18/02/2017
স্মার্টফোন কেনার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখুন-
অন্যান্য আরো প্রযুক্তিপণ্য সম্পর্কে জানতে নীচের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন; www.shanbd.com
ইদানিং অনেকেই স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে নামিদামী ব্র্যান্ডের উচ্চমূল্লের ফোনকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তাই অনেকেই সবদিক বিবেচনা না করেই স্মার্টফোন কেনেন দাম দেখে। দাম অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ফোনের স্পেসিফিকেশন। অনেক কিছু দেখে-শুনে-বুঝে কেনা উচিত। অন্তত বুদ্ধিমান ক্রেতারা সেটা করে থাকেন।
আসুন জেনে নিই, স্মার্টফোন কেনার আগে কোন কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা গুরুত্ব পূর্ণ।
প্রথমেই আসি বাজেট এর কথায়। কারন বাজেটের উপরই সব চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
* বাজেট বেশি থাকলে আইফোন কেনা ভালো, তবে সেকেন্ডহ্যান্ড বা অনেক পুরনো ভার্সনের নয়। পুরনো স্মার্টফোন যদি কিনতেই চান তবে অবশ্যই কোন সেকেন্ড হ্যান্ড স্মার্টফোন শপ থেকে কেনা ভালো। কারন যারা এই ব্যাবসার সাথে জড়িত তারা অনেক খুটিনাটি বিষয় নিশ্চিত হয়েই ফোন কিনে থাকেন আর সব চেয়ে বড় কথা হল কোন সমস্যা হলে পরবর্তী সাপোর্ট পাওয়ার নিশ্চয়টা। আজ কাল অনেকেই ই-কমারস সাইট থেকে খুজে দেখে তুলনামুলক অনেক কম দামেই স্মার্টফোন কিনে থাকেন। অবশ্যই এটা একটা ভালো দিক। কিন্তু অপরিচিত কারো কাছ থেকে স্মার্টফোন কিনলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন- ক্যাশমেমো, গ্যারান্টি কার্ড যদি থাকে, এবং বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফোটোকপি, বাড়ীর ঠিকানা, বা যোগাজোগের ঠিকানা ইত্যাদি জেনে-বুঝে নিবেন। তা না হলে কি থেকে জে জি হয়ে যেতে পারে তা অনেকেই ধারনাও করতে পারবেন না। আইনি জটিলটা থেকে শুরু করে নানা ধরনের প্রতারনার শিকার হওয়ার ঝুকি থাকে। তাই পুরনো স্মার্টফোন কিনলে পরিচিত জনের থেকে নিলেও সব কিছু ঠিক ঠাক বুঝে নেওয়াটা বুধিমানের কাজ।
আর সব থেকে ভালো পুরোনো না নিয়ে আপনার বাজেটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন কিনুন।
* ব্ল্যাকবেরি যে কিনবেন না তা আর নিশ্চয়ই নতুন করে বলতে হবে না। ঠিক তেমনই উইন্ডোজ ফোন কেনার আগে দু’বার ভাববেন। কেননা মাইক্রোসফট স্টোরে বেশি অ্যাপ থাকে না। সুতরাং যদি শুধু ফোন করা আর ফোন ধরার জন্যেই ফোন কিনতে হয় তাহলে দামি স্মার্টফোন কেন, সাধারণ ফোন কেনাই ভালো। অন্তত ঘন ঘন চার্জ করার ঝামেলা থেকে বেচে যাবেন।
* ফোন কেনার আগে সবচেয়ে প্রথমে যা দেখবেন তা হলো প্রসেসর। ভালো প্রসেসর মানেই ফোন হবে সুপারফাস্ট, গেম খেলার সময়ে ফোন হ্যাং করবেন না এবং ফোটো এডিটিং হবে তাড়াতাড়ি। স্ন্যাপড্র্যাগন ৬০০ সিরিজের প্রসেসর থাকে মাঝারি রেঞ্জের ফোনে কিন্তু সবচেয়ে ভালো হলো কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ এবং ৮১০ প্রসেসর।
* আমাদের দেশে ফোরজি ডাটা কানেকশন চালু করার কথা শোনা যাচ্ছে। তাই এখন নতুন ফোন কিনলে ফোরজি সাপোর্ট করবে এমন ফোন কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
* র্যাম খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাজেট বেশি থাকলে ৪ জিবি/৩ জিবি র্যামের ফোন কেনাই ভালো। নাহলে অন্তত ২ জিবি র্যাম যেন থাকে।
* র্যাম, ফোরজি, প্রসেসরের পরেই দেখবেন ডিসপ্লে। চেষ্টা করবেন অ্যামোলেড ডিসপ্লের ফোন কিনতে। চড়া রোদে দাঁড়ালেও পরিষ্কার দেখতে পাবেন স্ক্রিন। আলট্রা এইচডি বা কোয়াড এইচডি ২৫৬০ বাই ১৪৪০ পিক্সেলের ফোনগুলোর দাম অনেক বেশি। মাঝারি রেঞ্জের ফোন কিনলে রেজ্যুলেশন যেন অন্ততপক্ষে এইচডি রেডি মানে ১২৮০ x ৭২০ পিক্সেল হয়।
* এর পরেই দেখবেন স্টোরেজ কেমন। এক্সপ্যান্ডেবল স্টোরেজ নেই এমন ফোন না কেনাই ভালো। যারা স্মার্টফোন ঠিকঠাক ব্যবহার করতে পারেন, তারা প্রচুর অ্যাপ ডাউনলোড করেন। গান, ভিডিও, গেমস থেকে শুরু করে এখনকার স্মার্টফোনগুলোর ক্যামেরা রেজুলেশন অনেক হাই হওয়ার কারনে পিকচার ও ভিডিও স্টোরেজ ও অনেকটা বেশীই দরকার হয়। তাই এক্সপ্যান্ডেবল স্টোরেজ সাপোর্ট করে এমন স্মার্টফোনই নেওয়া ভালো।
* ফ্রন্ট ক্যামেরা নেই এবং এলইডি ফ্ল্যাশ নেই এমন ফোন না কেনাই ভালো। এখন মাঝারি রেঞ্জের ফোনে স্ট্যান্ডার্ড ১৩ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা থাকে।
* ব্যাটারি লাইফ হলো আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একবার ফুলচার্জ দেওয়ার পরে যে সমস্ত ফোরজি ফোনে টানা ৬-৮ ঘণ্টা নেট সার্ফিং করা যায়, সেই ফোনই সবচেয়ে ভালো। ব্যাটারি লাইফ গড়ে ৩০০০ এমএএইচ হলেই ভালো। মাঝারি রেঞ্জের ফোনে ২৫০০ এমএএইচ-এর কম ব্যাটারি লাইফের ফোন না কেনাই ভালো।
* ওয়াই-ফাই সব স্মার্টফোনেই থাকে। চেষ্টা করবেন ব্লু-টুথ ৩.০ রয়েছে এমন ফোন কিনতে কারণ এই ভার্সনটি থাকলে স্মার্টওয়াচের সঙ্গে মোবাইলটি কানেক্ট করা যায়।
* ডলবি অ্যাটমোস সারাউন্ড সাউন্ড এখন স্মার্টফোনের অন্যতম লেটেস্ট ফিচার। যারা ফোনে ভিডিও দেখেন, গান শোনেন বা সিনেমা দেখেন তারা ডলবি স্পিকার রয়েছে এমন ফোনসেট কিনলেই ভালো।
সেন্সরঃ স্মার্টফোন এ বিভিন্ন রকম সেন্সর অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন প্রক্সিমিটি, কম্পাস, বেরোমিটার, হল সেন্সর, লাইট সেন্সর ইত্যাদি। এগুলো আপনার স্মার্টফোন-এ উন্নতমানের গেম খেলার সময় সাহায্য করবে। এছাড়াও হল সেন্সর এর মাধ্যমে আপনি বিশেষ একটি ফিচার উপভোগ করতে পারবেন। আর তা হল একটি বিশেষ ফ্লিপ কভার ব্যাবহারের মাধ্যমে আপনার ফোনে অটোলক এবং অটোআনলক সিস্টেম ব্যাবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনি আপনার ফোনের কভারের উপরের পর্দা খুললেই অটোমেটিক লাইট জ্বলে যাবে। পাওয়ার বাটন চাপার কোনো প্রয়োজন পড়বে না। এবং কাজ শেষে কভার বন্ধ করলে আপনাআপনি লাইট বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও স্মার্টফোনে লাইট সেন্সর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ফোনের অটোমেটিক ব্রাইটনেস কন্ট্রোল করে। অটোমেটিক ব্রাইটনেস হল আপনার আশেপাশের আলো বিবেচনা করে ফোন নিজে নিজেই তার ব্রাইটনেস কমিয়ে বা বাড়িয়ে নেয়।
* ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিকিউরিটি, শ্যাটারপ্রুফ, স্ক্র্যাচ-প্রুফ স্ক্রিন, গরিলা গ্লাস, ওয়াটারপ্রুফ, এনএফসি ট্যাগ এই সবকিছু অত্যাধুনিক স্মার্টফোন ফিচার্স। বাজেট যত বাড়বে, ততই এই সবকিছু যোগ হবে ফোনের ফিচারে। তবে অনেক বাজেট স্মার্টফোনেও এগুলোর মধ্যে একটি দু’টি ফিচার হয়তো পাওয়া যায় না। তাই কোন ফিচার কি কাজে দেয় আর বর্তমানে কি কি ফিচার প্রচলিত আছে, আর আপনার কোন কোন ফিচার গুলো দরকার! আসব কিছু কেনার আগে যদি একটু কষ্ট করে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেন তাহলে আপনি লাভবান হবেন। এবং ব্যাবহার করেও প্রযুক্তিগত সুবিধা ও মানসিক প্রশান্তি দুটোই পাবেন আশা করি।
স্মার্টফোনে বিষয়ক আমাদের এই পোষ্টটি যদি আপনার/ আপনাদের ভালো লেগে থাকে আর আর অতি সামান্য হলেও কাজে আসে তাহলেই আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সার্থক হবে। প্রযুক্তিগত বিষয়ে আরও কিছু জিজ্ঞাসা থাকলে আমাদের ইনবক্সে জানাতে পারেন। আমরা যথা সাধ্য চেষ্টা করবো গঠনমূলক পোষ্ট ও প্রয়োজনীয় তথ্য-সেবা দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার।
আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলে আমাদের পেইজ টি লাইক ও শেয়ার করুন। ভালো লেগে থাকলে লাইক বা শেয়ার তো আমরা পেতেই পারি! নাকি? অতি শীঘ্রই আবারো আসছি নতুন কোন টপিক নিয়ে।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
শুভ সকাল।
(এ্যডমিন)