12/05/2014
আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে আসলেই কি অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের দরকার আছে?
Abir hasan
()
আজকাল প্রযুক্তি বিশ্বে প্রায়ই ‘অ্যান্ড্রয়েড ম্যালওয়্যার’ এর কথা শোনা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, এসব ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হলে একজন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী খব সহজেই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন। প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, এই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে কি আপনার শখের এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে ‘অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপলিকেশন’ ব্যবহার করতেই হবে? চলুন, জেনে নেয়া যাক।
অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ্লিকেশন নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এবং বর্তমান বাজারে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন রকম ম্যালওয়্যারের উপর বিস্তর গবেষণা করেছেন এবং গবেষণায় তারা দেখেছেন যে কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলেই মোটামুটি ভাবে একজন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী নিরাপদ থাকতে পারেন।
অ্যান্ড্রয়েড নিজেই ম্যালওয়্যার পরীক্ষা করতে সক্ষম
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে রয়েছে কিছু বিল্ট-ইন ফিচার যার মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড নিজেই ম্যালওয়্যার স্ক্যান (পরীক্ষা) এবং ডিটেক্ট (চিহ্নিত) করতে সক্ষম। আপনার স্মার্টফোন বা ট্যাবের জন্য আসলে কোন অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের প্রয়োজন আছে কি না জানার আগে চলুন অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে থেকে থাকা সেই সব বিল্ট-ইন ফিচার গুলো সম্পর্কে কিছুটা হলেও জেনে নেয়া যাক। এর মাধ্যমে আপনি অনেক কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাবেন বলেই আশা করছি।
● গুগল প্লে স্টোর অ্যাপলিকেশন স্ক্যান করতে পারেঃ গুগল ‘বাউন্সার’ নামক একটি সেবা ব্যবহার করে থাকে যা গুগল প্লে স্টোরে থাকা অ্যাপলিকেশন গুলোকে অটোমেটিক্যালি পরীক্ষা করে দেখে যে এতে কোন প্রকার ম্যালওয়্যার রয়েছে কি না। যখনই গুগল প্লে স্টোরে নতুন কোন অ্যাপলিকেশন আপলোড করা হয় তখনই ‘বাউন্সার’ সেই অ্যাপলিকেশনটি পরীক্ষা করে এবং অনান্য সব পরিচিত ম্যালওয়্যার, ট্রোজান এবং স্পাই-ওয়্যারের সাথে কমপেয়ার (মিলিয়ে দেখা) করে দেখে। গুগল প্লে স্টোরে থাকা সবগুলো অ্যাপলিকেশনকে প্রথমে একটি সিমুলেটেড এনভায়রনমেন্টে (পরীক্ষামূলক বা কৃত্রিম পরিবেশ) রান করে নিশ্চিত করা হয় যেন তা বাস্তবে কোন ডিভাইসে ব্যবহার করার সময় ডিভাইসকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে ফেলতে পারে। পরীক্ষা করার সময় সেই নির্দিষ্ট অ্যাপলিকেশনের আচরণ পূর্বে পাওয়া ম্যালওয়্যার গুলোর সাথে মিলিয়ে নিয়ে এরপরেই সেটিকে রেড ফ্ল্যাগ অথবা অ্যাপ্রুভ করা হয়। এছাড়াও, গুগল প্লে স্টোরে নতুন ডেভেলপারদের অ্যাকাউন্ট খুঁতিয়ে দেখা হয় যাতে পুরাতন কোন ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যাপ নির্মানকারী নতুন করে কোন অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।
● গুগল প্লে রিমোটলি অ্যাপিকেশন আন-ইন্সটল করতে পারেঃ আপনি যদি গুগল প্লে স্টোর থেকে কোন অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করে থাকেন যার মধ্যে পরবর্তী সময়ে গুগল কোন প্রকার ম্যালওয়্যার খুঁজে পেয়েছে তবে গুগল প্লে স্টোর রিমোটলি আপনার ডিভাইস থেকে সেই নির্দিষ্ট অ্যাপলিকশনটি মুছে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।এক্ষেত্রে আপনি যদি কোন অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরের বাইরে থেকে ইন্সটল করে থাকেন তবে গুগল প্লে স্টোর সেই অ্যাপলিকেশনটি মুছে দিতে পারবে না।
● অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ভার্শন ৪.২ এবং এর উপরের ভার্শনগুলো সাইডলোডেড অ্যাপলিকেশন স্ক্যান করতে পারেঃ আপনি যদি গুগল প্লে স্টোর ব্যাতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে অন্য কোন সাইট বা মাধ্যম থেকে কোন অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করে থাকেন আপনার ডিভাইসে তাহলে সেই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সাইডলোডেড’ পদ্ধতি। আপনি আপনার ডিভাইসে প্রথম বারের মত কোন সাইডলোডেড অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করতে চাইলে অ্যান্ড্রয়েড ৪.২ আপনাকে সতর্ক করবে এবং এও জানতে চাইবে যে আপনি এই অ্যাপলিকেশনটি নিরাপদ তা জানতে চান কি না। এই সুবিধার মাধ্যমে আপনি আপনার ডিভাইসে প্রতিটি অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করার আগে ম্যালওয়্যার মুক্ত কি না তা পরীক্ষা করে দেখে নিতে পারেন।
১
● অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ভার্শন ৪.২ এবং এর উপরের ভার্শনগুলো প্রিমিয়াম রেটের এসএমএস মেসেজ ব্লক করতে সক্ষমঃ অনেক ক্ষতিকর অ্যাপলিকেশন স্মার্টফোন থেকে প্রিমিয়াম মেসেজ পাঠিয়ে থাকে। যারা বিভিন্ন রকম ম্যালওয়্যার তৈরী করেন এরকম পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন যেন প্রিমিয়াম মেসেজ পাঠানোর মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্টের টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং তারা লাভবান হয়। কিন্তু, আপনার স্মার্টফোনটি যদি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ৪.২ বা এর উপরের কোন ভার্শন হয়ে থাকে তবে ক্ষতিকর অ্যাপলিকেশন যদি ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার ডিভাইস থেকে কোন প্রিমিয়াম মেসেজ পাঠাতে চায় তবে তা ব্লক করবে এবং আপনাকে অবগত করবে।
● অ্যান্ড্রয়েড এর অ্যাপলিকেশনগুলোর উপর নজর রাখেঃ অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ‘পারমিশন’ এবং ‘স্যান্ডবক্স’ সিস্টেম সুবিধা অনেকাংশেই ডিভাইসকে কোন ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার, ট্রোজেন বা স্পাই-ওয়্যার থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এর অ্যাপলিকেশনগুলোর উপর নজর রাখে যার ফলে কোন ক্ষতিকর অ্যাপলিকেশন ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে আপনার প্রতিটি কী-স্ট্রোকের উপর লক্ষ্য রাখতে পারবে না বা আপনার কী-স্ট্রোক গুলোকে সংরক্ষণ করতে পারবে না। এর ফলে, অনলাইনে আপনার সকল কনফিডেনশিয়াল তথ্য যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, বিভিন্ন পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে পৌছবে না। এই রেস্ট্রিকশনের মাধ্যমে প্রতিটি অ্যাপলিকেশনকেই ইন্সটলেশনের সময় পরিষ্কার ভাবে এর সাথে সম্পর্কিত ‘পারমিশন’ গুলোকে প্রদর্শন করতে হবে।
২
ম্যালওয়্যার কোথা থেকে আসে?
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ৪.২ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বিশিষ্ট স্মার্টফোনে রাখা হয়নি, রাখা হয়েছে গুগল প্লে স্টোরে। এর অর্থ হচ্ছে, আপনি যদি গুগল প্লে স্টোরের বাইরে থেকে কোন অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করে থাকেন তবে আপনার ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থেকে যাবে।
সম্প্রতি সময়ে ‘ম্যাকাফি’ প্রতিষ্ঠানটি একটি গবেষণা করে দেখেছে যে তারা যতগুলো ম্যালওয়্যার এর স্যাম্পল সংগ্রহ করেছিল তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ম্যালওয়্যার এসেছে ‘ফেইক ইন্সটলার’ নামক একটি মাত্র ম্যালওয়্যারের প্রজাতি থেকে। এই ফেইক ইন্সটলার বৈধ অ্যাপলিকেশনের মত আচরণ করে থাকলেও এটি মূলত একটি ক্ষতিকর অ্যাপলিকেশন। এটি থাকতে পারে যে কোন ওয়েব পেইজে যেটি কোন একটি পণ্যের অফিশিয়াল বা আন-অফিশিয়াল ওয়েব সাইট হতে পারে অথবা এমন যে কোন নকল অ্যান্ড্রয়েড মার্কেটে থাকতে পারে যা অ্যাপলিকেশনের অভ্যন্তরে থেকে থাকা ম্যালওয়্যার সনাক্তকরণে সক্ষম নয়। এরকম অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করার ফলে অ্যাপলিকেশনগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থেকে ডিভাইস থেকে প্রিমিয়াম মেসেজ পাঠানোর মাধ্যমে আপনাকে সহজেই ক্ষতিগ্রস্থ করে ফেলতে পারে।
অ্যান্ড্রয়েড ৪.২ বা এর উপরের ভার্শনগুলোতে যখন আপনি এরকম অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করতে চেষ্টা করবেন তখন আপনাকে অ্যালার্ট করবে। আর যদি তা করতে কোন কারনে ব্যার্থ হয়ে থাকে তবে অ্যাপলিকেশনটি যখন আপনার ডিভাইস থেকে প্রিমিয়াম মাসেজ পাঠানোর চেষ্টা করবে তখন আপনাকে অ্যালার্ট করবে। আর, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের পুরাতন ভার্শন গুলোতে আপনি আপনার ডিভাইসটি নিরাপদ রাখতে চাইলে বৈধ অ্যাপ স্টোর/মার্কেট থেকে অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করুন।
আপনি মনে করতে পারেন যে আপনি যদি শুধু জনপ্রিয় অ্যাপলিকেশন গুলো যে কোন মাধ্যম থেকে ইন্সটল করলেও আপনি ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হবেন না তবে আপনি কিছুটা হলেও ভুল করবেন। কেননা, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জনপ্রিয় সফটওয়্যার গুলো আমরা তখনই প্লে স্টোরের বাইরে থেকে ইন্সটল করি যখন কিনা এটি একটি পেইড অ্যাপলিকেশন হয়। আর পেইড অ্যাপলিকেশন গুলো বাইরে থেকে ইন্সটল করলে সেটি হয়ে যায় সেই জনপ্রিয় অ্যাপলিকেশনটির একটি পাইরেটেড কপি। আর ঠিক উইন্ডোজের মতই, পাইরেটেড সফটওয়্যারে যেমন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে ঠিক সেভাবেই অ্যান্ড্রয়েডেও সেই সম্ভাবনা থেকে যায়। কেননা, পেইড সফটওয়্যার ফ্রি ভাবে ব্যবহার করার জন্য নানা রকম ক্র্যাক বা প্যাচ ব্যবহার করতে হয় যাতে খুব সহজেই ম্যালওয়্যার মিশে থাকতে পারে।
F-Secure এর করা আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় সর্বোমোট ২৮,৩৯৮ রকম ম্যালওয়্যারের স্যাম্পলের মধ্যে থেকে শুধু মাত্র ১৪৬টি পাওয়া গিয়েছিল গুগল প্লে স্টোর থেকে। অন্য ভাবে বললে, মাত্র ০.৫ শতাংশ ম্যালওয়্যার পাওয়া গিয়েছিল গুগল প্লে স্টোর থেকে, বাকী ৯৯.৫ শতাংশ ম্যালওয়্যার পাওয়া গিয়েছিল গুগল প্লে স্টোর ব্যাতীত অনান্য মাধ্যম থেকে বিশেষ করে সেই সকল আন-অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে যে সকল অ্যাপ স্টোরে অ্যাপলিকেশন পরীক্ষা করে দেখার সুব্যবস্থা নেই।
তাহলে কি অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপলিকেশনের দরকার আছে?
উপরের আলোচনা ত্থেকে মোটামুটি একটি কথা পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায় যে আপনি যদি শুধু মাত্র প্লে স্টোর থেকে অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করে ব্যবহার করে থাকনে তবে আপনার দুশ্চিনার তেমন কোন কারন নেই, আশা করছি আপনি নিরাপদই থাকবেন। শুধু মাত্র, প্রতিটি অ্যাপ ইন্সটল করার সময় এগুলোর চাওয়া পারমিশন গুলোতে একটু নজর বুলিয়ে নেবেন। যেমন ধরুন, এরকম গেইম ইন্সটল করা থেকে বিরত থাকুন যেগুলো আপনার ডিভাইস থেকে মেসেজ পাঠানোর অনুমতি চায়। কেননা, হাতে গোনা কিছু গেইম আছে (সেই সকল অ্যাপলিকেশন যেগুলোর সেবা মেসেজ সার্ভিসের সাথে সম্পর্কিত) যেগুলোর এই মেসেজ পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে।
আবারও বলছি, আপনি যদি শুধুমাত্র গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করে থাকেন তবে আপনার অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করার তেমন কোন প্রয়োজন নেই। তবে, যদি এরকম হয় যে আপনি প্রায়ই গুগল স্টোরের পাশাপাশি সাইডলোডেড অ্যাপলিকেশন আপনার ডিভাইসে ইন্সটল করছেন সেই অবস্থায় আপনার অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করা উচিৎ। আমি বার বার গুগল প্লে স্টোরের বাইরে থেকে অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করতে না করছি বলেই যে গুগল প্লে স্টোরের বাইরে থেকে অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করা যাবেনা তা কিন্তু নয়। ব্যাতিক্রম অবশ্যই আছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি অ্যামাজন অ্যাপস্টোর থেকে অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করতে পারেন, অথবা ধরুন আপনি হাম্বল ইন্ডি বান্ডল থেকে গেম কিনেছেন – আপনি সেখান থেকেই অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করতে পারেন। এছাড়াও, পরিচিত যে কোন অ্যাপলিকেশন যে গুলো গুগল প্লে তে পাওয়া যায় সেগুলো আপনি এদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও ইন্সটল করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই, সন্দেহজনক ওয়েব সাইট থেকে পাইরেটেড গেইমস ইন্সটল করা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন এবং এটা কিছুটা আপনার নিজের কমন সেন্সের মধ্যেও পরা উচিৎ।
৩
এছাড়াও, অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপলিকেশন গুলো বেশ কিছু ভালো সুবিধাও প্রদান করে থাকে
হ্যাঁ, শুধুমাত্র অ্যাপলিকেশন পরীক্ষা করার মধ্যেই এখন কার সময়ের অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম গুলো থেমে নেই, বরং এখন অ্যান্টিভাইরাস গুলো মোটামুটি ফুল-ফিচারড সিকিউরিটি প্যাকেজ প্রদান করে থাকে। অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামগুলো বর্তমানে দারুন কিছু সুবিধা দেয় যেমন, ‘find my phone’ ফিচার, এর মাধ্যমে আপনি যদি আপনার ডিভাইসটি হারিয়ে ফেলেন বা আপনার ডিভাইসটি যদি চুরি হয়ে থাকে তবে এটি আপনাকে আপনার ডিভাইসটি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
৪
এছাড়াও, নানা রকম সুবিধা দিয়ে থাকে এই অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামগুলো যেমন, অ্যাভাস্ট ‘প্রাইভেসি রিপোর্ট’ নামের একটি সুবিধা দিয়ে থাকে যার মাধ্যমে আপনি আপনার ডিভাইসে ইন্সটল করা অ্যাপলিকেশনগুলো ‘পারমিশন’ আকারে শর্টিং করে দেখতে পারবেন। এছাড়াও, অ্যাভাস্ট রুটেড ডিভাইসে ফায়ারওয়্যাল সুবিধা দিয়ে থাকে যার মধ্যমে আপনি প্রতিটি অ্যাপের জন্য ইন্টারনেট এক্সেস কাস্টোমাইজ করে রাখতে পারবেন। এসকল সুবিধা ছাড়াও, কল-ব্লক, মেসেজ ব্লক ইত্যাদি সুবিধাও দিয়ে থাকে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো।
শেষ কথাঃ
আমি বিস্তারিত আপনাদের ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলার চেষ্টা করলাম। এখন বাকীটা আপনাদের উপর নির্ভর করছে যে আপনি আপনার ডিভাইসে অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে চান কি না। শুধু মাত্র গুগল প্লে স্টোর এবং নিরাপদ সোর্সের মাধ্যমে অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করলে যদিও আপনি মোটামুটি সুরক্ষিতই থাকছেন তবুও আমি বলবো এক্সট্রা সুবিধার জন্যেই হোক বা সিকিউরিটির জন্যেই হোক, অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করাই শ্রেয়। তবুও যদি আপনি অ্যান্টিভাইরাস ছাড়াই ডিভাইস ব্যবহার করতে চান তবে আপনার ডিভাইসটি অ্যান্ড্রয়েড ভার্শন ৪.২ এ আপডেট করুন এবং অ্যাপ ইন্সটল করার সময় ‘পারমিশন’ গুলো পড়ে দেখুন –আপনি নিরাপদ থাকবেন বলেই আশা করছি।