08/05/2020
‘প্রতিটি সমস্যাই, তার সমান অথবা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ সুযোগ নিয়ে আসে।’ নেপোলিয়ন হিলের এই বিখ্যাত উক্তির মাধ্যমে আমাদের আজকের আলোচনা শুরু।
ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাস নানান খারাপ সংবাদের সাথে আমাদের ব্যক্তি জীবন ও ব্যবসা জগতের জন্য কিছু সুখবরও বয়ে নিয়ে এসেছে। শুনে হয়তো অবাক হচ্ছেন- কিন্তু এটাই সত্য।
করোনাভাইরাস সম্ভবত আরো কিছুদিন বা কয়েকমাস বা আরো বেশি সময় ধরে বিরাজ করবে। এটি আমাদের জীবনযাত্রা এবং কিছু ব্যবসায়ীক পদ্ধতির উপরে প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। তবে আশার বিষয় হলো, বাঙ্গালী জাতি বীরের জাতি। আমরা খুবই সহিষ্ণু, আমরা যেকোনো ধরনের পরিবর্তনের সাথে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে অভ্যস্ত।
সরকার করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সমস্ত শক্তি নিয়ে কাজ করছে। জনগণ আন্তর্ভিাবে সাহায্য করলে আশা করি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আমরা অবশ্যই জিতব।
এখন দেখা যাক, এই করোনাভাইরাস কীভাবে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জীবনের উপরে প্রভাব রাখতে যাচ্ছে-
সবাই দুর্যোগ তহবিল তৈরিতে মনোযোগী হবে : আমাদের দেশে সাধারণত নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপার্জন কম হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ দুর্যোগকালীন কোনো সঞ্চয় রাখতে পারে না। কিন্তু এই করনার বিপদগ্রস্ত সময় পার হওয়ার পরে, সবাই তাদের নিজেদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য টাকা সঞ্চয় করে রাখবে। সবাই ন্যূনতম তিন মাসের জন্য টাকা সঞ্চয় করে রাখার চেষ্টা করবে।
কথাটি শুধুমাত্র নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্যই প্রযোজ্য নয়, বরং ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য শ্রেণির লোকজন চেষ্টা করবে দুর্যোগকালীন সঞ্চয়ের জন্য। যেটা তাদের খারাপ সময়ে সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে। এই টাকা জমানোর প্রবণতা আমাদের ভিতরে এক ধরনের শক্ত মানসিকতা তৈরি করবে। যাতে আমরা সামনের বিপদগুলোকে আরো শক্তভাবে মোকাবেলা করতে পারি।
ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সংরক্ষণ : গোলাভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ এটাই ছিল আমাদের বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র। এখনকার সময়ে গ্রামে গোলা খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। বাংলাদেশের মানুষ অতীতকাল থেকেই খাদ্য সংরক্ষণ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু এখনকার শহুরে জীবনে অভ্যস্ত মানুষ খাদ্য সংরক্ষণ করতে চায় না। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাব আমাদেরকে খাদ্য সংরক্ষণে আবারও উদ্দীপ্ত করবে। দীর্ঘ সময় বাড়িতে সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার মানুষজন আবারো সংরক্ষণ করা শুরু করবে। ন্যূনতম দুই মাসের জন্য হলেও খাদ্য সংরক্ষণ করবে। সেটা হতে পারে চাল, চিড়া, মুড়ি, খই এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার। এই খাদ্য সংরক্ষণের যে প্রবণতা তৈরি হবে, এটা মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
মানুষ ঘরে তৈরি খাবারের দিকে বেশি আগ্রহী হবে : বর্তমানে মানুষ রেস্টুরেন্টে খেতে পছন্দ করে। শুধু তাই নয়, তারা সামাজিক অনুষ্ঠান- যেমন জন্মদিন এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান রেস্টুরেন্টে পালন করতে পছন্দ করে। করোনাভাইরাস আমাদেরকে এ সমস্ত কমার্শিয়াল খাদ্য এবং বাইরে জনসমাগম থেকে দূরে রাখবে। সেটা সীমিত সময়ের জন্য হলেও। শহরের ব্যস্ত জীবনে মানুষ ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি বেশি করে আকৃষ্ট হবে এবং সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো সীমিত আকারে করার চেষ্টা করবে।
শুকনো, এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি হবে : মৌসুমী ফলের জন্য বাংলাদেশে খুবই বিখ্যাত। বাংলাদেশের আম শুধু দেশেই না, দেশের বাইরেও অনেক দেশে বিখ্যাত।
আমাদের দেশে অনেক ধরনের ফল উৎপন্ন হয়। যেমন- আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু, তরমুজ প্রভৃতি। মৌসুম এলে এসব ফল সস্তায় পাওয়া যায়। এ কারণে অধিকাংশ সময় বাংলাদেশের কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পান না। এতে অনেকসময় প্রচুর ফল নষ্ট হয়, অপচয় হয়।
আমরা এই ফলগুলো অন্যান্য দেশের মতো শুকনো ও প্রক্রিয়াজাত করে রেখে দিতে পারি। তাহলে বছরব্যাপী এগুলো খাওয়া, বিক্রি বা বিপণন করা সম্ভব। ফল ছাড়াও আমাদের দেশে প্রচুর মাছ, মাংস উৎপন্ন হয়। আমরা উন্নত দেশের মতো প্রক্রিয়াজাত করে রাখতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের খাদ্যের অপচয় অনেক রোধ হবে।
কোল্ডস্টোরেজ এবং খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়বে : বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচুর কোল্ডস্টোরেজ দেখতে পাই। এটা মূলত আলু সংরক্ষণের জন্য। কিন্তু আমাদের এই সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সারাদেশে এটাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। যাতে আলুর সাথে অন্যান্য খাদ্য সংগ্রহ এবং তার সংরক্ষণ এর পরিপূর্ণ ব্যবস্থা তৈরি করতে পারি।
এর মাধ্যমে আমরাই যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারব শুধু তা নয়, আমরা বিদেশেও রপ্তানী করতে পারব। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আসবে এবং আমরা বৈদেশিক বাজার উন্নয়ন করতে পারব।
করোনাভাইরাস থেকে আমরা এই শিক্ষা নিতে পারি যে, খাদ্য সংরক্ষণ করা এবং সেটা থেকে উন্নততর পদ্ধতি তৈরি করা- যার মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। আশাকরি বেসরকারি খাত থেকেও প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ আসবে খাদ্য সংরক্ষণ এবং খাদ্যের নতুন বাজার খুঁজে বের করা জন্য।
কৃষক থেকে বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহের মাধ্যমের পরিবর্তনের সম্ভাবনা : আমরা বাংলাদেশের সাধারণত যে সরবরাহ চেইন দেখি। তা মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। করোনাভাইরাসের এই তাণ্ডবের পর আমরা এই সাপ্লাই চেইনেও পরিবর্তন দেখব। আশা করা যায়, এখানে একটি পাইকারি অনলাইন বাজার মাধ্যম তৈরি হবে। যদি অনলাইনে কোনো পাইকারি বিক্রয়ের মাধ্যম তৈরি হয়, তার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে আনা যাবে এবং কৃষকরা তাদের ন্যায্য মূল্য পাবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করি, কৃষি সাপ্লাইতে একটা বড় পরিবর্তন আসবে যেটা অনলাইন ভিত্তিক হবে।
ফ্রিজ বিক্রয়ের ঊর্ধ্বমুখী সূচক : শহরে এবং শহর ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে খাদ্য সংরক্ষণে প্রবণতা বাড়বে। সেজন্য দরকার হবে নিজের ব্যক্তিগত পর্যায়ে ফ্রিজের। এ কারণে ফ্রিজের বিক্রি অনেক বেশি হবে।
মানুষ যখন খাদ্য সংরক্ষণ করতে চাইবে, ফ্রিজ হলো সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। এ কারণে ফ্রিজের চাহিদা বাড়বে এবং খুব শিগগিরই আমরা এই চাহিদার একটা ঊর্ধ্বমুখী সূচক দেখতে পাব।
বাংলাদেশের মানুষ ব্যক্তিগত সুরক্ষার সরঞ্জামের ব্যাপারে আরও বেশি আগ্রহী হবে : মানুষজন তার ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে আরও বেশি আগ্রহী হবে। ভাইরাস থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য যেসমস্ত সরঞ্জাম পাওয়া যায় যেমন- সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পিপিই প্রভৃতি সরঞ্জামের প্রতি মানুষজন আরো বেশি আগ্রহী হবে।
করোনাভাইরাস আমাদেরকে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা শিখিয়ে দিতে সাহায্য করেছে। এই সমস্ত সরঞ্জাম তৈরির যে ইন্ডাস্ট্রিগুলো আছে তাদের বিকাশের একটা ভালো সুযোগ তৈরি হবে। মাস্ক তৈরি বা অন্যান্য যে সমস্ত সরঞ্জাম আমরা এখনো পুরোপুরি বিদেশিদের উপর নির্ভরশীল, সেটা বাংলাদেশের উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে, অফিস, ফ্যাক্টরিতে মানুষজন অনেক বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করবে। আমাদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম এবং প্রটেক্টিভ ইউনিট-এর ব্যাপারে মানুষজন আরো বেশি সচেতন হবে। সেজন্য এই সেক্টরের শিল্প বিকাশের সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হবে ।
সামাজিক দূরত্ব স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হবে : করোনাভাইরাস আমাদের যেটা সবচেয়ে বড় শিক্ষা দিয়েছে, সেটা হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষ এ ব্যাপারে অনেক বেশি আগ্রহী হবে। ভিড় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবে এবং একজন আরেকজনের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করবে। বাঙালি হিসেবে আমাদের যে সহজাত স্বভাব আছে যেমন- হ্যান্ডসেক করা এবং কোলাকুলি করা। এটা থেকেও মানুষজন আস্তে আস্তে সরে আসার চেষ্টা করবে।
ভাইরাসের প্রভাবে আমাদের ব্যবসা ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে কর্পোরেট অফিসগুলোতে। সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট চেঞ্জ হতে পারে, একজন থেকে আরেকজনের দূরত্ব তৈরি হবে, মেশিন থেকে মেশিনের দূরত্ব তৈরি হবে। এতে করে মানুষ দূরে দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারবে। সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রির জন্য যদিও এটা খুবই কষ্টসাধ্য, তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তা ভাবনার উন্নতি এবং সামাজিক দূরত্ব দেখা যাবে।
টেলিমেডিসিন এবং মোবাইল হসপিটাল সময়ের দাবি : টেলিমেডিসিন এবং মোবাইল হসপিটালের মাধ্যমে দূরত্ব বজায় রেখে মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব। বিশেষ করে সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে আমরা এর বিশেষ প্রয়োগ দেখতে পাই। টেলিমেডিসিন এবং মোবাইল হসপিটাল আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত জনপ্রিয় হয়নি। কিন্তু করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে এটি জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদি, এ ব্যাপারে প্রাইভেট সেক্টরগুলো এগিয়ে আসবে। যেটা এই সেক্টরের উন্নয়নের জন্য অনেক বেশি প্রভাব রাখবে।
ই-কমার্স ব্যবসা বাড়ার সম্ভাবনা : এস এ আর এস (সাস্) পরবর্তী সময়ে আমরা অন্য দেশগুলোতে ই-কমার্সের একটি উন্নয়ন দেখেছি। ছোঁয়াচে এই ধরনের ভাইরাসের জন্য মানুষের কেনাকাটা করার প্রবণতা এবং অভ্যাসে পরিবর্তন আসবে। মানুষজন বাজারে যাবে কম। আর এ কারণেই ই-কমার্স এর চাহিদা এবং প্রচলন বাংলাদেশের শুরু হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। এটি আমাদের খুচরা বিক্রির উপর একটি ভাল প্রভাব বিস্তার করবে।
হোম অফিসের সম্ভাবনা তৈরি হবে : আমাদের দেশে কর্পোরেট অফিসগুলোতে এমন কিছু চাকরি আছে, যেগুলোতে প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার দরকার হয় না । এই চাকরিগুলোর ক্ষেত্রে আমরা একটা ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পাবো। হতে পারে তারা বাসা থেকেই অফিসের কাজ করবে।
আমাদের দেশে যে অফিস টুলগুলো ভালোভাবে পরিচিত, সেগুলোর ব্যাপক প্রচলন শুরু হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হবে। এমন হতে পারে- কেউ একজন চোখে সানগ্লাস দেওয়ার সাথে সাথে সে একটা মিটিং রুমে ঢুকে পড়লো অথবা একটা বোর্ড রুমে মিটিংয়ে জয়েন করলো। এটা তার জন্য খুবই আনন্দদায়ক এবং সময়কে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করার একটা সুযোগ তৈরি হবে। হোম অফিসের সুযোগ যদি তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে একটা সামাজিক দূরত্ব তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটা একেবারেই সহজ নয়, তারপরেও আমরা দেখব এসব ক্ষেত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হবে।
অর্থ লেনদেনের ডিজিটাল যুগ : বাংলাদেশে এখন বিকাশ, নগদ, রকেট বা অন্যান্য প্লাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হচ্ছে। কিন্তু কেনাকাটার ক্ষেত্রে আমরা নগদ অর্থের ব্যবহারই বেশি দেখি। কেনাকাটা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ডিজিটাল অর্থের লেনদেন এখনো সেভাবে বাংলাদেশ জনপ্রিয়তা পায়নি।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে মানুষজন ডিজিটাল অর্থের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। মোবাইল ওয়ালেট জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করবে। অর্থের ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে জনগণ নিজেকে অনেক বেশি নিরাপদ মনে করবে এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।
বাংলাদেশে যদিও এটা প্রচলন হতে সময় লাগবে। কারণ, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এই ডিজিটাল টাকার সাথে পরিচিত নয়। এটার পরিচয় করানো সময়ের দাবি হলেও সেটা বেশিরভাগ মানুষের জন্য কঠিন হতে পারে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, মানুষজন ডিজিটাল ট্রানজেকশনে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।
অনলাইনে লেখাপড়া : লেখাপড়ার একটা অংশ যদি অনলাইনে ট্রান্সফার হয়, তাহলে প্রত্যেকেই যে কোনো যায়গা তেকে তার এডুকেশনের সুবিধা নিতে পারবে। ইউটিউবের মত একটা প্লাটফর্ম হতে পারে যেখানে সমস্ত ক্লাসের ভিডিও আপলোড করা থাকবে। যে কোনো ক্লাসে যে কোনো গ্রেডের স্টুডেন্ট লগইন করে দেখতে পারবেন।
অনলাইন ক্লাস এবং অনলাইন অ্যাসিসটেন্ট এর মাধ্যমে এবং অনলাইন ক্লাসের ম্যাটারিয়াল জমা রাখার মাধ্যমে আমরা বহুসংখ্যক ছাত্রদের সাহায্য করতে পারি। এই মাধ্যমে আমাদের খুব বেশি মানুষের সংস্পর্শে আসার দরকার নেই। সামাজিক দূরত্ব মেনেই আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারব।
আমরা যদি অনলাইন এডুকেশনাল সুবিধা পুরোপুরি নাও নিতে পারি, তবে আমরা একটা সুবিধা পাওয়ার জন্য এখন থেকেই বড় প্ল্যাটফর্ম ক্লাউড সিস্টেম এবং অন্যান্য ধরনের সুযোগ-সুবিধা ডেভলপ করতে পারি। যার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের শিক্ষার্থীরা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
করোনাভাইরাস আমাদের জীবন এবং আমাদের অভ্যাসগুলো পরিবর্তনের একটা মাধ্যম হয়ে এসেছে। শতভাগ গ্যারান্টি দেওয়া যাবে না যে এই পরিবর্তনগুলো হবেই। তবে সম্ভবনা আছে, এর অধিকাংশ পরিবর্তনই আমরা সামনের দিনগুলোতে দেখতে পাব।
করোনাভাইরাস সহজে আমাদের ছেড়ে যাবে না। আমাদেরকে করোনাভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হবে এবং আমাদের পরিবর্তনগুলো দ্রুত হতে হবে। যার মাধ্যমে আমরা এই পরিবর্তনকে সহজেই আয়ত্ত করতে পারি।
আমি আশা করি খুব শিগগিরই করোনার ওষুধ এবং ভ্যাকসিন চলে আসবে। ভবিষ্যতে আমরা হয়তো পাড়ার মোড়ের দোকান থেকে করোনাভাইরাসের ওষুধ কিনতে পারব।
বাঙ্গালী বীরের জাতি, আমরা অতীতেও যেকোনো সমস্যা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি, এই সমস্যা ও আমরা অতিক্রম করব। এটা আমাদের নিজেদের উপর নির্ভর করে- আমরা কত দ্রুত এই পরিবর্তনগুলোর সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারব এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
লেখক : আনোয়ার সাদাৎ কবির, সেলস অ্যাডভাইজার, ভিভো মোবাইল ফোন কোম্পানি।