16/04/2024
কিভাবে বুঝবেন একটি পেজ ট্রাস্টেড নাকি ফেক?🤔
আজকের লেখাটা বেশ বড় হতে যাচ্ছে। যারা মূল্যবান সময় খরচ করে লেখাটা পড়বেন, আশা করি কোন না কোন দিক দিয়ে লাভবান হবেন😊।
আমাদের পেজ থেজে সার্ভিস নেয়ার সময় অনেকেই প্রশ্ন করে থাকে--
- ভাই পেজটা ট্রাস্টেড তো?
- ভাই টাকা/ আইডি মেরে দিবেন না তো?
আসলে এই প্রশ্নগুলো করা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। বর্তমানে স্ক্যামিং/ হ্যাকিং এত বেড়ে গেছে যে আমরা সবসময় ভয় এর ভেতরে থাকি। আর যারা ফেক তারা কখনও বলবেও না যে আমরা টাকা মেরে দিবো/ আমরা ফেইক। যারা আমাদের সার্ভিস নেন, হয়ত এর শিকার ও হয়েছেন। আর আমাদের দেশে কোন আইনী পদক্ষেপ নেয়া কিছুটা সময়সাধ্য আর ব্যয়বহুল। তাই আসল আর নকল পার্থক্য করতে পারার দক্ষতা সবারই করা উচিত। যেহেতু আপনি আপনার কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়ে কোন প্রোডাক্ট / সার্ভিস কিনবেন, সেহেতু আপনার একটা নিশ্চয়তা দরকার যে আসলেই আপনি সার্ভিসটি পাবেন।
অনলাইনে ট্রেডিং বিভিন্ন মাধ্যমে হতে পারে। পার্সোনাল ফেসবুক আইডি, কোন ফেসবুক গ্রুপ, কোন ফেসবুক পেজ, কোন ওয়েবসাইট ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে প্রতিটা সেগমেন্ট নিয়েই আলাদা আলাদা ভাবে বিশাল বর্ণনা দেয়া সম্ভব। আমরা যেহেতু ফেসবুক চালাই, তাই শুরুতেই আজকে আমরা শুধুমাত্র ফেসবুক পেজ নিয়ে কথা বলবো।
আমরা যখনই একটি ফেসবুকে পেজে যাই তখন দেখি তার লাইক কত, তার পোস্টে কেমন রিয়েক্ট আসে, কমেন্ট কেমন আসে এইসব। কিন্তু এইসব দেখেই যদি সিদ্ধান্ত নেন পেজটা ট্রাস্টেড তাহলেই ঝামেলা❌।
আপনি কি জানেন মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে ফেসবুকে ১,০০০ লাইক কেনা যায়। তো একটা ফেইক ফেসবুক পেজের মাত্র ১০০০ টাকা লাগবে ১০,০০০ লাইক উঠাইতে। এরা ফেক আইডি দিয়ে লাইক, কমেন্ট, রিয়েক্ট স্প্যাম করে। তাই শুধু মাত্র লাইক দেখে তো ফেসবুক পেজ জাজ করবেন তো না ই, এর সাথে কমেন্টেও যদি লেখা থাকে ট্রাস্টেড তাও বিশ্বাস করবেন না। তাহলে প্রশ্ন আসে আমরা দেখবো টা কি? আসুন সেগুলো স্টেপ বাই স্টেপ ব্যখ্যা করিঃ
✅১.প্রথমেই আপনারা চলে যাবে পেজের যে কোন একটা পোস্টে। সেখান থেকে দেখবেন পোস্টে লাইকের সংখ্যা বেশি নাকি রিয়েক্ট এর সংখ্যা বেশি। রিয়েক্ট বলতে যে কোন টা হতে পারে লাভ, কেয়ার, ওয়াও, এংগ্রি ইত্যাদি। এর কারণ হলো ফেইক পোস্টে লাইক স্প্যাম করা হয়। রিয়েক্ট দেয়ার এত সময় নাই আসলে এটা দেখে সহজেই একটা ধারণা পাবেন।
✅২. যারা পোস্টে রিয়েক্ট দিয়েছে তাদের বেশিরভাগ আইডি গুলো লক্ষ করবেন। আইডি গুলো কি ফেক নাকি রিয়েল? যদি রিয়েল এবং পুরাতন আইডি দিয়ে রিয়েক্ট দেয়া হয় তাহলে পেজটার ট্রাস্টেড হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
✅৩. ঠিক একই কাজ করবেন কমেন্টের ক্ষেত্রেও। যারা লিখবে "ট্রাস্টেড, ট্রাস্টেড, ভালো সার্ভিস" তাদের ও প্রোফাইলে গিয়ে দেখবেন আইডি টা কতটুকু রিয়েল।
✅৪. প্রতিটা ফেসবুক পেজের রিভিউ আর কমিউনিটি ট্যাব নামের দুইটা অপশন থাকে৷ সেখানে যারা কমিউনিটি পোস্ট / রিভিউ দিয়েছে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করবেন যে পেজটা ট্রাস্টেড কিনা। ফেক পেজের ক্ষেত্রে আপনারা অনেক সময় রিপ্লাই ই পাবেন না।
✅৫. যদি আপনার কোন সন্দেহ হয় তাহলে আপনি বড় মূল্যের জিনিস না কিনে ছোট জিনিস কিনতে পারেন। এইটাকে বলা যায় টোপ/ টেস্টিং। যেমন আমাদের কথাই ধরুন, আপনার লাগবে ১০০০ ডাইমন্ড। আপনি ২৫ ডাইমন্ড নিয়ে দেখবেন যে পেজটার থেকে ঠিকমতো সার্ভিস পেলাম কিনা। এরপর কি হবে সেটা আপনারা ভালো বুঝবেন।😊
✅৬. ফেসবুক পেজগুলো যে নাম্বারে পেমেন্ট করতে বলবে সেগুলোতে কল দিয়ে চেক করে নিতে পারেন সব ঠিক আছে কিনা, যদি নাম্বার বন্ধ থাকে তাহলে বুঝতে হবে ঝামেলা আছে🙂
আশা করি এই কয়টা স্টেপ ফলো করলে আপনারা খুব সহজেই ধোকা খাবেন না। অনেক স্ক্যামিং থেকেও বেচে যাবেন। আর যদি কখন ধোকা খেয়েও যান আর বিকাশ থেকে পেমেন্ট করেন তাহলে সরাসরি বিকাশ এজেন্টে কল দিয়ে আপনার অভিযোগ জানাবেন। প্রমাণ সাপেক্ষে তারা ব্যাবস্থা নিবে।
আমাদের পেজে সম্পূর্ণ অর্গানিকভাবে ফলোয়ার এসেছে। অর্থাৎ প্রতিটা লাইক এবং কমেন্ট কাস্টমার রা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় করেছে। আর উপরের স্টেপ গুলোর সাথে আপনারা মিলিয়েও দেখতে পারেন।😊
এই পোস্ট টা অনেক বড় হয়ে গেছে। সবাই এত সময় নিয়ে পড়বে না। হয়ত ৫% মানুষ পড়বে। ৫% এর মধ্যে কে কে আছেন কমেন্ট করে জানান 😍।
আপনাদের জন্য আরও লিখতে চাই। সবশেষে কেমন ছিলো পোস্টটা আমাদের জানাবেন। আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা ❣️