05/01/2018
আপনি অনলাইন ই কমার্স বিজনেস করতে চান? তাহলে জেনে নিন……
অনলাইন বিজনেস বা অনলাইন এন্টারপ্রেনারশিপ এখন আর নতুন কোন বিষয় নয়। চারিদিকে হু হু করে প্রতিদিন গড়ে উঠছে অনেক অনলাইন স্টোর। প্রতিদিন ই শুনা যাচ্ছে নিত্য নতুন ব্র্যান্ড এর আবির্ভাব! যেহেতু, অনলাইন হচ্ছে সবার জন্য উন্মুক্ত স্থান তাই মুড়ি মুড়কির মত বেড়ে চলছে অনলাইন ই- কমার্স বিজনেস। এই ইন্ডাস্ট্রি টা বাংলাদেশ এ এখনও নতুন তাই সঠিক নীতিমালা এখনও তৈরি হয়নি। আপনি উদ্যোগতা হতে চান খুব ভাল কথা, কিন্তু দীর্ঘদিন এই সেক্টরে টিকে থাকতে হলে আপনাকে জেনে নিতে হবে ই-কমার্স বিজনেস এর খুঁটিনাটি। অনেকেই আছেন না জেনে না বুঝে হুজুগে একটা অনলাইন স্টোর বানিয়েছেন, কিন্তু উপযুক্ত প্ল্যানিং এর অভাবে স্টোর টা চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন এবং অবশেষে টাকা পয়সা গচ্ছা দিয়ে ব্যবসা টাই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
*** হতে হলে কি কি বিষয় জানা লাগেঃ
োম্পানি নাম, লাইসেন্স এবং ডোমেইন+Hosting :
আপনার ব্র্যান্ডের নাম টা স্বাভাবিক ভাবেই unique হতে হবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ ের জন্য। নাম নিয়ে ইদানিং অনেক ঝামেলা। ভাল নাম পাওয়া যায় তো ডোমেইন পাওয়া যায়না, আবার ডোমেইন পাওয়া যায় তো নাম পছন্দ হয় না। তাই বিজনেস শুরুর আগেই ঠিক করে নিন কোন নামে বিজনেস করতে চাইছেন। তারপর ডোমেইন কেনার সাথে সাথে Trade License টা করিয়ে ফেলুন। নইলে আপনার ব্র্যান্ড নাম হারানর সম্ভাবনা আছে।
Hosting এর ক্ষেত্রে বললে বলতে হয়, ই- কমার্স সাইট এর জন্য নরমাল Hosting দিয়ে কোন ভাবেই কাজ চলবে না। কেননা, ই-কমার্স সাইট অন্যান্য dynamic সাইট এর চেয়ে ও সাধারনত ভারি হয়, ইউজার বেশি হয়। তাই নরমাল ১ জিবি Hosting কিন্তু আপনার সাইট এর জন্য যথেস্ট নয়। WordPress বা Open cart কিংবা PrestaShop দিয়ে সাইট বানালে অবশ্যয় নুনতম ১০ জিবি এবং Magento দিয়ে বানালে Dedicated Hosting বা Cloud Hosting এর বাজেট রাখুন। নয়ত পরে পস্তাতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার সাইট আপনার Goodwill. সাইট ১ ঘণ্টার জন্য ডাউন থাকলে কিন্তু আপনার ই বদনাম।
:
বিজনেস শুরুর আগে আপনার Fixed and Variable Cost সম্পর্কে ভাল ভাবে ধারনা নিন। যেমনঃ আপনার অনলাইন স্টোর ডেভেলপ করালেন, ডোমেইন কিনলেন এইসব একবার ই হয়, তাই এগুলো Fixed কষ্ট। Fixed কষ্ট টা আবার অনেকে ক্যাপিটাল বা মূলধন হিসেবে ধরে মনে করে আমার তো আর মেজর কোন COST নাই। এটা ভুল। Variable Cost টা হচ্ছে সব চেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ। কারন বিজনেস শুরুর আগে সব ধরনের Variable Cost পুরোপুরি নির্ণয় করা যায়না। তাই অনেক Variable Cost HIDDEN থেকে যায়। যেমনঃ আপনি যখন প্রোডাক্ট customer কে দেলিভারি দেবেন তখন আপনি আগা থেকে বলতে পারবেন না দেলিভারি বাবদ আপনাকে কত টাকা বরাদ্ধ রাখতে হচ্ছে। কারন কুরিয়ার এ প্রোডাক্ট এর আকার, ওজন এগুলোর উপর নির্ভর করে দেলিভারি খরচ নির্ধারণ করা হয়। এটা তো কেবল একটা উদাহরন, এই রকম আরও কত অজানা খরচ যে আছে সেটা পুরোপুরি বিজনেস শুরু না করলে নির্ধারণ করা কষ্টকর। এই ধরনের খরচ গুলোর জন্য ও আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সাইট ডেভেলপমেন্টঃ
এবার আসেন আপনার অনলাইন স্টোর ডেভেলপমেন্ট নিয়ে। প্রথম কথা ৫-১০ এমনকি ২০ হাজার টাকায় ও একটা e-commerce ওয়েবসাইট হুয়না। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ, বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন এর জন্য একটা সুন্দর এবং ব্যাবহার উপযোগী ওয়েবসাইট প্রয়োজন যা আপনি ১০-২০ হাজার টাকায় কখন পাবেন না। কেও যদি অফার করে এই টাকার মধ্যেই আপনাকে সে সাইট করে দেবে, তাহলে অবশই ধরে রাখুন সে ফ্রী বা চুরি করা template দিয়ে আপনার স্টোর ডেভেলপ করে দেবে। আর চুরি করা template এ অনেক BUG থাকে যা প্রথমে বোঝা যায় না। ১-২ মাস পর যখন আপনার স্টোর এ আস্তে আস্তে ভিসিটর আস্তে শুরু করবে, হটাত একদিন দেখবেন আপনার সাইট DOWN নাইলে HACKED. এই রকম ঘটনা অহরহ হচ্ছে প্রতিদিন। আর ১০-২০ হাজার টাকায় যে আপনাকে ওয়েবসাইট টা ডেভেলপ করে দেবে সে নিশ্চয় আপনার সাইট এর সিকিউরিটি দেবেনা কেননা তার কাজ ই হচ্ছে কোন রকমে স্টোর টা ডেভেলপ করে আপনাকে গছিয়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি payment নিয়ে বিদায় হওা। তাই সাবধান। আপনি প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর ওয়েবসাইট এর ডিজাইন বা মুল কাঠামো পরিবর্তন করতে পারবেন না। এতে আপনার ব্র্যান্ড এর উপর Negative impression পরবে এবং ক্রেতারা বিরক্ত হবে। সাইট ডেভেলপ করবেন একবার ৩-৪ বছরের জন্য। টাকা একটু বেশি খরচ হলেও আখেরে কিন্তু লাভ হবে আপনার এবং আপনার ব্র্যান্ড এর। তাই ভেবে চিন্তে decision নিন। ডেভেলপার hire করার সময় verify করে নিন যে সে এ কাজে দক্ষ এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সে আপনাকে ওয়েবসাইট টা বানিয়ে ডেলিভারি দিতে সক্ষম।
খরচের ব্যাপারে বলতে গেলে নির্দিষ্ট কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই। আর ওয়েবসাইট এর ডেভেলপমেন্ট খরচ আগে থেকে বলা মুশকিল। কারন সব e-commerce সাইট ই একরকম সফটওয়্যার দিয়ে বানানো হয়না। যেমন MAGENTO দিয়ে ডেভেলপ করলে অবশ্যই বাজেট ১.৫ লাখ+ রাখবেন। কারন Magento অনেক giant একটা সফটওয়্যার এবং অনেক কঠিন। তাছাড়া Magento এর জন্য HOSTING নিতে হয় অনেক দামী, না হয় performance আশানুরূপ পাবেন না। WordPress বা Open Cart দিয়ে ডেভেলপ করালে budget 60-70 হাজার+ রাখবেন। হয়ত আপনি মুছকি হাসছেন এই লেখা পরতে পরতে...। ভাবছেন আমার পরিচিত এক ডেভেলপার এ তো বলল ৩০ হাজার টাকায় akhoni.com বা buy24.com.bd র মত সাইট করে দেবে বলছে আর এই ব্যাটা কি কয় এসব। উত্তর হল, যে ডেভেলপার সত্যি সত্যি skilled তার ২০-৩০ হাজার টাকায় আপনাকে সাইট করে দেওয়ার টাইম নাই। দেশের এখন অলিতে গলিতে ডেভেলপার কাজের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। কিন্তু মনে রাখবেন সত্যিই যদি সে সেই মানের ডেভেলপার হয়ে থাকে তাহলে সে কাজের জন্য কখনও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবে না বা আপনাকে খুব কম টাকায় ওয়েবসাইট করে দেবার প্রতিশ্রুতি দেবেনা । কারন skilled ডেভেলপার দের দেশে এবং দেশের বাইরে প্রছুর চাহিদা। আর ভাল কাজের ও অভাব নাই এই সেক্টর এ। তাই আপনাকে সে সস্তায় সাইট দেবে কোন দুঃখে?
:
Branding সম্পর্কে আমাদের কম বেশি সবার ই ভুল ধারনা আছে। অনেকেই মনে করেন Branding টা হল নামি দামি মডেল ভাড়া করে, ফটোসুট করিয়ে বড় বিলবোর্ড দিলেই Branding হয়ে যায়। খুবি ভুল একটা ধারনা। বিলবোর্ড Branding আর একটা ছোট অংশ মাত্র।Branding মুলত যা বোঝায় টা হল আপনার Company র লোগো থেকে শুরু করে সমস্থ communication and marketing materials Branding এর পার্ট। হোক সেটা সুধু আপনার বিজনেস কার্ড বা লিফলেট সব ই Branding এর অন্তর্ভুক্ত। আপনি যেহেতু মার্কেট এ নতুন সবাইকে আপনার ব্র্যান্ড টা চেনানো অনেক জরুরী। আর এই জন্যই Branding. আমার ৬-৭ বছরের ক্যারিয়ার এ আমি অনেক Entrepreneur কে দেখেছি যাদের জাস্ট কোম্পানি লোগো ডিজাইন এর জন্য ৫-১০ হাজার টাকাও বরাদ্ধ নেই। মানে একটা লোগো যে দরকার, একটা ব্র্যান্ড Identity দরকার, সুন্দর অর্থবহুল একটা লোগো যে একটা বিজনেস কে কতটা সাপোর্ট দেয় সে সম্পর্কে কোন ধারনাই নেই। একজন Entrepreneur হিসেবে আপনার জানা দরকার, বিজনেস শুরুর প্রথমেই আপনার ভাল একটা লোগো দরকার, বিজনেস কার্ড সহ অন্যান্য stationary, Brand thematic presentation template ইত্যাদি দরকার। এসব ছাড়া মাঠে নামবেন আর ধরা খাবেন অবধারিত ভাবেই। কারন হাজারো কোম্পানির ভিড়ে কে আপনাকে আলাদা করে চিনে নেবে? তাই আপনার প্রাথমিক বাজেটে এই সমস্ত বিজনেস এবং মার্কেটিং materials ডিজাইন এর জন্য নুনতম amount হলেও বরাদ্ধ রাখুন।
:
সুন্দর ওয়েবসাইট, লোগো ইত্যাদি তো হল, কিন্তু আপনার সাইট এ ট্রাফিক বা ভিসিটর আসবে কিভাবে? হাজারও সাইট এর ভিড়ে কে কষ্ট করে আপনার সাইট এর কথা মনে রাখবে বা ভিসিট করবে নিত্য নতুন প্রোডাক্ট আপডেট এর জন্য? এ সমস্যা সমাধানের জন্য উপায় হল ডিজিটাল মার্কেটিং। আর তড়িৎ কোন সমাধান নেই যে, আপনি চাইলেই হটাত বলা নেই কওয়া নেই লাখ লাখ ভিসিটর আসবে আপনার সাইট এ। এ জন্য দরকার সঠিক এবং দীর্ঘমেয়াদি প্লান্নিং।আপ্নি হয়ত বলতে পারেন আমার ফেসবুক পেজ আছে, ওখানে ১০০০ ফ্যান আছে আমার ব্র্যান্ড এর। কিন্তু সমস্যা হল এই ১০০০ ফ্যান ই কিন্তু আপনার customer হিসেবে যথেষ্ট নয়। এখনও আমাদের দেশে এসইও তেমন একটা দরকার হয়না। কেননা বেসির ভাগ ভিসিটর আসে ফেসবুক থেকে। কিন্তু কিভাবে আসবে ফেসবুক থেকে ভিসিটর? উত্তর হচ্ছে ফেসবুক অ্যাড এবং কেম্পেইন।তাই ফেসবুক অ্যাড এর জন্য বাজেট রাখুন অন্তত ৩ মাসের জন্য হলেও। ফেসবুক advertising পেজ এ গেলে সব তথ্য ওখানে দেওা আছে। কিভাবে অ্যাড দেওা জাই, কিভাবে বেশি লাইক পাওয়া যায় কিংবা কিভাবে ওয়েবসাইট এ ভিসিটর আনা যায়। এসবের জন্য প্রছুর সময় দিতে হয়। তাই আপনার যদি সময়ের স্বল্পতা থাকে তাহলে মার্কেটিং এক্সপার্ট hire করুন। প্রাথমিক ভাবে মাশে ১০-১৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ রাখলেই চলে। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি বাজেট কমাতে বা বাড়াতে পারবেন। এখনও আমাদের দেশে Digital Marketing ই বলেন আর Social Media Marketing বলেন, টা ফেসবুক এই সীমাবদ্ধ। খুব কম সংখক অনলাইন কোম্পানির Twitter, LinkedIn বা Google+ এর প্রোফাইল বা ফ্যান পেজ আছে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ইমেইল মার্কেটিং। ইমেইল মার্কেটিং ২ ভাবে করা যায়। প্রথম টা হল, BDJOBS সহ আরও কিছু কোম্পানি active users ইমেইল ডাটাবেজ বিক্রি করে থাকে। আপনি এককালীন ৫-১০ লাখ ইমেইল আইডি কিনে নিতে পারেন এবং সেই সব আইডি তে NEWS LETTER পাঠাতে পারেন আপনার সাইট এর পণ্য কে বা আপনার ব্র্যান্ড কে হাইলাইট করে। অন্য উপায় টা হচ্ছে, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এর সময়, আপনার ডেভেলপার কে বলবেন অবশ্যই যাতে NEWSLETTER SUBSCRIPTION অপশন রাখে, যাতে করে ভিসিটররা নিত্য নতুন প্রোডাক্ট আপডেট পায়। ২য় পদ্ধতির সুবিধা হল, আস্তে আস্তে এটা আপনাকে একটা বিজনেস ডাটাবেজ তৈরি করতে সাহায্য করবে। প্রতি সপ্তাহে একবার বা ২ সপ্তাহ মিলে অন্তত একবার আপনার ইউজার দের কাছে e-newsletter পাঠান প্রোডাক্ট এর আপডেট সহ। আপনি হয়ত ভাবছেন, ইউজার রা ইমেইল পড়েন না, খালি খালি এত কষ্ট করে কি লাভ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ইউজার রা মেইল পরুক আর নাই পরুক, আপনার কোম্পানির বা ব্র্যান্ডের নামটাতো কমপক্ষে তাদের চোখের সামনে যাচ্ছে!!