08/12/2018
আমাদের দেশে অনেক ট্রেনিং সেন্টার আছে, অনেকে অনেক জায়গায় ট্রেনিং করছেন।
অনেক খারাপ ট্রেনিং সেন্টার যেমন আছে, তেমন অনেক ভালো ট্রেনিং সেন্টারও আছে। আমি ট্রেনিং করাই বলে, কেবল আমার ট্রেনিং সেন্টার ভালো এমন আমি মনে করি না। আরও অনেকের ট্রেনিংও ভালো হবার সম্ভাবনা আছে। তবে যারা ট্রেনিং করতে চান, তাদের কিছু ভুল আমি ধরিয়ে দিতে চাই। যে ভুলগুলো আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে -
১) কোন ট্রেনিং থেকে আপনি লাভবান হবেন কিনা এটা নির্ভর করে ট্রেইনারের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের উপর। অনেকেই কার কাছে ট্রেনিং করছেন সেটা না যাচাই করে বরং কতো টাকা ফি, ডিসকাউন্ট আছে কিনা, বাসার কাছে কিনা, অনলাইন না ল্যাবে হবে, অমুক টপিক কভার করবে কিনা, ল্যাব কতো সুন্দর, ঐ কোম্পানির নাম ডাক কেমন এই সব বিষয় চিন্তা করে কোথায় ট্রেনিং করবেন নির্ধারণ করেন। এমনভাবে সিদ্ধান্ত নিলে যে আপনি ধরা খাবেন এটা বুঝার জন্য খুব কি বুদ্ধি লাগে?
২) অনেকেই মনে করেন টাকা দিয়ে কোর্সে ভর্তি হলাম তো এখন আমি দায়িত্ব শেষ করলাম। আসলে আপনি কিছুই করেননি। যদি ভর্তি হবার পর আপনি ভালো মত ক্লাস না করেন, এসাইনমেণ্ট না করেন তাহলে টাকা আপনি পানিতে ফেলে দিলেও চলত। লাভের লাভ এটাই হয়েছে যে টাকাটা পানিতে নষ্ট না হয়ে কারো পকেটে গেছে। ভর্তি হবার পর আপনার আসল কাজ শুরু। আর আপনি মনে করবেন যে আপনার কষ্টের দিন শুরু। কষ্ট করে নিজের জীবন পরিবর্তন করতে রাজি না থাকলে টাকা নষ্ট করে ভর্তি না হয়ে বরং টাকাটা রেখে দিন, এক দুই মাসের হাত খরচ চালাতে পারবেন।
৩) অনেকে মনে করেন শিখানোর সব দায়িত্ব শিক্ষকের। না, তার যেমন দায়িত্ব আছে আপনারও দায়িত্ব আছে। ক্লাসে শিক্ষক ২ টা উদাহরণ দেখালে আপনি আরও ২-৩ টা খুঁজে বের করুন। শিক্ষকের সাথে সেগুলো শেয়ার করে সাজেশন ও পরামর্শ নিন। যদি শিক্ষক আপনাকে যতটুকু শিখায় আপনি কেবল তততুকু বা তার থেকে কম নিতে রাজি থাকেন তাহলে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করলেন না। কাজেই আপনি ভালোভাবে নিজের টাকা উসুল করতে পারলেন না।
৪) নিজের ক্যারিয়ার প্ল্যান ঠিক না করে হুজুগে ট্রেনিং করা ভুল। মনে করেন আপনি যদি একবার এটা একবার ওটা ট্রেনিং করে নিজের সময় নষ্ট করতে থাকেন, তাহলে হয়ত দেখবেন আপনার সময় শেষ, পাস করার টাইম চলে আসবে আর আপনি বিভ্রান্ত হয়ে বসে আছেন। আপনি কি বিষয়ে জব করতে চান সেটা প্ল্যান করে এই বিষয়ে বেসিক থেকে এডভান্স কিভাবে হওয়া যায়, তার জন্য একের পর এক কোর্স করলে আপনি দেখবেন যে আপনি সময় মত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন।
৫) কোর টপিকের উপর ট্রেনিং বাড়াতে হবে। যেমন মনে করুন আপনি একের পর এক ফ্রেমওয়ার্ক শিখতে পারেন, কিন্তু সেটা না করে যদি আপনি বরং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর টপিক যেমন এলগরিদম, অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড ডিজাইন, ডিজাইন প্যাটার্ন, ক্লাউড কম্পিউটিং, জাভাস্ক্রিপ্ট, ডাটাবেস, এজাইল ডেভেলপমেন্ট, ভার্সন কন্ট্রোল ইত্যাদির উপর ট্রেনিং করেন তাহলে আপনি সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। কারণ ৫ টা ফ্রেমওয়ার্ক জানার থেকে এগুলো জানা আপনাকে অনেক বেশি উপরের দিকে নিয়ে যাবে।
Collected from: Jalal Uddin