Shamim Ahammed

Shamim Ahammed “You yourself, as much as anybody in the entire universe, deserve your love and affection.”
— Buddha

Forty percent marketers+Forty percents designer+Twenty percents writer= dudes; It’s me😎

Guess the movie name
04/11/2025

Guess the movie name

Don’t take life too seriously! Nobody gets out alive anyway. Smile. Be goofy. Take chances. Have fun. Inspire🌸[Thanks to...
09/06/2024

Don’t take life too seriously! Nobody gets out alive anyway. Smile. Be goofy. Take chances. Have fun. Inspire🌸

[Thanks to Saiful Islam Pranto Bhai for taking such a beautiful photo]

25/02/2024

মানুষের মন ভয়ংকর সুন্দর হয়; ব্যাখ্যা প্রয়োজন বোধহয়।
ধরেন আপনি মেরিন ড্রাইভ ধরে কোন এক নিশুতি রাতে একদম একা ড্রাইভ করে যাচ্ছেন। ভয়ানক সামুদ্রিক বাতাসে রাস্তার দু'ধারের ঝাউপাতা চুলের মত একপাশে দোল খাচ্ছে, আকাশ ক্রমাগত বিদ্যুতের ঝলকানি দিয়ে জানান দিচ্ছে ঝড়ের আভাস। আশপাশে জনমানুষের কোন চিহ্নটিও নেই।অদ্ভুত এই গা ছমছমে পরিবেশ যেমন ভয়ের সৃষ্টি করে আবার কেমন নৈঃস্বর্গিক আবেশও দেয়। সৌন্দর্য্য অবলোকনের সাথে ভয়ের উদ্রেক হলে সেটাকে ভয়ানক সৌন্দর্য্য বলে।
মানুষের মন ঠিক এমন।কত ভয়ানক গল্প লুকানো, জলের গভীরে সৃষ্ট বুদবুদের মত উঠে এসে জলের উপর হারিয়ে যায় সেসব গল্প। ভেতরে ভেতরে ভয়ানক সৌন্দর্য্য বয়ে বেড়ানো মনগুলো শরতের মেঘমুক্ত আকাশের মত স্নিগ্ধ হোক।ভাগ্য রজনীতে স্রষ্টা এই মনগুলো স্নিগ্ধ ও শান্ত করুন; জমিনে পাকা ধা বাতাসে দোল খাচ্ছে, মাথার উপর অসংখ্য নক্ষত্রের মাঝে পোড়া রুটির অবয়বে চাঁদ আলোকচ্ছটা দিচ্ছে, ঝিঝিপোকার গান...
মানুষের মন এমন মায়াবী সুন্দর হোক❤️
"হে আমার প্রতিপালক, জগতের সকল জীবাত্মায় শান্তি বিরাজ করিয়ে দাও"🤲

ফাহাদ ফাসিলের জোজি সিনেমাতে খুব সুন্দরভাবে শেক্সপিরিয়ান ট্র্যাজেডি তুলে ধরেছিলেন শ্যাম পুষ্কারান। ম্যাকবেথ যেমন স্কটল্যা...
31/07/2023

ফাহাদ ফাসিলের জোজি সিনেমাতে খুব সুন্দরভাবে শেক্সপিরিয়ান ট্র্যাজেডি তুলে ধরেছিলেন শ্যাম পুষ্কারান। ম্যাকবেথ যেমন স্কটল্যান্ড এর রাজা হওয়ার উচ্চাভিলাসে লেডি ম্যাকবেথের প্ররোচনায় স্কটল্যান্ড এর রাজা ডানকানকে হত্যা করে স্কটল্যান্ডের সিংহাসন দখল করেন এরপর নিজের পাপ কে ঢেকে রাখার জন্য সন্দেহের বশে পরবর্তীতে আরো কিছু খুন করে একপর্যায়ে গৃহযুদ্ধের মত অবস্থা তৈরী করে স্ত্রী এবং ম্যাকবেথ নিজেও উন্মাদের মত হয়ে যান, ঠিক সে সময়ে লেডি ম্যাকবেথ আত্মহত্যা করেন আর ম্যাকবেথ পরাজিত হয়ে নিহত হয় ম্যাকডাফের হাতে। ঠিক একইভাবে জোজি সিনেমার ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রপআউট জোজি পাঞ্চাল নিজের উচ্চাকাঙ্খার বশবর্তী হয়ে নিজের পিতাকে খুন করেন এবং জোজির ভাই জমন পাঞ্চাল তাকে স্বন্দেহ করলে একপর্যায়ে তাকেও খুন করেন জোজি। একটা পর্যায়ে এসে জোজির ভেতর অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যায়, জোজি মারাত্মক ধার্মিক হয়ে যান এবং একপর্যায়ে এয়ার গান দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন, তবে তাকে চিরকালের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হয়।

সোফোক্লিসের 'ইডিপাস রেক্স' এর ইডিপাস। থিবসের রাজা লেয়াসের স্ত্রী জোকাস্টাসের কোন সন্তান নেই। নিঃসন্তান লেয়াস মন্দিরে প্রার্থনায় গেলে দৈববাণী শোনেন। লেয়াসের নিঃসন্তান হওয়াকে যেন লেয়াস আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করেন। কেননা লেয়াসের সন্তান লেয়াসকে হত্যা করে সিংহাসনে আরোহণ করবে। ঘটনাক্রমে জোকাস্টার ছেলে সন্তান হয়। লেয়াস সেই দুগ্ধপোষ্য শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দেয় নিজের সিংহাসন সুরক্ষিত রাখার জন্য। অমোঘ নিয়তি যাকে বলে; বেঁচে যান নবজাতক। পাশের রাজ্যের এক মেষপালক তাকে কুঁড়িয়ে পেয়ে নিয়ে যান নিজের গৃহে। নবজাতকের পায়ে পেরেক আঁটকে রাখার জন্য মেষপালক তার নাম দেন 'ইডিপাস' যার অর্থ 'পা ফুঁলে যাওয়া'।

ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন ইডিপাস। আশেপশাশের মানুষজন বলতে থাকেন ইডিপাসের চেহারার সাথে তার মা-বাবার কোন মিল নেই। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ইডিপাস মন্দিরে গেলে দৈববাণী শুনতে পান যে তার পিতাকে হত্যা করে মাতাকে বিয়ে করবে। রাগে ইডিপাস নিজের এলাকা ত্যাগ করেন। পথিমধ্যে ইডিপাসের কারনে কোন এক রাজার রাস্তা আটকে গেলে একপর্যায়ে রাজার নির্দেশে ইডিপাসের পায়ের উপর দিয়ে রথ চালিয়ে দেয়া হলে ইডিপাস ক্ষুব্ধ হয়ে রাজা এবং তার অনুচরদের হত্যা করেন। উল্লেখ্য এই রাজার রাজ্যে তখন ভয়ানক এক ব্যাক্তি প্রজাদের ধাঁধার মারপ্যাঁচে হত্যা করতেন। রাজা এ থেকে পরিত্রানের জন্য মন্দিরের যাচ্ছিলেন দৈববাণী নেয়ার জন্য। পথিমধ্য তিনি মারা যান ইডিপাসের হাতে। ইডিপাস তখনও বুঝতে পারেন নি, দৈববাণীর প্রথমাংশ সত্যি হয়েছে। সে তার পিতাকে হত্যা করেছে। একপর্যায়ে ইডিপাস পৌছে যান থিবসে, যেখানে সেই ভয়ানক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলে ইডিপাসকে তিনি ধাঁধাঁ ধরেন। ইডিপাস ধাঁধার অর্থ জানাতে সেই অত্যাচারী (স্ফিংস) পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্ফিংস এর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে থিবসের বাসিন্দারা ইডিপাসকে রাজা হিসেবে গ্রহন করেন এবং এর যোগসুত্রতায় নতুন ঘোষিত রাজা বিধবা রানীকে বিয়ে করেন। ইডিপাস তখনও জানতেন না দৈববাণীতে বলা দুটো ঘটনা তার জীবনে সত্যি হয়ে গিয়েছে। এঘটনা জানাজানি হলে রানী জোকাস্টা আত্মাহুতি দেন, জোকাস্টার মৃত্যুর খবর পেয়ে ইডিপাস নিজেই নিজের চোখ উপড়ে ফেলেন।

গিয়াস উদ্দীন সেলিমের পাপ পূণ্য সিনেমার মূখ্য বিষয় শেক্সপিরিয়ান ট্র্যাজেডি। যেখানে মানুষের কর্মই তার নিয়তি। খোরশেদ একজন সৎ চেয়ারম্যান, তার সবসময়ের সঙ্গী-দেহরক্ষী আল-আমিন, যাকে তিনি ভাতিজা বলে সম্বোধন করেন। একপর্যায়ে আল-আমিন খোরশেদের একমাত্র মেয়ে খুশির সাথে প্রণয়ে জড়িয়ে পরেন। খোরশেদ তার স্ত্রীর মারফত ঘটনা জানতে পেরে আল-আমিনকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে ঢাকায় নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে আল-আমিন নিজ মুখে খোরশেদের কাছে স্বীকার করে খুশির সাথে তার সম্পর্কের কথা। খোরশেদ রাগের বশে খুন করে ফেলে আল-আমিন কে।

আল-আমিনের মৃত্যুর খবর গোপন রাখে খোরশেদ। একপর্যায়ে ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে খুনের মামলায় জেলে যায় খোরশেদ। জেলে থাকা অবস্থায় আল-আমিনের মা একদিন খোরশেদকে জানান আল-আমিন খোরশেদের সন্তান। পাপ-পূণ্যের দোলাচালে খোরশেদ আল-আমিনের মা পারুলকে অনুরোধ করে আল-আমিনকে তার নিজের পিতার পরিচয় আর গোপন না রাখার জন্য।

খোরশেদের শ্যালক একজন বড় উকিল ধরেন উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য। মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ খোরশেদ ওকালতনামা ছিড়ে ফেলেন। তার বিবেক তাকে তাড়না দেয় কৃতকর্মের শাস্তি পাওয়ার। বিয়োগান্তক সমাপ্তি হয় পাপ-পূণ্যের। এখানেও সেই একই বিষয়, শেক্সপিরিয়ন ট্র্যাজেডি। যেখানে মানুষের কর্মই তার নিয়তি ঠিক করে দেয়। আল-আমিন নিজের সৎ বোনের সাথে প্রণয়ের ব্যাপারে না জানলেও তার কৃতকর্মের শাস্তি সে পায়। সবকিছুই কর্ম এবং নিয়তির ব্যাপার। ইডিপাস রেক্স থেকে শুরু করে প্রাচ্যের জোজি এবং গিয়াস উদ্দীন সেলিমের 'ত্রয়ী' (মনপুরা, স্বপ্নজাল, পাপ পূণ্য) সবখানেই শেক্সপিয়র খুব সুন্দরভাবে স্থান করে নিয়েছে। সব কিছুতেই ঠাই পেয়েছে সমাজের রুঢ় বাস্তবতা, যেটাকে আমরা মেনে নিতে পারিনা। অথচ সেটাই সত্যি হয়ে আমাদের চারপাশে বিরাজ করছে।

পাপ পূণ্য নির্মান বিচারে জোজির কাছাকাছি না হলেও গিয়াস উদ্দীন সেলিমের চেষ্টা ছিলো জোজি বা অনান্য মালায়লাম সিনেমার মতই প্রকৃতিকে গল্পের অন্যতম উপজীব্য হিসেবে দেখানো। রঙ বিন্যাসের কারণে পাপ পূণ্যে সিনেম্যাটিক আবহ সৃষ্টির চেয়ে টিভি নাটকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে বেশী। আল-আমিন চরিত্রে অভিনয় করা সিয়াম এবং সাব ইন্সপেক্টর চরিত্রে অভিনয় করা ফজলুল রহমান বাবুর অভিনয় একটু অতিমাত্রায় নাটকীয় ছিলো। পারুল চরিত্রে অভিনয় করা আফসানা মিমি বহুবছর পর পর্দায় স্বরুপে হাজির হয়েছেন। আটোপৌঢ়ে মধ্য বয়েসী বাঙালী মায়ের চরিত্রকে ফুঁটিয়ে তুলেছেন সুন্দরভাবে।

পুলিশ বাহিনীর উপস্থাপন আমাদের সিনেমাতে কেন যেন বারেবারেই দৃষ্টিকটু হয়ে যায়। পুরো সিনেমা রিলেটেবেল এবং উপভোগ্য হলেও পুলিশের দৃশ্য উপস্থাপিত হলেই পর্দার সাথে চোখ এবং মন কোনটাই লেগে থাকেনা। এদিক থেকে মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রি বেশ এগিয়ে, পুলিশের উপস্থাপন দেখে আন্দাজ করা যাবেনা যে তার পুলিশ না অভিনয় শিল্পী। এটাই হচ্ছে ভালো নির্মাতাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তার শিল্পী চেনেন এবং শিল্প বের করে আনতে পারেন।

খুঁজলে এমন ভুল হয়তো আরো পাওয়া যাবে, তবে তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে ডার্ক বিষয়গুলোকে সামনে তুলে আনা। শেক্সপিরিয়ন ট্র্যাজেডি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই লাখ-লাখ মৌলিক গল্প তৈরী করা যায় যেকোন অঞ্চলের সামাজিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো উপজীব্য করে। গিয়াস উদ্দীন সেলিমের ত্রয়ী সে পথেই হেঁটেছে। গল্প সংকটের অজুহাতে না থেকে সমাজের রুঢ় বাস্তবতাকে নাটকীয় পন্থায় সেই সমাজের কাছেই তুলে ধরেছেন। লিনিয়ার স্টোরি টেলিং নির্মিত সিনেমাতে নির্মাতা কয়েক জায়গায় চেষ্টা করেছেন সাসপেন্স দেয়ার, তবে তার অধিকাংশই ছিলো প্রেডিক্টেবল। তবুও 'লাস্ট হোপ' হিসেবে প্রেডিক্টেবল অংশেও একটু আন-প্রেডিক্টেবল টুইস্ট দিয়েছেন তিনি। যেটা বেশ পুশিয়ে দিয়েছে।

বি:দ্র: এটাকে ক্রিটিক রিভিউ না বলাই উত্তম। আমার এই রিভিউ তুলে ধরা শেক্সপিরিয়ন ট্র্যাজেডির আলোকে পাপ পূণ্যের নির্মান নিয়ে। যেকারণে কারিগরি দিক আমি এড়িয়ে গিয়েছি।

God does not burden any soul with more than it can bear (Al-Quran 2:286)অর্থ্যাৎ "আল্লাহ কাউকেই তার সামর্থ্যের বাইরে কোন...
27/07/2023

God does not burden any soul with more than it can bear (Al-Quran 2:286)
অর্থ্যাৎ "আল্লাহ কাউকেই তার সামর্থ্যের বাইরে কোন কিছু দেন না (সূরা বাকারাহ আয়াত ২৮৬)

এই আয়াতটা ইংরেজিতে লেখা দেখেছিলাম টাউনহলের সামনের এসএফএক্স গ্রীনহেরাল্ড স্কুলের দেয়ালে। এর আগে এই আয়াত পড়ে বা শুনে থাকলেও কখনো মাথায় ওভাবে ক্লিক করেনি।

একটু ভিন্ন একটা লেখা কিছুদিন আগে পড়েছিলাম "I know that you are not good enough, you are not worthy. That's why I've chosen you. You don't have to do anything, I will do it through you"

আমাদের কাছে অনেকসময় আমাদের চলে আসে টেনশন, স্ট্রেস, দুঃখ কষ্ট, দায়িত্ব আমাদের সহ্যের বাইরের মনে হলেও যদি বিশ্বাস করা যায় যে এইগুলো আমার সামর্থ্যের মধ্যে আছে বলেই আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন অথবা তিনি জানেন আমি এগুলোর জন্য ফিট না কিন্তু তিনি আমাকে দিয়ে এগুলো করাবেন বলেই আমাকে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন।
তাহলে জীবনে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

এইখানে কোন লজিক খোঁজার দরকার নেই; একটা বিশ্বাস কিংবা দর্শন অন্যের জন্য ক্ষতিকারক না হয়ে যদি আপনার মেন্টাল হেলথ এর জন্য ফিল গুড ভাইভ এনে দিতে পারে, আপনাকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে তাহলে লজিক, সায়েন্স এইগুলা একপাশে সড়িয়ে রেখে ম্যাজিককে বেছে নিন।

জীবনে যত যাই হোক বি ব্লেসড, বি হ্যাপি, বি স্মাইলি অলওয়েজ🥰

24/07/2023

হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্ট হিমু, শুভ্র কিংবা মৃণ্ময়ী সহ আরো বেশকিছু উল্লেখযোগ্য চরিত্র সাহিত্য বিচারের বাইরে প্রচলিত সোশ্যাল নর্মস অনুযায়ী বেশ এ্যাবসার্ড ক্যারেক্টার। একবার চিন্তা করে দেখেন আমাদের সোশ্যাল নর্মসে এই চরিত্রগুলোকে যদি এ্যাবসার্ড হিসেবে ক্লাসিফিকেশন না করে ওই ক্যারেক্টারিস্টিককেই যদি সোশ্যাল স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধারণ করা হতো তাহলে আমার, আপনার কিংবা আমাদের জীবন কত সহজ, সরল এবং সুখের হতো।

ক্যারেক্টার ক্লাসিফিকেশনে ক্ষেত্রবিশেষ আমি বেশ এ্যাবসার্ড। যেটা করলে আমার ভালো লাগে সেই কাজ বাকীদের কাছে পাগলামী মনে হলেও আমি ওইটাই করি। আমার কাছে মনে হয় বাকীরা সার্ভাইভ করে, আর আমি বেঁচে থাকি। আমি একা নই, পুরো একটা দেশ তাদের উন্নয়নের মাপকাঠি হিসেবে বেছে নিয়েছে সুখে থাকাকে।

একনজরে আমাকে দেখে যদি আপনার ভ্রু কুচঁকে যায়, তাহলে আপনার উচিৎ আমার সাথে একটা দিন পার করা। বেঁচে থাকার আনন্দ কত প্রকারে নেয়া যায় ভেবে আপনি অবাক হয়ে যাবেন; ইভেন দো আপনার পটেক ফাঁকা থাকলেও।

জোজি, পাপ পূন্য এবং শেক্সপিরিয়ান ট্র্যাজেডি। কর্ম যেখানে নিয়তি, আর নিয়তি যেখানে অমোঘফাহাদ ফাসিলের জোজি সিনেমাতে খুব সুন্...
23/07/2023

জোজি, পাপ পূন্য এবং শেক্সপিরিয়ান ট্র্যাজেডি। কর্ম যেখানে নিয়তি, আর নিয়তি যেখানে অমোঘ

ফাহাদ ফাসিলের জোজি সিনেমাতে খুব সুন্দরভাবে শেক্সপিরিয়ান ট্র্যাজেডি তুলে ধরেছিলেন শ্যাম পুষ্কারান। ম্যাকবেথ যেমন স্কটল্যান্ড এর রাজা হওয়ার উচ্চাভিলাসে লেডি ম্যাকবেথের প্ররোচনায় স্কটল্যান্ড এর রাজা ডানকানকে হত্যা করে স্কটল্যান্ডের সিংহাসন দখল করেন এরপর নিজের পাপ কে ঢেকে রাখার জন্য সন্দেহের বশে পরবর্তীতে আরো কিছু খুন করে একপর্যায়ে গৃহযুদ্ধের মত অবস্থা তৈরী করে স্ত্রী এবং ম্যাকবেথ নিজেও উন্মাদের মত হয়ে যান, ঠিক সে সময়ে লেডি ম্যাকবেথ আত্মহত্যা করেন আর ম্যাকবেথ পরাজিত হয়ে নিহত হয় ম্যাকডাফের হাতে। ঠিক একইভাবে জোজি সিনেমার ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রপআউট জোজি পাঞ্চাল নিজের উচ্চাকাঙ্খার বশবর্তী হয়ে নিজের পিতাকে খুন করেন এবং জোজির ভাই জমন পাঞ্চাল তাকে স্বন্দেহ করলে একপর্যায়ে তাকেও খুন করেন জোজি। একটা পর্যায়ে এসে জোজির ভেতর অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যায়, জোজি মারাত্মক ধার্মিক হয়ে যান এবং একপর্যায়ে এয়ার গান দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন, তবে তাকে চিরকালের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হয়।

সোফোক্লিসের 'ইডিপাস রেক্স' এর ইডিপাস। থিবসের রাজা লেয়াসের স্ত্রী জোকাস্টাসের কোন সন্তান নেই। নিঃসন্তান লেয়াস মন্দিরে প্রার্থনায় গেলে দৈববাণী শোনেন। লেয়াসের নিঃসন্তান হওয়াকে যেন লেয়াস আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করেন। কেননা লেয়াসের সন্তান লেয়াসকে হত্যা করে সিংহাসনে আরোহণ করবে। ঘটনাক্রমে জোকাস্টার ছেলে সন্তান হয়। লেয়াস সেই দুগ্ধপোষ্য শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দেয় নিজের সিংহাসন সুরক্ষিত রাখার জন্য। অমোঘ নিয়তি যাকে বলে; বেঁচে যান নবজাতক। পাশের রাজ্যের এক মেষপালক তাকে কুঁড়িয়ে পেয়ে নিয়ে যান নিজের গৃহে। নবজাতকের পায়ে পেরেক আঁটকে রাখার জন্য মেষপালক তার নাম দেন 'ইডিপাস' যার অর্থ 'পা ফুঁলে যাওয়া'।

ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন ইডিপাস। আশেপশাশের মানুষজন বলতে থাকেন ইডিপাসের চেহারার সাথে তার মা-বাবার কোন মিল নেই। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ইডিপাস মন্দিরে গেলে দৈববাণী শুনতে পান যে তার পিতাকে হত্যা করে মাতাকে বিয়ে করবে। রাগে ইডিপাস নিজের এলাকা ত্যাগ করেন। পথিমধ্যে ইডিপাসের কারনে কোন এক রাজার রাস্তা আটকে গেলে একপর্যায়ে রাজার নির্দেশে ইডিপাসের পায়ের উপর দিয়ে রথ চালিয়ে দেয়া হলে ইডিপাস ক্ষুব্ধ হয়ে রাজা এবং তার অনুচরদের হত্যা করেন। উল্লেখ্য এই রাজার রাজ্যে তখন ভয়ানক এক ব্যাক্তি প্রজাদের ধাঁধার মারপ্যাঁচে হত্যা করতেন। রাজা এ থেকে পরিত্রানের জন্য মন্দিরের যাচ্ছিলেন দৈববাণী নেয়ার জন্য। পথিমধ্য তিনি মারা যান ইডিপাসের হাতে। ইডিপাস তখনও বুঝতে পারেন নি, দৈববাণীর প্রথমাংশ সত্যি হয়েছে। সে তার পিতাকে হত্যা করেছে।

একপর্যায়ে ইডিপাস পৌছে যান থিবসে, যেখানে সেই ভয়ানক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলে ইডিপাসকে তিনি ধাঁধাঁ ধরেন। ইডিপাস ধাঁধার অর্থ জানাতে সেই অত্যাচারী (স্ফিংস) পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্ফিংস এর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে থিবসের বাসিন্দারা ইডিপাসকে রাজা হিসেবে গ্রহন করেন এবং এর যোগসুত্রতায় নতুন ঘোষিত রাজা বিধবা রানীকে বিয়ে করেন। ইডিপাস তখনও জানতেন না দৈববাণীতে বলা দুটো ঘটনা তার জীবনে সত্যি হয়ে গিয়েছে। এঘটনা জানাজানি হলে রানী জোকাস্টা আত্মাহুতি দেন, জোকাস্টার মৃত্যুর খবর পেয়ে ইডিপাস নিজেই নিজের চোখ উপড়ে ফেলেন।

গিয়াস উদ্দীন সেলিমের পাপ পূণ্য সিনেমার মূখ্য বিষয় শেক্সপিরিয়ান ট্র্যাজেডি। যেখানে মানুষের কর্মই তার নিয়তি। খোরশেদ একজন সৎ চেয়ারম্যান, তার সবসময়ের সঙ্গী-দেহরক্ষী আল-আমিন, যাকে তিনি ভাতিজা বলে সম্বোধন করেন। একপর্যায়ে আল-আমিন খোরশেদের একমাত্র মেয়ে খুশির সাথে প্রণয়ে জড়িয়ে পরেন। খোরশেদ তার স্ত্রীর মারফত ঘটনা জানতে পেরে আল-আমিনকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে ঢাকায় নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে আল-আমিন নিজ মুখে খোরশেদের কাছে স্বীকার করে খুশির সাথে তার সম্পর্কের কথা। খোরশেদ রাগের বশে খুন করে ফেলে আল-আমিন কে।

আল-আমিনের মৃত্যুর খবর গোপন রাখে খোরশেদ। একপর্যায়ে ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে খুনের মামলায় জেলে যায় খোরশেদ। জেলে থাকা অবস্থায় আল-আমিনের মা একদিন খোরশেদকে জানান আল-আমিন খোরশেদের সন্তান। পাপ-পূণ্যের দোলাচালে খোরশেদ আল-আমিনের মা পারুলকে অনুরোধ করে আল-আমিনকে তার নিজের পিতার পরিচয় আর গোপন না রাখার জন্য।

খোরশেদের শ্যালক একজন বড় উকিল ধরেন উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য। মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ খোরশেদ ওকালতনামা ছিড়ে ফেলেন। তার বিবেক তাকে তাড়না দেয় কৃতকর্মের শাস্তি পাওয়ার। বিয়োগান্তক সমাপ্তি হয় পাপ-পূণ্যের। এখানেও সেই একই বিষয়, শেক্সপিরিয়ন ট্র্যাজেডি। যেখানে মানুষের কর্মই তার নিয়তি ঠিক করে দেয়। আল-আমিন নিজের সৎ বোনের সাথে প্রণয়ের ব্যাপারে না জানলেও তার কৃতকর্মের শাস্তি সে পায়। সবকিছুই কর্ম এবং নিয়তির ব্যাপার। ইডিপাস রেক্স থেকে শুরু করে প্রাচ্যের জোজি এবং গিয়াস উদ্দীন সেলিমের 'ত্রয়ী' (মনপুরা, স্বপ্নজাল, পাপ পূণ্য) সবখানেই শেক্সপিয়র খুব সুন্দরভাবে স্থান করে নিয়েছে। সব কিছুতেই ঠাই পেয়েছে সমাজের রুঢ় বাস্তবতা, যেটাকে আমরা মেনে নিতে পারিনা। অথচ সেটাই সত্যি হয়ে আমাদের চারপাশে বিরাজ করছে।

পাপ পূণ্য নির্মান বিচারে জোজির কাছাকাছি না হলেও গিয়াস উদ্দীন সেলিমের চেষ্টা ছিলো জোজি বা অনান্য মালায়লাম সিনেমার মতই প্রকৃতিকে গল্পের অন্যতম উপজীব্য হিসেবে দেখানো। রঙ বিন্যাসের কারণে পাপ পূণ্যে সিনেম্যাটিক আবহ সৃষ্টির চেয়ে টিভি নাটকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে বেশী। আল-আমিন চরিত্রে অভিনয় করা সিয়াম এবং সাব ইন্সপেক্টর চরিত্রে অভিনয় করা ফজলুল রহমান বাবুর অভিনয় একটু অতিমাত্রায় নাটকীয় ছিলো। পারুল চরিত্রে অভিনয় করা আফসানা মিমি বহুবছর পর পর্দায় স্বরুপে হাজির হয়েছেন। আটোপৌঢ়ে মধ্য বয়েসী বাঙালী মায়ের চরিত্রকে ফুঁটিয়ে তুলেছেন সুন্দরভাবে।

পুলিশ বাহিনীর উপস্থাপন আমাদের সিনেমাতে কেন যেন বারেবারেই দৃষ্টিকটু হয়ে যায়। পুরো সিনেমা রিলেটেবেল এবং উপভোগ্য হলেও পুলিশের দৃশ্য উপস্থাপিত হলেই পর্দার সাথে চোখ এবং মন কোনটাই লেগে থাকেনা। এদিক থেকে মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রি বেশ এগিয়ে, পুলিশের উপস্থাপন দেখে আন্দাজ করা যাবেনা যে তার পুলিশ না অভিনয় শিল্পী। এটাই হচ্ছে ভালো নির্মাতাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তার শিল্পী চেনেন এবং শিল্প বের করে আনতে পারেন।

খুঁজলে এমন ভুল হয়তো আরো পাওয়া যাবে, তবে তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে ডার্ক বিষয়গুলোকে সামনে তুলে আনা। শেক্সপিরিয়ন ট্র্যাজেডি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই লাখ-লাখ মৌলিক গল্প তৈরী করা যায় যেকোন অঞ্চলের সামাজিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো উপজীব্য করে। গিয়াস উদ্দীন সেলিমের ত্রয়ী সে পথেই হেঁটেছে। গল্প সংকটের অজুহাতে না থেকে সমাজের রুঢ় বাস্তবতাকে নাটকীয় পন্থায় সেই সমাজের কাছেই তুলে ধরেছেন। লিনিয়ার স্টোরি টেলিং নির্মিত সিনেমাতে নির্মাতা কয়েক জায়গায় চেষ্টা করেছেন সাসপেন্স দেয়ার, তবে তার অধিকাংশই ছিলো প্রেডিক্টেবল। তবুও 'লাস্ট হোপ' হিসেবে প্রেডিক্টেবল অংশেও একটু আন-প্রেডিক্টেবল টুইস্ট দিয়েছেন তিনি। যেটা বেশ পুষিয়ে দিয়েছে।

বি:দ্র: এটাকে ক্রিটিক রিভিউ না বলাই উত্তম।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম চোখের অধিকারী কে? এর উত্তরে চারটি নাম আসবে, ইংরেজ কবি শেলী, ট্রয়ের হেলেন, মিশরের ক্লিওপেট্রা অন্...
22/07/2023

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম চোখের অধিকারী কে? এর উত্তরে চারটি নাম আসবে, ইংরেজ কবি শেলী, ট্রয়ের হেলেন, মিশরের ক্লিওপেট্রা অন্যটি অশোকপুত্র কুনাল।

অশোকবদান অনুসারে, সম্রাটের সর্বশেষ স্ত্রী তিষ্যরক্ষার (রানী অসিন্ধিমিত্রার একসময়কার দাসী) চক্রান্ত অনুযায়ী অন্ধ হন কুনাল। তিষ্যরক্ষা পাটালিপুত্রের রানী হওয়ার আগে থেকেই কুনালের প্রতি দূর্বল ছিলেন। কুনালকে বসে আনতে না পেরে শেষ পর্যন্ত চক্রান্তে লিপ্ত হন, সম্রাটের কাছে চেয়ে বসেন পৃথিবীর সবথেকে দামী রত্ন!

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দুই চোখের অধিকারী কুনালকে নিয়ে লেখা এই বই। ইতিহাসের আশ্রয় থাকলেও আশ্রিত ইতিহাসকে সরস গল্প বানিয়ে অযথা লেখা বড় করা হয়নি।

ইতিহাস আশ্রিত গল্প-উপন্যাস পড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভয় হচ্ছে সেই গল্পকে সত্যিকারের ইতিহাস মনে হওয়া, লেখিকা Rokeya Asha আপু এই জায়গাতে পুরো সফল। অল্প-সল্প অশোকবদান এর ঘটনা জানার পরও মাঝে মাঝে দ্বিধায় পরে যেতে হয়।

ঐতিহাসিক ঘটনাকে উপজীব্য করে, কাল্পনিক বিভিন্য ঘটনা তৈরী ঐতিহাসিক সেসব ঘটনার চরিত্রের সাথে সিংক করানোটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এজন্য প্রতিটা চরিত্র (যেগুলো কাল্পনিক নয়) স্টাডি করতে হয়। লেখিকা 'অজ্ঞাত নয়' বা ইতিহাসে নাইন ম্যান অফ আশোকা এর একজন অজ্ঞাত আচার্য এর চরিত্র অবলম্বনে সৃষ্ট কল্পিত চরিত্র আচার্য ধীমানের অভিপ্রায়কে তুলে এনেছেন অশোকপুত্র কুনাল ও অসুরপুত্র কুনালের মধ্যকার সম্পর্ক-বৈপরিত্য বোঝাতে। এত সুন্দরভাবে দুইটা অংশের মাঝে সম্পর্ক জুড়ে দেয়ার মধ্যকার স্বাভাবিক কৃত্রিমতাকে লেখিকা মোটামুটি অকৃত্রিম উপায়ে তুলে এনেছেন।

নতুন লেখকেরা ফিকশন লিখলে যেটা হয়, হুটহাট টেনশন তৈরী করা, দ্রুত গল্প বলে যাওয়ার মত নানা সমস্যা দেখা যায়। তার থেকেও বড় ব্যাপার হচ্ছে নতুনদের ভাষাজ্ঞান।

এদিক থেকেও লেখিকাকে এগিয়ে রাখবো। সুন্দর ভাষাজ্ঞান, সাহিত্যজ্ঞান পুরো লেখার প্রাঞ্জলতা ধরে রেখেছে। কোথাও কোন তাড়াহুড়ো নেই, গল্প এগিয়েছে গল্পের নিজস্ব গতিতে। আবার পাঠকের কল্পনায় গল্পের ভিজুয়ালাইজেশন হয়েছে খুব সহজে। একাজের জন্য যেখানে যতটুকু ডিটেইলিং এ মন দেয়ার দরকার তিনি দিয়েছেন, কোথাও অতিরঞ্জিত ডিটেইলিং নেই।

তবে বই এর একদম শেষের দিকে এসে মনে হয়েছে আরেকটু হলে ভালো হতো। হুট করেই যেন সব ঘটনা শেষ গেলো, শেষের দিকে এসে একটা জায়গার সিঙ্ক্রোনাইজিং টা আরো একটু ভালো হওয়ার দরকার ছিলো।

বই এর রিভিউয়ার হিসেবে নয়, একজন পাঠক হিসেবে বহুদিন পর ভালো একটা ফিকশনধর্মী বই পড়লাম। যে বই এর ক্ষমতা আছে এক বসায় শেষ করে ফেলার জন্য পাঠককে প্ররোচিত করা। পাঠক হিসেবে অন্য পাঠককে রেকমেন্ড করার মত উপভোগ্য একটা বই।

পৃথিবীর সমস্ত শব্দের জাদুকরদের জাদুতে মুগ্ধ হোক ধরা, গুচ্ছ-গুচ্ছ শব্দে রচিত হোক ভালো ভালো জাদু, তবেই বই কিনে কাউকে দেউলিয়া হতে হবেনা।

[এই লেখাটা অনেক পুরোনো। আমার প্রোফাইলে লিখেছিলাম, তারপর কোরাতে লিখেছি। দীর্ঘদিন পর পেজ এ্যাক্টিভ করলাম আজ। ভাবলাম পেজেও লেখাটা থাক। কেউ যদি এই লেখাটা পড়ে তাতে অন্তত দূর্দান্ত ভালো একটা বইয়ের সাথে তার পরিচয় হবে]

মোক্ষলাভ বা নির্বান লাভ বুদ্ধের একটা দারুণ কন্সেপ্ট। আমাকে একবার এক ছোটভাই প্রশ্ন করেছিল নির্বান লাভের উপায় কী? উত্তরে ব...
22/07/2023

মোক্ষলাভ বা নির্বান লাভ বুদ্ধের একটা দারুণ কন্সেপ্ট। আমাকে একবার এক ছোটভাই প্রশ্ন করেছিল নির্বান লাভের উপায় কী? উত্তরে বলেছিলাম কঠিন, এত সহজে নির্বান লাভ সম্ভব নয়। অথচ সেদিন রাতে বিছানায় শুয়ে জাস্ট মাথায় এসে গেল নির্বান লাভের রাস্তা।

মজা করে একজনকে বললাম যে পথে ধানমন্ডি যাওয়া যায়, সেই একই পথে মোক্ষলাভ হয়।

আসলেই ব্যাপারটা তেমন, নির্বান বা মোক্ষলাভ হচ্ছে মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডি যাওয়ার মতই নিজের অবস্থানের পরিবর্তন। না ফিজিক্যাল অবস্থান নয়, বরং নিজেকে যদি এনার্জি হিসেবে ধরা যায় তাহলে সেই এনার্জিকে নেগেটিভ এনার্জি থেকে পজিটিভ এনার্জিতে রুপান্তর করাই নির্বান লাভ।

নির্বান লাভের আগে নির্বান কি তা জানা জরুরী। নির্বান হচ্ছে এমন এক অবস্থা যেখানে কোন জরা নেই, ব্যাধি নেই, শোক নেই, জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। সোজা ভাষায় একদম নাথিংনেস; এ্যাবসলুট জিরো।

জন্মালে মরতে হবে তাহলে নির্বান কিভাবে হবে? মৃত্যুই কি তাহলে নির্বান? আমার কাছে এই দর্শন একটু ভিন্ন। নির্বান লাভ হচ্ছে রিপুর উপর নিয়ন্ত্রন। আমরা জানি রিপু হচ্ছে ছয়টি যাকে একত্রে ষড়রিপু বলা হয়।
কাম বা ইন্দ্রিয়সুখ, ক্রোধ বা রাগ, লোভ, মোহ, মদ বা অহংকার, মাৎসোর্য বা হিংসা।

সিদ্ধার্থ যখন ঘর ছেড়ে সন্নাস নে তখন ঘরে তার সুন্দরী স্ত্রী যশোধরা। একজন বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত পুরুষ উভয়ের জন্যেই নিজের যৌন ইচ্ছাকে বশে আনা বেশ কঠিন, যে পুরুষ নিজের ইন্দ্রিয়সুখ বশে আনতে পারে তার কাছে নারীকূল সুরক্ষিত। অর্থ্যাৎ একটা পাপের আশঙ্কা কমে যেয়ে সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা একই সাথে স্রষ্টার আনুগত্যের সহজতম পথ বের হয়ে আসে (এক্ষেত্রে ভুলে যান বুদ্ধ ইশ্বরে বিশ্বাস করতেন না)। এরপর আসে রাগ বা ক্রোধ। জগতে সকল অপরাধের গোড়পত্তন হয় রাগ বা ক্রোধ থেকে। এই ক্রোধ চরম মাত্রায় পৌছালে নরহত্যার মত গুরুতর ঘটনা ঘটে যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সে ব্যক্তি শক্তিশালী নয়, যে ব্যক্তি কুস্তি লড়ে অন্যকে ধরাশায়ী করে, বরং প্রকৃতপক্ষে সে ব্যক্তিই শক্তিশালী, যে রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৮০৯)

লোভ নিজের ব্যাক্তিসুখ থেকে শুরু করে আরো বড় অপরাধের জন্ম দেয়। লোভের কারণে গোটা একটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়, একটা রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়। শেক্সপীয়রের ম্যাকবেথ এর কাহীনিই দেখেন না! কিভাবে লোভ একের পর এক অঘটনার জন্ম দিয়ে পুরো একটা রাজ্যকে ধ্বংস করে দেয়। লোভ ব্যাক্তি, সমাজ, সংসারে কিভাবে অশান্তি আনে তা ব্যাখা দেয়ার খুব বেশী প্রয়োজন নেই।

মোহ বা মায়া হচ্ছে যা আমাদের বিভ্রান্ত করে তোলে। নিজের চেয়ে অন্যের প্রতি অধিকা ভালোবাসাও এক প্রকার মোহ। আধুনিক কালে মোহের অর্থে অনেক পরিবর্তন এসেছে। মোহকে ধরা যেতে পারে বিভ্রান্ত হয়ে মিথ্যা বলা কিংবা অপরাধ ঘটনার প্রবণতার সৃষ্টিকারী হিসেবে।

অহংকার যেমন অন্যকে কষ্ট দেয় ঠিক একইভাবে নিজেকে সমাজ থেকে বিচ্চিন্য করে কঠিন মানুষের রুপান্তর করে। সোশ্যাল ইন্টার এ্যাকশন ছাড়া একজন মানুষ সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতে পারেনা। অহংকারী মানুষ প্রথমে অন্যকে কষ্ট দেয় এরপর থেকে নিজে বিচ্ছিন্য হয়ে কষ্ট পাওয়া শুরু করে। হিন্দু শিবপূরানে আত্মাকে কষ্ট দেয় এমন পাঁচটি জিনিসের মধ্যে অহংকার অন্যতম।

মাৎসোর্য্য বা ঈর্ষা হচ্ছে এমন সব ম্যাটারিয়ালিস্ট ব্যাপার যেগুলো একদমই বস্তুগত এবং প্রয়োজনের থেকে অধিক কিন্তু দরকার নয় এমন বিষয় কেন্দ্র করে বা আকড়ে ধরে বেঁচে থাকার প্রবণতা এবং অন্যের সাথে ভাগ না করতে চাওয়া। যেমন সম্পদ, জমি জমা ইত্যাদি। আধুনিক কালে ঈর্ষার সঙ্গায়নের পরিধিও বেড়েছে। আপনার কাছের কোন বন্ধুর অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে যেটা আপনি সহ্য করতে পারছেন না, এই যে বস্তুবাদী একটা পরিবর্তন আপনার সহ্য হচ্ছেনা এটাও ঈর্ষা।

এই ষড়রিপু নিয়ন্ত্রন করতে পারলে আপনি আমি মানুষ হিসেবে শুদ্ধ। জীবাত্মা তখন পরমাত্মার সাথে মিলে যাওয়ার সুযোগ পায়। আর পরমাত্মা হচ্ছে সামথিং ইন নাথিংনেস। পরমাত্মার সাথে জীবাত্মার সংযোগই ডিভাইন লাভ। লাভ টুয়ার্ডস গড। ঠিক তখনই স্রষ্টাকে পাওয়া যায়। রিপুর নিয়ন্ত্রন ইবাদতে পূর্ণতা দান করে।

10/04/2022

ওয়াহিবজমের প্রতিষ্ঠাতা এ অঞ্চলকে দারুল হার্ব বলে অভিহিত করেন। দারুল হার্ব এর মুসলমানেরা যতদিন দারুল ইসলাম এ হিজরত করছে না, ততদিন তারা উন্নত মুসলমান হবেনা। অল্প কথায়, পারস্য অঞ্চলের মুসলমানেরা অভিজাত এবং এ অঞ্চলের মুসলমানেরা সাধারণ।
স্যার সৈয়দ আহমদ (খুব সম্ভবত) এর ধারণা ছিলো শিক্ষিত হিন্দু মুসলিমদের মাথার উপর বসে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। নগ্ন ছোড়া দেখে ভয় পাওয়া হিন্দুরা তাদের উপর প্রভুত্ব খাটাবে। এই আশঙ্কায় তিনি মুসলিমদের শিক্ষিত হওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেন। এর ধারাবাহিকতায় বাঙালি মুসলিম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, আশরাফ মুসলিম আতরাফ মুসলিম।
দুইটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট হলেও ফলাফল কিন্তু একই; বিভাজন। একই বিভাজন কিন্তু এখনও দৃশ্যমান। এদেশে এখনও বহু বঙ্গ সন্তান আছে যারা নিজেকে দারুল ইসলামের মনে করে।
করুক, এতে আমার আমার কিছু এসে যায় না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এদের অনেকেই আবার নিজেকে আশরাফ মুসলমান হিসেবে মনে করেন। এক একজনের অহমিকা দেখে মনে হয় সাক্ষাৎ জান্নাতের সুসংবাদ পেয়ে এদের পা ধরণীতে পরছে না। অথচ এরা বোঝেই না এহেন তুচ্ছ অহংকার ধর্মে নিষেধ। বাঙালি মুসলিম সমাজ পিছিয়ে পরার এবং ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পেছনে কোন হিন্দু বিজ্ঞান শিক্ষক কিংবা কপালে টিপ পরা নারীর দায় নেই। সব দায় এই আমাদের, আমরা বাকীদের মত থট প্রসেস ডেভেলপ করতে পারিনি, আমাদের কাছে জ্ঞানার্জন মানেই আশরাফ মুসলমানদের মত উর্দু, আরবী শেখায় সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। যার ফলে ধর্মের মিস ইন্টারপেশন আমাদের হাত ধরেই হচ্ছে, ধর্মভীরু না হয়ে আমরা হচ্ছি ধর্মান্ধ।

Address

Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shamim Ahammed posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share