29/12/2025
এমন মানুষ আজো আছে? ছবির যে নারীকে দেখছেন (সঙ্গত কারণে মুখ ঢেকে দিলাম) তিনি গাড়িতে উঠে কাকে যেন ফোন দিলেন। বলছিলেন- "এখন কী খবর আপার?" ওই প্রান্ত থেকে কিছু একটা বলা হলো। নারীটা প্রায় কেঁদে ফেললেন।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে এবার কনফিডেন্টের সঙ্গে বললেন- "থাক আপনারা বেশি অস্থির করে দিয়েন না তারে। বইলেন আমি তো আছি। সে যতদিন লাগে বাড়িতে থাকুক। দরকারে আমি তার ডিউটি খালি এক মাস না, লাগলে এক বছর করে দিব। যতদিন সুস্থ না হয়। আপনারা খালি তার সেবা কইরেন দোহাই লাগে। আর তার বেতন আমি আগে ভাবেই স্যাররে কইয়া পাঠায় দিব। চাকরি ছাড়া যাবে না গো ভাইজান। সুস্থ হয়ে ঢাকায় ফিরলে কী করে খাবে আপা? আমি তার ডিউটি করে দেব। সে আমার বইন লাগেতো।"
মহিলা চোখ মুছলেন। আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম- "কী হয়েছে?"
বললেন- "আর বইলেন না। এক মহিলা আমাগো অফিসে নতুন কাম নিছে। ঝাড়ু দেয়। সেদিন তার হা/ত ভা/ঙছে, পা
পু/ড়ছে। গ্রামে পাঠায় দিছি সবাই মিলে। এই শরীরেতো আর কাম করতে পারবে না। এদিকে চাকরিওতো করা লাগবে। তারা কয় চাকরি ছেড়ে দেবে। তাই হয় মামা বলেন? এজন্য বললাম, তার ডিউটি আমি করে দেব তবুও যেন চাকরি না ছাড়ে।"
বললাম- "আপনি কী করেন?"
উনি বললেন- "আমিও ক্লিনার হিসেবে কাম করি। এই বি/পদে মানুষের পাশে না দাঁড়াইলে হয় বলেন?"
এটাও জানা গেল- 'সেই মহিলার হা"ত
ভে/ঙে যাওয়ার পর টানা ২০ দিন হলো ইনি তার ডিউটি করে দিয়েছেন। নিজের বেতনের টাকা সে মহিলাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।'
আজকালের যুগে যেখানে একজন আরেকজনের চাকরি খায় সেখানে এই মহিলা আরেকজনের ডিউটি করে দিচ্ছে আর বলছে চাকরি ছাড়া যাবে না।
দরকার হয় আমি তার কাজ করে দেব... আমি আছি তো ! এমন মানবতাই তো মানুষের ধারণ করতে হয়।
>আলী ইমরান