22/06/2022
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন - বিপদগ্রস্থ উম্মাহর দিকে!!
বিসমিল্লাহি রহমানির রাহীম।
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা !
কঠিন বন্যা পরিস্থিতিতে তলিয়ে যাচ্ছে দেশের একটি অংশ , সবুজ শ্যামল এ ভুখন্ডের ভোগৌলিক প্রেক্ষাপট কোন দিকে গড়াচ্ছে , আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন। গ্রীষ্মে পানি সম্পদের কৃত্রিম সংকটের ভোগান্তি ও বর্ষায় ডুবিয়ে মরার এ আবর্তমান ইতিহাস বাংলা ও বাঙালির জন্য এক চিরাচরিত বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতা যেন । আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন । শত্রু ও বিনষ্টকারীদের সকল চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিন , তিনি সর্ব শক্তিমান মালিক , কাদিরুন , মুকতাদির ।
কঠিন এ পরিস্থিতিতে জাতির মানবতা প্রিয় হাজারো ব্যাক্তি , সংগঠন ও সংস্থা এগিয়ে আসছে আল্লাহর অসহায় বান্দাদের সাহায্য ও সহযোগিতায়। কেউ অর্থ , কেউ পরামর্শ ইত্যাদি দিয়ে নিজের সবটুকু হয়তো করার চেষ্টা করছেন। দেশের এ কঠিন মূহুর্তে পাঠশালা সফট থেকে আর্থিক ভাবে কোন সাপোর্ট আমাদের ভাইদের উদ্দেশ্যে পাঠাতে সক্ষম হচ্ছে না , আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমাদের গাফিলতির জন্য। তাওফিক চাইছি রাব্বে কাদীরের কাছে ।
তবে আমরা এ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জাতির পাশে পরামর্শ ও কিছুটা তথ্য ভিত্তিক সঙ্গ দানের চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ । আল্লাহ তায়ালা তাওফীক দান করুন আমীন ইয়া আল্লাহ।
পুরো মুসলিম উম্মাহ এক দেহের মতো। আমরা কীভাবে উম্মাহর এই বিপদে চুপ করে থাকতে পারি? আমাদের সংখ্যা যতই কম হোক, সামর্থ্য যতই সীমিত হোক - আমাদের সাধ্যমতো এই বিপদের দিনে উম্মাহর সাহায্যে উঠে দাঁড়ানো উচিত। হয়তো আমরা অনেকেই কোন দল কিংবা ত্রান সংস্থার অধীনে নেই , তবুও আল্লাহ তায়ালা আমাদের মনের অবস্থা জানেন তিনি আলিমুন বিজাতিছ-ছুদূর । তাঁর কাছেই শুধু আমরা প্রতিদান চাই, দুনিয়ার কোন বাহবা নয়।
আমাদের এ বার্তা ও নির্দেশিকা বিশেষ করে ঐ সকল ভাইদের জন্য যারা প্রোডাক্টিভ এবং ক্রিয়েটিভ কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সংস্থার সাথে নেই , তবে জাতির প্রতি দরদ রাখেন , কিছু করতে চান ।
* আমরা সকল দ্বীন প্রিয় ভাইগণকে আহবান করছি, নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতায় কিংবা ত্রাণ বিতরণে কিংবা মেডিকাল সাপোর্ট মিশনে অংশ নেয়ার জন্য। এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিন।
* বন্যা দূর্গত এলাকাসমূহে সাহায্যের সম্ভাব্য উপায় সমুহ হতে পারেঃ
ক। নৌকা / ট্রলার ইত্যাদি নিয়ে দূর্গত এলাকায় গিয়ে নিজেরা উদ্ধারকার্য পরিচালনা।
- এটি এখন সবচেয়ে বেশী জরুরী। জীবন রক্ষাকারী আইটেম এই মুহুর্তে খাবারেরও আগে নৌকা। দূর্গত লোকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ কোন জায়গায় পৌঁছে দেয়ার জন্য নৌকা খুবই জরুরী।
- সিলেটে এখন মানুষ এক বেলার জন্য এক লক্ষ টাকা অফার করেও নৌকা পাচ্ছে না।
- অনেকে ত্রাণ বা উদ্ধারে যাচ্ছেন কিন্তু ফিরে আসতে হচ্ছে নৌকার অভাবে।
- আমাদের চেষ্টা করা উচিত - নিজে এলাকার আশেপাশে কোথাও থেকে নৌকা-ট্রলার ইত্যাদি কিনে বা কয়েকদিনের জন্য ভাড়া করে ট্রাকের মাধ্যমে কিংবা নৌপথে সিলেট-সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা। এটি করা গেলে এটি হবে সর্বোত্তম সাহায্য আল্লাহু আ'লাম।
- এমনকি নৌকা জোগাড় করতে না পারলে, সিলেটের আশেপাশের এলাকার ভাইরা চাইলে কলাগাছ, প্লাস্টিক ড্রাম ইত্যাদি ম্যানেজ করে ভেলা বানিয়ে নিয়ে যেতে পারেন আশেপাশের এলাকায়।
খ। নিজেরা উদ্ধারকার্য পরিচালনা করতে অক্ষম হলে অন্য ইসলামিক সংস্থাসমূহ যারা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে - দূর্গত এলাকায় তাদের হাতে নৌকা পৌছে দেয়া। তবে নিজেরা যথাসম্ভব অংশগ্রহণ করা উত্তম।
গ। মোমবাতি-ম্যাচ, রান্না করার স্টোভ বা চূলা, শূকনা খাবার-কাপড়, ঔষধ, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদি পৌঁছে দেয়া। এসব এখন সিলেটে দুষ্প্রাপ্য এবং দাম অনেকগুন।
ঘ। দূর্গত এলাকায় খাবার পানি বেশী বহন করা সম্ভব না। এর চেয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট নিয়ে যাওয়া উত্তম হতে পারে। যেমন Halotab
- হ্যালোট্যাব : সাধারণত প্রতি তিন লিটার পানিতে একটি ট্যাবলেট গুলিয়ে রেখে দিলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়। এভাবে পরিশোধিত পানিতে কিছুটা গন্ধ থাকলেও সেটা পরিষ্কার স্থানে খোলা রাখলে বা পরিচ্ছন্ন কোন কাঠি দিয়ে নাড়াচাড়া করলে গন্ধটি বাতাসে মিশে যায়।
ঙ। ডাক্তার ভাইদের সাথে কিছু স্বেচ্ছা-সেবক ভাই মিলে টিম গঠন করা যেতে পারে দূর্গত এলাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য।
চ। দুয়া জারি রাখুন। আমরা সকলে প্রচুর দুয়া ও ইস্তিগফার করা দরকার যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উম্মাহর উপর থেকে এই বিপদ দূর করে দেন। যারা উপরের সকল কাজে জড়িত থাকলেও তাদেরও এই কাজ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে করা উচিত। আর যারা থাকবেন না, তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
* সামাজিক ত্রাণ-কার্যক্রমের ব্যাপারে কিছু জরুরী বিষয়।
ক। আমরা নিজ নিজ এলাকার দ্বীনদার মানুষদেরকে একত্রিত করে ফান্ড জোগাড় করে এই মিশনে নেমে পরার আপ্রাণ চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। যদি সম্মিলিতভাবে ফান্ড সংগ্রহ করে নিজেরা গিয়ে ত্রাণ-বিতরণ বা উদ্ধারকাজে অংশ নিতে একান্তই অপারগ হই, তাহলে সংগৃহীত ফান্ড আমাদের নিজ এলাকার অন্য কোন ইসলামী সামাজিক সংগঠন কিংবা সোশাল মিডিয়াতে পরিচিত কোন ইসলামী সাহায্য সংস্থাকে পৌছে দেয়া যায়।
খ। উদ্ধ্বার কার্যক্রম বা ত্রাণ কার্মক্রমের জন্য বন্যা দূর্গত এলাকার মূল রাস্তার আশেপাশের এলাকা থেকে ভিতরের দিকের এলাকা প্রাধান্য পাবে। যদি যাবার সামর্থ্য থাকে তাহলে সিলেট শহরের চেয়ে সুনামগঞ্জ বা গ্রামাঞ্চলে বেশি ফোকাস করা উচিত।
গ। যাদের নিজেদের কোন বন্ধু, প্রতিবেশী, ক্লাসমেট, আত্মীয় সিলেট বা আশেপাশের এলাকায় আছেন - পারলে তাদেরকে সাথে নিন বা তাদের সাহায্য নিন। এতে আমাদের এই তৎপরতায় ফায়দা বেশী হবে ইনশাআল্লাহ।
ঘ। এই উদ্যোগে আপনার বন্ধু, প্রতিবেশী, ক্লাসমেট, আত্মীয়, এলাকার মুরব্বী, গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে যথাসম্ভব সামিল রাখুন, সকলকে একটিভেট করুন। পারলে এটিকে একটি অঘোষিত কিংবা ঘোষিত "ইসলামিক সামাজিক সংগঠন" হিসেবে রূপদান করুন যেন ভবিষ্যতেও এই সংগঠন এ রকম কার্যক্রম সহজেই গ্রহণ করতে পারে ইনশাআল্লাহ। তবে অবশ্যই এর মূল উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি থাকুন এবং এর নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে রাখুন।
আল্লাহ আমাদের কাজে বারাকাহ দান করুন, কাজসমূহকে কবুল করুন। বিপদগ্রস্থ উম্মাহকে সাহায্য করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।
বন্যা কবলিত মানুষদের সাহায্যার্থে কীভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম।
এটি একটি সাধারণ আইডিয়া। প্রত্যেক ভাই তার নিজ এলাকার হালাত বুঝে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এখান থেকে কিছু কিছু ধারনা হয়তো পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।
সামাজিক সংগঠনের কোর কমিটি গঠন
- প্রথমে আপনার একান্ত বিশ্বস্থ ২-৪ জন সাথির-বন্ধু বান্ধবের সাথে আইডিয়া শেয়ার করে যারা যারা এই প্রজেক্টে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদেরকে নিয়ে একটু কোর কমিটি গঠন করে ফেলা উত্তম। এই কয়েকজন মিলে মূল কাজ আঞ্জাম দিতে হবে। আস্তে আস্তে বাকী মানুষকে সামিল করতে হবে, তাদের সাহায্য নিতে হবে।
- নিজের ক্যাম্পাস/অফিস/এলাকার মসজিদকে কেন্দ্র করে কোর কমিটি কাজ শুরু করতে পারে।
- চাইলে নামাজের পর মসজিদে এলান করা যায় বন্যা দূর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের ব্যাপারে নামাজের পরে কিছুক্ষণ পরামর্শের সময় চেয়ে। মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ কিংবা ভার্সিটি ক্যাম্পাসেও এমনটা সম্ভব। মাশওয়ারাতে পুরো মিশনের জন্য যা যা দরকার সব কিছু আলাপ করা যায়। তবে শুরুতে উদ্ধ্বারকর্মী আর ফান্ড জোগাড়ই মূল কাজ থাকবে।
- কোর-কমিটি এবং একত্রিত অন্য সদস্যগণ মিলে কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে নিজ এলাকায় বাড়ী বাড়ী গিয়ে কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাত করে ত্রাণ-ফান্ড সংগ্রহ করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্রে ফেসবুকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ছবি ও মিডিয়া দেখিয়ে বাস্তবতা বুঝানো যায়। এছাড়া মুসলিম হিসেবে এ মুহুর্তে আমাদের করণীয় কী - এটিও বুঝানো জরুরী।
- এছাড়া নিজ নিজ মাদ্রাসা-স্কুল-কলেজের সকল ছাত্রদের কাছেও সাহায্যের আবেদন করা যায় - যে আমরা যেতে চাচ্ছি, কারা কারা নিজে শরীক হবেন অথবা ফান্ড দিয়ে কিংবা অন্যভাবে শরীক থাকবেন - আসুন।
- এলাকার কোন ছোট্ট বাজার থাকলে প্রতিটি দোকানে গিয়ে একই আহবান করা যায়।
- মোটকথা সমাজের প্রতিটি মুসলিমকে আপনার এই কার্যক্রমের সাথে শরীক করার চেষ্টা করুন। তবে কাজটি করতে হবে দ্রুত-গতিতে। সময় অনেক কম।
- নিজের পরিচিত সার্কেল ছাড়াও সোশাল মিডিয়া হতে পারে আপনার এই উদ্যোগের সাথে মানুষ ও ফান্ড জমা করার অন্যতম হাতিয়ার।
- এভাবে ফান্ড ও বন্যা কবলিত অঞ্চলে যাবার জন্য উদ্ধার ও ত্রাণকর্মী প্রস্তুত হয়ে গেলে পরের ধাপে যাওয়া যায় ইনশাআল্লাহ।
উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম
- এই উদ্যোগের সাথে জড়িত সকলেই যে দূর্গত এলাকায় যেতে হবে এমন না। বরং সব মিলিয়ে ৩০-৪০ জন মানুষ যদি ত্রাণ ও ফান্ড কালেকশনের কাজ করে, তাহলে হয়তো ৮-১০ জন সর্বোচ্চ বন্যা কবলিত এলাকায় কাজের জন্য যেতে পারে। তবে এটি প্রয়োজন অনুযায়ী।
- উদ্ধার ও ত্রাণকর্মী হিসেবে কয়েক ধরনের মানুষকে টিমে রাখা উত্তম যদি সম্ভব হয়ঃ
ক) আগে ত্রান/উদ্ধারকার্যে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা আছে এমন ব্যক্তি।
খ) যেখানে যাওয়া হবে ঐ এলাকায় বা আশেপাশে বাড়ি বা অন্তত এলাকা চেনে এমন কেউ।
গ) এছাড়াও ডাক্তার, মেডিকেল স্টুডেন্ট, রেডক্রস বা ফায়ার সার্ভিসের সাথে কাজ করছে এমন লোকদের সাথে জুড়ার চেষ্টা করা যায়।
পরিকল্পনা
- এলাকা নির্ধারন, খোঁজখবর নেয়া এবং একেবারে বিস্তারিত সর্বশেষ খররাখবর সংগ্রহ করতে হবে। আবহাওয়া, রাস্তা, চাহিদা, পরিবেশ সবকিছু নিয়ে। এর জন্য শুরুতেই ১ম দিনেই নওজোয়ান ২ জনকে দূর্গত এলাকার মূল শহরে বা সেখানে সড়ক সংযোগ ওবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল আছে সেখানে পাঠিয়ে দেয়া যায় (স্কাউট টিম)। এতে ফিল্ডের হালাত উনারা বুঝতে পারবেন এবং আপনাকে অবহিত করতে পারবেন। এই আপডেটেড তথ্য আপনি সমাজের বাকী মানুষকে জানাতে পারবেন। আর মানুষ দেখবে যে, আপনার সাথিরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে! তখন তারা আপনার সহযোগিতায় সমাজ এগিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে বড় ডোনারদের সাথে এই সাথীদের কথা বলাতে পারবেন।
- শুরুতেই কাজের সাথে জড়িত সাথীদের জন্য একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে নিলে সেখানে দূর্গত এলাকায় যাওয়া সাথীরা আপডেট দিতে পারবে। চাইলে এই গ্রুপে এই উদ্যোগের সাথে জড়িত সকলে সামিল করে নিতে পারবেন। তবে সাধারণ মানুষ যেন পোষ্ট না করে শুধু পোষ্ট পড়তে পারেন। আর আপনার একটিভ সাথীরা শুধু যেন সেখানে পোষ্ট করতে পারেন।
- উদ্দিষ্ট এলাকায় অলরেডি কাজ করছে এমন সমমনা ত্রাণ সংস্থাগুলার সাথে কো-অর্ডিনেশোন রাখা জরুরি। এতে ফায়দা অনেক। কাজের অভিজ্ঞতা জানা, অভিজ্ঞ কাউকে পাশে পাওয়া, অলরেডি যে এলাকায় কাজ হচ্ছে সে এলাকায় আবার না গিয়ে অন্য এলাকায় যাওয়া যেখানটা কেউ কাভার করছে না - এসব নিশ্চিত করতে ঐ কোর্ডীনেশন জরুরি। এর জন্য এক সাথীকে ফেসবুকে বসিয়ে দিন। এই সাথী সকল আপডেট গুছিয়ে ৩/৪ ঘন্টা পর পর আপনার ফেসবুক গ্রুপে দিতে পারবে আর সকলেই তা একসাথে পেয়ে যাবে। এছাড়া স্কাউট টিমও ফিল্ডে কাজ করতে পারবে।
- এ সকল তথ্য সংগ্রহ চলা অবস্থায় দূর্গত এলাকায়ঃ
ক। কে কে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য সম্পাদনের জন্য যাবেন?
খ। কতদিনের জন্য যাবেন?
গ। নিজেদের জন্য সেখানে কী কী লাগবে? সবকিছু বিস্তারিত লিখে লিস্ট করে ফেলা উত্তম।
যেমন- শুকনো খাবার, খেজুর, ঔষধ-স্যালাইন, কাপড়, ছাতা / রেইঙ্কোট, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাব্লেট, পাওয়ার ব্যাঙ্ক একাধিক রিজার্ভ সহ, মোবাইল রিফিল কার্ড, ফার্স্ট এইড কিট, কম্পাস / জিপিএস, পর্যাপ্ত টয়লেট টিস্যু, বড় পলিথিন/ তেরপল ইত্যাদি।
- উদ্ধার ও ত্রাণ কাজকে তিন ভাগে ভাগ হয়ে করা সম্ভবঃ
ক। ব্যাকআপ টিমঃ পিছনের জেলাগুলো থেকে বিভিন্ন মালামাল কেনা-কাটা, লজিস্টিক্স সাপ্লাই, নিজ এলাকার লোকদের সাথে যোগাযোগ ও আপডেট প্রদান এসব কাজ মেইন্টেইন করতে পারেন এবং একশন টিমকে সাপোর্ট দিতে থাকবেন।
খ। স্কাউট টিমঃ আগে চলে যাবে স্পটে। তারা চাইলে ভিতরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে আবার নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় এমন এলাকায় এসে মুল টিমকে আপডেট দেবে।
গ। একশন টিমঃ এই টিম মূল ত্রাণ কার্যক্রম ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাবেন।
- একশন টিমের মূল ত্রাণ কার্যক্রম ও উদ্ধার কার্যক্রমও দু ভাগে ভাগ হয়ে কাজ করা যায়।
ক। একটা ফরওয়ার্ড টিম সামনের এক বা একাধিক নৌকায় করে দুর্গম এলাকায় গিয়ে মুল কাজ করবে।
খ। আরেকটি টিম পেছনের নৌকায় করে সাপোর্ট টিম হিসেবে মালামাল এবং ইঞ্জিন নৌকার জন্য তেল ইত্যাদি পৌঁছাতে থাকবে।
- সহ্য শক্তি কম এমন কাউকে একশন টিমে না রাখা উচিত। নিজেরাই দুর্বল, অল্পতে ঠান্ডা লেগে যায়, ক্লান্ত হয়ে পড়েন, কম ঘুম-খাবারে কাহিল হয়ে যান, খাবারে উনিশ-বিশ হলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এমন ভাইরা ব্যাকআপ টিম হিসেবে কাজ করতে পারেন।
- একশন টিমে মানুষ একটু বেশি হলে ভাল হবে, এতে শিফট সিস্টেমে কাজ করা সম্ভব। আমরা অভ্যস্থ না থাকায় একটানা বেশিক্ষণ কাজ করতে পারার কথা না। রেস্ট নেয়া লাগবে। তাই ২-১ দিন পর একদল নৌকা নিয়ে ব্যাক করলে ঐ নৌকায় আরেকদল গিয়ে কাজ করতে পারবে প্রথম দল ২-৩ দিন পিছনে রেস্ট নেবে। শহরের বাইরে হোটেলে বা স্থানীয় সংস্থাগুলোর কারো বাসায় রেষ্ট নেয়ার সিস্টেম করতে হবে।
একটি আইডিয়াঃ যেহেতু নৌকার অভাবে দুর্গত এলাকায় কাজের ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে তাই যে সকল এলাকায় নৌকা তৈরী ও বিক্রি হয় সে সকল এলাকার ভাইরা যদি দুর্গত এলাকায় নৌকা সাপ্লাই লাইন চালু করতে পারেন তাহলে উত্তম হয় ইনশাআল্লাহ। সাথে নৌকার ইঞ্জিন সাপ্লাইও দরকার হবে। এ ব্যাপারে ফেবুতে পোষ্ট দিলে যাদের নৌকা দরকার তারা জেনে যাবে আশা করি। মূলত ব্যবসায়ীদের সাথে স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ লাগবে। আর উদ্দিষ্ট এলাকায় নিজেদের ২-৩ জন মানুষ থাকলে তারা টাকা রিসিভ করলে ট্রাকে করে উদ্দিষ্ট এলাকায় নৌকা পাঠাতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
পরিবহন
- উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য লাগবে নৌকা। গাড়ি প্রয়োজন হবে নৌকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে আক্রান্ত এলাকায় পৌছাতে। অবশ্য নদীপথে যাবারও পরিকল্পনা হতে পারে।
- নৌকা কেমন, দাম কত, কোথায় পাওয়া যায়, ভাড়া নেয়া গেলে ভাড়া কত, পেট্রল কোথা থেকে কত করে কেনা যাবে, মাঝি কোথায় পাওয়া যাবে (যদি দরকার হয়), গাড়ি ভাড়া করা ইত্যাদি সেট করতে হবে।
- সামর্থ্য থাকলে, নৌকা একাধিক হলে ভাল হবে। ব্যাকআপ নৌকা সাপ্লাই লাইন মেইন্টেইন করবে আর অপারেশনাল নৌকা দুর্গম অঞ্চলে ঢুকে কাজ করবে। সিঙ্গল নৌকা একা বেশী ভিতরে গিয়ে কাজ করা মুশকিল হতে পারে ফুয়েল সাপ্লাই এর জন্য।
- ওসব এলাকায় পেট্রোল না পাওয়া গেলে, ব্যাকআপ ফুয়েল বাইরের জেলা থেকে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাকআপ টিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- নৌকার গতিবেগ এবং প্রতি মাইলে কতটুকু ফুয়েল লাগবে তা জেনে সেই অনুযায়ী প্ল্যান সাজাতে হবে কোন এলাকায়, কতটুকু ভিতরে যাওয়া হবে।
- সামর্থ্য থাকলে যত ভিতরে সম্ভব যাবার চেষ্টা করা উচিত। কারণ কাছাকাছি এলাকায় অনেকেই হয়তো ত্রাণ বিতরণ করবে, আল্লাহু আ'লাম।
- অন্তত ১০-১২ ঘণ্টা (যাওয়া-আসা মিলিয়ে) চলার মতো ফুয়েল নৌকায় রাখা উচিত যাতে ফুয়েলের জন্য মাঝখানে গিয়ে আটকাতে না হয় ।
- ইঞ্জিন নষ্ট হলে কি করতে হবে ভেবে রাখা দরকার। বৈঠা ব্যাকআপ হিসেবে রাখা যায়।
- চলার জন্য ফুয়েল / পেট্রোল ক্যান রাখার পর মালামাল কতটুকু ধরবে নৌকায় তাও ভাবতে হবে - কত বড় নৌকা নিতে হবে সেটা বুঝা যাবে এ থেকে। ১৫-২০ জন ধারণ ক্ষমতার নৌকা নিলে মাল নিয়ে ৪/৫ জন যেতে পারবে হয়তো।
- নৌকা প্রাপ্তির কিছু লিঙ্ক নিচে দেয়া হল। এছাড়াও ফেইসবুকে খোঁজ নেয়া যায়।
নিরাপত্তা
- বিতরণ ও উদ্ধার কাজের এলাকায় যাবার পথের মাঝে কয়েকটা পয়েন্ট সেট করা যায় যেখানে রিফুয়েলিং আর লোড- আনলোড হবে। চাইলে এ সকল পয়েন্টে উদ্ধার কাজ করা সকল নৌকা রাতে একত্র হয়ে রেস্ট নিতে পারবে। এটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হতে পারে। কাজটা করতে হবে ঐ এলাকায় অন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাথে সমন্বয় করে।
- খেয়াল রাখতে হবে ডাকাতি বা নৌকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা যাতে না ঘটে। অভাবী মানুষ মরিয়া হয়ে আছে ত্রাণের জন্য। দা, লাঠি, হ্যাজাক লাইট এসব সাথে রাখা যেতে পারে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য।
- কোনদিক দিয়ে দুর্গত এলাকায় ঢুকতে হবে - সেটা সেট করতে হবে । যেমন কিশোরগঞ্জ বা হবিগঞ্জ দিয়ে সুনামগঞ্জ যাওয়া সম্ভব।
নৌকার কিছু লিংক
ঝালকাঠি জেলার সীমান্ত সংলগ্ন পিরোজপুরের আটঘর নৌকার হাট - https://youtu.be/ZoFdS_e5MfY
সদরঘাটের নৌকা-দোকান - https://www.youtube.com/watch?v=8qvufq-e5RI
হরিপুর বাজারে নৌকা মেলে
মানিকগঞ্জের ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক নৌকার হাটে নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় 3k-8k - https://www.jagonews24.com/agriculture-and-nature/news/596698
চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলার ছটাকি, গালিমখাঁ বাংলাবাজার ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার বরদিয়া, আড়ংবাজার, মুন্সীরহাট ও নাগদা এলাকায় - https://unb.com.bd/bangla/category/বিশেষ সংবাদ/চাঁদপুরে-নৌকা-তৈরিতে-ব্যস্ত-মিস্ত্রিরা,-বেচাকেনার-ধুম/44407
গোপালগঞ্জের নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত কোটালীপাড়া 5-15k - https://www.banglatribune.com/country/644519/নৌকার-চাহিদা-অনেক-দামও-বেশি
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর ও ডুমুরিয়া বাজারে 5-15k - https://www.dailynayadiganta.com/bangla-diganta/670350/মুরাদনগরে-জমে-উঠেছে-শত-বছরের-কোষা-নৌকার-হাট
শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের চন্দনকর এলাকার - https://unb.com.bd/bangla/category/বিশেষ সংবাদ/নৌকা-গ্রাম:-শরীয়তপুরের-৩০-পরিবারের-জীবিকা-চলে-নৌকা-তৈরি-করে/44336
ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা ও সিএন্ডবি ঘাটের বিভিন্ন স্থানে চলছে নৌকা তৈরি - https://www.faridpur-protidin.com/নৌকা-তৈরিতে-ব্যস্ত-ফরিদপুরের-কারিগরেরা/77945
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের কাজে বারাকাহ দান করুন। আমাদের প্রচেষ্টাসমূহকে কবুল করুন।
উম্মাহর উপর থেকে এই বিপদ অচিরেই দুর করে দিন। আমাদের দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে আঞ্জাম দেয়ার তাউফিক দান করুন। আমীন।
ওয়াসসালাম।