05/04/2024
এখনো সময় আছে ফেসবুক ইবাদত থেকে বিরত থাকেন ।
আমি জানি আমার এ লেখাটা বেশীর ভাগ ফেসবুকিয় ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখমুখ অন্ধকার হয়ে যাবে (যদি তারা পড়ে) ইদানিং ফেসবুকে ঢুকলেই যেটা চোখে পড়ে, সেটা হলো রোজার মাসের সমস্ত ইবাদতের খবরের ছড়াছড়ি ।যেমন- কোন কারন ছাড়াই জুম্মার নামাজ পড়ে এসে সেলফি সফটওয়ার ব্যবহার করে নিজের লালটু মার্কা ছবি দিয়ে-জুম্মা মুবারক ।(আহ কি প্রশান্তি !),আবার হয়তো কোরআন শরিফ পুরোটা পড়ে শেষ করলেন ফেসবুকে জানাতে হবে কোরআন খতম করলাম। (আহ কি প্রশান্তি !), অনেকে আবার আল্লাহর রহমতে ওমরাহ করতে যেতে পারছে- এয়ারপোর্টে বিমানের পাশে দাড়িয়ে এবং কাবাঘরের সামনে ষেলফি তুলে পোস্ট করে সবাইকে জানানো ।(আহ কি প্রশান্তি !),আপনি নিজে অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কিছু লোকের ইফতার দিলেন অতঃপর ইফতার শেষ হওয়ার আগেই ফেসবুকে ছবি পোষ্ট ।(আহ কি প্রশান্তি !), যাকাত সামগ্রী দান করছেন দান শুরু হতে দেরি ছবি পোষ্ট হতে দেরি নেই (আহ কি প্রশান্তি !), এবছর আবার নতুন(এটাকে কি বলবো ভাষা খুজে পেলাম না) করে শুরু হয়েছে কাবা ঘরে গিয়ে ইমামের ডানে-বায়ে,সামনে-পিছনে বসে ইতেকাফে বসার খবর,আবার অনেকে ইতেকাফের কয়দিন হলো, কি হলো নিজের ছবিসহ বিবরণ দিয়ে পোষ্ট (আহ কি প্রশান্তি !),
এটাকে অবশ্যই, অবশ্যই, অবশ্যই, রিয়া বলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) রিয়াকে ছোট শিরক (আল্লাহর অংশীদার নির্ধারণ) বলেছেন। তিনি বলেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে ছোট শিরক নিয়ে যতটা ভয় পাচ্ছি, অন্য কোনো ব্যাপারে এতটা ভীত নই।
তারা (সাহাবি) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, ছোট শিরক কী? তিনি বলেন, রিয়া বা প্রদর্শনপ্রিয়তা। আল্লাহ কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের প্রতিদান প্রদানের সময় বলবেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে যাদের দেখাতে তাদের কাছে যাও। দেখো তাদের কাছে তোমাদের কোনো প্রতিদান আছে কি না?’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২৫২৮)
হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরও বলেন, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আল্লাহতায়ালার দরবারে হাজিরপূর্বক বলবেন, তুমি কি প্রকার ইবাদত করেছ? সে ব্যক্তি বলবে আমি নিজের প্রাণকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবান করেছি। আমি জেহাদে যোগদান করলে কাফেররা আমাকে শহিদ করেছে।
আল্লাহতায়ালা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি শুধু এই উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করেছিলে যে, লোকে তোমাকে বীরযোদ্ধা বলে আখ্যায়িত করবে। হে ফেরেশতাগণ! এ ব্যক্তিকে দোজখে নিয়ে যাও।
অপর এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করে জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি কি প্রকারের ইবাদত করেছ? সে ব্যক্তি উত্তরে বলবে, আমার ধন-সম্পদ যা কিছু ছিল আমি তা আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাত করেছি। আল্লাহপাক বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি শুধু এ উদ্দেশ্য দান-খয়রাত করেছিলে যে, মানুষ তোমাকে দাতা বলে প্রশংসা করবে। অতএব এ ব্যক্তিকেও দোজখে নিক্ষেপ কর।
অতঃপর আরেক ব্যক্তিকে হাজির করে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি প্রকারের ইবাদত করেছ? সে ব্যক্তি উত্তরে বলবে, আমি বহু পরিশ্রম করে বিদ্যা অর্জন করেছি এবং কোরআন শরিফ পাঠ করেছি। আল্লাহতায়ালা বলবেন, তুমি মিথ্যাবাদী, মানুষ তোমাকে আলেম বলবে এ উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জন করেছ। ফেরেশতাগণ! এ ব্যক্তিকেও দোজখে ফেলে দাও।
যে ব্যক্তি লোক দেখানো ভাব মনে উদয় হওয়ার জন্য প্রশান্তি ও আনন্দ অনুভব করে, কেয়ামতের দিন তার সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে। রিয়া বা লৌকিকতা সকল আমলকে বরবাদ করে দেয়। সুতরাং এখনো সময় আছে নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার আগে নিজেকে শোধরান।