26/04/2026
আয়েশা (রা.) বলেন, "যদি কুরআনে এই আয়াতটা সর্বপ্রথম নাজিল হতো যে, 'তোমরা মদ খেয়ো না', তাহলে লোকেরা বলত, 'আমরা কখনোই মদ খাওয়া ছাড়ব না।' যদি সর্বপ্রথম এই আয়াত নাজিল হতো যে, 'তোমরা জিনা-ব্য*ভিচারে লিপ্ত হয়ো না', তাহলে লোকেরা বলত, 'আমরা কখনোই জিনা-ব্য*ভিচার থেকে বিরত হবো না।' কিন্তু কুরআনে সবার আগে যে বিষয়টার কথা বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে জান্নাত এবং জাহান্নাম।"
মাক্কী সূরাগুলো প্রথমে নাযিল হয়েছে এবং সেগুলোতে বলা হয়েছে জান্নাত এবং জাহান্নামের কথা। আয়েশা (রা.) বলেন, "আর যতক্ষণ না পর্যন্ত লোকেদের অন্তর আল্লাহর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, নত হয়েছে, এরপরেই এসেছে হালাল এবং হারামের হুকুমগুলো।"
মক্কার জীবনটা ছিল এই শরীয়াহর হুকুম-আহকামগুলো মেনে চলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার সময়, নিজেদের ঈমানকে পরিপূর্ণ করার সময়। আর সেটা কীভাবে হয়েছিল? বারবার জান্নাত এবং জাহান্নামের স্মরণ করার মাধ্যমে, আখিরাতের জীবনের কথা স্মরণ করার মাধ্যমে। এ কারণেই মাক্কী জীবনে বারবার বলা হয়েছে 'আল গায়িব' বা অদৃশ্যের কথা, যেন মানুষের অন্তর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার প্রতি আকৃষ্ট এবং অনুগত হতে পারে।
ইসলাম পালন না করার পেছনে আমাদের অজ্ঞতা একটি বড় সমস্যা হলেও, এটিই একমাত্র সমস্যা নয়। কারণ, সবাই জানে মদ পান করা হারাম, এরপরও মানুষ মদ পান করে। সবাই জানে সুদ খাওয়া হারাম, জামাতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব, রমাদানের সিয়াম পালনের কথা—এগুলো সবাই জানে, কিন্তু এরপরও মুসলিমরা এসবের ব্যাপারে উদাসীন। এখানে মূল সমস্যাটা আসলে অজ্ঞতা নয়; মূল সমস্যা হচ্ছে আমাদের বিশ্বাস বা ঈমানের ঘাটতি।
আমাদের এই অন্তর পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে। কী পারে আমাদের এই কঠিন অন্তরকে নরম এবং কোমল করে তুলতে? আল আখিরা বা পরকালের জীবনের প্রতি ভয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা যদি জানতে যা আমি জানতাম, তাহলে তোমরা বেশি বেশি কাঁদতে আর অল্পই হাসি-ঠাট্টা করতে।"
সংগৃহীত