10/10/2024
★ বাঙালির সমরাস্ত্র দক্ষতা★
বাংলার ইতিহাসে যুদ্ধের ময়দানে বাঙালিরা তাদের সামরিক দক্ষতার মাধ্যমে এক অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সুলতান শামস-উদ-দ্বীন ইলিয়াস শাহ বাংলার সমরাস্ত্রশক্তিকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে অমর হয়ে আছেন। তাঁর উদ্ভাবিত 'চলমান দুর্গ' ছিল বাংলার সুলতানাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যুদ্ধাস্ত্র। এই দুর্গ চারটি হাতির ওপর রথ বসিয়ে নির্মাণ করা হতো, যাতে ১২ জন অগ্নিবাণ নিক্ষেপকারী সৈনিক যুদ্ধ করত। বাংলার সেনারা এই চলমান দুর্গের সাহায্যে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করতে সক্ষম হতো।
শুধু এই চলমান দুর্গই নয়, বাংলার রণহস্তীর খ্যাতি সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। পাল রাজা দেবপালের সুপ্রশিক্ষিত ১ লক্ষ রণহস্তীর কথা শুনে তিব্বতের সম্রাট চীনে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। বাংলার চট্টগ্রাম অঞ্চল ছিল বিশালাকার রণহস্তীর মূল জোগান কেন্দ্র। বাংলার হাতির শক্তি ও দক্ষতা হিন্দুস্তানের হাতির চেয়ে বহু গুণে শ্রেষ্ঠ ছিল। সুলতান দাঊদ শাহ কররানীর সময়ে ৩৬০০ রণহস্তীর বিশাল বহর ছিল বাংলার গর্ব।
বাংলার এই সামরিক শক্তি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতেও বিশাল অবদান রেখেছিল। মসলিন, রেশমি কাপড়, এবং কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন মুঘল সাম্রাজ্যের অর্থনীতিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। বাংলার সুবাহর ধনসম্পদ আকবরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এবং ১৫৭৬ সালে বাংলা দখলের চেষ্টা করলেও, তা তিনি নামেমাত্র করতে পেরেছিলেন। বাংলা সম্পূর্ণভাবে মুঘলদের অধীনে আসে ১৬১২ সালে, শাহজাহানের শাসনামলে। তখন থেকেই বাংলার ধনসম্পদ দিল্লীর সম্রাটদের ধনী করে তুলতে শুরু করে।
সুলতান ইলিয়াস শাহের মতো মহান ব্যক্তিদের হাত ধরে বাংলার সামরিক ও অর্থনৈতিক গৌরব ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। আমরা বাঙালিরা এক মহান জাতির উত্তরসুরী। আমাদের ঐতিহ্য শুধু সাহসিকতার গল্প নয়, বরং বুদ্ধিমত্তা ও সামরিক শক্তির এক অসাধারণ সংমিশ্রণ। আমরা বাংলাদেশী হিসেবে গর্বিত, কারণ আমরা সেই জাতির উত্তরাধিকার বহন করি, যারা কখনও সহজে পরাজিত হয়নি, বরং নিজেদের দক্ষতা ও শক্তির মাধ্যমে সারা বিশ্বে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে।
“আমরা বাংলাদেশী, আমরা এক মহান জাতি!”
এই গর্ব নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, যেনো ভবিষ্যৎ প্রজন্মও আমাদের ঐতিহ্যকে ধারণ করে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।