28/04/2022
ফেসবুকের অ্যাডের বিডিং (অকশন) কী এবং কিভাবে কাজ করে
ফেসবুকের অ্যাডের বিডিং ফেসবুকের অ্যাড স্ট্রাটেজিতে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। একটি সঠিক অ্যাড বিডিং স্ট্রাটেজি একটি অ্যাডের রেজাল্টকে সফল করতে খুবই প্রয়োজনীয়। এরকম না হলে আপনার অ্যাড টার্গেটিং এবং অ্যাডের কন্টেন্ট ভালো হবার পরও আপনার ইনভেস্টমেন্ট নষ্ট হওয়া ছাড়া তেমন কোনো আউটপুট পাওয়ার সম্ভবনা নেই ।
ভুলভাবে বিডিং স্ট্রাটেজি করা কনভার্শনের জন্য অনেক খরচ হয়ে যায় এবং বিডিং অনেক কম থাকার কারনে অ্যাড ঠিক মত ডেলিভারি হয় না।
আজকের বিস্তারিত আলোচনায় আমরা অ্যাড বিডিং কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে জানবো এবং বিডিং স্ট্রাটেজি কেমন হতে পারে সেটাও জানার চেষ্টা করবো
ফেসবুক অ্যাড বিডিং কিভাবে কাজ করে থাকে:
ফেসবুক অ্যাড বিডিং সিস্টেম মূলত একটি নিলামের মত যেখানে অ্যাডভার্টাইজাররা তাদের অ্যাডের জন্য বিড করে থাকে যেন অ্যাডটি ফেসবুকের বিভিন্ন প্লেসমেন্টে দেখা যায়। সাধারণত সর্বোচ্চ বিড যে করে থাকে সে সব থেকে বেশি অ্যাডের প্লেসমেন্ট পায় ফলে তার অ্যাড বেশি অডিয়েন্সের কাছে ডেলিভারি হয়ে থাকে সহজে বলতে গেলে তার অ্যাড বেশি মানুষের কাছে ডেলিভারি হয়।
এই অকশন সিস্টেমের মূল উদেশ্য হচ্ছে অ্যাডভার্টাইজার এবং ফেসবুক ইউজারের মধ্যে একটি ব্যালেন্স তৈরি করা। উদ্দেশ্য হচ্ছে যেন যারা বিজনেস করছে তারা উপার্জন করতে পারে আর যে সব ইউজারের যেমন কন্টেন্ট দরকার ঠিক তেমন সেরকম তাদের নিউজফিডে শো করে।
৩টি মূল ফ্যাক্টর কাজ করে এই ডেলিভারি সিস্টেমে:
আপনার বিড- একটি ম্যাক্সিমাম এমাউন্ট নির্ধারন করা যা আপনি দিতে ইচ্ছুক নিলামে জয়ী হবার জন্য। ফেসবুক সিস্টেম এমন ভাবে ডিজাইন করা যেখানে আপনি অনেক কম এমাউন্ট বিড করেও নিলামে জয়ী হতে পারেন।
ধরা যাক, আপনার একজন কম্পিটিটর ১ ডলার দিয়ে বিড করেছে আর আপনি করেছেন ১.৫ ডলার, তাহলে এখানে আপনাকে শুধুমাত্র ১.০১ ডলার খরচ করতে হবে বিডে জয়ি হবার জন্য, আপনি যেটা দিয়েছেন সেটা না, আপনার কম্পিটিটর যেটা দিয়েছে তার থেকে এক সেন্ট বেশি হলেই আপনি সে বিডে জয় লাভ করছেন এবং আপনার অ্যাড ভালো পারফর্ম করছে।
রিলেভেন্স স্কোর- আপনার অ্যাডের রিলেভেন্স স্কোর ভালো হবার পিছনে অ্যাডের ইউজাররা কতটা অ্যাডের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিল ছিলো সেটার উপর নির্ভর করে যেমন অ্যাডের পোস্টে লাইক করা, কমেন্ট করা অথবা কমেন্ট বা লিঙ্কে ক্লিক করা ইত্যাদি। আর রিলেভেন্স স্কোর খারাপ তখনই হবে যখন কেউ আপনার অ্যাড হাইড করে রাখবে অথবা এড়িয়ে যাবে । মনে রাখবেন আপনার রিলেভেন্স স্কোর ফেসবুকের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইস্টিমেটেড একশন রেটস- এটি ফেসবুকের অ্যাডের ডেলিভারি অলগারিদমের একটি পর্দার আড়ালের ব্যাপার। যদি ফেসবুকের অলগারিদম বুঝতে পারে আপনার অ্যাড বেশি অ্যাকশন পাচ্ছে তাহলে ফেসবুক সেই অ্যাডকে বেশি প্রায়োরিটি দিয়ে থাকে।
অ্যাড ডেলিভারি অপশন :
সাধারণত ফেসবুক দুইরকমভাবে অ্যাড ডেলিভারি করে থাকে
Standard এবং Accelerated
Standard- এই সিস্টেমে ফেসবুক আপনার ঠিক করে দেয়া অ্যাড ডিউরেশনের মধ্যে আপনার বাজেট খরচ করবে, যেমন আপনি যদি ৬ দিনে ৬০ ডলারের অ্যাড দিয়ে থাকেন তাহলে ফেসবুক প্রতিদিন ১০ ডলারের মত খরচ করবে। সাধারণত এটা ডিফল্ট ভাবে ফেসবুকে দেয়া থাকে।
Accelerated- এখানে ফেসবুক যত দ্রুত সম্ভব আপনার অ্যাডের বাজেট খরচ করবে, এটা তখনই ব্যবহার করা যেতে পারে যখন আপনি খুব অল্প সময়ের জন্য কোন বড় বাজেটের অ্যাড রান করতে ইচ্ছুক হবেন ।
অ্যাড ডেলিভারি অপ্টিমাইজেশন:
অ্যাড ডেলিভারি অপ্টিমাইজেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার, এখানে ফেসবুক ইউজারের ফেসবুক এক্টিভিটির উপর নির্ভর করে অ্যাড অপ্টিমাইজ করিয়ে থাকে আর আপনার অ্যাড যদি সঠিকভাবে অপ্টিমাইজ না হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি রেজাল্টও ভালো পাবেন না। যেমন:
আপনি ট্র্যাফিক অ্যাডে লিঙ্ক ক্লিক অপশন নির্বাচন করে অ্যাড দিয়েছেন তাহলে ফেসবুক তাদেরকেই বেশি করে অ্যাড দেখানোর চেস্টা করবে যারা শুধু মাত্র ফেসবুকের লিঙ্কে ক্লিক করে থাকে। আবার আপনি যদি ল্যান্ডিং পেইজ ভিউজ অপশনে অ্যাড দিয়ে থাকেন তাহলে ফেসবুক এখানে আরো মানসম্মত লিঙ্ক ক্লিক খুঁজবে, ফেসবুক তাদেরকে অ্যাড দেখাবে যারা লিঙ্কে ক্লিক করে এবং ল্যান্ডিং পেইজ লোড হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। অনেকেই আছে লিঙ্কে ক্লিক করে পেইজ লোড হবার আগেই সাইট থেকে বের হয়ে যায় এখানে ফেসবুক সেটা কাউন্ট করবে না। তবে প্রতি ল্যান্ডিং পেইজ ভিউ এর খরচ নরমাল লিঙ্ক ক্লিকের থেকে বেশি হবে তবে এটাও ঠিক আপনি ভালো রেজাল্ট পাচ্ছেন।
ফেসবুক অ্যাড অবজেক্টিভে বিভিন্ন রকম অ্যাড অপ্টিমাইজ সিস্টেম আছে চলুন দেখে নেয়া যাক।
কনভার্শন- আপনি যখন কভার্শন অ্যাড দিবেন এটা ডিফল্ট অপশন হিসেবে থাকে এবং আপনি এই অপশনে অ্যাড অপ্টিমাইজ করালে ফেসবুক তাদের কাছেই অ্যাড পৌঁছাবে যারা মুলত অনলাইনে বিভিন্ন সময়ে কেনাকাটা করে থাকে।
লিঙ্ক ক্লিক- এটা নিয়ে উপরে আলোচনা করেছি, এই অপ্টিমাইজেশনে ফেসবুক তাদেরকেই অ্যাড দেখাবে যারা বেশি বেশি লিঙ্কে ক্লিক করে থাকে।
ইম্প্রেশন- এই অপশনে অ্যাড অপ্টিমাইজ করালে ফেসবুক আপনার অ্যাড যত বেশি মানুষের কাছে সম্ভব নিয়ে যাওয়ার চেস্টা করবে।
ডেইলি ইউনিক রিচ- এই অপশনে ফেসবুক প্রতিটি মেম্বারকে একবার করে প্রতিদিন অ্যাডটি দেখাবে।
পোস্ট এঙ্গেজমেন্ট- যারা পোস্টে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করতে পছন্দ করে ফেসবুক মূলত তাদেরকে অ্যাডটি দেখাবে।
ব্র্যান্ড এওয়ারনেস- এটা এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যারা অ্যাডটি দেখবে তারা মুলত অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখে থাকে।
লিডস- যারা নিজেদের ইনফরমেশন দিয়ে বিভিন্ন ফর্ম ফিলাপ করে থাকে ফেসবুক এই অপ্টিমাইজ অপশনে তাদেরকে অ্যাডটি দেখানোর চেস্টা করবে।
ল্যান্ডিং পেইজ ভিউজ- এটা লিঙ্ক থেকে আরেকটু উন্নত মানের, যারা লিঙ্কে ক্লিক করে ল্যান্ডিং পেইজ দেখতে চায় তাদের জন্য অপ্টিমাইজ হয়ে থাকে এই অ্যাড।
বিডিং স্ট্রাটেজি
সাধারণত ৩ ধরণের বিডিং স্ট্রাটেজি কাজ করে থাকে। যেমন: Lowest Cost, Lowest Cost with a Bid Cap & Target Cost.
Lowest Cost- এটা খুব সিম্পল একটি স্ট্রাটেজি, যেখানে ফেসবুক যতটুকু কম খরচে সম্ভব এবং যত বেশি মানুষের কাছে আপনার অ্যাড দেখাতে পারে তবে এখানে অ্যাডের খরচের উপর আপনার নিজের কোন কন্ট্রোল থাকবে না।
Lowest Cost with a Bid Cap- এটা Lowest cost এর মতই তবে এখানে বিড ক্যাপ সেট করে দেয়া যায়, এর মাধ্যমে ফেসবুককে বলে দেয়া হয় যে, আপনি আপনার অ্যাডে এর থেকে বেশি খরচ চাইছেন না, অ্যাডের খরচের উপর কন্ট্রোল পাচ্ছেন। তবে আপনি যদি অনেক কম রেট দিয়ে থাকেন তাহলে অ্যাড ডেলিভারিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা হতে পারে তাই আপনি আপনার আগের অ্যাডের CPC দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
Target Cost- এটা এমন একটি স্ট্রাটেজি যেখানে একটি এভারেজ CPC রাখা হয়ে থাকে।
যখন এই স্ট্রাটেজি ব্যবহার করা হয়, ফেসবুক আপনার সেট করা টার্গেট খরচের উপরে এবং নিচেও নিলামে তুলতে পারে তবে টার্গেট খরচের এভারেজ খরচ ধরে রাখার চেস্টা করবে। আপনি যদি বেশি কনভার্শন পেতে চান তাহলে আপনি এই স্ট্রাটেজি ব্যবহার করতে পারেন। যে ধরনের অ্যাড অবজেক্টিভে আপনি এই কেম্পেইন চালাতে পারেন
অ্যাপ ইন্সটল
কনভার্শন
লিড জেনারেশন
ক্যাটালগ সেলস
একটি লাভজনক ফেসবুক ক্যাম্পেইন এর জন্য আপনাকে জানতে হবে কিভাবে ফেসবুক বিডিং সিস্টেম কাজ করে, আপনার লক্ষ্যের উপর চিন্তা করে আপনি বিড করতে পারেন, আপনার লক্ষ্য যদি হয়ে থাকে শুধুমাত্র আপনার আর্টিকেল পড়ানো থাকে শুধু আপনার আর্টিকেল পড়ানো সেখানে কোনভাবেই অনেক বড় এমাউন্টের বিড করা ঠিক হবে না আবার যদি চান বেশি সেল তাহলে আবার Lowest cost ব্যবহার করাও ঠিক হবে না। আবার আপনার লক্ষ্যের কথা চিন্তা করে আপনি কোন অপ্টিমাইজশনে ফেসবুকে অ্যাড দিবেন এটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় দিন শেষে আপনার টার্গেটিং, অ্যাড কপি, অ্যাড ইত্যাদি ঠিক থাকার পরও আপনি ফেসবুকে অ্যাড চালিয়ে হতাশ হবেন।
Credit: Ariful Islam