10/04/2017
একটি শিক্ষণীয় পোষ্ট :
একবার এক লোক পাহাড়ী অঞ্চলে বেড়াতে গেল।
ঘুরতে ঘুরতে সে একটি কাক দেখলো যার দুটি ডানায়
কাটা ছিলো। কাকটির ওই অবস্থা দেখে লোকটি
ভীষন দুঃখ পেয়ে মনে মনে ভাবলো, এটা নিশ্চয়ই
কোনো দুষ্ট ছেলের কাজ।
সে ভাবলো, ‘হায় আল্লাহ এই কাকটি এখন উড়বে
কিভাবে? আর যদি সে তার খাবারই সংগ্রহ না করতে
পারে তবে সে বাঁচবে কিভাবে?’ লোকটি যখন এসব ভাবছিলো তার কিছুক্ষন পর ঐ
জায়গায় এক ঈগল উড়ে এলো যার ঠোঁটে ছিলো
কিছু খাবার। খাবারগুলো সে কাকের সামনে ফেললো
এবং সেখান থেকে উড়ে চলে গেল।
এই দৃশ্য দেখে লোকটি অত্যন্ত অবাক হয়ে গেল। সে
ভাবলো যে, ‘যদি এভাবেই আল্লাহ তার সৃষ্টিকে
বাঁচিয়ে রাখেন তবে আমার এত কষ্ট করে কাজ করার
দরকার কি? আমি আজ থেকে
কোনো কাজ করবো
না, তিনিই আমাকে খাওয়াবেন।’ লোকটি বাড়ি ফিরে কাজ করা বন্ধই করে দিলো।
কিন্তু দুই-তিন দিন পার হয়ে গেলেও সে কোনোখান
থেকে কোনো সাহায্য পেল না। এর কারণ জানতে সে একজন জ্ঞানী লোকের কাছে
গেল এবং তাঁকে সবকিছু খুলে বলল। সব শুনে জ্ঞানী ব্যক্তি তাকে বললেন, ‘তুমি দুটি পাখি দেখেছিলে। একটা সেই আহত কাক, আরেকটা সেই
ঈগল। তুমি কেন সেই কাকটিই হতে চাইলে? কেন তুমি
সেই ঈগলটির মত হতে চাইলে না, যে নিজের খাবার
তো যোগাড় করেই, সাথে যারা
না খেয়ে আছে তাদের
মুখে খাবার তুলে দেয়?’ জ্ঞানী ব্যক্তির কথা শুনে লোকটি লজ্জিত হলো
এবং নিজের ভুল বুঝতে পারল। আসুন, আমরাও গল্পের ওই ঈগলের মতো হওয়ার
চেষ্টা করি। কেননা অন্যের উপকার করার মাঝেই
লুকিয়ে আছে প্রকৃত সুখ ও মানসিক প্রশান্তি।