27/10/2022
দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন
রেলওয়ের প্রকল্প সংক্রান্ত নথি অনুসারে, ২০১০ সালে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। মূল উদ্দেশ্য পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াত সহজ করা। পাশাপাশি মিয়ানমারসহ ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করা। তবে কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটারের কাজ আপাতত হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে প্রথমে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এতে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি।২০১৮ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পৃথক দুই ভাগে কাজটি করছে। এটি সরকারের অগ্রাধিকার (ফাস্ট ট্র্যাক) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
দোহাজারি-কক্সবাজার রেলওয়ে প্রজেক্টের (আইকনিক স্টেশন বিল্ডিং) কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার মো. আব্দুল জাবের মিলন জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন রেলপথের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কক্সবাজারের রেলস্টেশনটি। পুরো স্টেশনটি গড়ে উঠছে ২৯ একর জমির ওপর। আইকনিক স্টেশন ভবনটি ১ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুটের। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রায় সবই থাকছে স্টেশনটিতে।
স্টেশনটি হচ্ছে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চাঁন্দেরপাড়া এলাকায়। নির্মাণাধীন স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছয় তলা স্টেশন ভবনের মূল কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে। দিন-রাত কমবেশি ৫ শতাধিক প্রকৌশলী ও শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে স্টেশন ভবনটির নির্মাণকাজে। স্টেশন ভবন ছাড়াও আরও ১৭টি স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে, যেগুলো ব্যবহার করা হবে রেলওয়ের পরিচালনা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে।
শুধু কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনটি নির্মাণ করতেই ২১৫ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলের কর্মকর্তারা। কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেশনটিতে যাত্রী প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য রাখা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন পথ। থাকছে গাড়ি পার্কিংয়ের বড় জায়গা। আইকনিক রেলস্টেশনটিতে থাকছে তারকা মানের হোটেল, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, শিশু যত্ন কেন্দ্র। থাকছে লকার বা লাগেজ রাখার স্থান। রাতের ট্রেন ধরে সকালে কক্সবাজারে গিয়ে পর্যটকেরা লাগেজ, মালামাল স্টেশনে রাখতে পারবেন। আর সারাদিন সমুদ্রসৈকত বা দর্শনীয় স্থান ঘুরে রাতের ট্রেনে আবার ফিরে পারবেন নিজ গন্তব্যে।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে প্রজেক্টের (আইকনিক স্টেশন বিল্ডিং) কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার মো. আব্দুল জাবের মিলন বলেন, ছয় তলা আইকনিক স্টেশন ভবনের মূল কাঠামোর নির্মাণ কাজ। এর পাশাপাশি প্লাটফরম ও ফুটওভার ব্রিজের ৩০ শতাংশ কাজ এগিয়েছে। এখন বাকি আছে ফিনিশিং, ছাদের কাঠামো তৈরি ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। ছাদের কাঠামো তৈরির কাজটি এপ্রিল মাসে শুরু হবে। আর ফিনিশিং এর মধ্যে সেন্ট্রাল এসি, ফায়ার ফাইটিং, বিএমএ সিস্টেম, স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজ রয়েছে; যা বর্ষা মৌসুমেও কোনো ধরণের কাজে সমস্যা হবে না। কারণ ভবনের মূল কাঠামোর কাজ যেহেতু শেষ, ফলে এই কাজগুলো ভেতরে বসে করা যাবে। যার ফলে কাজগুলোও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। বলা যায়, প্রকল্প মেয়াদের দুই মাস আগে এই আইকনিক রেলস্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে থাকা রেলওয়ে স্টেশন গুলোর তালিকা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
⭕ চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন
⭕ চট্টগ্রাম জংশন রেলওয়ে স্টেশন
⭕ ঝাউতলা রেলওয়ে স্টেশন
⭕ চট্টগ্রাম পলিটেকনিক রেলওয়ে স্টেশন
⭕ ষোলশহর জংশন রেলওয়ে স্টেশন
⭕ জান আলীর হাট রেলওয়ে স্টেশন
⭕ গোমদণ্ডী রেলওয়ে স্টেশন
⭕ বেঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশন
⭕ ধলঘাট রেলওয়ে স্টেশন
⭕ খানমোহনা রেলওয়ে স্টেশন
⭕ পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন
⭕ চক্রশালা রেলওয়ে স্টেশন
⭕ খরনা রেলওয়ে স্টেশন
⭕ কাঞ্চননগর রেলওয়ে স্টেশন
⭕ খানহাট রেলওয়ে স্টেশন
⭕ হাশিমপুর রেলওয়ে স্টেশন
⭕ দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন
⭕ সাতকানিয়া রেলওয়ে স্টেশন
⭕ লোহাগাড়া রেলওয়ে স্টেশন
⭕ হারবাং রেলওয়ে স্টেশন
⭕ চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশন
⭕ ডুলাহাজরা রেলওয়ে স্টেশন
⭕ ইসলামাবাদ রেলওয়ে স্টেশন
⭕ রামু রেলওয়ে স্টেশন
⭕ কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন।
প্রকল্প কর্মকর্তা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে ৬৭ শতাংশ। করোনার কারণে প্রকল্প মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এই প্রকল্প শেষ করতে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময় পাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো।
দোহাজারী - কক্সবাজার রেলপথে কোন স্টেশনের দুরত্ব কত,আর বর্তমান কাজের চিত্র -
১) দোহাজারী. ০০.০০
২) সাতকানিয়া ৮.৭৬১
৩) লোহাগাড়া ২১.৫০০
৪) হারবাং ৩৭.৪০০
৫) চকোরিয়া ৪৮.৯৬৫
৬) ডুলহাজারা ৫৯.৬২৫
৭) ইসলামাবাদ ৭২.৪৮০
৮) রামু ৮৯.১৪০
৯) কক্সবাজার ১০০.৫৩০
এখানে উল্লেখ্য চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারীর দুরত্ব ৪৭ কিলোমিটার,এ পযন্ত এই রুটে প্রায় ৭০% এলাকায় রেললাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।
ছবি - রা্শেদ রাজু ভাই