28/04/2025
ধরুন, আপনি অফিসে কাজ করছেন। হুট করে আপনাকে এমন কারো পাশে বসানো হলো, যে খুব ভালো কাজ করে — সবকিছু সময়মতো করে, গুছিয়ে রাখে, চুপচাপ নিজের কাজে মনোযোগ দেয়। আপনি হয়তো ভাবছেন, “আচ্ছা, তাতে আমার কী?”
কিন্তু গবেষণাটা বলছে — এতে আপনার পারফরম্যান্স প্রায় ১৫% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে! শুধু পাশেই বসার কারণে।
এই ব্যাপারটাকে বলা হচ্ছে “The Workplace Proximity Effect” — মানে যাদের পাশে বসেন, তাদের আচরণ আপনার উপরও প্রভাব ফেলে।
এই গবেষণাটা করেছে কেলগ স্কুল। তারা বলেছে:
যদি আপনি এমন কারো ২৫ ফুটের মধ্যে বসেন যিনি হাই পারফরমার, তাহলে আপনার কাজের মান অনেকটাই ভালো হয়ে যায়।
কিন্তু বিপরীত হলে? যদি আপনি এমন কারো পাশে থাকেন যিনি সবসময় নেগেটিভ, গসিপ করে, বা কাজ ফাঁকি দেন — তাহলে আপনার কাজের মান ৩০% পর্যন্ত খারাপ হয়ে যেতে পারে।
ভাবছেন, এটা কেবল ‘সাথে থাকা’র বিষয়? হ্যাঁ। এখানে কোচিং, ট্রেনিং, মিটিং — কিছুই না। শুধু বসে থাকাই যথেষ্ট।
কারণটা খুব সোজা — ভালো গুন , ভালো দক্ষতা সংক্রমক, এবং খারাপ/টক্সিক ব্যাপারগুলোও তাই।
আপনি যদি এমন কাউকে প্রতিদিন দেখেন, যে প্রতিটি কাজ গুছিয়ে করে, ঠিক সময়ে করে, মন দিয়ে করে — তাহলে অজান্তেই আপনার মাথায় সেটাই “নরমাল” মনে হতে শুরু করে। আপনিও একটু একটু করে বদলাতে থাকেন।
গবেষণা বলছে, এই বদল সময়ের সাথে হয়:
প্রথম ২ সপ্তাহ: হালকা কিছু পরিবর্তন,
৩-৪ সপ্তাহ: পারফরম্যান্সে ভালো উন্নতি,
৩০ দিনের পর: আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন না, কিন্তু একটা নতুন অভ্যাস গড়ে উঠেছে,
আর মজার ব্যাপার হলো, এর বিপরীত ঘটনাও একইভাবে কাজ করে।
আপনি যদি পাশের টেবিলে এমন কাউকে পান, যে কাজের চেয়ে গল্পে বেশি আগ্রহী, যিনি সবকিছুকে “চলবে” বলে ছেড়ে দেন — তাহলে আপনার মধ্যেও এই অলসতা ঢুকে পড়ে। এবং এটা খুব দ্রুত হয়। এমনকি একেকটা বিষাক্ত মানসিকতার কর্মী পুরো ফ্লোরের পরিবেশ খারাপ করে দিতে পারে।
তাই, এই ২৫ ফুটের নিয়ম অনেকটা অফিসের সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টকেও বদলে দিতে পারে।
চেষ্টা করে দেখুন:
আপনার টিমে কারা ভালো পারফর্ম করছে তা চিনে নিন।
তাদের পাশে মাঝারি পারফরমারদের বসান।
৩০ দিন পর রেজাল্ট দেখুন,
এরপর দরকার হলে অ্যাডজাস্ট করুন,
একটু সিট বদল মানেই বড় পার্থক্য।
শেষ কথা কী?
যদি আপনি চান একটা টিম সত্যিই ভালো করুক, তাহলে পরিবেশটা এমন করে গড়ুন, যেখানে ভালো কাজ করা–টাই স্বাভাবিক হয়ে যায়।
আর সেটা অনেক সময় শুরু হয়–কে আপনার পাশে বসে আছে, সেই ছোট্ট ব্যাপারটা দিয়ে। টক্সিক বা বিষাক্ত মানুষ আপনার এনার্জি শুষে নেয়। ভয়ের ব্যাপার হল এটা শুধু কর্মক্ষেত্রে না, বন্ধুবান্ধব পরিবার পরিজনদের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য।
(c)