30/11/2025
আজ আমরা ভূমিকম্প পূর্বাভাসের জন্য সিসমোগ্রাফ, জিপিএস এবং আধুনিক সেন্সর ব্যবহার করি। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য ভূমিকম্প শনাক্ত করার ধারণাটি আধুনিক যুগের নয়। প্রায় ১৯০০ বছর আগে, খ্রিস্টাব্দ ১৩২ সালে, চীনা বিজ্ঞানী ঝাং হেং তৈরি করেছিলেন বিশ্বের প্রথম ভূমিকম্প শনাক্তকরণ যন্ত্র, যার নাম সিসমোস্কোপ। প্রযুক্তির দিক থেকে এটি ছিল মানবসভ্যতার এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক। সেই সময় ভূমিকম্প সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল খুবই সীমিত। চীনে বড় ভূমিকম্প ঘটলে কেন্দ্র থেকে দূরের অঞ্চলগুলো খবর পেত অনেক দেরিতে। জনজীবন, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ক্ষতি হতো সময়মতো প্রস্তুতি নিতে না পারার কারণে। ঠিক তখনই ঝাং হেং একটি এমন যন্ত্র তৈরি করেন, যা শুধু ভূমিকম্প শনাক্ত করতই না, বরং কোন দিক থেকে ভূমিকম্পের তরঙ্গ এসেছে তা ও জানাতে পারত যা সেই সময়কার পৃথিবীর জন্য ছিল প্রায় অলৌকিক।
সিসমোস্কোপটি দেখতে ছিল বড় একটি ব্রোঞ্জের পাত্রের মতো। এর চারদিকে আটটি ড্রাগন-মাথা রাখা ছিল, আর প্রতিটির নিচে ছিল আটটি ব্যাঙের মুখ। যখন পৃথিবী কাঁপত, ভেতরের সূক্ষ্ম মেকানিজম কম্পন অনুভব করে ড্রাগন-মাথাটি খুলে যেত এবং একটি ধাতব বল নিচের ব্যাঙের মুখে পড়ত। কোন দিকের ড্রাগনের বলটি পড়েছে এটাই নির্দেশ করত ভূমিকম্পের উৎস কোন দিকে।
অনেক ঐতিহাসিক রেকর্ডে উল্লেখ আছে, এই যন্ত্রটি কয়েকশ মাইল দূরের ভূমিকম্পও সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারত। এমনকি একবার রাজধানীতে কম্পন অনুভূত না হলেও যন্ত্রটি সংকেত দিয়েছিল পরে জানা যায় দূরের এলাকায় সত্যিই ভূমিকম্প হয়েছিল।
আজকের সিসমোগ্রাফ এই প্রাচীন যন্ত্রের আধুনিক রূপ। কিন্তু ঝাং হেং–এর সিসমোস্কোপ শুধুই একটি যন্ত্র নয় এটি মানব মেধার এমন এক উদাহরণ, যা প্রমাণ করে মানুষ হাজার বছর আগেই বিজ্ঞানকে কল্পনার সীমানার বাইরে নিয়ে যেতে পেরেছিল।