17/10/2024
আসসালামু আলাইকুম।
আপনার নতুন ব্র্যান্ড এর জন্যে লোগো বানানোর কথা ভেবে থাকলে এই লিখাটুকু আপনার জন্যে।
লোগো কি?
লোগো হল একটি চিহ্ন বা মার্ক। আর লোগো এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল স্মরণীয়/ প্রভাবশালী (Memorable/ Impactful)।
লোগো এমন ভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে এটি দেখা মাত্রই মনে রাখা যায় বা মনে রাখার মতো হতে হবে। লোগোর অন্যতম একটি উদ্দেশ্যই থাকে আর এটি হল লোগো দেখার মাত্র ১-৩০ সেকেন্ড পর সেটা মনে রাখা যায় বা মনে রাখার মতো হয়, সেটাই Memorable/ Impactful Logo.
আরো সহজ করে বললে , আজকে একটি লোগো দেখেছ ঠিক কিছুদিন পর সেই লোগোটিকে কোন কিছুতে দেখলে যেন মনে করা যায় এটা কিসের লোগো বা কোন ব্র্যান্ডকে মনে করিয়ে দিচ্ছে ।
আর যেটা মনে রাখা যায়না বা মনে রাখার মতো না হয়, তাহলে সেটি প্রফেশনাল মানের লোগো নয়। সেটির দ্বারা লোগোর মূল উদ্দেশ্য হাসিল হবে না।
আমরা যদি আল্লাহ প্রদত্ত একটি ব্যাপার লক্ষ্য করি । আমাদের সাথে কোন এক আলোচনায় কোন এক ভাইয়ের সাথে আমাদের দেখা হয়েছে কিন্তু পরে আমরা মনে করতে পারছিনা আসলে উনি কে ছিলেন। কিন্তু উনার চেহারা দেখার পরেই আমরা ঠিকই মনে করে ফেলতে পারলাম উনার সাথে কোথায় দেখা হয়েছে এবং কি আলোচনা হয়েছে । ঠিক এক জিনিষটাই হলো লোগো এর মুল উদ্যেশ্য।
লোগো ডিজাইন করার সময় যে বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরী।
1. Simple
2. Scalable
3. Memorable/Impactful
4. Versatile
5. Relevant
এখন জেনে নেওয়া যাক লোগো কেমন হওয়া দরকার ?
আপনি আপনার ইচ্ছে মত লোগো করে নিতে পারেন সেটা আইকন বা লিখার উপর নির্ভর করে । কিন্তু মনে রাখতে হবে এই লোগো আপনার ব্র্যান্ডকে উপস্থাপন করছে কিনা। তবে আইকন কে মনে রাখা সহজ বা ভালো । সমগ্র পৃথিবী বা কোন একটি নির্দিষ্ট দেশ বা এরিয়ার কথা চিন্তা করি বা কোন একটা নির্দিষ্ট ভূখন্ড এর কথা চিন্তা করি, তাহলে আমরা দেখতে পাই সেখানে ১০০% মানুষ অক্ষর জ্ঞান সমৃদ্ধ নয়। অল্প সংখ্যক হলেও অক্ষর জ্ঞানহীন বা অক্ষর জ্ঞান কম এমন মানুষ রয়েছে। তাছাড়া বাচ্চারা তো রয়েছেই। তাই Logo এমন হওয়া উচিৎ যাতে সর্বশ্রেণীর মানুষ সেটা দেখা মাত্রই চিনতে পারে, বুঝতে পারে, মনে রাখতে পারে। চাই তার অক্ষর জ্ঞান থাকুক বা না থাকুক। তাই বিশ্বের বেশির ভাগ ব্র্যান্ড বা লোগোকে আমরা তাদের আইকন দেখেই চিনে ফেলি ।
কালার ঠিক করা খুব গুরুত্বপূর্ণ ।
একটি মুল লোগোতে দুই বা তিনটির বেশি কালার ব্যবহার না করাই ভালো । গ্রাডিয়েন্ট হলে বিষয়টি আলাদা । ব্যবসার ধরণ বা পন্যের সাথে মিলিয়ে রং ঠিক করা ভালো। যে রংই হোক সেটা যেন আবার ২ বা ৩ রং এর বেশী মিশ্রণ না হয়। মনে রাখবেন। প্রেসে রং হলো চারটি: সিএমওয়াইকে CMYK, ছায়ান বা হালকা আকাশী, মেজেন্ডা বা গোলাপী, ইয়েলো বা হলুদ আর কালো বা ব্লাক। এই রংগুলোর মিশ্রনে অন্য রং তৈরী হয়।
Versatile/ Flaxible/ Multipurpose কি?
লোগোটি ব্যবহারের প্রয়োজনে যে কোন স্থানে, যে কোন কালারে স্থানান্তর/রুপান্তর করা হোক না কেন, লোগোটি দেখতে সুন্দর লাগবে এবং লোগোর মূল ম্যাসেজ/বিষয় টি স্পষ্ট বুঝা যাবে। এ জন্য লোগো ডিজাইন করার সময় কয়েকটি কালার ভেরিয়েন্টে করতে হবে। বিশেষ করে লোগোর মূল কালার ছাড়াও এটাকে বিভিন্ন কালারে স্থানান্তর/রুপান্তর করতে হবে, অন্তত সাদা-কালো ভার্সনে স্থানান্তর/রুপান্তর করে দেখতে হবে মূল ম্যাসেজ/বিষয়টি ফুটে উঠছে কিনা। অনেক লোগো ডিজাইনার, লোগো ডিজাইন করার সময় এ বিষয়টা খেয়াল রাখে না বিধায়, লোগো ডিজাইন টি ডিভাইসে/ওয়েব ভার্সনে ভালো দেখা গেলেও প্রিন্ট দিতে গেলে অথবা বিভিন্ন ভেরিয়েশনে ব্যবহার করতে গেলে ফুটে উঠে না। আর এতেই ব্র্যান্ড এর মুল বিষয় উপস্থাপন হয় না ।
লোগো নিয়ে আরো কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন । ইনশা আল্লাহ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।
Follow : skhgraphics247
ধন্যবাদ আপনার মুল্যবান সময় ব্যয় করে এই লেখাটুকু পরার জন্যে।