27/10/2021
স্পিরুলিনা নিয়ে কিছু কথা-
স্পিরুলিনা এর সাথে আমাদের পরিচিতি দেড় যুগেরও বেশী সময়। আমাদের দেশে এর পরিচিতি এতটা বেশী না হলেও, আশার কথা, এখন অনেকেই তৈরি করেছেন বা চেষ্টা করছেন উপকারী এই সম্পূরক খাদ্যটির বাণিজ্যিক উৎপাদন। আমরা প্রথমদিকে এটি নিজের পরিবারের জন্য ব্যবহার করতাম বা পরিচিত জনদের নিতে বলতাম। কিন্তু এর উপকারের মাত্রা দেখে, অনুপ্রাণিত হয়েছি সকলকে এর গুনাগুন পৌঁছে দিতে। অনেক মানুষ এতটাই অনুপ্রাণিত করছেন যা আমাদের জন্য খুবই আনন্দদায়ক।
আজ আমরা শেয়ার করবো এর কিছুটা পরিচিতি, গুনাগুন ও কিছু Review। আমরা চেষ্টা করেছি Reference সহ ব্যাখ্যা করতে।
আপনারা চাইলে বিশুদ্ধ স্পিরুলিনা সংগ্রহ করতে পারেন আমাদের কাছ থেকে।
স্পিরুলিনা হচ্ছে একটি নীলাভ সবুজ শৈবাল এবং পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবন গুলোর মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়, যা সম্পরুক খাদ্য হিসেবে গ্রহন করা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা স্পিরুলিনাকে তার অনন্য পুষ্টিগত উপাদান এবং সব অবস্থায় সুবিধার কারনে (Super Food) হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রাচীন পর্যাটক সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রথম শক্তিবর্ধক হিসেবে ব্যবহার করতো।
স্পিরুলিনা পুষ্টির একটি (একের ভিতর সব) উৎসঃ কারন –
এক টেবিল চামচ স্পিরুলিনায় রয়েছেঃ
ক্যালরিঃ ২০, প্রোটিনঃ ৪ গ্রাম, চর্বিঃ ১ গ্রাম, শর্করাঃ ২ গ্রাম, চিনিঃ ০ গ্রাম
তাছাড়া এটিতে আরও রয়েছেঃ ভিটামিন বি১, বি২, বি৩; কপার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি।
স্পিরুলিনা এর স্বাস্থ্য উপকারিতা –
একনজরে-
*-* ওজন হ্রাস করে
*-* ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে
*-* হৃদরোগ প্রশমন করে
*-* উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
*-* পুষ্টির শক্তিঘর
*-* ভারী ধাতু সহ বিষাক্ত পদার্থ বের করতে শরীরকে সহায়তা করে
*-* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
*-* ইস্ট সংক্রামন প্রতিরোধ
*-* পেশীগত সহনশীলতা সাহায্য করে
*-* অ্যালার্জি বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে
*-* ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে
*-* হজম শক্তি বাড়ায়
*-* রক্ত পরিষ্কার করে
*-* আলঝেইমার (স্মৃতি ভ্রষ্টতা) হতে দেয়না
*-* যৌবন ধরে রাখে
*-* মহিলাদের গর্ভকালীন চাহিদা পূরণ করে
*-* চুল কালো রাখে এবং পড়তে দেয় না
বিস্তারিতঃ
*-* পুষ্টির শক্তিঘরঃ ভিটামিন বি১, বি২, বি৩; কপার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম বহন করে। গবেষণাতে দেখা যে, এটি সত্যিই সবচেয়ে পুষ্টিঘন খাবার গুলোর মধ্যে একটি, তাই এটি পরিপূর্ণ Superfood স্ট্যাটাস এর যোগ্যতা অর্জন করে।
*-* ভারী ধাতু সহ বিষাক্ত পদার্থ বের করতে শরীরকে সহায়তা করেঃ স্পিরুলিনা এতোটাই শক্তিশালী ডিটক্সিফায়ার যা একটি প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে সীসা, পারদ এবং অন্যান্য গুরুতর ক্ষতিকর টক্সিন গুলো শরীর থেকে বের করে দেয়।
*-* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ স্পিরুলিনাতে ফাইকোকায়ানিন নামে একটি যৌগ রয়েছে যা এটিকে সবুজ রঙ দেয়। এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরের কোষের ক্ষতি করতে পারে এমন যে কোন কিছুর সাথে লড়াই করে। যদি আপনি ঠাণ্ডা অনুভব করেন অথবা আপনার চারপাশের সবাই অসুস্থ মনে হয়, আপানার খাদ্য তালিকায়ে কিছু স্পিরুলিনা রাখুন যা আপনার ইমিউন কোষ গুলোকে শক্তিশালী করবে এবং আপনাকে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া থেকে সুরক্ষা দিবে।
*-* উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ স্পিরুলিনা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সাহায্য করে। এটি একটি গ্যাস অনু যা রক্তনালী প্রশস্থ করে রক্ত পরিবহন ঠিক রাখে। এর ফলে হৃদপিণ্ডকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় না, এভাবে এটি হার্ট attack ও স্ট্রোক এর ঝুঁকি হ্রাস করে।
*-* ওজন হ্রাস করেঃ যদিও স্পিরুলিনা পুষ্টিতে পরিপূর্ণ, প্রতি টেবিল চামচ এ মাত্র ২০ ক্যালোরি শক্তি আছে। এতে i phenylalanine নামে একটি অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা ক্ষুধা দমনে সহায়তা করে।
*-* ইস্ট সংক্রামন প্রতিরোধঃ গবেষণায় এটা দেখা যায় স্পিরুলিনা যোনি ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করতে পারে। স্পিরুলিনা ভারী ধাতুর মতো বিষাক্ত পদার্থকে চুম্বক যেভাবে আকর্ষণ করে একই ভাবে এটি ক্যানডিডা (ইস্ট) কোষগুলিকেও আকর্ষণ করে এবং তাদের শরীর থেকে বের করে দিতে পারে। এটি অন্ত্রের অণুজীব গুলীর মধ্যে ভারসাম্য আনতে সহায়তা করার জন্য সেখানেও একই কাজ করে থাকে।
*-* পেশীগত সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করেঃ গবেষণায় দেখা গেছে যে, ক্রীড়াবিদরা যারা নিয়মিত ভাবে স্পিরুলিনা গ্রহন করে তাঁরা সহজে ক্লান্ত হয় না, কারণ স্পিরুলিনা রক্ত প্রবাহকে ভালো করতে এবং পেশীতে পর্যাপ্ত শক্তি সরবারাহ করতে সহায়তা করে।
*-* অ্যালার্জি বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করেঃ যদি পরাগ, কুকুরের চুল, ঘাস বা অন্যান্য পরিবেশগত কারনগুলী আপনার অ্যালার্জিকে অতিরিক্ত মাত্রায় বাড়িয়ে দেয়, স্পিরুলিনা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে, আপনার অ্যালার্জির মাত্রা নরমাল করতে সাহায্য করে।
*-* প্রস্তাবিত ডোজঃ দিনে ১-২ গ্রাম। সকালে হালকা গরম পানির সাথে ২-৪ টি ট্যাবলেট খাওয়া ভাল। ওজন কমানোর জন্য সকালের নাস্তা বা মধ্যাহ্ন ভোজনের ৩০-৬০ মিনিট আগে এটি খেতে পারেন। ওজন বৃদ্ধির জন্য সকালের নাস্তা বা মধ্যাহ্ন ভোজনের পরে খেতে পারেন। সন্ধ্যা বা রাতে এটি না নেওয়া ভাল।
References:
1. Wu Q. et al (2016). The antioxidant, immunomodulatory, and anti-inflammatory activities of Spirulina: an overview. Archives of Toxicology, 90 (8 ) , 1817–1840.
2.Huang H. et al (2018). Quantifying the effects of spirulina supplementation on plasma lipid and glucose concentrations, body weight, and blood pressure.Diabetes, Metabolic Syndrome and Obesity: Targets and Therapy, Volume 11, 729–742
3. Serban M.-C. et al (2016). A systematic review and meta-analysis of the impact of Spirulina supplementation on plasma lipid concentrations.Clinical Nutrition (Edinburgh, Scotland), 35(4), 842–851.
4. Miczke A et al (2016). Effects of spirulina consumption on body weight, blood pressure, and endothelial function in overweight hypertensive Caucasians: a double-blind, placebo-controlled, randomized trial. European Review for Medical and Pharmacological Sciences, 20(1), 150–156.
5. Ku C. S. et al (2013). Health Benefits of Blue-Green Algae: Prevention of Cardiovascular Disease and Nonalcoholic Fatty Liver Disease. Journal of Medicinal Food, 16(2), 103–111.
6. Mazokopakis E. E et al (2014). The hepatoprotective and hypolipidemic effects of Spirulina (Arthrospiraplatensis) supplementation in a Cretan population with non-alcoholic fatty liver disease: a prospective pilot study. Annals of Gastroenterology, 27(4), 38