01/05/2026
আমি দেশের বাইরে প্রথম পা রাখি ২০২২ সালের আগস্টে। উদ্দেশ্য ছিল নিখাদ পড়াশোনা, যা সম্ভব হয়েছে Erasmus Mundus Joint Master Degrees বৃত্তির সৌজন্যে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বৃত্তিতে আবেদন নিয়ে একধরনের সিদ্ধান্তহীনতা কাজ করে। এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত একটি প্রোগ্রাম হলেও এতে আবেদনের প্রক্রিয়া কিন্তু খুব একটা জটিল নয়। আবেদনের সময়সীমা সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এসে শেষ হয়।
অসময়ে এ নিয়ে কথা বলার মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা ২০২৭–২৮ সেশনে পড়তে চান, তাদের হাতে যেন পর্যাপ্ত সময় থাকে প্রস্তুতি নেওয়ার। চলুন তাহলে শুরু করা যাক, নাকি?
প্রথমে যা করতে হবে, সেটি হলো EMJMD-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঢোকা। ওয়েবপেজের বাম পাশে থাকা ফিল্টার ব্যবহার করলে আপনার জন্য উপযুক্ত প্রোগ্রামের একটি তালিকা পেয়ে যাবেন। তালিকার সাথে প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব ওয়েবপেজের লিংকও দেওয়া আছে। সেখান থেকেই জানা যাবে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং আবেদনের শেষ সময়সীমা।
তবে মোটামুটি সবগুলো প্রোগ্রামের জন্য যেসব ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখতে হবে, তা অনেকটা এরকম-
১. অনার্সের সনদ ও নম্বরপত্র: মোট সিজিপিএ ৩.৫-এর উপরে হলে ভালো, তবে কম হলেও সমস্যা নেই। অনার্স শেষ না হলেও প্রোভিশনাল নম্বরপত্র দিয়ে আবেদন করা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসএসসি/এইচএসসি/দাখিল/আলিমের নম্বরপত্রও চাওয়া হতে পারে। আর না চাইলেও যদি আপনি ভালো মনে করেন তাহলে জমা দিয়ে দিতে পারেন।
২. ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ (IELTS): খেয়াল রাখতে হবে কোনো মডিউলে স্কোর যেনো ৬ বা ৬.৫ এর নিচে না আসে। সাত হলেতো খুবই ভালো। কিছু ক্ষেত্রে Medium of Instruction (MOI) দিয়েও আবেদন করা যায়, এটি সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকে।
৩. মোটিভেশনাল লেটার: এতে আপনার পড়াশোনা, বিষয়ভিত্তিক আগ্রহ, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুন্দরভাবে তুলে ধরতে হবে। কেন আপনি এই প্রোগ্রামের জন্য উপযুক্ত তা স্পষ্টভাবে লিখুন। অপ্রাসঙ্গিক তথ্য এড়িয়ে চলুন।
৪. রেফারেন্স লেটার (২–৩টি): যেসব শিক্ষকের সাথে আপনার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, সুপারিশপত্র নিতে হবে তাদের কাছ থেকে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; তবে এমন কাউকে বেছে নিন যিনি আপনার কাজ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ভালো ধারণা দিতে পারেন।
৫. সিভি: সাধারণত Europass ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সহজেই একটি মানসম্মত সিভি তৈরি করা যায়। এখানে আপনার দক্ষতা ও গবেষণা অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিন।
৬. নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র: আপনি যে বাংলাদেশের নাগরিক এবং আপনার বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। এটি স্থানীয় প্রতিনিধি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যে কেউ দিতে পারেন।
এই ডকুমেন্টগুলো প্রস্তুত থাকলেই মূল কাজ প্রায় শেষ। আবেদনের এক মাসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক আসতে পারে। সেখানে কি ধরনের প্রশ্ন করা হবে তার একটি ধারনা পাবেন সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ওয়েবপেজে। তবে সব প্রোগ্রামের জন্য সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হয়না।
সবশেষে, আপনি যদি বৃত্তির জন্য মনোনীত হন, তখন ভিসা প্রক্রিয়ার আবেদন শুরু করতে পারবেন। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আরেকদিন করা যাবে। আজ আপাতত এ পর্যন্তই। :)