26/02/2020
"সবার প্রতি আবারো একবার সতর্কবার্তা" পোষ্ট এর প্রেক্ষিতে আমি এই পোষ্ট টি লিখলামঃ
একজন প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সারকে সিকিউরিটির জন্যে শুধুমাত এন্টিভাইরাস বা ইন্টারনেট সিকিউরিটির উপর নির্ভরশীল হওয়া ঠিক না।
অতিতে অনেক প্রমাণ আছে যে স্বনামধন্য, জনপ্রিয় এন্টিভাইরাস নিজেই গোপনে ব্যাবহারকারীর তথ্য বিক্রি বা ব্যাবহার করেছে। এভাস্ট, ক্যাস্পারস্কাই ইত্যাদি উল্লেখ্যযোগ্য।
তো সিকিউরিটির জন্যে তাহলে কি করতে হবে? আমি ব্যাক্তিগতভাবে আমার সিকিউরিটির জন্যে যা করি তা হলোঃ
১। ওয়ার্ক পিসি ও মার্কেটপ্লেস অথবা একাউন্ট সম্পর্কত পিসি সম্পুর্ণ আলাদা। মানে মার্কেটপ্লেস, অনলাইন অর্থনৈতিক কাজগুলো অন্য একটা পিসিতে সম্পুর্ণ আলাদাভাবে করি। আর কাজের জন্যে আলাদা পিসি, সেখানে রাফ সকল কাজ করি।
২। মার্কেটপ্লেস পিসির সকল মেইল ও ফাইল ওয়ার্ক পিসিতে ফরোয়ার্ড বা ট্রান্সফার করি, তারপর কাজ করি, মানে মার্কেটপ্লেসের পিসিতে সন্দেহজনক কোন মেইল, লিঙ্ক ও ফাইল ওপেন করিনা। ইজি ট্রান্সফারের জন্যে ও একটা মাউস কিবোর্ড ২ টা পিসিতে ব্যাবহার করার জন্যে "Mouse Without Border" সফটওয়্যারটি ব্যাবহার করতে পারেন, এই সফটওয়্যারটিতে ড্রাগ এন্ড ড্রপ করে ফাইল ও অন্যান্য সব কিছু ট্রান্সফার করতে পারেবন অন্য পিসিতে।
৩। আমি কখনই প্রয়োজনীয় ও গোপন মেইল, পাসোয়ার্ড ও অন্যান্য ফাইল কম্পিউটার বা অনলাইন কোন ড্রাইভে সেভ করে রাখি না, আর কখনই ব্রাউজারে পাসোয়ার্ড সেভ করিনা। প্রয়োজনে ইনকগনিটো বা প্রাইভেট ব্রাউজার ইউজ করি। আর গোপন মেইল, পাসোয়ার্ড সেভ করার ক্ষেত্রে মনে রাখি ও প্রয়োজনে অফলাইনের কোন ডায়েরীতে লিখে রাখি। যদি কখনো অনলাইনে বা কম্পিউটারে সেভ করতেই হয় সেক্ষেত্রেও সাবধানতা অবলম্বন করি।
গুরুত্বপূর্ণ মেইল ও পাসোয়ার্ড সেভ করার ক্ষেত্রে আমি যেভাবে সাবধানতা অবলম্বন করে সেভ করিঃ
১। মেইল লিখতে আলাদা ট্রিক ব্যাবহার করি, যেমনঃ [email protected] সরাসরি না লিখে example at g. com লিখি। :P
২। আবার পাসোয়ার্ড লিখতেও আলাদা ট্রিক ব্যাবহার করি, যেমনঃ example at g. com এর পাসোয়ার্ড যদি hd%34sDEh হয়, তাহলে আমি এই পাসোয়ার্ডের আগে বা পরে একটা বা দুইটা অক্ষর ফিক্সড করি আগে থেকেই, সকল পাসোয়ার্ডের ক্ষেত্রেই একই অক্ষর ফিক্সড করি মনে রাখার জন্যে। যেমনঃ SMhd%34sDEh123 ইত্যাদি, পাসোয়ার্ডের আগের ও পরের অক্ষর আমি কখনই লিখে বা সেভ করে রাখিনা, এটা আমি নিজের মনে বা ব্রেনে রাখি।
তারপরেও কখনো কখনো সাবধানতা অবলম্বন করার পরেও আমরা হ্যাকিং এর স্বীকার হই ও হচ্ছি। আর সবসময়ই ২স্টেপ ভেরিফিকেশন ব্যাবহার করার চেস্টা করবেন ও আলাদা আলাদা পাসোওয়ার্ড ব্যাবহার করবেন।
একজন হ্যাকার তার হ্যাকিং ফাইল বা সফটওয়্যার কোডিং করে রাখে, অথবা রিমোর্ট কন্ট্রোল এর মাধ্যমে আপনার পিসি নিয়ন্ত্রন করতে পারে, তাই এই ট্রিকগুলি কাজে লাগালে হ্যাকারের বুঝতে অবশ্যই অসুবিধা হবে বলে আমি করি।
অনেক কিছুই লেখার ইচ্ছা হয়, বাট গুছিয়ে লিখতে পারিনা, আর বাংলা লিখতেও অনেক কষ্ট হয় ও অভ্যাস নাই বিধায় অনেক বানান ভুল থাকতে পারে এর জন্যে ক্ষমাপ্ররার্থী। ভুল বানানগুলো নিজ দায়িত্তে বুঝে নেওয়ার জন্যে অনুরোধ করছি।