05/03/2026
ব্যাংকে গিয়ে স্লিপে ২ টাকা লিখে, কাউন্টারে জমা দিয়েছি। স্লিপ হাতে কাউন্টারে বসে থাকা আপু হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। উনি জানতে চাইলেন, 'আপনি ব্যাংক থেকে ২ টাকা উত্তোলন করতে চাইছেন?’
আমি বললাম, 'জ্বি।'
'দুই টাকা?'
'জ্বি।'
'সিরিয়াসলি?'
'জ্বি।'
উনি স্লিপ রেখে কাউন্টারের বাইরে বের হয়ে এলেন। আমার হাত ধরে পাশের কেবিনে নিয়ে বসালেন।
২০ মিনিট পর দুজন সাদা শার্ট পড়া লোক এসে আমাকে ধরে নিচে নিয়ে যেতে লাগলো। বের হওয়ার সময় চোখাচোখি হলো সেই কাউন্টারের আপুর সাথে। উনার চোখ চিকচিক করছে। উনি এগিয়ে এসে আমার কাধে হাত রেখে বললেন, 'সাবধানে থাকবেন।'
আমি নিচে চলে এলাম। নিচে নামতেই একটা এম্বুলেন্স প্যা পো করে বাজতে শুরু করলো। সাদা শার্ট পড়া আরেকজন লোক এম্বুলেন্স থেকে বের হয়ে আসলেন, আর আমাকে বললেন, 'আপনি ব্যাংক থেকে ২ টাকা উত্তোলন করতে আসছেন?'
আমি বললাম, 'জ্বি। একাউন্টে আছেই ৬১৩ টাকা। আমি একটা লেবেনচুষ কিনবো, আমার লাগবে ২ টাকা।'
লোকটা পিছনের পকেট থেকে একটা ওয়াকিটকি বের করে বলতে লাগলেন, 'পাগলের অবস্থা ভালো না। পাবনা পর্যন্ত আনসার বাহিনীর এনভয় লাগবে, ব্যবস্থা করেন, ওভার...'
আমি কৌতুহল আটকাতে না পেরে বললাম, 'আমরা পাবনা যাচ্ছি?'
'জ্বি।'
'ইয়ে!'
পাবনার পাগলাগারদে আমাকে রাষ্ট্রপতি লেভেলের পাহাড়া দিয়ে নিয়ে আসা হলো। এখানে অদ্ভুত সব মানুষ। একজন দেখলাম দেয়ালের সাথে কথা বলে। আমি একদিন জানতে চাইলাম, দেয়াল কি আপনার কথার উত্তর দেয়? উনি বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, 'দেয়ালের কি মুখ আছে যে উত্তর দিবে? দেয়ালের আছে কান। ওর কাজ শুধু শুনবে।' আমি 'ও' বলে চলে আসি। উনার কথায় যুক্তি আছে। আরেকজন আছে সে বালতি উল্টো করে তার উপর দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেয়। উনার মতে, দেশে বিপ্লব আসা দরকার। উনাকে ২৪ এর জুলাই-আগস্টের আপডেট দেয়ার পরও উনি সুর বদলালেন না। রোজ বিপ্লবের পক্ষে তার ভাষণ জারি থাকলো।
কয়েকমাস পর এক সাদা শার্ট পড়া মেয়ে এসে আমাকে গেটের বাইরে নিয়ে গেলো। আমি জানতে চাইলাম, কি হচ্ছে আমার সাথে? তিনি জানালেন, আমাকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আমি পাগল না।
কিন্তু পাগলাগারদ থেকে আমার মধ্যেও বিশ্বাস ঢুকে গেছে যে আমি পাগল। এখন আমি যে পাগল না, সেই কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি সেই মেয়েকে বললাম, 'আমি যে পাগল না, তার প্রমাণ কি?'
উনি বললেন, 'এক জুলাই নেতার স্ত্রী যদি ব্যাংক থেকে ২ টাকা উত্তোলন করতে পারে, একই কাজ করতে চাওয়া একজন ব্যক্তিকে পাগল বলা উচিত হবে না। আপনাকে পাগলাগারদ রাখলে উনাকেও পাগলাগারদ আনতে হবে৷ নেতার জন্য সেইটা সুখকর বিষয় নয়। নেতা হলেও ছেলেটা কচি, বউ ছাড়া থাকতে পারবে না।'
কথায় যুক্তি আছে। আমাকে ঢাকা ফেরত আনা হলো।
আমি ঢাকায় এসেই সেই ব্যাংকে গিয়ে পৌঁছালাম। আমার হাতে স্লিপ। এই স্লিপ দিয়ে ৩ টাকা উঠাবো, এক পাতা ইন্সট্যান্ট কফি কিনে খাবো। পাগলাগারদে কফি সার্ভ করে না, এইটা এক যন্ত্রণা।
স্লিপটা কাউন্টারের সেই মেয়ের সামনে রাখলাম। উনি স্লিপ পড়েই আমার দিকে তাকালেন। আমাকে দেখেই উনার চোখ ছলছল করে উঠলো। উনি কান্নামাখা কন্ঠে আমায় বললেন, 'কোন চুতিয়া তোরে ছাড়লো?'