SWN - Scipen World News

SWN - Scipen World News A non-profit organization of science news. Our vision is to bring mysterious science news to people.

সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং জায়ান্ট বায়কার (Baykar) ট্রেনিং সেন্টারে সৌদি আরবের বায়রাক্তার আকিনসি কম...
15/10/2025

সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং জায়ান্ট বায়কার (Baykar) ট্রেনিং সেন্টারে সৌদি আরবের বায়রাক্তার আকিনসি কমব্যাট ড্রোন (ইউসিএভি) অপারেটরদের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করে খুব দ্রুত সৌদি আরবে ফিরে যাবে।

‎আসলে গত ২০২৩ সালে সৌদি আরব তুরস্কের Baykar কোম্পানির কাছে ৩.১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিমূল্যে মোট ৬০টি আকিনসি (ইউসিএভি) কমব্যাট ড্রোন ক্রয় করে। যা আগামী ২০২৬ সালের শুরু থেকেই পর্যায়ক্রমে সরবহার শুরু করবে তুরস্ক। এই কমব্যাট ড্রোনের মূল ব্যবহারকারী হবে রয়্যাল সৌদি এয়ার ফোর্স এবং সৌদি নেভাল ফোর্স।

‎তুরস্কের তৈরি আকিনসি (Akinci) কমব্যাট ড্রোন (ইউসিএভি) হলো একটি উচ্চ প্রযুক্তির হেভি ডিউটি কমব্যাট ড্রোন, যা মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান (UCAV) হিসেবে কাজ করে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণ করতে পারে।

‎এর এয়ার কমব্যাট ক্যাপাবিলিটি সাধারণ ড্রোন অপেক্ষা অনেকটাই বেশি করে ডিজাইন ও তৈরি করা হয়েছে। এটি একাধারে অধিক উচ্চতায় উড্ডয়ন, দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থাকা, এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র (যেমন লাইট মিসাইল ও স্মার্ট বোমা) বহন করতে সক্ষম। তবে গত ৮ অক্টোবর অপ্রত্যাশিতভাবে তুরস্কের একটি আকিনসি ড্রোন দক্ষিণ সুদানের দারফুর অঞ্চলের আকাশে বিদ্রোহীরা বা Rapid Support Forces (RSF) শুট ডাউন বা ধ্বংস করেছে।

‎এটি হচ্ছে বিশ্বে সার্ভিসে থাকা অন্যতম বৃহৎ আকৃতির কমব্যাট ড্রোনগুলোর মধ্যে একটি। যা কিনা এয়ার লঞ্চড বেসড স্ট্যান্ড অফ ক্রুজ মিসাইল (এসওএম) বহন ও হামলার করতে সক্ষম। এটি থেকে এমনকি স্বল্প সক্ষমতা ও ওজনের নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা সম্ভব হবে বলে আগেই প্রকাশ করেছিল তুরস্ক।


‎এর দৈর্ঘ্য ১২.৫ মিটার, দুই ডানার মাঝের দূরত্ব ২০ মিটার এবং উচ্চতা ৪.১০ মিটার। এর ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট ৫,৫০০ কেজি। আকিনসি-বি সিরিজের কমব্যাট ড্রোনে দুটি ইউক্রেনের মোটর সিচ কোম্পানির তৈরী ইভশেঙ্কো প্রগ্রেসের তৈরি ৭৫০ হর্স পাওয়ারের এআই-৪৫০টি টার্বোপ্রোপ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও সর্বশেষ আপগ্রেড ভার্সন আকিনসি-সি সিরিজের কমব্যাট ড্রোনে ৮৫০ হর্স পাওয়ারের দুটি শক্তিশালী টার্বোপ্রোপ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।


‎এটি ভূমি থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ফিট উচ্চতায় (সার্ভিস সিলিং) উড্ডয়ন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি হচ্ছে প্রতি ঘণ্টায় ৩৬১.১৪ কিলোমিটার এবং ক্রুইজ স্পিড ২৮০ কিলোমিটার। তাছাড়া এর পরীক্ষিত অপারেশনাল রেঞ্জ ৭,৫০০ কিলোমিটার।


‎এটি একবার জ্বালানী নিয়ে আকাশে একটানা ২৪/২৫ ঘন্টা পর্যন্ত কমব্যাট মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম। আর বর্তমানে ড্রোন প্রযুক্তির বিচারে আকিঞ্চির ৩৬১.১৪ কিলোমিটার গতিকে অনেকটাই বেশি গতি সম্পন্ন এরিয়াল (ইউসিএভি) সিস্টেম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


‎এভিয়নিক্স সিস্টেম হিসেবে বায়রাক্তার আকিঞ্চি কমব্যাট ড্রোন (ইউসিএভি) এ নিজস্ব দেশীয় প্রযুক্তির (এইএসএ) রাডার, ইলেকট্রনিক্স সাপোর্ট পড এবং সাইট এণ্ড স্যাটালাইট কমিউনিকেশন সিস্টেম, এসানসাল কমন এপারচার টার্গেটিং সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক্স ওয়ারফার সিস্টেম ইনস্টল করা হয়েছে।


‎আবার এই ড্রোনের মেরিটাইম স্টাইক সক্ষমতা যাচাই করলে দেখা যায় যে, এটি বাস্তবিক অর্থেই অনেক লাইট যুদ্ধবিমান থেকেও এগিয়ে রয়েছে। এটি অনেকটা সেমি স্টেলথ ক্যাপাবিলিটির হওয়ার জন্য শত্রু পক্ষ খুব সহজেই একে ডিটেক্ট করতে পারবে না। তাছাড়া উন্নত এভিয়নিক্স সিস্টেম হিসেবে (এইএসএ) রাডার সিস্টেম, ডাটা লিংক সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক্স ওয়ারফার পডের সাহায্যে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সমুদ্রে থাকা শত্রু পক্ষের যুদ্ধজাহাজ ডিটেক্ট করতে সক্ষম।


‎এই কমব্যাট ড্রোনের ৬টি হার্ড পয়েন্টে মোট ১,৩৫০ কেজি পর্যন্ত মিসাইল, গাইডেড এণ্ড আনগাইডেড মিসাইল ও বম্বস বহন করতে পারে। তাছাড়া ক্রুজ মিসাইল বহন করার পাশাপাশি এয়ার টু এয়ার মিসাইল হীটে আকাশেই শত্রু পক্ষের যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার সক্ষমতা তুরস্কের এই কমব্যাট ড্রোনটিকে বিশ্বের বুকে একটি শ্রেষ্ঠ কমব্যাট ড্রোনের স্থানে নিয়ে গেছে।


‎এই কমব্যাট ড্রোনটিতে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি এমএএম-এল, এমএএম-সি, জাভেলিন, এল-ইউএমটিএএস, বোজক, এমকে-৮১, এমকে-৮২, এমকে-৮৩, উইংড গাইডেন্স কিট (ইউপিএস) এমকে-৮২ ডিভাইসের পাশাপাশি গুলুকান, বোজডোয়ান এবং এসওএম-এ স্ট্যাণ্ড অফ ক্রুজ মিসাইল (এয়ার লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল) দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। তাছাড়া রকেটসানের তৈরি (এল-ইউএমটিএএস) এন্টি ট্যাংক মিসাইল এটিতে ইনস্টল করার সম্ভব।


‎এই কমব্যাট (ইউসিএভি)-কে এডভান্স অটোনোমাস (এআই) কন্ট্রোলিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এটি অটোনোমাস রোবটের মতো নিজে নিজেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেকঅফ এবং ল্যাণ্ডিং করার বিশেষ উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে।


‎তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি সাবাহ, উইকিপেডিয়া, Baykar, টুর্কী টুডে, ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া



‎সিরাজুর রহমান (Sherazur Rahman), শিক্ষক ও লেখক, সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ। [email protected]

আজকের দিনে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হৃদরোগ এবং স্ট্রোক এর মতো মরনব্যাধী রোগবালাই।তবে, সম্প্রত...
11/10/2025

আজকের দিনে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হৃদরোগ এবং স্ট্রোক এর মতো মরনব্যাধী রোগবালাই।
তবে, সম্প্রতি একটি গবেষণায় বেশ কিছু আশ্চর্যজনক তথ্য আমাদের সামনে এসেছে , বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ৯৯ শতাংশ ঘটনা ঘটে কিছু নির্দিষ্ট কারণে, যা প্রতিরোধযোগ্য। অর্থাৎ, যদি আমরা আমাদের জীবনযাত্রায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারি, তবেই এই রোগগুলো থেকে আমরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারবো । সুতরাং, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য আমাদের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? তা আসুন, বিষয়টি একটু গভীরভাবে জানি।

বর্তমানে এক গবেষণায় জানা গেছে যে, ৯৯ শতাংশ প্রথমবারের মতো হওয়া হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের জন্য কিছু প্রধান ঝুঁকি উপাদান দায়ী। এই উপাদানগুলো আসলেই খুবই সাধারণ, এবং এগুলোর বেশিরভাগই প্রতিরোধযোগ্য। সেই উপাদানগুলো হলো—উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন এবং উচ্চ কোলেস্টেরল।

প্রথমত, উচ্চ রক্তচাপ। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে আমাদের রক্তনালীতে রক্তের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, বিশেষ করে হৃদপিণ্ড এবং মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোর ওপর। এতে হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। সঠিক ডায়েট এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের ফলে এই ঝুঁকিকে অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব । অতিরিক্ত লবণ, ফ্যাট, এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

পরবর্তী ঝুঁকি উপাদানটি হলো ধূমপান। সিগারেটের ধোঁয়া আমাদের রক্তনালীগুলোর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধূমপান রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তনালীতে জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। ধূমপান বন্ধ করা, বা একেবারে এড়িয়ে চলা, আমাদের হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ধূমপান ত্যাগের পরও অনেক মানুষ তাদের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়, যদিও ধূমপানের নেশায় আসক্ত হওয়ার ফলে এই অভ্যাস ত্যাগ করা খুবই কঠিন তবে, এইটি ত্যাগের ফলে ঝুঁকির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা একটি বড় সমস্যা। আমাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে তা রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদরোগের কারণ হতে পারে। আমাদের উচিত প্রতিদিন কিছু না কিছু শারীরিক ব্যায়াম করা—এটি হতে পারে হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো অথবা অন্যান্য ব্যায়াম। সঠিক খাবার খাওয়া এবং মিষ্টি ও তৈলাক্ত খাবার পরিহার করা , এর ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো উচ্চ কোলেস্টেরল। আমাদের শরীরে সাধারণত দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে—এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) এবং এইচডিএল (ভাল কোলেস্টেরল)। উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল আমাদের রক্তনালীগুলোতে জমে এবং ব্লক সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের খাবারে পুষ্টি গুণ বাড়াতে হবে, যেমন: তাজা ফল, শাকসবজি, অল্প তেলে রান্না করা খাবার, এবং আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এমনকি যদি কারোর এসব সমস্যাগুলোর মধ্যে একাধিক একত্রিত হয়, তবে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। যেমন, যদি একজন মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভোগে এবং সিগারেট পান করে থাকে, তবে তার জন্য হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি। এর মানে হলো, আমাদের জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন এনে এই সব ঝুঁকির একাধিক উপাদান একসাথে কমানো সম্ভব।

এছাড়াও গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, এই চারটি উপাদান একে অপরকে আরও বৃদ্ধি করতে পারে। যেমন, যারা স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণ করেন না, তাদের শরীরে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার, যদি একজন ব্যক্তি একাধিক ঝুঁকি উপাদানের সম্মুখীন হন, তবে তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ে। তাই, এটি খুবই জরুরি বিষয় যে, আমরা সবাই আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হই এবং প্রতিটি ছোট পদক্ষেপে পরিবর্তন আনতে শিখি।

এছাড়া, মেডিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো, রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল মাপানো, এবং ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যবান জীবনযাপন করা সম্ভব।

সর্বশেষে বলা যায়, আমরা যদি প্রত্যেকে এই চারটি ঝুঁকির উপাদানকে উপেক্ষা না করে, যদি এর সমাধানে জন্য ব্যবস্থা নিতে থাকি, তবেই আমাদের হৃদপিণ্ড এবং মস্তিষ্কের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।

ইমদাদুল হক
(সাইপেন ওয়ার্ল্ড টিম)



Source: Science Alert, New Atalas, Statnews

সুইডেনের নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক সম্প্রতি ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী সাফল্...
10/05/2025

সুইডেনের নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক সম্প্রতি ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন। তারা এমন এক ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষুদ্র ন্যানো রোবট তৈরি করেছেন, যা প্রাণীর শরীরে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে পারে এবং এটি তার আশপাশের সুস্থ কোষগুলোর কোনো ক্ষতি করে না।

ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন উদ্ভাবিত এই পরীক্ষামূলক ন্যানো রোবটিক টেকনোলজিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বিশাল অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসলে এই ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট সুইডেনের স্টকহোমের সোলনা অঞ্চলে অবস্থিত। এটি বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা গবেষণায় একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং এখান থেকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

এই প্রজেক্টের সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা জানান যে, এই বিশেষ ন্যানো রোবটটি প্রাণীর শরীরে "স্মার্ট মিসাইল" বা স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কাজ করে। এটি তৈরি করা হয়েছে ডিএনএ এবং অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহার করে। এই ক্ষুদ্র রোবটটি শরীরের ভেতরে ঘুরে বেড়াতে পারে এবং নির্দিষ্টভাবে ক্যান্সার কোষ বা টিউমার শনাক্ত করে তা ধ্বংসের জন্য কাজ শুরু করে।

গবেষণাটি পরিচালনা করছেন Karolinska Institute-এর অধ্যাপক Björn Högberg ও তাঁর দল। তিনি মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োফিজিক্স বিভাগের একজন গবেষক। দীর্ঘদিন ধরেই ডিএনএ-ভিত্তিক ন্যানো টেকনোলজি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। গবেষণাটি ইউরোপীয় গবেষণা কাউন্সিল (ERC), সুইডিশ রিসার্চ কাউন্সিল, ফিনল্যান্ড একাডেমি এবং নুট ও অ্যালিস ওয়ালেনবার্গ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পরিচালিত হয়।
তারা DNA origami নামক ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহার করে এমন এক ধরনের স্মার্ট ন্যানো রোবট তৈরি করেছেন, যা শুধু ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে সক্রিয় হয়, কিন্তু সুস্থ কোষের কোনো ক্ষতি করে না। আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এই গবেষণার ফলাফল গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল Nature Nanotechnology–তে প্রকাশিত হয়েছে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিএনএকে ভাঁজ করে এমন একটি অতি ক্ষুদ্র রোবট বা গঠন তৈরি করা হয়, যা ওষুধ বহন করতে পারে এবং নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে কাজ শুরু করতে পারে। এক্ষেত্রে শরীরের ভালো কোষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাকে অনেকতাই হ্রাস করে এবং ক্যান্সার চিকিৎসার কার্যকারিতা অনেকতাই বৃদ্ধি করতে সক্ষম বলে দাবিও করা হয়েছে।

ন্যানো রোবটটি দেখতে অনেকটা তালাবদ্ধ একটি ক্ষুদ্র বাক্সের মতো, যার ভেতরে থাকে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার অস্ত্র। এই তালা তখনই খোলে, যখন এটি টিউমার বা ক্যান্সার কোষের আশপাশে পৌঁছে। সাধারণত এই জায়গার pH লেভেল (অ্যাসিডিক মাত্রা) শরীরের অন্য অংশের তুলনায় কম হয়। ন্যানো রোবট সেই অ্যাসিডিক পরিবেশ বুঝে অস্ত্রটি খুলে দেয় এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে শুরু করে।

এই ন্যানো রোবট বা অস্ত্র তৈরি হয়েছে ছয়টি পেপটাইড দিয়ে, যেগুলো একত্রে একটি ষড়ভুজ গঠন করে। এই গঠন ক্যান্সার কোষের "মৃত্যুর রিসেপ্টর" সক্রিয় করে, ফলে কোষটি সংকুচিত হয়ে মারা যায়। ভবিষ্যতে এর কার্যকারিতা বাড়াতে রোবটে আরও উন্নত প্রোটিন বা পেপটাইড যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে এটি আরও নির্ভুলভাবে ক্যান্সার কোষ খুঁজে বের করে কাজ করতে পারে।

অধ্যাপক হগবার্গ বলেন, এই পেপটাইডগুলো যদি সরাসরি শরীরে প্রয়োগ করা হতো, তাহলে সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। তাই তারা এমন একটি ন্যানো রোবট তৈরি করেছেন, যা ওষুধ বা অস্ত্রটি শুধু ক্যান্সার কোষের আশপাশে গিয়ে সক্রিয় করে। এতে শরীরের অন্যান্য অংশে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, এই প্রযুক্তি ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপির চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর হতে পারে। কারণ, প্রচলিত কেমোথেরাপি পুরো শরীরে প্রভাব ফেলে এবং অনেক সময় গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আর সেই ঝুঁকি ন্যানো রোবট টেকনোলজি অনেকটাই হ্রাস করতে পারবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।
গবেষকরা পরীক্ষাগারে দেখেছেন যে, ন্যানো রোবটটি সাধারণ পরিবেশে (pH ৭.৪) নিষ্ক্রিয় থাকে, কিন্তু ক্যান্সার কোষের অ্যাসিডিক পরিবেশে (pH ৬.৫) এটি সক্রিয় হয়ে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। এই গবেষণাটি ইতোমধ্যেই ইঁদুরের শরীরে পরীক্ষা করা হয়েছে। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ইঁদুরদের শরীরে ন্যানো রোবট ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং দেখা যায় যে টিউমারের বৃদ্ধি প্রায় ৭০% পর্যন্ত কমে যায়।

গবেষণার প্রথম লেখক ইয়াং ওয়াং জানান, এখন তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আরও জটিল ক্যান্সার মডেল নিয়ে কাজ করা, যেগুলো কিনা মানুষের ক্যান্সার রোগের অনেকটাই কাছাকাছি হতে পারে। এর পাশাপাশি, মানবদেহে প্রয়োগ করার আগে এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করা হবে। যা হবে একটি দীর্ঘ মেয়াদি এবং চলমান প্রক্রিয়া।

ক্যান্সার চিকিৎসার এক অভিনব আবিষ্কার হিসেবে এই ন্যানো রোবট প্রযুক্তি বর্তমানে পেটেন্ট করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। যদিও দীর্ঘ মেয়াদি এই গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভবিষ্যতে ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি নতুন, নিরাপদ ও কার্যকর দিক খুলে দিতে পারে।

~ সিরাজুর রহমান
(শিক্ষক ও লেখক, সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ।)
সাইপেন ওয়ার্ল্ড টিম

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী সেরা বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং ২০২৫ প্রকাশ করেছে। বিশ্বের ১...
02/03/2025

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী সেরা বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং ২০২৫ প্রকাশ করেছে। বিশ্বের ১১৫টি দেশ ও অঞ্চলের মোট ২,৮৫৫টি বিশ্ববিদ্যালয় এই নতুন তালিকায় স্থান পেয়েছে। র‍্যাঙ্কিং অনুসারে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)।

বিস্তারিত কমেন্টে...

01/03/2025

রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ইবাদতের মাস। এ মাসে রোজা রেখে মানুষ নিজেকে সংযত করে, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করে। রমজান শুধুই আত্মশুদ্ধির মাস নয় বরং এটি মানবদেহের জন্যও উপকারী! গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত রোজা রাখলে বিপাকক্রিয়া উন্নত হয় ও দেহেরও উন্নতি ঘটায়।

সাইপেন ওয়ার্ল্ড - এর পক্ষ থেকে সবাইকে রমজানুল মোবারক ❤️

গত ২০২৪ সালের শুরুর দিকে জার্মান ভিত্তিক ম্যাক্স প্লাঙ্ক সোসাইটি মহাকাশের একটি বিস্তারিত এক্সরে মানচিত্র প্রকাশ করে। মূল...
16/02/2025

গত ২০২৪ সালের শুরুর দিকে জার্মান ভিত্তিক ম্যাক্স প্লাঙ্ক সোসাইটি মহাকাশের একটি বিস্তারিত এক্সরে মানচিত্র প্রকাশ করে। মূলত ম্যাক্স প্লাঙ্ক সোসাইটির একদল বিজ্ঞানী রাশিয়া-জার্মানীর যৌথভাবে তৈরি উচ্চ প্রযুক্তির ইরোসিটা (eROSITA) এক্সরে টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মহাজাগতিক অবজেক্টের বিপুল পরিমাণ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে মহাবিশ্বের একটি আংশিক এক্সরে ম্যাপ তৈরি করেন। এই কসমিক মানচিত্রে প্রায় ৯ লক্ষের অধিক মহাজাগতিক অবজেক্ট স্থান পেয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৭,০০,০০০ অধিক সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল এবং তার পাশাপাশি, প্রায় ১২ হাজার গ্যালাক্সি ক্লাস্টার গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তাছাড়া আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথে অবস্থান করা ১,৮০,০০০ এক্সরে নির্গমনকারী নক্ষত্র, পালসার, সুপারনোভা অবশিষ্টাংশ, বাইনারি নক্ষত্র এবং অন্যান্য এক্সরে উৎসের মতো কিছু রহস্যময় কসমিক অবজেক্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই মহাকাশ জরিপ বা গবেষণার মাধ্যমে মহাজাগতিক কাঠামোর মধ্যে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের গঠন ও বৈশিষ্ট্য জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। তাছাড়া এই সার্ভেটি সুবিশাল মহাকাশ সংক্রান্ত বিস্তৃত ঘটনা সম্পর্কেও নতুন অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। যা ভবিষ্যতে মহাকাশ নিয়ে কার্যকর গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

বিস্তারিত কমেন্টে....

সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রভাবশালী তেল উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ কোম্পানি  "আরামকো" সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নতুন এক...
01/02/2025

সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রভাবশালী তেল উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ কোম্পানি "আরামকো" সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নতুন একটি ক্রুড ওয়েল রিফাইনারি প্লান্ট স্থাপনের প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যা হয়ত বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এ নিয়ে কিছুদিন আগে বাংলাদেশে দায়িত্বরত সৌদি রাষ্ট্রদূত এশা ইউসুফ এশা আল দুহাইলান জানান যে, "আরামকো" বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক অয়েল রিফাইনারি প্লান্ট নির্মাণ করতে চায়।

সৌদি আরবের নিজস্ব বিনিয়োগে এই তেল শোধনাগার স্থাপন করা সম্ভব হলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এবং অত্র অঞ্চলের জন্য পেট্রোলিয়ম পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। তাছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল রপ্তানির মতো বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, এই ধরনের অয়েল রিফাইনারি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে। বর্তমানে বিশ্বের সেরা এবং ৬ষ্ঠ শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানি হচ্ছে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ কোম্পানি "আরামকো"।

কোম্পানিজ মার্কেট ক্যাপ এর ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের হিসেব অনুযায়ী আরামকো কোম্পানির মার্কেট ক্যাপিটাল ভ্যালু বা বাজার মূলধন হচ্ছে ১.৭৯৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বাজার মূলধনের দিক থেকে বর্তমানে সৌদি আরামকো বিশ্বের ষষ্ঠতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। যদিও গত ২০২১ সালের শেষের দিকে তাদের মার্কেট ক্যাপিটাল ভ্যালুর পরিমাণ ছিল প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়া ভয়াবহ সামরিক আগ্রাসন এবং করোনা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়।

সৌদি ভিত্তিক আরামকো কোম্পানির প্রকাশিত সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, গত ২০২৪ সালে কোম্পানিটি সারা বছরে ৪৮৮.৯৮ বিলিয়ন ডলারের রেভিনিউ অর্জন করে। যা গত ২০২৩ সালে ৪৯৫.৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং গত ২০২২ সালে তা ছিল ৬০৪.১৭ বিলিয়ন ডলার। তাছাড়া গত ২০২৪ সালের থার্ড কোয়ার্টারে নিট মুনাফা অর্জন করে ২৭.৬ বিলিয়ন ডলার এবং তা গত ২০২৩ সালে থার্ড কোয়ার্টারে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩২.৬ বিলিয়ন ডলার। আর "আরামকো" গত ২০২১ সালে রেকর্ড পরিমাণ মোট ১০৯.৩৮৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যে নিট মুনাফা অর্জন করেছিল।

গত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলমান ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের উত্তাপে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতার মধ্যেই "আরামকো" আন্তর্জাতিক বাজারে নিরবিচ্ছিন্নভাবে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ম পণ্য এবং গ্যাস রপ্তানি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করে। যদিও বৈশ্বিক মহামন্দা কারণে গত ২০২৪ সালের শুরু থেকে তাদের রপ্তানি আয় আনুপাতিক হারে কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেট্রোলিয়ম পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রভাব ও গুরুত্ব বজায় রেখেছে সৌদি আরবের এই রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি।

আজ থেকে ৯১ বছর আগে ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আরামকো কোম্পানির সদর দপ্তর সৌদি আরবের দাহরানে অবস্থিত। তাদের কাছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের বিশাল মজুত রয়েছে। উইকিপিডিয়ার দেয়া তথ্যমতে, তেলের পরিমাণ হতে পারে আনুমানিক ২৭০ বিলিয়ন ব্যারেল এবং এর পাশাপাশি গ্যাসের মজুত হতে পারে প্রায় ২৮৮.৪ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট। তাছাড়া গত ২০২৪ সালে কোম্পানিটির তেলের মোট উৎপাদন ছিল প্রতিদিন গড়ে ১২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল। গত ২০২৩ সালের হিসেব অনুযায়ী তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৬৬০.৭৮৪ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে চলমান বৈশ্বিক মহামন্দার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল আমদানিকারক দেশ চীন এবং ভারত উভয়ই রাশিয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রুড ওয়েল আমদানি করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিগত পাঁচ দশক থেকে চীন ও ভারতের মধ্যে চরম শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক বজায় থাকলেও সৌদি আরবের সাথে এই দেশ দুটির সাথে রয়েছে দীর্ঘ মেয়াদি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক। তাছাড়া সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমান শাসিত আমেরিকার প্রবল আপত্তিকে পাত্তা না দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হিসেবে ডলারের পাশাপাশি চিনের নিজস্ব শক্তিশালী মুদ্রা ইউয়ান এবং রাশিয়ার মুদ্রা রুবল সংরক্ষণ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আরামকো, উইকিপিডিয়া, কোম্পানিজ মার্কেট ক্যাপ।

~ সিরাজুর রহমান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং হুমকি মোকাবেলায় ইরান সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের আধুনিকায়ন শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরা...
30/01/2025

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং হুমকি মোকাবেলায় ইরান সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের আধুনিকায়ন শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরানের বিমান বাহিনীর সত্তর ও আশির দশকের অতি পুরোনো যুদ্ধবিমানের স্থলে রাশিয়ার তৈরি সুখই এসইউ-৩৫ই সিরিজের অ্যাডভান্স যুদ্ধবিমান পর্যায়ক্রমে অর্ন্তভুক্ত করা হবে। এতদিন বিষয়টিকে পশ্চিমা মিডিয়ার গুজব মনে করা হলেও গতকাল ২৭শে জানুয়ারি সোমবার ইরানের (আইআরজিসি) সামরিক বাহিনীর তরফে প্রকাশ্যে জানানো হয় যে, ইরান তাদের এই প্রথম বার রাশিয়ার তৈরি আধুনিক সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করতে যাচ্ছে।

বিস্তারিত কমেন্টে.....

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকার সরকারের সাম্রাজ্যবাদী এবং ভয়ংকর যুদ্ধনীতির কারণে ব্যাপক কুখ্যাতি অর্জন করলেও বিজ্ঞ...
25/01/2025

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকার সরকারের সাম্রাজ্যবাদী এবং ভয়ংকর যুদ্ধনীতির কারণে ব্যাপক কুখ্যাতি অর্জন করলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে শতাব্দী ব্যাপী দেশটির অবদান কিন্তু এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিশেষ করে আমেরিকার আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চস্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং গবেষণাগার গড়ে তোলা এবং এক্ষেত্রে শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগকে কিছু ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই।

বিস্তারিত কমেন্টে....

সাম্প্রতিক সময়ে নেদারল্যান্ডসের প্রশাসন চীনের কাছে সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং এর প্রযুক্তি এবং এ সংক্রান্ত সাজ সরঞ্জ...
23/01/2025

সাম্প্রতিক সময়ে নেদারল্যান্ডসের প্রশাসন চীনের কাছে সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং এর প্রযুক্তি এবং এ সংক্রান্ত সাজ সরঞ্জাম ও সফটওয়্যার রপ্তানির ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মূলত খুব সম্ভবত আমেরিকার গোপন পরামর্শ কিংবা নির্দেশনায় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ফটোলিথোগ্রাফি প্রযুক্তি যাতে চীনের হাতে চলে না যায় এ জন্য নেদারল্যান্ডস নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকতে পারে। তবে চীনের প্রশাসনের তরফে গত ১৫ই জানুয়ারি বুধবার এ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করা হয়... বিস্তারিত কমেন্টে...

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SWN - Scipen World News posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share