11/05/2017
#পার্ট-২:
( জানিয়ে দেই একটা সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ৮ই মে ভিশন'৪১ পার্ট-১ লিখেছিলাম )
#স্বভাবতই কারো কাছে শানে নুজুল আশা করিনি, তাই মূল ভাবনাটা জানিয়ে রাখি। মনের বিশেষ তাগিদে, সম্পুর্ন ভিন্ন আঙ্গিকের একটা প্রেজেন্টেশন প্রায় সম্পুর্ন করে এনেছি, এটা এমন এক স্বপ্নময় রুপরেখা যে পথে অনুজরা বড় হবে সর্বোত্তম উপায়ে। তাদের বর্তমান শুভবোধে যাপিত জীবন এবং সর্বোচ্চ মুল্যবোধের অনুসন্ধানে তৈরি হবে প্রতিটি অনুজের ভবিষ্যত।
# ইচ্ছে! যেকোন উপায়ে দেশের প্রতিটি অনুজের কাছে গুরূত্বটুকু তুলে ধরা। সবার সহযোগিতায় মন ও মননে বোধটুকু ধরিয়ে দেয়া। ওয়েবে অণুশীলন গুলো কোডিং হতে থাক, যথা সময়ে সেটার প্রয়োগ করা গেল কিনা, ভিশন '৪১ মাধ্যমেই তা প্রথম প্রকাশ করব।
#আজকের প্রসঙ্গ সেটা নয়, আমি লিখছি প্রিপারেশন গুলো ঠিকঠাক সাজানো হল কিনা তা নিজ আত্ন কথায় ঝালাই করে নিতে। প্রতিটা মানুষের জীবন একেকটা কনষ্টিটিউশন। আমি চারপাশের মানুষগুলো এবং তাদের জীবনগাথার ঘনিষ্ঠজন হয়ে যেমন বড় হয়েছি। তেমনি একটা অবজারভেটরি অবস্থান থেকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি সর্বোত্তম বিষয়টুকু। ছোটবেলার স্মৃতিপটে আকাঁ ভাবনা গুলো গল্পাকারে এখানে বলার উদ্দেশ্য একটাই, আপন মুল্যবোধটুকু আধুনিক অনুজদের জীবন ঘনিষ্ঠের যষ্ঠি পাথরে যাচাই করা। #উদ্দেশ্য? বর্তমান কর্মপ্রায়াসে যেন অস্মপূর্নতা না থাকে। সম্পুর্ন ছবি টা বোঝার আগে আপনার কিছুটা খাপছাড়া মনে হতে পারে তাই বরং আপনি খন্ডকালীন স্মৃতিগুলো থেকে "মোরাল" অংশটুকু খেয়াল করুন।
# আমি বলছি প্রায় দুই যুগ আগের কথা। প্রাচীরে ঘেরা আমাদের বাসাটা ছিল অনেকটা জায়গা জুড়ে। বর্ষা, শীত কিংবা বসন্তে কিরকম যেন বুণোগন্ধে ভরে থাকত পুরো বাসাটা। বাসার পিছনদিকটা বরাবরেই আমার কাছে ছিল এক রহস্য। অচেনা হরেকরকম গাছগাছালি আর গুল্মলতায় ছাওয়া ওখানে সাধারনত আমার পা পড়ত না। আর অজানা যেকোনই তখন রহস্যময়!!
#আমার দেশের সোনার মাটির এতটাই মমতা, অযত্নে, অবহেলায় ফেলে দেয়া কোনো আটি বা ফলের বীজ থেকে কিছু কিছু সুমিষ্ট ফলের গাছ তারপরেও পিছনের ছাদ ছাড়িয়ে আমাদের জানান দিত, আমাকে অবজ্ঞা করার উপায় নেই। তাই স্কুল থেকে এসেই দলবেধে আতা বা আমের ডালে লম্প জম্প ছিলই।
#পিছন দিকটায় যেমন অগোছালো, লতাপাতায় ছাওয়া তেমনি সামনের অংশটা ছিল মায়ের হাতে, ছবির মত সাজানো, একদিকে শীতের হরেক রকম সবজির জায়গা, বাগান, পশ্চিমে গোয়ালঘর, পাশেই হাঁস মুরগির ইটে মোড়ানো ঢিপি, তার উপরের মাচাঁ দখল করে থাকত কবুতরের ঝাঁক। এর সব কিছুই ছিল ভিতর বাড়ির একেকটা গল্পঘর।
# উঠোন পেরিয়ে দু দুটো ছোট গেটের বাধা পেরিয়ে "আমাদের খুলি" (এটা ভিতর বাড়ির বাহিরে কিন্তু সদর দরজার ভিতরে একপ্রকার উঠান ) সারা বছর দৈনিক পারিশ্রমিকে বা চুক্তিতে বাশেঁর কাজ, ধান মাড়াই, জ্বালানী তৈরি, কাঠ চেলাই, বাইরের কাজের লোকেরা সাধারনত এখানটাতেই কাজ করত। ভিতর বাড়িতে তাদের প্রবেশাধিকার ছিলনা। কিন্তু তাদের দুপুরে খাওয়ানা টা ছিল পরম আনন্দের। নদীর উপার থেকে আসা "কামলা" রা মুড়ি-পেয়াজ আর এক জগ পানি খেয়ে কাজে নামত। দুপুরে তারা এত এত খেত যাতে রাত্রিতে খেতে না হয়। লাউয়ের সাথে আর কয়েক টুকরা মাংসের জন্য তখন মায়ের কাছে আবদার ছিল বারবার। নিজে আগে খেতাম চুপিসারে নিজ পাতের মাংসগুলো লুকিয়ে রাখতাম। ওদেরকে পেট পুরে খাওয়ানো টা ছিল আমার তখনকার সর্বচ্চো আনন্দ। অনেকদিন আগে মারা গেছেন, কিন্তু ভোলা' চাচা কে মিস করি এখনও। ওই খুলিতেই চলত ছোটদের গোল্লাছুট, জল-বল থৃি আর শীতের রাতে বড়দের ব্যাডমেন্টন। শুধু নিজ বাসার ছেলেমেয়েরা নয়, পাড়ার সকলেই ছিলাম সকলের।
# মাত্র তখন শুনেছি আধোআলো ময় ভোরের সময়টুকুর সাবধান বানী।
আমি তখন শিশু নিকেতনে পড়ি। অতটা শিশু না, চতুর্থ শ্রেনীতে উঠেছি। শোনার পর থেকে যেন প্রচন্ড শীতেও লেপের উষ্ণতা তোমন পাত্তা পেতনা।
#যখন ঘুম থেকে উঠানে এসে দাড়াঁতাম তখন সেই আধো আলোর ছায়াময় সময়টা পেতাম। মনে পড়ে, একটা মোড়া নিয়ে বড় উঠোনের মাঝখানটাতে চাদরমুড়ি দিয়ে বসতাম। তীক্ষ্ম চোখে দেখার চেষ্টা ছিল প্রতিটি নড়াচড়া, দুই কান সজাগ থাকত প্রতিটি শব্দের উৎস আবিস্কারে, দৃষ্টির স্বল্পতায় তখন কর্ণদ্বয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত। শব্দের উৎসে ধারনা করতাম ওটা হুরো বিড়াল, ওটা বেজিঁ দৌড়ে গেল? সাপের মুখে কোন ব্যঙের অসহায় আর্তনাদ!! সড়সড় শব্দে ওটা কি? আরও কত রকম শব্দ!! শব্দের উৎস ধরেই মনের পর্দায় বাস্তব হয়ে আমার চারপাশের চলমান সমস্তকিছু। দৃশ্য কিংবা অদৃশ্য সবকিছুকেই অনুভব করতে চাইতাম।
#অাধোআলো সময়টার সাবধান বাণীতে ভয় করত না?
#উত্তরে বলি, আপনি কখনো শুনেছেন? ওমুক মানুষটাকে ভোরে ওযু করতে গিয়ে বা নামাজ কালে সাপে কেটেছে বা অন্যকিছু দ্বারা কোন ক্ষতি ?
কিন্তু পথে ঘাটে, ক্ষেত-খামারে, মল-মুত্র ত্যাগে ঐ সময়কালীন অনেক অঘটন বা ক্ষতিকর অনেক ঘটনা হয়তবা শুনে থাকবেন।
# ছোট বেলায় সবসময় সদর দরজার চাবি আমার কাছে থাকত। ভোরে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতাম বলে।
★★ অনুজদের সর্বোত্তম মূল্যবোধ তৈরিতে ইসলামের সাহায্য নিতেই হবে।।
চলবে----