাং ব্যক্তি কিংবা ব্যবসায় বানিজ্য অথবা শিক্ষা, গবেষণাসহ প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্লাওড কম্পিউটিং এর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
ফ্রিল্যান্সিং কিংবা ব্যবসা বানিজ্য আপনি যে পেশাতেই থাকুন না কেন আপনাকে অবশ্যই একটা ভাল মানের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ প্রয়োজন অথবা আপনার যদি এরকম একটা ল্যাপটপ থাকে সেটার কোন রকম সমস্যা সার্ভিসিং কিংবা আপডেট করাতে চান সেক্ষেত্রে আপনি আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন, আমাদের অভিজ্ঞ টিম আপনাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে, ইনশাল্লাহ ।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুনঃ
০১৯৭০০০৬০৫০
০৯৬০১২২২২২২
Service Centre: 81 Masuma Plaza (Ground floor), New Elephant Road, Dhaka- 1205
Corporate Office: 15 DIT Road, East Rampura, Green Tower(1st floor, FF-17) Dhaka-1219.